আমাকে বাজাও সেই সুরে, যে-সুরে প্রলয় থেমে যায়, সাগরের পানি থেমে গিয়ে হয়ে যায় স্থির, দাউদাউ অগ্নিকুণ্ড নিভে গিয়ে হয়ে যায় ফুলের বাগান; যে-সুর শোনার জন্যে কান খাড়া করে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে অরণ্যের গাছপালা, পাখিরা উদাস হয়ে বসে থাকে অশ্বত্থের ডালে, মাছেরা কিনারে এসে ভেসে ওঠে সুরের তৃষ্ণায়;যে-সুর শীতের রোদ্দুরের মতো ঢুকে পড়ে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, রজনীগন্ধার সুঘ্রাণের মতো ঢুকে পড়ে নাসিকায়, আর হৃদয়ের অথই গহিনে ঢুকে
সাঁতরে বেড়ায়, যেন তিমি মাছ; যে-সুর বাজলে পৃথিবীর সব সঙ্গীতের সুর পানসে হয়ে যায়, বংশীঅলার বাঁশির আওয়াজ আর নর্তকীর দুপায়ের নূপুরের ধ্বনি হয়ে যায় মুহূর্তেই ভীষণ বিস্বাদ। আমি তো চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি পথ সেই মেঘের আশায়, যে-মেঘ বেড়ায় বয়ে স্বপ্ন দেখা সেই সুরের সলিল, যে-সলিলে
জুড়ায় শরীর আর বরফশীতল হয় তাপিত হৃদয়।
১৫.১০.২০১০ ঝিনাইদহ
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান