পরিচয় / সায়ীদ আবুবকর

আমার কোথাও যাওয়ার নেই। আমি এইখানে পড়ে আছি
বট-পাকুড়ের নিচে, হিজলছায়ায়, বঙ্গ-উপসাগরের পাড়ে
কত কাল মহাকাল। নুহের নগর থেকে আমি আসিয়াছি;
আমার শরীরে হ্যামের শোণিতধারা। আমার অস্থিতে-হাড়ে

তাঁর পুত্র হিন্দের উজ্জ্বল উপস্থিতি, যাঁহার ঔরশে ছিলো বঙ।
পিতা বঙ থেকে আমি এই বঙ্গে, বয়ে যাই তাঁরই উত্তরাধিকার।
আমার কোথাও যাওয়ার নেই। পাখি আর আকাশের নানা রঙ
দেখে দেখে আমার দিবস কাটে। কিভাবে হরিণ বাঘের শিকার

হয় বনে-আমি তাও দেখি। কখনো আনন্দে হাসি, কখনো বা
কষ্টে শ্রাবণের মতো আমি কাঁদি। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে
তাজিং ডনের মতো থাকি আমি অবিচল- যেন জন্ম বোবা;
হঠাৎ দুঠোঁটে ফোটে খই, একতারা বেজে ওঠে বাউল এ হাতে।

কোথাও আমার যাওয়ার নেই। আমি এইখানে পড়ে আছি
বঙ্গ-উপসাগরের পাড়ে, সভ্যতার প্রায় সমান বয়সী,
প্রথম মানুষ এ দ্বীপের; নুহের নগর থেকে আমি আসিয়াছি।
সকালের সূর্য আমার কুশল পুছে, জানায় শুভেচ্ছা আমাকে রাতের শশী।

৩০.৭.২০১৯ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

দ্রাবিড় হৃদয় / সায়ীদ আবুবকর

যদি শুকনো পাতার মতো টুপ করে
ঝরে যাই আজ ভোরে,
নারকেলের পাতায় বসে জটলা করবে বুঝি কয়েকটি কাক
আর মেঘ ছুঁয়ে উড়ে যাবে দুধসাদা পাখি এক ঝাঁক।

কোথায় যে উড়ে যায় পাখি, কোথায় হারিয়ে যায় নদীর জোয়ার!
হায় বেদুইন, যে-উটের কুঁজো পিঠে হয়ে আছো নিশ্চিন্তে সোয়ার,
সে-উট থামবে কোন্ দিগন্তের পারে?
জীবন যে-সুর তোলে সারা দিন সেতারের তারে,

কে জানে কোথায় সেই সুর মিশে যায়-ঘোর লাগা সুর!
যেখানেই যাই যতদূর-
ফিরে আসে বাবরার দ্রাবিড় হৃদয়
যেখানে শিশিরে ভেজে রাতের বকুল আর সকালের লাল সূর্যোদয়।

১৫.৮. ২০০৮ রাজবাড়ি

হে মধুসূদন / সায়ীদ আবুবকর

তোমার দুচোখে দিয়েছিল ঢেলে ঘোর
মিল্টন, পেত্রার্ক, হোমার, দান্তে ও শেলি;
আমার দুচোখে ঢেলে দেছে সেই ঘোর
আমারই গৃহের শিমুল পলাশ বেলি।

তুমি ছুটেছিলে আটলান্টিকের পাড়ে,
হেঁটেছিলে একা শেক্সপিয়ারের বাড়ি:
কবিতার নেশা জাগলে মজ্জায়-হাড়ে
আমি ছুটে যাই তোমার সাগরদাড়ি।

তুমি ফিরেছিলে, যেন বীর, হাসিমুখে,
বিপুল বৈভব এনেছিলে হাত ভরে;
আমার জীবন কেটে যায় সেই সুখে,
কাটে দিনরাত কবিতার মহা ঘোরে।

তুমি গিয়েছিলে শেক্সপিয়ারের বাড়ি,
আমি ছুটে যাই তোমার সাগরদাড়ি।

১১.১১.২০১১ সিরাজগঞ্জ

গ্রামেও শহর চলে এলো / সায়ীদ আবুবকর

গ্রামেও শহর চলে এলো। নিশীথে নামিয়ে সূর্যোদয়
ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে ছুটে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি।
শরীল ভালো তো, বাপ?’ উঠোনে দাঁড়িয়ে মহিরের মা কুয়েতে কথা কয়,
কী আর করবো বল-বসে বসে বেলছিলাম রুটি-

সৈয়দ বাড়ির ছাদে শোভা পায় ডিশের এ্যান্টেনা;
মোবাইলে কান লাগিয়ে গফফার-গফুর-আনিচ
কামলা খাটতে যায় মাঠে। দুচোখ ঝলসে যায়-দেখলে যায় না চেনা
পিচঢালা পথঘাট-নিবিড় নৈঃশব্দ ভেঙে ট্রাক-জিপ ছুটে যায়-জ্বলজ্বল করে পিচ।

নারকেলের পাতায় বসে মাথা কোটে পাতিঘুঘু। শ্যালো মেশিনের জলে
স্নান করে দাঁড়কাক। ট্রাকটর করাতের মতো কেটে চলে বুনো মাটি।
সেই সাথে পলিটিক্সও এলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
কৃষক পার্টির কথা ভাবে আর ভাবতে ভাবতে বাঁধে নতুন শস্যের আঁটি।

১৫.৫.২০১৫ সিরাজগঞ্জ

ফিরে যাই শৈশব ও কৈশোরে / সায়ীদ আবুবকর

আমার শৈশব বেলের আঁঠার মতো আমার সর্বাঙ্গে লেগে আছে।
সর্ষের তেলের মতো আমার কৈশোর সারা গায়ে মেখে নিয়ে
আমি যেন তৈরি হয়ে আছি ঝাঁপ দেওয়ার জন্যে দিঘির শীতল জলে।

দেশলাইয়ের বাক্সে ডাঁশমাছি ভরে গান শোনার রোদেলা দিনগুলো,
কাঠের গুলতি দিয়ে মাঠে মাঠে পাখি মারার বিফল সংগ্রাম
আর গাছের খোঁড়লে দোয়েল ও মাছরাঙার ডিম খোঁজার সুস্মৃতি
হৃদয়ের মধ্যে এসে খালি আটকে আটকে যায়
বর্ষাভেজা এঁটেল মাটির রাস্তায় যেভাবে জুতোপায়ে হাঁটতে গেলে
আটকে যায় পা।

আমের বোলের মউমউ করা ঘ্রাণ মেখে নিয়ে সারা গায়ে
আমি যেন অবাক দাঁড়িয়ে আছি ধানভরা কোনো বিলের কিনারে
আর কান পেতে শুনছি কেবল ঘুঘুর নরম সুর
এবং আমার দুচোখ কেমন নিশ্চেতন করে দিয়ে
ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে কোথা দূরে কাশফুল বকের মিছিল।

আমার দুচোখ কেবলি শৈশব ও কৈশোরে ফিরে যায়
আর দুরন্ত আমার শৈশব-কৈশোর
হাত ধরে নিয়ে যায় আমাকে কদমফুল ফোটা কপোতাক্ষের পাড়ে
যেখানে বাংলাদেশ ঘন ঘাসের জঙ্গলে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে
সন্ত্রস্ত একটি খরগোশের মতো।

২০.১১.২০০৮ ঝিনেদা (মেরামত: ১৭.৩.২০১৫ সিরাজগঞ্জ)

কারবালা ১৯৭৫ / সায়ীদ আবুবকর

পাষাণ সীমার কাঁটে খঞ্জরে ইমামের শির-
কাঁদে দুলদুল, কাঁদে মা ফাতেমা জান্নাতে বসে;
বুক চাপড়ায় কুলমাখলুক সারা পৃথিবীর,
আবার জগতে এলো কারবালা, হায়, কার দোষে!

শহিদের খুনে বুড়িগঙ্গার পানি হলো লাল,
ধানমন্ডির রাজপথ গেল ডুবে সেই খুনে;
ঘুঘুরা বিষাদে হিজলের ডালে কুটছে কপাল,
প্রাণের পতাকা খামচে ধরেছে প্রাচীন শকুনে।

হায়, শেষ রাতে ঘুঘু কেন কাঁদে ঘুম থেকে উঠে?
কোথা থেকে এলো পুরনো শকুন রাতের শহরে?
এ গলি সে গলি দুলদুল যেন যায় ছুটে ছুটে,
ইমামকে খুঁজে না পাওয়ার শোকে মাথা কুটে মরে!

‘হায় রে মুজিব! খোকা রে আমার!’ বলে কাঁদে কে ও?
টুঙ্গিপাড়ার গোর থেকে উঠে এসেছে এ লোক;
দরবেশপিতা শেখ লুৎফুর রহমান যে ও!
প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রকে খোঁজে তাঁর দুটি চোখ।

পুত্রকে খোঁজে পিতা, দুলদুল খুঁজছে ইমাম;
বাতাস ভিজেছে বোবা কান্নায় আর হাহাকারে;
বাংলার মাটি কেঁপে কেঁপে উঠে জপে এক নাম
‘মুজিব! মুজিব!’ ছোটে এই নাম ইথারে ইথারে।

ফুল জেগে উঠে বলে বাতাসকে, ‘কে মারলো তাকে?’
পুঁছে বাতাসকে পদ্মার পানি, ‘কে করলো খুন?’
হরিণশাবক একই জিজ্ঞাসা করে তার মাকে;
একই উত্তর: ‘সীমার! জাহান্নামের শকুন।’

এ-কি জিঘাংসা-সোনার বালক, সে শেখ রাসেল
যার চাঁদমুখ দেখলে বাঘও গলে যায় স্নেহে-
তার কচি বুকে ছুঁড়লো সীমার বিষাক্ত শেল,
রক্ত-ফোরাত দিলো যে বহায়ে তার ছোট দেহে!

বিপুল মৃত্যু দেখে ছুটে গিয়ে চৌকির নিচে
নিয়েছিল ঠাই; খুঁজলো তাকেও হায়েনার দল।
বললো বেচারা ‘মেরো না আমাকে!’ চোখে তার জল;
তবু পাষাণেরা ফেললোই মেরে, যেন কোনো বিছে।

তোমার রাসেল মরে গেছে, পিতা; ভাগ্যিস তুমি
দ্যাখোনি দুচোখে! কে সইতে পারে এমন করুণ
মৃত্যু জগতে! হঠাৎ এদেশ যেন মরুভূমি
যেখানে নামে না বৃষ্টি কখনও, ঝরে শুধু খুন।

হায়, কোথা গেল বাংলার সেই দামাল ছেলেরা-
যাঁর ডাক শুনে লাখে লাখে সব এসেছিল ছুটে-
কঠিন আঘাতে ভেঙে ফেলেছিল হায়েনার ডেরা,
মানুষের মুখে মুক্তির হাসি উঠেছিল ফুটে

যাঁর ডাক শুনে ঝাঁপ দিয়েছিল অগ্নিসমরে
কৃষক মজুর আর ছাত্ররা এই বাংলার;
তারপর তারা বীরের মতন ফিরেছিল ঘরে,
দেশমাতৃকা পেয়েছিল ফিরে স্বাধীনতা-হার-

কোথা গেল তারা? জেগে ওঠো ফের সোনার ছেলেরা
পিতার খুনের প্রতিশোধ নিতে ধরো তরবারি;
শত শকুনের নখের আঁচড়ে দ্যাখো ছেঁড়া ছেঁড়া
প্রাণের পতাকাÑযা দেখার আগে মরে যেতে পারি।

আমার জনক বঙ্গবন্ধু, মুজিব, মহান;
তাঁর রক্তের কসম, আমরা ফিরবো না ঘরে-
শোনো হায়েনারা বাংলার বুকে গায় ওই গান,
ওই শকুনেরা ঠোঁট নেড়ে নেড়ে উল্লাস করে

আবার বাতাসে ভাসুক সে ক্রুর মৃত্যুশপথ,
আবার আসুক ফিরে সে পুণ্য যুদ্ধের বেশ:
আমার ঠিকানা একাত্তরের লোহুরাঙা পথ;
এই কারবালা নয় হে বন্ধু আমার স্বদেশ।

১৭.৬.২০১৬ সিরাজগঞ্জ

একটি হত্যাকাণ্ড ও দেশপ্রেম / সায়ীদ আবুবকর

তারা তাকে হত্যা করেই ফেললো
কারণ তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্যে
সে তার জবান খোলেনি একবারও।

সে দাঁড়িয়ে ছিলো তার পুরোনো কাস্তেটি হাতে নিয়ে
ধানখেতের মাঝখানে।
তার মুখভরা ছিলো ঈশা খাঁর দাঁড়ি।
সে কোনোদিন স্কুলে গিয়েছিল বলে শোনেনি কখনো কেউ।
সত্তর বছর ধরে এ গাঁয়ের আলো ও বাতাসে
রৌদ্র ও বর্ষায়
ফলন্ত বৃক্ষের মতো বেঁচে ছিলো সে।

রাজনীতির আড্ডায়, ফুটবলের মাঠে কিংবা চায়ের দোকানে
তার উপস্থিতি কারো চোখে পড়েনি কখনো।
তাকে শুধু দেখা গেছে মাঠেঘাটে কিংবা বিলে
কখনো লাঙল নিয়ে, কখনো কোদাল, কখনো নিড়ানিÑ
সাধকের মতো সে নিমগ্ন হয়ে আছে তার নিত্যকার কাজে।
কখনো বা সেচঘরে বসে থাকতে দেখা গেছে তাকে
শ্যালো মেশিনের পাশে;
কখনো বা দেখা গেছেÑএকা একা
ঠিক করে চলেছে সে ইরি ব¬কের পানির লাইন।
কখনো গাঁয়ের হাঁটে ছুটতে দেখেছে তাকে লোকজন:
কাঁধে তার খেত থেকে তুলে আনা তরতাজা তরকারির স্তুপ।

ক্লাবের ছেলেরা তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
তাদেরকে উসকে দিয়েছিল তার সুখ ও সাফল্যে ঈর্ষান্বিত
এ গাঁয়েরই দুষ্টু কিছু লোক।
ছেলেরা পতাকা হাতে নিয়ে ছুটে গিয়েছিল তার কাছে;
বলেছিল, “ক্রিকেটে আপনি কোন্ দেশের সাপোর্টার?”
বলেছিল, “আপনাকে কেন দেখা যায় না বিজয় দিবসের
প্রভাতফেরিতে?” বলেছিল, “আপনি কি
এদেশকে ভালোবাসেন না একটুও?”

সে কেবল ফ্যালৃফ্যালৃ করে নির্বাক তাকিয়ে ছিলো
তাদের মুখের দিকে।
তার নিরবতা ভেঙে দিয়েছিল তাদের ধৈর্যের বাঁধ।
তাদের উত্তপ্ত ধমনীর ভেতর এক কড়াই গরম তেলের মতো
টগবগ করে ফুটতে থাকা তাদের বিক্ষুব্ধ দেশপ্রেম
খুনী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো তার উপর এবং শেষমেশ
হন্যে কুকুরের মতো তাকে হত্যা করে ফেললো, পিটিয়ে।

তারা চলে গেলে, তার লাশ
ঘিরে কেঁদে উঠলো সুগন্ধি বনের বাতাস।
চারদিকের ধানখেত তার শোকে কেঁপে উঠলো থরথর।
মাঠের গরুরা, গরুদের পিঠের উপর বসে থাকা কয়েকটি ফিঙে
আর শূন্য সেচঘর
তার নামে করতে থাকলো আহাজারি।
আর এক নারীÑ
তার দেশ,
সিক্ত চোখ, আলুথালু কেশÑ
উদ্ভিদের মতো নরম মৃত্তিকা ফুঁড়ে জেগে উঠে বলে উঠলো সক্রোধে:
‘তুমুল বর্ষায় ও প্রচণ্ড রোদে
কে আর বেসেছে ভালো তার অধিক আমাকে একদিনও?
গাছের পাতারা সাক্ষী আর জমিনের সব তৃণ,
তার চেয়ে প্রিয় আর ছিলো না কেউই, দুঃখে কি সুখে,
এ মুলুকে।’

তবু তারা দেশময় হেসে চললো বিজয়ের হাসি
এই বলে: ‘ফেলেছি বীরের মতো হত্যা করে তাকে
কারণ আমরা ভালবাসি
আর সে ভালোবাসেনি একবারও এই দেশটাকে।’

৫.৩.২০১৫ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

শুধু অন্ধকারে সুখ / সায়ীদ আবুবকর

শুধু অন্ধকারে সুখ-
রমণীর সুগন্ধি নরম অন্ধকারে
আর দুচোখ শীতল করা নিশীথের একঘর পিচঢালা অন্ধকারে।

আলোতে ঝলসে যায় চোখ।
সভ্যতার জমকালো তেজস্ক্রিয় রোদে তাকাতে পারি না কিছুতেই।
ফর্মালিনমাখা জ্ঞানের উত্তাপে পুড়ে যায় শুধু চোখের কর্নিয়া।

প্রিয়তমা, এবার তোমার দু-স্তনের মাঝখানে
নিবিড় নির্জন অথৈ অন্ধকারে বুজতে দাও চোখ-
দেখে নেই চোখ বুজে
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর প্রণয়-সঘন স্তব্ধ অন্ধকারপুরী।

শুধু অন্ধকারে সুখ।
শুধু অন্ধকারে ভালবাসা।

১১.১১.২০১৪ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

মর্ত্যলোক / সায়ীদ আবুবকর

দেখেছি ফুলের বন এইখানে- বারোমাস ফুল ফোটে,
এবং ধানের খেত- বারোমাস ফলে ধান,
আর ভরা মধুমাস, যেখানে পাখির ঠোঁটে
শুধু বসন্তের গান।

আমি যদি চলে যাই,
যাওয়ার আগে যেন বলে যাই:
এই মর্ত্যলোকে
যতটুকু দেখেছি দুচোখে,

দেখেছি দুঃখের চেয়ে সুখের প্রাচূর্য
আর সমুদয় অন্ধকারের উপর পূর্ণিমার ভরা চাঁদ
কিংবা দিবসের মহাসূর্য।

৫.১০.২০১৪ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

গাছের ঘটনা / সায়ীদ আবুবকর

অরণ্যের মাঝখানে
উদ্ধত দাঁড়িয়ে একটি গাছ। সে জানে
কী করে লড়তে হয় ঝড়-ঝন্ঝার
সাথে। তার

সুউন্নত সব ডাল।
সকাল বিকাল
কি-বিপুল পাখি এসে বসে, গান গায়, করে খেলা
এবং রাতের বেলা

লুকায় তাদের সন্ত্রস্ত শরীর নিজঝুম ঘন পাতার আড়ালে।
তার পাশে মহাবীর রুস্তমও দাঁড়ালে
হয়ে যায় কত ছোট! তবু এক ছোট্ট পাখি প্রতিদিন ভোরে
জোরে জোরে

একথা শুনিয়ে যায় বারবার:
‘কোরো না অহংকার।’
গাছটি ‘ধুত্তোর!’
বলে চেয়ে থাকে নির্নিমিখ, আর কোনো দেয় না উত্তর।

একদিন এক বদ্ধ মাতাল একটি দেশলাইয়ের কাঠি দিয়ে
দিলো দীর্ঘ সেই গাছের গোড়ায় আগুন জ্বালিয়ে।
সে-আগুন
ঝরালো গাছটির খুন

সারা বনে। লক্ষ লক্ষ দেশলাইয়ের কাঠি
যার কাঠ দিয়ে তৈরি করা যেতো অনায়াশেআর তার মাটি
যার জন্ম নিয়ে করতো গৌরব বারো মাস, মাত্র একটাই
দেশলাইয়ের কাঠি কি-সহজে করে দিলো তাকে ছাই!’

৩০.৮.২০১৪ মিলন মোড়, সিরাজগঞ্জ