দেখো কীভাবে হাঁটে লোকটা। দেখলে মনে হবে দাঁড়িয়েই আছে। কিন্তু
আমরা বুঝতে না পারলেও তার চলার মধ্যে একটা এগিয়ে যাওয়া আছে।
ধীর লক্ষ্যভেদী যাত্রা।
যেনো খরগোশদের কথোপকথন। সে পরিচিত কচ্ছপকে নিয়ে
আদি মশকরা।
আসলে আমি তো দাঁড়িয়ে নেই। ঘড়ির ঘন্টার কাঁটার মতো
অস্থানু। অথচ দেখলে মনে হয় চলছে না। খুব মিহি আওয়াজের
নিঃশব্দ হৃদপিন্ডের মতো।
এখন বাঁক ঘোরার সময়। সবার
দৃষ্টি আমার উপর, সবাই বলছে দেখো দেখো দেখো
এখনি বোঝা যাবে কোনদিকে এই ধীর গতি দুর্ভাগ্য বাঁক নেবে।
আমি তো আমার পেছনে আমার অনুকরণ কিংবা অনুসরণকারী
চাইনি। উৎসাহ, উদ্যম বা বাহবার পরিণাম আমি জানি।
পুষ্পমাল্যের আনুষ্ঠানিকতা আমাকে থামায়নি। ফুলের আয়ু
একদিন আমি জানি। ফুল কখন আবর্জনা হয় সেটাও আমি জানি। সব কুসুমের
কুৎসিত দিক আমি পায়ে মাড়িয়ে এসেছি। এখন সত্যি আমার
গন্তব্যের কাছাকাছি এসে পড়েছি বলে চিৎকার, কান্না ও অপবাদ
আমার দু’পাশে হতাশার হাহাকার তুলে বয়ে যায়।
আমি কোনোদিনই কাঁদিনি, এমনকি আমার কোনো শৈশবের কথাও আমার মনে
নেই। এখন তো শুধু ঐ মায়ার পাহাড়টিই প্রতিবন্ধক। কিংবা
কেউ আমাকে প্রকৃতপক্ষে আর বাধা দিচ্ছে না। তবুও অভিযোগহীন,
নালিশহীন একটি দীর্ঘশ্বাস এখনো আমার সমস্ত সত্তায় কাঁপুনি
ধরিয়ে দেয়।
বলে “ঋণ শোধ না করে পালিয়ে যাচ্ছে সে।”
আমাকে থামিয়ে দেয়, আমাকে ক্লান্তির কথা ভাবায়।
মনে হয় আমি চূড়ায় পৌঁছেও পেছনে ফিরে দেখার অনুতাপ
আর বহন করার যোগ্য নই। কেবল ইচ্ছে হয় মুখ
ফিরিয়ে বলি- আমাকে ক্ষমা করে দিও।
কোনো প্রত্যুত্তর দেয়ার কেউ কি আছে?
১৯ জুলাই ২০০৪
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান