• লাশের অট্টহাসি / মুসা আল হাফিজ

    বাতাসের শোরগোলে টেবিলের স্থিরদৃষ্টি রাস্তায় বেরিয়ে আসিদেখি রহস্যমানুষেরা এসে ভিড়েছে চৌরাস্তায় চায়ের দোকানেচায়ের কাপে বিদ্যুৎ আর জ্যোৎস্না। যেদিকেই চোখ যায়নরনারী অবিরত তারকার মতো প্রাগৌতিহাসিক চালেমার্চপাস্ট করছে শহরময়অতীত সরোবর থেকে তরল শীতলতা চারদিকে ছিটায়,গুড়োঁইটের মতো ছিন্নভিন্ন কষ্টেরা তাদের চোখে মুখে নিস্করুণনড়ে ওঠে। যেনো চাঁদের চামড়া ছিড়ে ঝরা রক্তে অদৃশ্যআগুন কেউ লাগিয়েছে। যারা চায়ের দোকানে বসেছিলো চা-ঘরে…


  • আমোঘ সাইরেন / মুসা আল হাফিজ

    আমাকে আমি দেখছি না দীর্ঘদিন ধরেকারা এসে চোখ বেঁধে আমাকে গহ্বরে ফেলে যাওয়ার পর বয়ে যাচ্ছে যুগের পর যুগ দেখছি না আকাশ-বাতাস জুড়ে আলো আর অন্ধকারে নিঃশব্দ সংঘাতদেখছি না শব্দের ফুলগুলো আহত পাখির রক্তে কীভাবে জ্বলে উঠছে লেলিহান শিখার মতোদেখছি না স্বপ্নের মিনার লক্ষ্যে ধেয়ে আসা রাহুর প্রতি পূর্ণিমার সংক্ষোভ কীভাবে শুয়োরগুলো সূর্যের দিকে ধেয়ে…


  • মহাবিশ্বের করতালি / মুসা আল হাফিজ

    এক.ধমনী আমার নদীহৃদয় সমুদ্রপ্রেম গহীন আফ্রিকা;আত্মা আকাশ; যার ছাদ ছেয়ে আছেহাওয়ায় ছুটন্তমেঘের হ্রেষা।নিঃশ্বাসের ফেনা ঠেলে নিবিড় উড়াজালক্ষিপ্র মাছরাঙ্গা চোখের আগ্রহেশিকারীর ত্রস্ত হাতেআলখেল্লার মতো ঘিরে ফেলেতাবৎ নীলিমা।আমারদৃষ্টির প্রভাবিমুগ্ধ বৃষ্টি ঝরায়স্নেহের সৌরলোকে!কঠিন গাম্ভির্যের শহরডাগর পলীর জরায়ূতে নেয়েভাসিয়ে নেয় তুমুলশ্রী শ্রাবণ।চোখের মৃত্তিকা নড়লেইউল্লাসে মেতে ওঠেনিসর্গের বিশাল তৃণাঞ্চল। আমার বিশটি অঙ্গুলি থেকেসমস্ত স্রোতধারাছুটে যায় মাঠে মাঠে;রজনী মাতাল করে এবংতোমাকে…


  • সেজদা / মুসা আল হাফিজ

    রাতের তৃতীয় প্রহর।হজ্বের গিলাফ গায়ে জড়ানো চাঁদ প্রস্তুতির গোসল সেরেকুরবানির দুম্বাদের সাথে আকাশে পায়চারি করছে। আমি তিনজন গাছের সাথে একান্ত আলাপ সেরে হঠাৎ উপরে তাকালাম।চাঁদের শরীর বেয়ে গোসলের ফোটা ফোটা দুধ ঝরে পড়ছে।উড়ন্ত চুমু দিয়ে সে আমাকে স্বাগত জানালো। চাঁদকে ধন্যবাদ জানিয়েমহাশূন্যে বিশেষ আসরে যাত্রা করলাম। কেমন আয়োজন ছিলো? জানতে চেয়ো না।পাহাড়,নদী-নালা,বৃক্ষ, পশু- পাখি সকলেই…


  • টিউমার / মুসা আল হাফিজ

    (এইচ. জি. ওয়েলসকে মনে রেখে) আমি সীমান্তের সর্বশেষপাহাড়ের মাথা থেকেপা পিছলে পড়ে গেলাম। গÐারের শিংয়ের মতো রাগীপাথরের ধারে রক্তাক্ত আমিগড়ান খেতে খেতে নেমে এলাম নিচে! আরেক দেশ।সীমান্তপ্রহরী।বন্দুক। মারণাস্ত্র। চেতনা ফিরে পেয়ে আমি যেইতাকালাম চারদিকে-একটি নদী ছিলো সামনেছলাৎ ছলাৎ পানি, জীবনের দুধ-ডাকলো, কাছে আয়! আমি পান করবো পানিকিংবা আমাকে পান করবে-নদীর মাতৃস্নেহ? গেলাম নদীর কাছেকে জানতো,…


  • গণিত / মুসা আল হাফিজ

    আমি তো গণিতের সমাধান বের করিকিন্তু গণিতবিদরা আমাকেই একটি সমস্যা মনে করেন। কারণ যখন খাতা হাজির করা হয়,আমি হাজির করি জীবন! বলা হয়, যোগ করো! আমি যোগ করি আত্মশক্তিকে।বলা হয়, বিয়োগ করো! আমি বিয়োগ করি পরাজয়কে।বলা হয় গুণ করো! আমি গুণ করি ভালোবাসাকে।বলা হয়,ভাগ করো! আমি ভাগ করি দুঃখকে।বলা হয় সমীকরণ দাও! আমি দিই নিজের…


  • রাতজাগা মানুষের পিছে / মুসা আল হাফিজ

    ফুটন্ত দীর্ঘশ্বাসগুলো রাতের নদীতে ফেলে দিয়েনক্ষত্রকে স্বাক্ষী রেখে সমুদ্রে শয্যা পাতলাম অমর্ত অরণ্য থেকে ছুটে এলো জ্যোৎস্নার ঘোড়াতার খুরের দাপটে পালিয়ে গেলো নির্লজ্জ শেয়ালনতুবা মধ্যরাত এখনো প্রক¤িপত হতো জ্বলজ্বলে চিৎকারে বিমূর্ত ঘোড়ার কণ্ঠ বেজে উঠলো বাতাসের উর্মীর মতোসে বললো ওঠো ওঠো একটু পরেই সামুদ্রিক মাইনগুলোফেটে পড়বে বর্বরের হাসিতে সমুদ্র ছেড়ে এসে প্রান্তর, উপত্যকা, জনপদনদীনালা, শূন্যের…


  • নতুন দিনের কাব্য / মুসা আল হাফিজ

    মানুষের হৃদয় অন্ধকারের সর্পিল ছোবলে যন্ত্রণার চুল্লির মতো জ্বলতেথাকবে আর কতোকাল? আর কতোকাল মানুষের কলজে ছেঁচেরক্তস্বাদ নিয়ে থাকবে আধারাবৃত মত্ত হায়েনার জিভ?আর কতোকাল চলবে বর্বরের আধিপত্য, লা¤পট্যের নৃত্য আর বুদ্ধিরব্যভিচার? অন্ধ রাত্রি থাকলে পশুপণা থাকবেই অতএব, পশ্চিম থেকে ধেয়ে আসা অন্ধকারের হৃদয়হীনদর্শনের বিরুদ্ধে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি বিশ্বাসের বিদ্যুৎশিখা নির্জীব রাত্রি সাপের উদরের মতো মৃত্যুগহŸরে ইতিহাসেরখুরের…


  • নদী / মুসা আল হাফিজ

    দর্শনে গন্ধকের নদীউদয়ের চর হতে ছুটন্ত অফুরন্ত টানেতরঙ্গে উচ্ছসিত সত্তার নিঃশ্বাসস্রোতের ভিতরে ঘুর্ণিরা কুÐুলিভাঙা সাপের শব্দে ফুঁসফুঁস আমি তো ওপারে যাত্রীভগ্নআশা ঝড়ের উপর ধাবমান আশার সাঁতারকবে থেকে ছুটছি মনে নেই অন্ধকারেকানে শুধু শব্দ বাজেহয়তো তীর ভাঙার ধ্বনিহয়তো বা তুফানের রোল মনে হয় পেরুচ্ছি নদীমনে হয় ডুবসাঁতারে গিলছি তুফানএই কী নদী না ঐশ্বরিক উপহাস? অস্তিত্বের এই…


  • আজ রাতে তারাগুলো / মুসা আল হাফিজ

    আজ রাতে তারাগুলো ঝুলে পড়েছিলো পৃথিবীর তারার বলয়েমর্ত্যের চাঁদের টানে বেসামাল হয়ে পড়েচাঁদের হৃদয়। ধূলোর উদর ছিঁড়ে বহির্গত হয়েছিলো একঝাঁক শুচিস্নিগ্ধ চারাহরিৎ উপত্যকায় বাতাস মাতিয়েছিলো স্বপ্ননীল কস্তুরিহরিণচোখের ভেতরে তার দুলে উঠেছিলো আকুতির ঢেউ যেসব মানবশিশু জন্ম নিলো আজ রাতেতারাও কলকণ্ঠে মুখরিত করেছে পৃথিবীর পাড়া আজ রাতে বাতাসের বুকে অলৌকিক পাখিগুলোডানা মেলে দিলো। দ্রাবিড় দিগন্ত থেকে…


  • প্রশ্ন / মুসা আল হাফিজ

    মেঘের কুণ্ডুলি কেউ যদি চূর্ণ করোতাহলে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মত প্রশ্নগুলোঝরে পড়বে। কেউ যদি শঙ্খের আর্তনাদেমহাশূন্যে কান পাতো, তাহলে কারাবন্দির হাসির মতোসব নির্মমতা ফাঁক করে দেবে। পৃথিবীর হৃদপিণ্ডে ক্লেদের ট্রাক হামলে পড়েছেনদী-নক্ষত্র দৌঁড়াচ্ছে কবিতার ছিন্নভিন্ন জনপদেবিবেকের বৃক্ষটিতে অবিরাম কুঠারাঘাতকেউ দেখে না ! কস্তুরিহরিণীটি শরাহততার যাতনামথিত পাশটিতেকেউ এসে দাঁড়ালো কি? রজনীগন্ধাগুলো ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়ছেহননমাতাল শ্বেতাঙ্গ ফুঁৎকারে। বাণিজ্যের…


  • দুঃসহ রাত্রি এলে / মুসা আল হাফিজ

    সমুদ্র বললো- না, তোমাকে ঘুমাতে দিলেউত্তেজিত মাছগুলো শুরু করবে হৈ চৈআকাশ বললো- না, তোমাকে বুকে নিয়েতারার অবাধ্য ঝড় সামলাতে পারবো নাপাহাড় বললো- ক্ষমা করো ভাই, তোমাকে ধারণ করলেআমার সুপ্ত লাভা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে অরণ্য, স্থান দেবে শুধু একটি রাতযাপনেরহরিণ বাঘের সাথে আমার মিতালীচন্দ্র তুমি তো আমার বোন,জ্যোৎস্নার পাঠি দাও একটু ঘুমাইদোহাই, উদ্যান তুমি…


  • অনিবার্য / মুসা আল হাফিজ

    একটা সময় আসবে,বেদনা সঙ্গ দেবে এতো বেশিমৃত্যুও কাছে আসবে না!একটা সময় আসবে, নিজেকে বয়ে চলতে পরিশ্রান্ততোমার জন্মদিন তোমাকে ভুলে যাবে!একটা সময় আসবে, দুঃসহ হয়ে উঠবে চেনা ব্যাকরণভীষণ প্রিয় হয়ে উঠবে শেষ নিঃশ্বাস! কিন্তু একটা দিন আসবে,যা ভুলিয়ে দেবেসেই সব দিনের কথা যেন তারা আসে নাই কোনো দিন!


  • পাঠ / মুসা আল হাফিজ

    মর্ত্যের মুক্তমঞ্চে গ্যেটের চিঠি পাঠেদুপাশে চেয়ে দেখি আফ্রোদিতি পার্সিফোনবিমল রেশম অথবা হৃদয় বোনার তাঁতেনড়ে ওঠো চির তুমি অতল ফাগুন! তোমার রক্তিম রাগে উড়ে সুখরেণুসূর্যোদয় খোলে খিল সৃজনীধারারঅস্তাচল নুয়ে পড়ে চন্দ্র কামধেণুস্বর্গাদপী মাতৃত্বের। একী পারাবার! সুন্দরের রক্তজলে ইডিপাস ভাসেরুমীর নৃত্যে জাগে আমার সৌরলোকমত্তসাগর আর চাঁদোয়া আকাশেকুড়ালে উত্তপ্ত রাতে মুগ্ধতার শ্লোক! তোমার ক্লান্তির পাশে নৈসর্গিক তারাউর্ধশ্বাসে পাঠ…


  • তৃতীয়বিশ্ব / মুসা আল হাফিজ

    আমার শয্যার পাশে আমিন রাজুএতই পাংশু কেন হাফিজ ভাই, এতই করুণমৃত্তিকার প্রজনন খুঁজে সৃজনবাযুতাই তৃণের মিছিলে ঝড়ের মতো নামছে অরুণ আমার অশ্রান্ত হাসিতে বাতাস থমকে গেলোশিউরে উঠলেন কেবিনের রড বিপন্ন হাসির তাললয়েহ্যাঁ, বস্তুতান্ত্রিকতার চাকুনৃত্যে এখন হাসপাতালে হাসিরছিন্নভিন্ন অভিধান। ডাকলাম-‘বন্ধু!’ হার্দিক তরলতায় কাতর আওয়াজ,আমরা এভাবেই হৃদয় ঝরিয়ে ডাকি বন্ধু বা মানুষকে দেখো দেখো আমার খুলিপ্রতিদিন ওরা…


  • তোমার রহস্যে / মুসা আল হাফিজ

    খুঁজে পাচ্ছি না কোথাওমৃত্তিকা নক্ষত্র অরণ্যের গর্তচন্দ্র কুয়োতলা বাগানের সব ফুলপাহাড় সমুদ্র তছনছ করেকোথাও পাচ্ছি না হৃদয় আমার চিত্রপ্রদর্শনী, কবিতার শিবিরে, প্রাচীন সরলভোরজ্যোৎস্নার দারুণ ঢেউ-নেই কোথাও আয়াজের মতো আমি মাতাই মাঠের ঘাসপাখির মতো নীলিমায় ছড়াই বুকের আগুননিখোঁজ নিখোঁজ বলে হাতড়াই মেঘের নাড়ভিুড়!ি পেলাম না কোথাওহৃদয়!হৃদয়!পেলামনা। হে প্রভু আমার দওেয়ানা হৃদয়তোমারই আলোয় তবে লীন হয়ে গেছে?


  • পুঁজির অরণ্যে / মুসা আল হাফিজ

    মুসা আল হাফিজের ভিতর থেকে আরেক মুসা আল হাফিজেরজাগরণ ঘটেছে আজ রাতে। এক মুসা আল হাফিজ বিশ্বাসের ঢেউসত্যের ছাদের নিচে মানবিক সত্তার নির্যাস।সে তারার ভিতর চন্দ্রের ভিতর গ্রহের ভিতরহৃদপিন্ডের ভিতর কস্তুরিগন্ধের অঙ্গীকারে মাতৃমমতা নিয়েহরিণের চোখের মতো নড়েচড়ে। কখনো বোধির নদীর মতোসবুজের স্রোত হয়ে জীবন জাগিয়ে তোলে মহামারি যুদ্ধে, প্রেমে, খরায়, জরায়। এই মুসাকে মুছে ফেলতে…


  • নমরুদের শ্বেতপত্র / মুসা আল হাফিজ

    আল হাফিজকে হত্যা করোআমি ঈশ্বর বলছি দাঁড়িয়ে গেলো আরেক আল হাফিজআরেক, আরেক, দাঁড়ালো ক্রমাগত ‘কী দোষ তার?’ আমি হাসলাম। হাসি থেকে ঔদ্ধত্য ঝরে, ঝরুকহাওয়ার ধমনী শিউরে ওঠে উঠুকআমি ঈশ্বর তাই, হে নগণ্য আল হাফিজেরা!হে দুর্ভিক্ষের কলশ্বন মিত্রজোট! শতাব্দীর কল্লোল থেকে কিষাণদেহের গন্ধেআকাশ-পৃথিবীতে ছড়াও স্বপ্নদানাতোমাদের সামার টানে আমার শিকল ছিঁড়েমানুষ মানুষ রবে উড়ছে দোয়েল অধিনস্ত সৌরলোকে…


  • কাকগীতি / মুসা আল হাফিজ

    সূর্যাস্ত মাথায় নিয়ে পথে নামছে সূর্যোদয়আকাশ হয়ে আছে থমথমে রাগীবৃষ্টির নামে সে ঝরাবে আর্তনাদগোলাগুলি আর কালো কাদা ভূতুড়ে উপত্যকায় মৃত্যুর সঙ্গে শুয়ে আছে নিদ্রালয়তোমরা তাকে বিদ্যালয় বলো নাঅরণ্য থেকে পালিয়ে এসেছে পিছু ধাওয়া, ছোবল ও হুংকারতাকে তোমরা যৌবন বলো না মানুষের দিন-রাত্রি সাপের নিশ্বাস আর বিষে হয় লীনএদিকে ঝিমুনির বাজারে চলছে ভাবের দোকানদারী? কবিতে ধরেছে…


  • শ্রমিক / মুসা আল হাফিজ

    মেশিনে গুড়ানো হয় প্যাকেটে মোড়ানো হয়পানিতে চুবানো হয়, পরেআগুনে পোড়ানো হয় অনেক আদরে! তাওয়া থেকে যেই মুক্তি পাই,সকলের খাদ্য হয়ে যাই! শ্রমিকের রুটি নেই,শ্রমিকই রুটিরুটি খাওয়ার এক তরিকার নাম আমেরিকা!আরো মজাদার নাম শিল্পবিপ্লবকালো-ধলো কারখানা ও মস্ত মস্ত মাস্তির শহর! বিশ্বায়ন সুন্দরীর সুতনুর তেজে ওগো উতলা সময়!এ রূপসী শুধু রুটি খায়! তার রুটির খনির নাম প্রাচ্য,…