-
বিবর্ণ পতাকার খোঁজে / সাইফ আলি
একটা পতাকা হোক বিবর্ণ, পৃথিবীর বুকে একটাই দেশ হোক মানবজমিন; স্বাধীন মানুষ হোক পরাধীন বিবেকের কাছে… তোমরা তন্ত্রে বড়ো একরোখা পশুর মতোন বিধানসভায় তোলো সাহেবের পেয়ারি বাজেট, চাল-ডাল-তেল-নুন এবং বাতাস সবকিছু সমানে-সমান; অথচ টিনের চালে গান ধরে বর্ষা ক্ষুধার, কাতরায় পথে পথে বিকৃত মানবতা আজো। তোমরা কোকিল বড়ো বসন্ত আগমনী ভাজো… আনবিক চুক্তিতে শান্তির কপোত…
-
-
চোখের অন্তরালে থাকে এক চোখ / সাইফ আলি
চোখের অন্তরালে থাকে এক চোখ সেই চোখ আঁকে কিছু ছবি, সেই চোখে থাকে কিছু কথা গল্পের মতো, পরিপাটি; সাজানো গোছানো… চোখের জানালা থাকে, কিন্তু সে জানালায় চোখ রাখে অধিকার কার? একবার তুমি যদি অনুমতি দাও তোমার গল্পটাকে সাজাবো এমন মনে হবে কোনোদিন পড়োনি নিজেকে, তোমার হৃদয়টাকে বাজাবো এমন মনে হবে কোনোদিন শোনোনি নিজেকে…
-
-
হৃৎপিন্ডের কোলাহল গেলে থেমে / সাইফ আলি
হৃৎপিন্ডের কোলাহল গেলে থেমে ঝাপসা হবে কি জমাট মেঘের দৃষ্টি, নীল আকাশের চৌকাঠ থেকে নেমে ভেজাবে জমিন অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি? ভীষণ খরায় চৌচির হওয়া ঠোঁটটা ফিরে পাবে ফের ভরা বর্ষার চুম্বন, নাকি হবে সেই ছেঁড়া কাগজের নোটটা অচলাবর্তে কেটে যেতো যার দিনক্ষন। ধুলো জমে যাওয়া এক জীবনের মূল্য কতই বা হবে; রক্তের সেই স্রোত নেই, তুমি…
-
আমি এক পিপীলিকা / সাইফ আলি
তোমার ঠোঁটের উঠোনে আমি এক পিপীলিকা হাটি আর হাটি… চোখের কিনারে দাঁড়িয়ে ভাবি এই সমুদ্রে দেবো নাকি ডুব।। তারপর তুলতুলে গালে ভোরের রোদ এসে শুয়ে পড়ে যেই, ছুটে যেয়ে সেরে ফেলি আলোর গোসল… প্রতিদিন ভোরে এভাবেই আমি এক পিপীলিকা হই।।
-
হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে / সাইফ আলি
নীল শাড়িতে আকাশ তুমি শাদায় মেঘের ফুল, মধ্যরাতে পাহাড়ি এক ঝরনা তুমি শীতল তোমার ঢেউ খেলানো চুল হাত ছোয়াবো, ছোয়াবো না- ভাবছি যখন এই; হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে ভিজিয়ে ছাড়লেই।
-
দেয়াল / সাইফ আলি
দেয়ালে বাজেনা শব্দ দেয়ালের নেই মুখ, দেয়ালে শুধুই পিঠ ঠেকে যার খেয়ালেই তার সুখ। দেয়ালে প্রেমের চিহ্ন আর ছিলো দুটো নাম, বহুদিন পর সেই দেয়ালেই আজ পিঠ ঠেকালাম।
-
-
ইরাদা / সাইফ আলি
তোমার বুকের গন্ধ আমায় মাতাল করে তোমার চোখের তারায় দেখি উচ্ছলতা তুমি আমার দশ আঙ্গুলের সবকটি নাও নিস্ব বানাও, ফকির বানাও… ঝর্ণা যেমন পাহাড় দাপায় তেমনি তুমি দাপিয়ে বেড়াও আমার সকল সবুজ ভূমি কেবল শুধু চাষ কোরো না অবিশ্বাসের ছোট্ট দানাও; এ নাও তুমি ভালোবাসার সবটুকু নাও, নিস্ব বানাও… শ্রাবণ যেমন বর্ষা আনে তেমন তুমি…
-
যেনো এক অন্ধকার তিল / সাইফ আলি
যেনো এক অন্ধকার তিল হয়ে বেঁচে আছি তোমার ঐ আলোর শরীরে, তুমি যেই তিল আঁকো চিবুকের ’পরে সেই তীল মুছে যায় সহজেই… আমিতো মুছি না!! আমি কোনো আলো নই, নারী; কিন্তু তোমার ঐ আলোর শরীর আরো বেশি প্রাণবন্ত করে দিতে পারি।
-
বৃষ্টি তখন শুধু ঝরাটাই বাকি / সাইফ আলি
বললেই বলা হয়ে যাবে তার চেয়ে ভালো হয় যদি আরো কিছু সময়ের হিসেব না থাকে; এ সময় ভুলে যাবে তোমাকে-আমাকে। বাঁশপাতা বাঁশি হলে তুমি হও সুর সাক্ষ্যি থাকুক এই ভরা রোদ্দুর- নদীর স্রোতের মতো তুমি যদি হও আমার দু’কূল ছুঁয়ে বও তুমি বও… বললেই বলা হয়ে যাবে তার চেয়ে ভালো হয় যদি- না বলা আকাশ…
-
আজো সেই চাদরখানি / সাইফ আলি
আজো সেই চাদরখানি আদর দেয় আমায় যে চাদর থাকতো জড়ায়ে আমার মায়ের গায় ॥ রং জ্বলে গেছে যে এর তবু মায়া ছাড়েনি, জীর্ণতাতে মায়ের আদর কমাতে যে পারেনি ॥ আজো সে জড়িয়ে রাখে অজর মমতায়। কত মায়া কত স্মৃতি মিশে আছে এর মাঝে, আজো সেই স্নিগ্ধ সুবাস খুঁজে পায় এর ভাজে। বুকে ধরে জাপটে আমায়…
-
-
-
-
চোখের বয়ান / সাইফ আলি
চোখের বয়ান শুনে থেমে যায় মেঘ ঝরে পড়ে অবিরাম জলজ আবেগ মুখ থেকে তবু তার সরলো না রা দ্বিধার দোলায় তাই দুলছে দু’পা শরীর তো থেমে গেছে তবু এই মন চুপি চুপি প্রণয়ের করে আয়োজন…
-
রাতটা যতো গভীর হবে / সাইফ আলি
রাতটা যতো গভীর হবে চাঁদটা ততো জোছনা ছড়াবে ॥ গাছের পাতারা দুলবে হাওয়ায় আল্লাহ তোমারি অনুভবে॥ রাতজাগা পাখিগুলো গেয়ে যাবে গান আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ মহান॥ তাদের সে গানে গানে মুগ্ধ এ মন ব্যাকুল তোমারি অনুভবে। বয়ে চলা নদীগুলো গেয়ে যাবে গান আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ মহান॥ মাঝরাতে একা বসে জায়নামাজে আল্লাহ তোমারি অনুভবে। রিমিঝিমি বয়ে চলা…
-
কবি আফসার নিজামের ‘মিষ্টি আলোর বৃষ্টি’ বইটির জন্য করা কিছু অলংকরণ
বইটি এবারের বইমেলায় পাওয়া যাবে। ছোট সোনামণীদের জন্য শিক্ষণীয় এবং সুন্দর কিছু ছড়ার সমাবেশ ঘটেছে বইটিতে। সবাই সংগ্রহে রাখতে পারেন।
-
ঘুম পাড়ানোর কবিতা / সাইফ আলি
লক্ষী সোনা ঘুমিয়ে পড়ো রাত হয়েছে বেশ স্বপ্নে তবে দেখতে পাবে লাল পরীদের দেশ। তোমার দু’চোখ বুজবে যখন ঝিঝিরা সব ডাকবে তখন চুপি চুপি চাঁদটা এসে লাগিয়ে দেবে চুম ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি পাড়িয়ে দেবে ঘুম। ঘুম এসে এই দু’চোখ পেতে উঠবে যখন গল্পে মেতে তুমিও তখন কল্পে যাবে নীল পরীদের বাগে ভোমরা যেথায় গুন গুনিয়ে…


