রুহ যখন জাগে / মুসা আল হাফিজ

চৌরাস্তায় ওরা আমাকে করেছিল খুন
ছিন্নভিন্ন করেছিলো গোটা দেহ।

ধুলোর জায়নামাজ রক্তে ভিজিয়ে
মত্ত উল্লাসে দুষ্ট জিনের মতো নেঁচে উঠলো
ওদের আলখেল্লা

কিন্তু না, মুসা আল হাফিজকে
টুকরো টুকরো করে দিলেও
তার মদ্যপান শেষ হবে না, তার পানপাত্র
ছিনিয়ে নিতে পারবে না
কোনো দুঃশাসন!

যদি সে পানশালায় না যায়, তাহলে পৃথিবীর
নিঃশ্বাস থেমে যাবে
বাতাসে ধ্বণিত হবে কালের মর্সিয়া
নীলিমায় ছড়িয়ে পড়বে শোকের হাহাকার

মদের সুরাইটিকে তোমরা অবজ্ঞা করো না,
শ্বেত-কৃষ্ণ হায়েনারা
তোমাদের অবজ্ঞা করবে।

চাঁদের জ্যোৎস্নায়
ফরমালিন মিশিয়ে
শুরু হবে বহুজাতিক তেজারতি।

কবিও প্রসব করবে মুন্ডহীন উদভ্রান্ত জারজ ফলাফল

মস্তক গণনা হবে আদমশুমারিতে, কিন্তু
কোথাও মগজ থাকবে না
লক্ষ লক্ষ্ ভেড়ার পালের জন্য থাকবে না
একজনও বিশ্বস্থ রাখাল!

শুনো, আমি এক ছিন্নভিন্ন দেহমাত্র
যাকে চাইলে এখনই কবর দেয়া যায়
কিন্তু পানপাত্রে অমর আত্মা থৈ থৈ করে নাঁচছে!

তার উচ্ছাসে সেমার মাহফিলে মরন এসে
আত্মসমর্পণ করেছে
উদয়াস্ত দরখাস্ত করেছে বসার অনুমতি চেয়ে!

যদি না থাকে শরাবের মৌতাত
তাহলে আমার ত্রিভূবন ধুলোয় মিশে যাবে
হে প্রতারিত আত্মার অন্ধকার উৎপাত!

আমার সহস্র মরণেও মূঢ় অন্ধের কী বা আসে যায়?

সে কি জানে
আমি মরছি আর জীবিত হচ্ছি প্রত্যহ
এভাবেই ক্রমে ক্রমে জীবন-মৃত্যু
আমাকে রচনা করছে
না আমি প্রণয়ন করছি তাদের জীবন্ত প্রচ্ছদ!

পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল / সাইফ আলি

পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল
তোর তো দুটো ডানা নেই,
গহীন বনে তার বিচরণ
সে খবর কি জানা নেই?

রূপের জালে আটকে যাওয়ার
গল্পটা ঠিক পাখির না,
গল্প পাখির প্রেম বিষয়ক
কিংবা মাখামাখির না।

এক ডালে তার মন বসে না
শুনছি নদীর কূলেও যায়,
অনেক সময় উড়াল দিয়ে
ঘরের কথা ভুলেও যায়।

সাবধান তাই পাখির প্রেমে
মোটেও যেনো পড়িসনে,
ফুটেই মহা ভুল করেছিস
আরেকটা ভুল করিসনে।

২৮/০৮/২২

তোমায় ভালোবাসি / সাইফ আলি

রাখতো এলোমেলো শব্দ পাশাপাশি
সহজে বলো, আমি তোমায় ভালোবাসি
না হয় ঘৃণা করি তবুও পায়ে ধরি
মাথাটা খেয়ো না তো করো না কাশাকাশি।

ওসব তোতলামি থাকে না বেশিদিন
বুকের বামপাশে হঠাৎ চিনচিন
ব্যথাটা বেশিদিন থাকে না চুপ করে
ক্রমেই যায় বেড়ে। তুখোড় প্রেমচাষী

হারায় আগ্রহ; হয়না বিশ্বাস?
মানিয়ে চলতেই ওঠে নাভিশ্বাস,
তায়চে ভালো হয় নীরবে কেটে পড়ো
খামাখা বাড়িও না লোকের হাসাহাসি।

তবুও দমবে না? এ প্রেম কমবে না?
তাহলে কাছে আসো, না হলে জমবে না;
তিন কবুল বলে জানাও স্বীকৃতি
বুক ফুলিয়ে বলো, তোমায় ভালোবাসি,

তোমায় ভালোবাসি, তোমায় ভালোবাসি;
খোদার রহমত ঝরুক রাশিরাশি।

পাখিরা কথা কয় / সাইফ আলি

পাথর চুপ থাকে পাখিরা কথা কয়
পাখিরা কথা কয় শিকারী গুলি ছোড়ে
শিকারী গুলি ছোড়ে পাখির লাশ পড়ে,
পাখির লাশ পড়ে, পাখির লাশ পড়ে…
হঠাৎ একদিন পাথর কথা কয়,
পাখিরা চুপ থাকে পাথর কথা কয়!

সবাই বিস্ময়ে লাশের চারপাশে সেদিন জড়ো হয়,
কিভাবে চুপ থাকে পাখিরা আর সব
পাথর কথা কয়!?

পাথর চুপ থাকে পাখিরা কথা কয়
পাখিরা কথা কয় শিকারী গুলি ছোড়ে…

২১/০৮/২২

এলোমেলো মেঘ ওড়ো / সাইফ আলি

এলোমেলো মেঘ ওড়ো
যেদিকে ইচ্ছে যাও
তোমার তো নেই মানা;
আকাশ তোমার বাড়ি।

আমিও তোমার মতো
যদি পারতাম উড়ে যেতে;
যদি পিছু না ডাকতো আমার
এই শূন্য ভাতের হাঁড়ি!

২০/০৮/২২

কেনো সে দিলো ফাঁকি / সাইফ আলি

মাটির ঘর ছেড়ে তুমিও বের হও আবার ঘরে ফেরো
ফেরার কথা ছিলো সেদিন ঘর ছাড়া সুবোধ বালকেরও;
শালিক তুমি এই পদ্মা বালুচরে কি সুখে বাস করো
হঠাৎ ঢেউ ভাঙে তোমার ঘরদোর তবু বিশ্বাস করো
যে নদী ঢেউ বুকে তুমুল বিত্তের বইছে সারাবেলা
মানতে হবে তার আঘাত কিছু কিছু, কিছুটা অবহেলা?
অথচ মা’র মন কেমন দেখো দেখি, কিছুই মানছে না;
নদীর স্রোত কেনো বুকের ধনটাকে ফিরিয়ে আনছে না!
কোথায় গেলো ছেলে, লুকোলো কোন বনে, শালিক জানো নাকি;
মাটির ঘরে ফের আসবে ফিরে বলে কেনো সে দিলো ফাঁকি?

২০/০৮/২২

দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত

সবকিছু বদলায় / সাইফ আলি

সবকিছু বদলায়, তুমি আমি বদলাবো কিসে?
কোন সুরে, দাহে, কোন বিষে?
এভাবেই একদিন সব ছেড়ে, একদম সবই
একসাথে যাবো এই দলিত মাটির সাথে মিশে।

রঙ রূপ বদলায়, বদলায় শব্দের সুখ
বদলাতে বদলাতে কাদা কাদা হয়ে যায় পাথরের মুখ
তুমি আমি বদলাই মুখোমুখি পাতাদের মতো
একসাথে, একসুরে; না হলে কি ভিন্ন কিছু হতো?

২৭/০৭/২২

অনুকবিতা ৪৪ / সাইফ আলি

কোন কারণে রাগ করো মন
কোন কারণে কষ্ট পাও
ইচ্ছে করেই ভাসাও যখন
উল্টোস্রোতে তোমার নাও।

০৪.০৬.২২

রূপকথা / সাইফ আলি

:এক দেশে এক রাজা ছিলো
তার ছিলো এক রাজকুমারী;
রাজকুমারী পরীর মতো…

:আচ্ছা বাবা ওসব রাখো
যেই পরীটা ট্রাকের নিচে
সেদিন বসে চাল কুড়োলো
তার কি হলো?

ছবি: জাহিদুল করিম

প্রিয়তম ভুলে যাও / সাইফ আলি

প্রিয়তম ভুলে যাও কেউ এক পথ রচেছিলো
তুলতুলে ঘাস আর হৃদয়কে দুই ভাগ কোরে,
ভুলে যাও কেউ এসে কোকিলের মতো
গান ধরেছিলো খুব তোমাদের কাকের শহরে।

২৭.০৪.২২