হয়তো বা স্বপ্ন ছিলো । ঘুমঘোর মিথ্যার ম্যাজিক
আমাকে দেখিয়ে ছিল বাষ্পরুদ্ধ চেহারা তোমার।
পাখির বিলাপে ভরা ঘোরলাগা গ্রামের কুটিরে
একটি বালক শুধু শুনেছিল নদীর রোদন।
এখন সে পাড়ি দেয় সপ্তসিন্ধু, দশদিকে চোখ
মায়ার কাজলে ভেজা দৃষ্টি তার ক্লান্তির রুমালে
মুছে নিয়ে ঘরে এসে দেখে কেউই অপেক্ষায় নেই।
তার কোনো দেশ নেই। নিরুপায় ভিসার বিপাকে
কালেভদ্রে উড়ে আসা শুষ্ক এক নদীর কিনারে।
দাঁড়াও পথিক বর, পত্রহীন অশ্বত্থের শাখা
নড়ে উঠে বোঝায় সে অতিথির অনাত্মীয় নয়।
যদিও চূড়োয় বসে নিঃস্ব এক শকুনী নিজেই
নিজের পালক ছিঁড়ে উদরের অনল নিভায়।
একটি সমাধি তাকে বাঁশঝাড়ে ইশারায় ডাকে
অকস্মাৎ দৃষ্টি তার মর্মভেদী। মাটির অতলে
দেখে সে চেহারা সেই বাষ্পরুদ্ধ বেদনার নদী
মৃদু শব্দে ভরে গিয়ে-এতদিন কোথায় যে ছিলে
শেষ অনুযোগ নিয়ে মুছে যায় মাটির মায়ায়।
হয়তো বা স্বপ্ন নয়। নয় কোনো মিথ্যার ম্যাজিক
একদা আমারও ছিল দেশ,দশ, নারীর নয়ন।
দেহের ভিতরে ছিল প্রেম, স্বপ্ন, আত্মার আদেশ
কিন্তু আজ ভিসার বিপাকে পড়ে ফিরে আসা পাখি
খুঁজে ফেরে পত্রপুষ্প ভরা কোনো উদ্যানের ডাল।
আমার বিহনে দ্যাখো নদী শুষ্ক, গুল্মহীন মাটি
কেবল উঁইয়ের ঢিবি। বৃষ্টিহীন পরাজিত মেঘ
বজ্রের আওয়াজ তুলে ফিরে যায় দিগন্তের দিকে।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান