নালায়েক / সাইফ আলি

ডুবি ডুবি করে নৌকা ভিড়লো পাড়ে
লাফিয়ে লাফিয়ে যাত্রীরা হাফ ছাড়ে-
:কোনোমতে বাঁচা বুঝেছেন চাচা
শতবার নাকে খত,
ফের যদি উঠি
নালায়েক বলে ডাকবেন আলবৎ।

:কি বলো ভাতিজা ওপাড়ে ফেরার
একটি মাত্র নাও!
নাম বদলালে বদলাও তবে এটাতেই ফিরে যাও।

কপালের রেখা বেড়ে যায় ভাতিজার,
এই নাও ছাড়া বিকল্প নেই আর!?

১৭/১১/২২

উড়ুন জনাব উড়ুন / সাইফ আলি

উড়ুন জনাব উড়ুন
ফুলিয়ে ছাতি
হচ্ছেন যে আত্মঘাতী
বুঝছেন তো? তা বেশ ভালো,
নিজের হাতেই নিজের কবর খুঁড়ুন।
উড়ুন জনাব উড়ুন…

বয়ান দেওয়া একটুখানি কমান
আয়নাতে মুখ দেখুন,
কি মনে হয়? ঠিক আছে সব?
বলছেন যা খোদার নামে
করছেন না ডাইনে বামে?
এক্কেবারে সোজা?
খুব সাবধান, ভীষণ ভারি বোঝা!

যুগ জামানা পাল্টে গেছে
জবানটাকে লাগাম দেওয়া খুব প্রয়োজন
তোষামোদের পিচ্ছিলতায় হোঁচট খাবেন যখন তখন,
ফেরার সময় পাবেন না;
অহংকারে অন্ধ হয়ে যাবেন না।

১৭/১১/২২

সংলাপ / সাইফ আলি

: কপালডা বড়ো হলি থাল ভরা ইলিশের পেটি নিয়ে বমু
তুই আর আমি পদ্মার চরে বসে পিরিতির মেলা কতা কমু;
পরি, তোরে আমি মিছে আশা দিয়ে
ভুলায়া ভালায়া রাখি
তুই ক্যান অবুঝের মতো সব কিছু বুঝে
চুপ করে থাকিসরে বল-

: অতো কথা জেনে তোর কাম কি?
আর কিছু দিমু? না লাগলি রাখা আছে জল,
হাত ধুয়ে ওঠ, তাড়াতাড়ি বিছানায় চল।

: আমারু শরীর আজ ম্যাজম্যাজে কিরকম জানি,
সারাদিন খুব হয়রানি গিয়েছে উপর দিয়ে;
মাজেমদ্যি ভাবি
তোর যতো ছোটো মোটো দাবি
কোনোদিন বড় হয়ে গেলি?

: আনে দিয়ে একথাল শিউলি আর বেলি
কবি যে আমার কিছু নেই, আমি কিছু পারবোনা দিতি।
আমি পরি কোনোদিন তোর কাছে বল
পয়সায় বেচিছি পিরিতি?

১৩/১১/২২

যদি আর ভালো নাই লাগে? / সাইফ আলি

কতোদূরে চোখ গেলে আগেভাগে দেখা যায় সব
বুঝে নেয়া যায় কথা মুখ থেকে বেরোনোর আগে
কতোকাছে গেলে তার করা যায় সত্য অনুভব
কতো ভালোবাসলে মন রাঙা হয় তার অনুরাগে?

ততোদূরে চোখ দিতে ভয় হয়, হারানোর ভয়
না বোঝার ভান করে বার বার শুনি তার কথা;
দূরত্ব রেখে রেখে কাছে যায়, তার পরিচয়
হয়ে গেলে পুরোপুরি জানা
যদি আর ভালো নাই লাগে?

২৭/০৯/২২

কবিতার জন্য / সাইফ আলি

কবিতার জন্য কিছুই করিনি আমি,
নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিইনি কখনো,
দিইনি কারণ বাল্যকালে লেখা কবিতাগুলো অপরিপক্ক হওয়াই ওগুলো কাউকে দেখাই না, পাঠ করে শুনাই না
অথচ আমার প্রথম সন্তানের প্রতি কি মায়া আমার!
কোনো বাবা তার দুর্বল সন্তানকে অস্বীকার করতে পারে!
কবিতা আমি ভালোবাসি, ঠিক যতটুকু ভালোবাসলে অন্য কারো প্রতি অবিচার করা লাগে না। যেহেতু ভালোবাসা মাপামাপি করা যায় না তাই মাঝেমধ্যে একটু বেশিও হয়ে যায়। একজন কবির জন্য এতটুকু ছাড় সমাজ স্বীকৃত।
তবে কবিতা আমার জন্য অনেক কিছুই করে। আমাকে আনন্দ দেয়, পরিচিতি দেয়; মাঝে মাঝে সম্মানও দেয়। বড় কবিদের নাকি সম্মনীও দেয়।
যাই হোক, কবিতাকে সময় আর ভালোবাসা ছাড়া কিছুই দিইনি আমি।

২৭/০৯/২২

মিলিয়ে যাচ্ছে নদীর ঢেউ / সাইফ আলি

আকাশের নীল মিলিয়ে যাচ্ছে
মিলিয়ে যাচ্ছে নদীর ঢেউ
হয়তো কোথাও মিলিয়ে যাচ্ছি
আমি কিংবা আমার কেউ।

কাশবনে, কেউ পথের বাঁকে
তার দিকে যে তাকিয়ে থাকে
সেও মিলিয়ে যাচ্ছে কেমন
দিকভোলা এক পাখির ঝাঁকে।

উড়ো মেঘের ছায়ার মতো
পোষ না মানা মায়ার মতো
মিলিয়ে যাচ্ছে নাটাই ছেঁড়া
একটা শাদা ঘুড়ির মতো…

২৪/০৯/২২

চাটুকার পাখি / সাইফ আলি

চাটুকার পাখি তুই কার গান গাস
বেসুরো গলায় ক্যান কান কামড়াস?
তোর ডানা হাওয়া দেয় জালিমের তখতে
জুলুমের অবসান হোক তোর রক্তে।

চাটুকার পাখি তোর কণ্ঠের জোর
থাকুক যতোই শুধু এটা জেনে রাখ
রাত শেষে আসবেই রক্তিম ভোর
ছিঁড়বেই একদিন মিথ্যার ঢাক।

০৭/০৯/২২

পাখির প্রেমে পড়িসনে / সাইফ আলি

পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল
তোর তো দুটো ডানা নেই,
গহীন বনে তার বিচরণ
সে খবর কি জানা নেই?

রূপের জালে আটকে যাওয়ার
গল্পটা ঠিক পাখির না,
গল্প পাখির প্রেম বিষয়ক
কিংবা মাখামাখির না।

এক ডালে তার মন বসে না
শুনছি নদীর কূলেও যায়,
অনেক সময় উড়াল দিয়ে
ঘরের কথা ভুলেও যায়।

সাবধান তাই পাখির প্রেমে
মোটেও যেনো পড়িসনে,
ফুটেই মহা ভুল করেছিস
আরেকটা ভুল করিসনে।

২৮/০৮/২২

তোমায় ভালোবাসি / সাইফ আলি

রাখতো এলোমেলো শব্দ পাশাপাশি
সহজে বলো, আমি তোমায় ভালোবাসি
না হয় ঘৃণা করি তবুও পায়ে ধরি
মাথাটা খেয়ো না তো করো না কাশাকাশি।

ওসব তোতলামি থাকে না বেশিদিন
বুকের বামপাশে হঠাৎ চিনচিন
ব্যথাটা বেশিদিন থাকে না চুপ করে
ক্রমেই যায় বেড়ে। তুখোড় প্রেমচাষী

হারায় আগ্রহ; হয়না বিশ্বাস?
মানিয়ে চলতেই ওঠে নাভিশ্বাস,
তায়চে ভালো হয় নীরবে কেটে পড়ো
খামাখা বাড়িও না লোকের হাসাহাসি।

তবুও দমবে না? এ প্রেম কমবে না?
তাহলে কাছে আসো, না হলে জমবে না;
তিন কবুল বলে জানাও স্বীকৃতি
বুক ফুলিয়ে বলো, তোমায় ভালোবাসি,

তোমায় ভালোবাসি, তোমায় ভালোবাসি;
খোদার রহমত ঝরুক রাশিরাশি।

২৮/০৮/২০২২

উপনিবেশিত চোখের বিস্ময়! / মুসা আল হাফিজ

গরুটি দীর্ঘসময় তোমার দিকে চেয়ে থাকে,
করুণ চোখ – তার ঘাসে বিষ!
তোমার দিকে চেয়ে থাকে কাক ও কচ্ছপ

  • তাদের আবাসে বিপদ

চেয়ে আছে সজারু ও জারুল
পারুল ও পায়রার
অসুখী মন আর ভাঙ্গাচোরা চোখ!

তোমার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকায়
হাবিল-কাবিল
খুনি ও নিহত
তোমার মুখের হাসি দেখে কেঁপে উঠছে
সাপ
বান্দর
ডায়নোসর
পাথরযুগ
রূপকথা

তারা তোমার হাসিতে কী যে দেখতে পায়?
তারা তোমার হাসিতে কী যে দেখতে চায়?

মরানদী তোমার থেকে পরিত্রাণ চাইছে
মরাঅরণ্য তোমার থেকে পরিত্রাণ চাইছে
বধ্যভূমি তোমার থেকে পরিত্রাণ চাইছে
দোজখের গর্ত তোমার থেকে পরিত্রাণ চাইছে

ও সুতনু সাম্রাজ্যবাদ!
ও বাহারী লাস্যময়ী!
তোমাতে তারা কী দেখতে পায়, যা আমি দেখি না?

হায়রে দেখি না আমি কোন সে তোমায়?