-
প্রিয়তম ভুলে যাও / সাইফ আলি
প্রিয়তম ভুলে যাও কেউ এক পথ রচেছিলোতুলতুলে ঘাস আর হৃদয়কে দুই ভাগ কোরে,ভুলে যাও কেউ এসে কোকিলের মতোগান ধরেছিলো খুব তোমাদের কাকের শহরে। ২৭.০৪.২২
-
পুঁজিবাদী / সাইফ আলি
যুতসই দাম পেলেবেচে দেবো সব,ঘটিবাটি, মেধা সত্ত্বএমনকি রব। যুতসই দাম পেলেতোমাকেও বেচে দেবো প্রিয়,যদি পারো বেশি দামেআমাকেই তুমি কিনে নিও। ২৬.০৪.২২
-
তোমার চশমা / সাইফ আলি
কোনোদিন আমি যদি চাইতোমার চশমা হতেতুমি কি মানবে?তুমি কি তা মেনে নেবেএকজন এমন থাকুকযে তোমার দৃষ্টি জানবে? হয়তোবা আমি তাই চাই,হয়তোবা চাইনে কখনো।মানুষের কতো কিছু থাকেহৃদয়ের গভীরে লুকোনো! ২৪.০৪.২২
-
সন্দেহ / সাইফ আলি
সন্দেহ পুষে রেখে ক্যানো তুমি হাসো,সত্যি বলোতো প্রিয়- বলো ভালোবাসো? সন্দেহ বড়ো বাজে কাটাখুব বেশি ভোগাবে তোমাকে;অদৃশ্য আগুনের শিখাদাউদাউ পোড়াতেই থাকে। ২৪.০৪.২২
-
যে কথা তোমার সাথে / সাইফ আলি
যে কথা তোমার সাথেমুখ ফুটে কিভাবে তা কই,অবাধ্য গোলাম আমিএর চেয়ে বেশি কিছু নই। লুকোনোর যতো কিছুতুমিই তা লুকিয়েছো তাইপাপের পাহাড় কাঁধেবেঁচে আছি। লোকলজ্জায় এখনো মরিনি। প্রভূ,তুমি যদি না শিখিয়ে দিতেহয়তোবা পশুদের মতোপৃথিবীর অলিতে গলিতে নিজেকে জাহির করেভাবতাম এইতো জীবন,অন্ধকার, বেওয়ারিশপচাগলা লাশের মতোন, হঠাৎ ফুরিয়ে যাওয়া পথ;অর্থহীন সময় ক্ষেপণ।প্রভু, যে কথা তোমার সাথেসে কথাটা থাকুক…
-
অনুকবিতা ৪৩ / সাইফ আলি
আমি পাখিদের বস্তিতেশুনি পরাধীনতার গান,আর কারাগারে কারাগারেকরি স্বাধীনতা সন্ধান। ২৩.০৪.২২
-
অনুকবিতা ৪২ / সাইফ আলি
ঘরে ফিরতেই ডাকে পথপথে নামতেই ডাকে ঘরআমি ঘর সাথে নামি পথেআর পথ নিয়ে ফিরি ঘরে। ২৩.০৪.২২
-
-
আমি সেই পাখি নই / সাইফ আলি
আমি সেই পাখি নই যার কোনো ঘর নেই,ঠোঁট নেই, নখ নেই, স্বর নেই। আমি সেই পাখি নই যার পিছুটান নেইচোখ নেই, কান নেই। আমি সেই পাখি নই যারপ্রাণ নেই, মন নেই কোনো;চোখ উল্টোনো। ১৬.০৪.২২
-
-
চাঁদ দেখা / সাইফ আলি
জানালায় গ্লাস লাগিয়েছিএখন ঘরে বসেই চাঁদ দেখা যায়আগে যখন কাঠের জানালা ছিলোআমরা চাঁদ দেখতে ছাদে যেতাম। একদিন দেখলাম চাঁদটা আগের মতো নেইকেমন যেনো ঘোলা,চাঁদেও কি ময়লা ধরে?ভাবলাম, প্রতিদিন চাঁদ দেখে দেখে হয়তো আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।এরপর থেকে রাতে পর্দা টাঙানো শুরু হলো। কিছুদিন পর এক ভরা পূর্ণিমা রাতেচাঁদকে ভীষণভাবে অনুভব করছিলাম,ঘরের সব আলো নিভিয়ে দিয়েপর্দা সরিয়ে…
-
ঘুমাতে যাওয়ার আগেই / সাইফ আলি
ঘুমাতে যাওয়ার আগেই আমরা স্বপ্ন দেখা শেষ করি,দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকার মধ্যে কোনো প্রশান্তি নেই;আমাদের যখন ঘুম ভাঙে তখন মধ্যরাতজানালা দিয়ে দেখলে সমস্ত শহর অন্ধকারপাশেই ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্নগুলোকে জাগিয়ে তুলি;আমরা জেগে থাকা অবস্থায় তারা ঘুমাতে পারে না। ১৫.০৪.২২
-
ঘুম / সাইফ আলি
যখন হারিয়ে যায় পাখিরাও মেঘেদের ভিড়েআমাদের নীড়ে পড়ে থাকে অপুষ্ট ছানা,চোখ চায় ঘুম আর পিঠ চায় নরম বিছানা;আমরা সজাগ হই, কথা কই, শুনি নিজে নিজে-হাত কাপে, অনুতাপে চোখ যায় ভিজে। আবার পাখিরা ফেরেমেঘ গলে বৃষ্টি হয়ে ঝরেআমাদের ঘরে;ছানাদের চোখ ফোটে, পালকে পূর্ণ হয় পাখা।‘কতোদিন ঘুমাইনি’ বলে হাই তুলি ছড়িয়ে দু’হাতআকাশ অন্ধকার কোরে নেমে আসে আরেকটা…
-
গোলামীর চোখে ০২ / সাইফ আলি
বদলে দেবো অনেক কিছুইবদলাবো না নিজে,ঠান্ডা লাগার অসুখ আমারমরবো নাকি ভিজে? বিপ্লবী মন স্বপ্ন দেখে,স্বপ্ন ভাঙার দোষেইচ্ছে করে মিছিল করিকিন্তু জনরোষে নিজেই যদি পুড়ি তখনউপায় হবেটা কি;তার চেয়ে ভাই নীরব আছিনীরব হয়েই থাকি। ০৯.০৪..২২
-
গোলামীর চোখে ০১ / সাইফ
গোলামীর জিঞ্জিরে বাঁধা আছে পাতাই আমি কিছুতেই কথা কবো না;ঝড় বয়ে যাক মাথা নিচু করে আছি,দীর্ঘ জীবন আমি এভাবেই বাঁচি। ০৮.০৪.২২
-
আমরা এবং তোমরা / সাইফ আলি
আমরা যারা জন্মছিলাম ঘাসের উপরতাদের দেখে বলতো হীরা লোকেতোমরা যারা জন্ম নিলে তাশের উপরতাদের দিকে সব জুয়াড়ি ঝোকে। আমরা ছিলাম অল্প সময়, একটু পরেই হাওয়া;‘এই পৃথিবী হাতের মুঠোয় থাক’ তোমাদের চাওয়া। ০৪.০৪.২২
-
নিশানাবাজ / সাইফ আলি
তুমিই কি সেই কালের ঘোড়া দাবড়ে ফেরা রাজকুমারীযার দুচোখের লবন জলে ডুবলো হাজার প্রেমের জাহাজ!তোমার হাসি লেপ্টে আছে জোছনা মাখা রাতের দেহেকবির কলম থমকে আছে ধরতে তোমার পায়ের আওয়াজ। হাসছো ক্যানো, ভাবছো আমি আবোল তাবোল কাব্য ঘেঁটেদু’চার লাইন চোরাই আবেগ লুকিয়ে রাখি বুক পকেটে?সত্যি না তা, বলছি যা তা হৃদয় দিয়ে শুনেই দেখোতোমার আমার ফুলগুলো…
-
অনুকবিতা ৩৯ / সাইফ আলি
এখানে এখন ঝড়ের বাতাস, ঝড়;উঁচু বৃক্ষের নোয়ানো মাথার তাজছুঁয়েছে জমিন। আমরা তবু অনড়,খুলে খুলে দেখি বাতাসের কারুকাজ। ২৬.০৩.২২
-
অনুকবিতা ৩৮ / সাইফ আলি
তবুও যখন তুমি আকাশের কাছে যেয়ে নীল হয়ে যাওরঙিন মেঘের তাপে একা একা সন্ধ্যায় নিজেকে পোড়াওআমি এক পথভোলা ছোট্ট রাখাল হয়ে তোমাতে হারাই,বলো তুমি জল হও, মেঘ হও, রোদ হও কার ইশারায়? ১৬.০৩.২২
-
জনপ্রিয় / সাইফ আলি
জনপ্রিয় রোগে যদি ধরে ভাইকেউ তারে আটকাতি পারে না,হিংসায় জ্বলে যায়, যা তা বলে যায়,অহমিকা পোকে খায়; ছাড়ে না। জনপ্রিয় বক্তার ভুলও জনপ্রিয়,দয়া করে সেদিকিউ নজরডা দিও;ভুল হয় মানুষিরই, ক্ষমা চায় বড়;তুমরা শিখায়ে ফের তুমরাই লড়ো!? ১২.০৩.২২