মুজিবনামা / সায়ীদ আবুবকর

একাদশ সর্গ

পনেরো আগস্ট শেষ রাতে, নেমে এলো
আসমান থেকে ফেরেস্তা আজরাইল
সৌম্যমূর্তি ধরে। হাতে ফুল, শুভ্র কেশ;
এসে কি-বিনম্র পায়ে করতে লাগলো
হাঁটাহাঁটি ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে,
২৭ মিন্টো রোডে আর শেখ ফজলুল
হক মনির ধানমন্ডির বাসস্থানে;
তিন জায়গায় একসাথে এক রূপে
হাঁটতে লাগলো তাঁর অলৌকিক পায়ে।
চিন্তামগ্ন হাঁটছে সে একা, ঘুরে ঘুরে;
হাতে বাঁধা সোনার ঘড়ির দিকে তীক্ষ্ন
চোখে তাকাচ্ছে বারংবার; থেকে থেকে
ঘুমন্ত বাড়ির সবগুলো জানলা দিয়ে
মারছে কৌতূহলে ঊঁকি-ঝুঁকি। তাই দেখে
থরথর করে, যেন বাতাসে বটের
পাতা, কাঁপছে বঙ্গমাতা বেগম মুজিব।
কাঁপছে হাত-পা তাঁর। ঘামছে কপাল।
শুকিয়ে আসছে গলা। ভীষণ তৃষ্ণায়
এক গ্লাস পানির উদ্দেশে ছুটলেন
তিনি হাজেরার মতো, ডাইনিং রুমে।
জগগুলো পড়ে আছে খালি। কলসিতে
পানি নেই। ট্যাপগুলো শুকিয়ে আমড়া-
কাঠ। এক ফোঁটা পানি নেই কোনোখানে,
যেন কারবালা হঠাৎ এ বাড়ি। তিনি
ডাকলেন উচ্চৈঃস্বরে “কামাল! কামাল!”
বলে কতবার, এলো না উত্তর। সব
ঘুমাচ্ছে মড়ার মতো সারা বাড়ি। নেই
সাড়াশব্দ কারো, কোনোখানে। উবে গেল
তৃষ্ণা তাঁর আস্তে আস্তে, কর্পূরের মতো।

ধীর পায়ে তিনি, অসীম সাহস বুকে
নিয়ে, দাঁড়ালেন এসে জানলার কাছে;
“এই যে, শোনেন” বলে ডাকলেন, একা
পায়চারি করা লোকটাকে। তাঁকে দেখে
লুকালো সে অন্ধকারে, কারো উপস্থিতি
টের পেয়ে যেভাবে লুকায় তস্কর। ‘হা-
খোদা, সর্বশক্তিমান; শ্রেষ্ঠ রক্ষাকারী!’
ঘামতে ঘামতে তিনি ফিরলেন বেডে;
এক নজর দেখলেন চেয়ে-মহামান্য
প্রেসিডেন্ট বাংলার, বঙ্গবন্ধু, তাঁর
স্বামী, শুয়ে আছে কি-শান্তিতে, তাঁর পাশে!
‘লা-হাওলা অলা কুয়াতা’ বলে মারলেন
ছুঁড়ে থুঁতু শয়তানের উদ্দেশে তাঁর
শিয়রের বাম দিকে; তিন বার করে
কলেমা তৈয়েবা ও কলেমা শাহাদাত
করলেন পাঠ মনে মনে; অতঃপর
বুজলেন চোখ কেবলার দিকে ফিরে।

গভীর নিদ্রায় ডুবে আছে লোকজন
তিন বাড়ি। ছিলো মেতে আনন্দ-আহ্লাদে
সারা সন্ধ্যা শেখ মুজিবের সাথে। তিনি
মহান বিপ্লবী নেতা বাংলার; সেই
সাথে প্রিয় পিতাও যে তিনি তিন পুত্র
শেখ কামাল, জামাল আর রাসেলের;
শেখ নাসেরের প্রিয় ভ্রাতা; ফজলুল
হক মনির দরদী মামা; আবদুর
রব সেরনাবিয়াতের প্রিয় ভগ্নিপতি;
সুলতানা কামাল ও রোজি জামালের
স্নেহার্দ্র শ্বশুর। কত দাবি সকলের,
আর কত শত আবদার! কি-গভীর
ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালবাসা নিয়ে তারা সব
ঘোরে তাঁর চারদিকে। কি-স্বর্গীয় সুখ
এইসবে! প্রিয় পত্নী ফজিলাতুন্নেছা;
আকাশের মতো তাঁর বিশাল হৃদয়;
সে-হৃদয় দিয়ে তিনি মাতিয়ে রাখেন
সারা বাড়ি, যত্ন আত্তিতে। যে-আসে তাঁর
কাছে, সে আর চায় না যেতে দূরে, পর
কি আপন। খানাপিনা, গল্প-আড্ডা শেষে
কি-শান্তিতে শুয়ে আছে সব! চোখ জুড়ে
শুধু সুখ, শুধু স্বপ্ন। এপাশ ওপাশ
করছেন শুয়ে শেখ নাসের। অনেক
দিন হলো, এসেছেন তিনি। খুব ভোরে
হয়েছিলেন রওনা খুলনার উদ্দেশে
ভাইকে না বলে। লোক দিয়ে রাস্তা থেকে
ফিরিয়ে আনেন বঙ্গবন্ধু। হেসে দিয়ে
বলেন, “আমাকে ফাঁকি দিয়ে, চেয়েছিলি
পালাতে তো? পারলি না। ধরা পড়ে গেলি।”
বাংলার শাসক তিনি; তবু একবারও
ভোলেন না ডুবিয়ে রাখতে স্নেহাদরে
প্রাণের এ ভাইটিকে। জানে না এখনো
তাঁরা, অদৃষ্ট তাঁদের বেঁধেছে কি শক্ত
অমর বন্ধনে। খানাপিনা শেষে ফিরে
গেছে সেরনিয়াবত ২৭ মিন্টো রোডে
নিজের নিবাস আর ধানমন্ডি শেখ
মনি তাঁর শান্তি-নীড়ে। স্ত্রী আরজু মনি
অন্তঃসত্বা। পেটের সন্তান রাত্রিদিন
নিচ্ছে পৃথিবীর মুখ দেখার প্রস্তুতি;
যখন সয় না তর, তুলতুলে পায়ে
জোড়ে লাথি; বার বার জাগে তার মাতা
মধুর ব্যথায় সারা রাত। আজও রাতে
যথারীতি জেগে উঠে, শিশুর পিতার
পাশে বসে কল্পনায় দেখতে দেখতে
অনাগত সন্তানের কচি মুখ, ফের
ঢলে পড়ে পরম শান্তিতে মহাঘুমে।
শেষ রাতে মারামারি, কাটাকাটি আর
গোলাগুলির দুঃস্বপ্ন দেখে, ধড়পড়
করে উঠলো সে জেগে ফের। উঠে “মা! মা!”
বলে কাতরালো একবার, দুইবার।
তারপর পুনরায় ঢলে পড়লো অথৈ
ঘুমের ভেতর। আজরাইল এসে ফের
করতে লাগলো হাঁটাহাঁটি। তার ভারী
পায়ের আওয়াজে ভেঙে গেলে কাঁচা ঘুম,
আতঁকে উঠলো বেবি সেরনাবিয়াত;
ঠোঁট ফুলিয়ে সে কাঁদলো কয়েকবার;
তারপর ঘুমিয়ে পড়লো একা একা।
দুধ দেয়া অবলা গাভীটা হাম্বা হাম্বা
রবে ডেকে উঠলো তিনবার; তার ডাক
ভাঙাতে পারলো না কারো ঘুম; অতঃপর
সে নিশ্চুপ হয়ে গেল। প্রহরী অবাক
হলো হাম্বা হাম্বা ডাক শুনে এত রাতে।
হয়তো সৌখিন গাভী মশার কামড়ে
হয়েছে উত্যক্ত, ভাবলো সে। তারপর
কান খাড়া করে শুনতে লাগলো চুপচাপ
মহাকাল-তরঙ্গের কলকল ধ্বনি।

উঠলো গর্জন করে বাইরে বন্দুক।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই, পড়ে গেল
সশস্ত্র প্রহরী-একজন-দুইজন-
এক এক করে সকলেই। ঘাতকেরা
ছুঁড়ছে বৃষ্টির মতো গুলি; ছুঁড়তে ছুঁড়তে
এগিয়ে আসছে তারা, যেন ঘূর্ণিঝড়।
ধুলাতে গড়িয়ে পড়ার আগে, কে যেন
শেষ-উচ্চারণ রেখে গেল কেঁপে ওঠা
বঙ্গজ বাতাসে-“পারলাম না রুখতে,
হে রজনী, তীক্ষ্ন তোর খড়গের আঘাত।
জীবনের আলো শেষে সরে যাচ্ছে দূরে,
বহু দূরে। রক্তচক্ষু সীমারের দল
জারজ আঁধার চিরে, পড়ছে ক্রমশ
ঢুকে বত্রিশ নম্বরে। ধিক, হে প্রহরী,
ব্যর্থ হয়ে গেল তোর মানবজীবন!”
কে শুনলো তার কথা আড়ষ্ট বাতাসে,
জানতে পারলো না সে। সাক্ষী তার রয়ে
গেল, শুধু কয় ফুট রক্তরাঙা পথ।
তারপর আরও রক্ত। আলতা-রঙ সেই
রক্তের উপর উজান রক্তের স্রোত।
কৃষ্ণ সেই স্রোতে পা ডুবিয়ে, সীমারেরা
উদ্ধত এগিয়ে গেল প্রাসাদের দিকে।

খুনীরা হয়েছে একত্রিত। সাফল্যের
দ্যুতি করতেছে চিকচিক সব মুখে।
মেজর রশিদ এসে বললো সোল্লাসে,
“মিন্টো রোড ও ধানমন্ডির অপারেশন
সাকসেসফুল। সেরনিয়াবত আর
ফজলুল হক মণি হয়েছে খতম
সপরিবারে। এখন শুধু বাকি শেখ
মুজিবুর রহমান। যত দ্রুত পারো,
পাঠাও পালের গোদাটাকে জাহান্নামে।
নেই হাতে সময় মোটেই। জলদি করো।”
“জয় খন্দকার মোস্তাকের জয়!” বলে
ছুটে গেল বিদ্রোহীরা গেটের ভেতর।

উঠলেন জেগে শেষে বাংলার বীর।
হৃদয়ে স্বদেশ নিয়ে, বেশিক্ষণ নয়,
গিয়েছিলেন ঘুমিয়ে। কুসুমপ্রেয়সী
ফজিলাতুন্নেসা তাঁর পাশে। স্বপ্ন দেখে
বারবার জেগে উঠে, পড়ছিলেন ঢলে
আবার নিদ্রার কোলে। তিনিও সত্রাসে
উঠলেন জেগে, বাইরে শুনতে পেয়ে
গুলির আওয়াজ। ধরলেন ত্রস্ত হাতে
এঁটে স্বামীর দুহাত।- “দুঃস্বপ্নে আমার
ভেঙে গেল ঘুম। দেখলাম এইমাত্র
স্বপ্নে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব
সিরাজুদ্দৌলাকে। দেখলাম মহম্মদী
বেগ কি-নির্মম হাতে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলছে
বাংলার হৃৎপিন্ড। আমার যে করতেছে
খালি ভয়! বাইরে শুনতে পাচ্ছি ওই
কিসের আওয়াজ? আবার কি পলাশীর
আমবনে ফেলছে লর্ড ক্লাইভ তার
কামানের গোলা আর সেনাপতি মীর
জাফর দেখছে তামাশা, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে?”

বললেন মহাবীর, “শান্ত হও, রেনু।”
বলে তিনি উঠালেন হাতে টেলিফোন-
সেট। শেষ এই রাত্রি যেন পড়ে গেছে
ঝড়ের কবলে আচানক। মহুর্মুহু
গর্জন বাতাসে। তখনও পায়নি টের
৩২ নম্বরের বাসিন্দারা, ক্ষুব্ধ অথৈ
দরিয়ায় খাচ্ছে হাবুডুবু জীবনের
তরণী তাদের। রিসিভার তুলে তিনি
করলেন ডায়াল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে।
বেজেই চলেছে ফোন। ধরছে না কেউ।
কার এত বুকের পাটা এ বাংলায়-
শেখ মুজিবুর রহমান করে ফোন
কিন্তু করে না রিসিভ! থমকে গেলেন
মহাবীর। চোখের পর্দায় তাঁর ভেসে
উঠলো মুহূর্তে, উত্তাল সাতই মার্চ,
পঁচিশে মার্চের কালো রাত্রি আর রক্ত-
ক্ষয়ী একাত্তর। বাংলার মানুষ যাঁর
একটা হুঙ্কারে লাফিয়ে পড়তে পারে
লাখে লাখে মৃত্যুর গহ্বরে, ভয়হীন;
আর যাঁর ডাকে পতঙ্গের মতো নীল
অগ্নিচুল্লিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দিতে পারে
আত্মাহুতি ত্রিশ লক্ষ বীর নির্দ্বিধায়-
সে-ই মুজিব করছে ডায়াল অথচ
করছে না রিসিভ, কে এমন নরাধম
আছে এ বাংলায়? শত্রুরা ফেলেছে ঘিরে
তাঁর বাড়ি, চতুর্দিক থেকে; পারলেন
বুঝতে তিনি। হায়! এখন উপায়? এরা
কারা? আর্মি জোয়ানেরা? বাংলার আর্মি
কেন মুজিবের বত্রিশ নম্বরে, কার
ইশারায়, কার নির্দেশে? কোথায় তবে
রক্ষিবাহিনী তাঁর? কাটছে কি ঘাস তারা,
যখন ফেলেছে ঘিরে হায়েনার মতো
বাংলার স্থপতি শেখ মুজিবের গৃহ?
চলছে তুমুল গোলাগুলি- “হায়, রেনু,
খুলে দাও দোর, দেখি কোন্ শৃগালের
বাচ্চারা পড়েছে হামলে বাঘের বাড়ি!”
পথরুদ্ধ করে আছে পত্নী তাঁর, “না, না!
আপনি যাবেন না কোথাও; আপনাকে
মেরে ফেলবে ওরা। কোথাও দেবো না যেতে
আপনাকে আমি।” বলে স্বামীকে জড়িয়ে
ধরে কাঁদতে লাগলেন বেগম মুজিব।
চলেছেন ডায়ালের পর ডায়াল করে
বিভিন্ন নম্বরে; করে না রেসপন্স কেউ।
বহু কষ্টে একটা নম্বরে অবশেষে
মিললো জবাব, তিনি তাঁর মিলিটারি-
সেক্রেটারি কর্নেল জামিল উদদীন।
ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। উঠলেন লাফিয়ে,
ঢুকলো কর্ণকুহরে যেই মুজিবের
আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর-“কর্নেল জামিল,
শেখ মুজিব বলছি। আর্মি-জোয়ানরা
হামলা করেছে আমার বাসায়। দ্রুত
পদক্ষেপ নাও। তা নইলে সবাইকে
শেষ করে ফেলবে। কোথায় আমার রক্ষি-
বাহিনী, পাঠাও এক্ষুণি। খতম করে
ফ্যালো মীর জাফরের প্রেতাত্মাগুলোকে।”
“আমি দেখছি, স্যার।” বলে ছুটলেন তিনি
সেই অবস্থায়, রুদ্ধশ্বাসে প্রেসিডেন্ট
শেখ মুজিবুর রহমানের বাসাবাড়ি
বত্রিশ নম্বরে। পথিমধ্যে হলো দেখা
প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড রেজিমেন্টের
সাথে। তাদেরকে ঘুরতে বললেন তিনি
শেখ মুজিবের বাসভবনের দিকে:
“আক্রান্ত প্রেসিডেন্টের বাড়ি! দ্রুত চলো।”
অস্বীকার করলো তারা। হায়, কি-ঔদ্ধত্য!
শত্রুরা প্রেসিডেন্টের গৃহে। তবু তারা
করছে অস্বীকার যেতে উদ্ধারাভিযানে।
হায় খোদা! পেতেছে মীর জাফর বুঝি
ষড়যন্ত্রজাল ফের সোনার বাংলায়!
শান্তস্বরে, আবেগ ও যুক্তি দিয়ে, গোটা
পরিস্থিতি বুঝালেন তিনি। তবু তারা
করলো না কর্ণপাত। অগত্যা কর্নেল
জামিল সশস্ত্র ছুটলেন একা একা।
কী পেয়েছে কাপুরুষের বাচ্চারা, করে
গুলি শত বছরের সাধনায় পাওয়া
মহামানব, বাংলার বিপ্লবী পুরুষ,
স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবের
বাসস্থানে? এসে দেখলেন তিনি, করছে
গুলি বেপরোয়া, বিদ্রোহী সৈন্যরা। গেট
ভেঙে অন্দরমহলে প্রবেশের করছে
চেষ্টা। নিয়েছে সিঁড়ির নিচে অবস্থান;
কিছু আছে বাড়ির প্রবেশপথে। কিছু
বুঝে ওঠার আগেই, রয়েল বেঙ্গল
টাইগার যেন, পড়লো ঝাঁপিয়ে বুনো
শূকরের ’পরে অকস্মাৎ। ছুঁড়লেন
গুলি অব্যর্থ নিরিখে কর্নেল জামিল;
পড়লো লুটিয়ে ধুলোয়, সৈনিক এক।
বাকিরা দাঁড়ালো ঘুরে, হতবিহ্বল;
দেখা গেল মুখ মেজর ডালিম, নূর
চৌধুরী, মেজর হুদা, মেজর রশিদ,
মেজর ফারুক, মহিউদ্দিন আহমেদ
প্রমুখ পাপিষ্ঠ বিদ্রোহীর। ছাড়লেন
হুঙ্কার ব্যাঘ্রের কণ্ঠে বিক্ষুব্ধ জামিল,
“ফিরে যাও সব ব্যারাকে। সময় আছে।
কী চাও তোমরা, শুনবো আমরা সব।
তা নইলে পরিণতি হবে ভয়াবহ।
রেহাই পাবে না কেউ। কী হলো, উত্তর
দাও।” “তবে রে, পা চাটা কুত্তা মুজিবের!”
বলে টেনে দিলো ব্রাশ উদ্ধত মেজর
ডালিম, সরোষে। “হায়, খোদা!” বলে ঢলে
পড়লেন মুজিবপ্রেমিক মহাবীর
রাতের আঁধারে; হা-হা রবে হেসে উঠলো
ক্রুর শয়তানী হাসি ঘৃণ্য পাতকেরা।
গৌরবের মৃত্যুর আগে, অস্ফুটস্বরে
বললেন মহাবীর: “বদলা নেবেই
জাতি একদিন এ-হত্যার। শুনে রাখ,
পাপিষ্ঠেরা, ক্ষমা তোরা পাবি না কখনো
বাংলার মানুষ ও খোদার দরবারে।”

ঘাতকের দল বিজয়উল্লাসে মেতে
উঠলো ধ্বংসযজ্ঞে। খই ফোটার মতো
ফুটছে গুলি। সে-গুলিতে পড়লো লুটিয়ে
বঙ্গবন্ধু-তনয় শেখ জামাল। তাঁর
ক্রন্দনে থমকে গেল রাতের বাতাস।
পদ্মামেঘনায় উঠলো তুফান মহা-
শোকের। ব্যথার শিশির ঝরিয়ে দিলো
আকাশ, বাংলার ঘাসে ঘাসে। শুধু ঘৃণ্য
ঘাতকেরা হাসতে লাগলো প্রাণখোলা
হাসি আর ঝাঁপিয়ে পড়লো পূর্ণোদ্যমে
অকাতর হত্যা-অভিযানে। বলছেন
ক্রুদ্ধস্বরে বঙ্গবন্ধু : “সব বেইমান!
কি-স্পর্ধা দ্যাখো, মুজিব ফোন করে, তবু
ধরে না কে এম শফিউল্লাহ, চিফ
অব আর্মি স্টাফ; ডিজিএফআই-এর
এয়ার ভাইস মার্শাল আমিনুল খান
ধরে না আমার ফোন। স্বাধীন করেছি
এই দেশ এইসব বিশ্বাসঘাতক
বাঙালীর জন্যে? হায়, রেনু, ছাড়ো পথ,
দেখে নিতে চাই আমি কুলাঙ্গারগুলো;
কী-সাহসে ঢোকে তারা শেখ মুজিবের
বাড়ি শেষ রাতে! বাইরে কেবলি ভারি
বুটের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি কেন? কই
গেল আমার কামাল জামাল রাসেল?
তাঁদের আওয়াজ কেন শুনতে পাচ্ছি না,
হায়? কর্নেল জামিল-সেই বা কোথায়!
বললো আসছি; কতক্ষণ লাগে আসতে
এখানে! আমি কি বসে চুষবো আঙুল
যখন দস্যুরা করতেছে তছনছ
আমার নিবাস; খুলে দাও তুমি দোর;
ফজিলা, আমাকে আটকে রেখো না আর।”

বুটের আওয়াজ ছাড়া ঘরের বাইরে
আর কোনো শব্দ নেই। সিঁড়ি দিয়ে কারা
সব ভারী পায়ে করতেছে ওঠানামা।
বেগম মুজিব, বর্ষার আকাশ যেন,
কাঁদছেন ঝরঝর আর কাঁপছেন
ভয়ে; স্বামীর দুহাত ধরে কি-করুণ
চেয়ে আছেন মুখের দিকে তাঁর, আর
বলছেন উচ্চৈঃস্বরে, “আমার জামাল-
কামালকে ওরা মেরে ফেলবে; শিগগির
করুন একটা কিছু । ইন্দিরা গান্ধীকে
ফোন দেন। আপনার বিশ্বস্ত বন্ধু তিনি।
তিনি নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন কোনো।”

বললেন বঙ্গপতি, “দিয়েছে বিচ্ছিন্ন
করে আগে থেকে সমস্ত লাইন মীর-
জাফরেরা, বিদেশের সাথে। চেষ্টা আমি
করেছি অনেক, কাজ হয় নাই। রেনু,
বৃথা আর কালক্ষেপণ। আমাকে যেতে
দাও। দেখি কী-সাহসে অমানুষগুলো
ঢুকেছে আমার বাড়ি আর কী উদ্দেশ্যে!”
বলেই হেঁচকা টানে ফেললেন খুলে
স্ত্রীর দুর্বল বাঁধন। ক্ষিপ্র হাতে তিনি
দরোজা খুলেই ছাড়লেন বজ্রনাদ,
যা শুনে পালালো দৌড়ে ইঁদুরের মতো
সৈনিকেরা, সিঁড়ি দিয়ে। এসেছেন ছুটে
পাছপাছ বেগম মুজিব; -“আপনার
সাথে আমি যাবো। বাঁচতে চাই না আমি
আপনাকে ছাড়া।” বলে কাঁদছেন অঝোরে।
এগিয়ে গেলেন মহানেতা মহাক্রোধে
সিঁড়ির নিকট। পড়ছে ঠিকরে ঠিকরে
ক্রোধাগ্নি চাহনি থেকে তাঁর। চালিয়েছে
হত্যাযজ্ঞ যারা এতক্ষণ ধরে সারা
বাড়ি, ফাঁটা বেলুনের মতো চুপসে গেছে
তারা ভয়ে। রুমে রুমে করছিল তল্লাশি
মেজর মহিউদ্দিন, বজলুল হুদা
ও মেজর নূর চৌধুরী। খুঁজছিল তারা
হন্যে হয়ে শেখ মুজিবকে। সিঁড়ি দিয়ে
উপরে ওঠার পথে মুজিবকে দেখে
ঘাবড়ে যায় মেজর মহিউদ্দিন; সে
দ্যাখে যেন সর্ষেফুল চারদিকে। দ্যাখে,
এক সৌম্যপুরুষ, পাইপ হাতে, সাদা
পাঞ্জাবি গায়ে, ধুসর চেক লুঙ্গি পরা,
নির্ভীক দাঁড়িয়ে আছে, যেন হিমালয়।
ভাষা হারিয়ে সে শুধু বলে, “স্যার! স্যার!
আপনি আসেন।” গর্জে ওঠেন মুজিব,
“কী চাস তোরা? এসেছিস হত্যা করতে
আমাকে? ভুলে যা। পারবি না। পারেনি যা
পাক-আর্মিরা, করতে চেয়েছিস তোরা
তাই? সাহস থাকে তো গুলি র্ক।” চেয়ে
রইলেন বীর নির্ভীক নয়নে। ফোন
করেছেন তিনি কয়েক জায়গায়। কাল-
ক্ষেপণ করছিলেন শুধু, যাতে কোনো
সাহায্য পৌঁছায় এসে এর ফাঁকে। আশা
কর্নেল জামিল। বহু ভরসার সেই
বিশ্বস্ত জামিল তাঁর হয়েছে শহীদ
পাপীদের হাতে ইতোমধ্যে, জানা নেই
তাঁর। নিস্তব্ধতা চারদিকে। ধূর্ত নূর
চৌধুরীর ইশারায় সরে গেল এক
পাশে মেজর মহিউদ্দিন। সাথে সাথে
মহাপাপী নূর টেনে দিলো স্টেনগান
তাক করে বাংলার সিজার, মেঘনাদ
মহাবঙ্গের, নবাব সিরাজুদ্দৌলার
সুযোগ্য উত্তরসূরী, বাঙালীর স্বপ্ন-
পুরুষ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ নেতা,
মহান রাষ্ট্রনায়ক শেখ মুজিবের
সুসবুজ বুক। সাথে সাথে প্রাণঘাতী
আটটি বুলেট করে দিলো ঝাঁঝরা তাঁর
শুভ্র বক্ষদেশ। পড়লেন হুমড়ি খেয়ে
সিঁড়ির উপর স্বাধীনতার স্থপতি,
বাংলার রাখালরাজা শেখ মুজিবুর
রহমান। ফিনকি দিয়ে পড়ছে গড়িয়ে
রক্ত নয়, যেন বাংলার হৃৎপিন্ড চিরে
বহু শতাব্দীর জমাট ক্রন্দন। “হায়,
খোদা! আনলে ফাঁসির কাষ্ঠ থেকে তাঁকে
বাঁচিয়ে বাংলায়, এভাবে মরবে বলে
ভীরু কাপুরুষ ভ্রষ্টা বাঙালীর হাতে?
কী দেখালে, প্রভু! না, না, দেখতে চাই না
আমি! দেখতে চাই না-” বলে চোখ বুজে
জুড়লেন আর্তনাদ বঙ্গমাতা হা-হা-
রবে। হন্যে শেয়ালের মতো বজলুল
হুদা টানতে টানতে তাঁকে নিয়ে গেল
একপাশে। ছাড়লো হুঙ্কার অতঃপর:
“জলদি খতম করে ফ্যালো সব। কেউ
যেন বাঁচতে না পারে। চালাও তল্লাশি।
সব ঘর। সব টয়লেট। কে কোথায়
লুকিয়েছে দ্যাখো। তন্ব তন্ব করে দ্যাখো।
কাউকেই দেবে না রেহাই। কেউটের
বাচ্চাও কেউটে সাপ-একথা যেয়ো না
ভুলে।” পড়ে গেল ছুটোছুটি দোতলায়,
যেন চার পায়ে দাঁতাল শূকর ছুটছে
মত্ত হয়ে; প্রাণহীন বুটের আওয়াজে
হয়ে গেল মুহূর্তেই জ্বলন্ত হাবিয়া
মহান নেতার বাড়ি বত্রিশ নম্বর।

কাঁদছেন বেগম মুজিব পতিশোকে;
করছেন ছটফট, যেন কোনো গলা-
কাটা কবুতর; আর ঘাতকের কাছে
বারবার করছেন করুণ মিনতি:
“আমাকে মারতে চাস? বেশ, মেরে ফ্যাল্
এখানেই। মুজিবের লাশের পাশেই
রেখে যা রে তাঁর বেগমের লাশও।” কার
কথা কে বা শোনে, যখন চড়েছে খুন
মস্তকে! মেজর হুদা ঠেলতে ঠেলতে
নিয়ে গেল তাঁকে বেডরুমের দরজার
কাছে। এক হাতে ঠেসে ধরে দেয়ালের
সাথে, করে দিলো এক গুলিতেই স্তব্ধ
চিরতরে নারীশ্রেষ্ঠ, বাঙালীর মাতা,
ফজিলাতুন্নেছাকে। একটিবারও, হায়,
কাঁপলো না জাহান্নামী সীমারের হাত
জননীসদৃশ, পূত রমণীনিধনে।
পড়লেন ঢলে তিনি মেঝের উপর;
ভাসতে লাগলো যেন বেহেস্তের ফুল
লাল টকটকে শোণিতের স্রোতে। হন্যে
হুদা লাথি মেরে তাঁর পবিত্র শরীরে
ছুটলো নতুন কোনো শিকারের খোঁজে।

হরিণের বনে যেন পড়েছে হঠাৎ
হামলে, বুভুক্ষু বাঘ এক পাল; যাকে
পায়, তাকে ধরে; ভাঙে তার ঘাড়। খুনী
সৈন্যরা নির্মমভাবে করলো হত্যা একে-
একে জামাল, কামাল, অতঃপর দুই
পুত্রবধূ রোজি জামাল ও সুলতানা
কামালকে। মৃত্যুর ভয়ে শেখ নাসের
লুকিয়ে ছিলেন টয়লেটে। ঘাতকেরা
আনলো দরজা ভেঙে তাঁকে ধরে। তিনি
ব্যবসায়ী খুলনার। সরল মানুষ।
সারা বাড়ি এত মৃত্য আর রক্ত দেখে
কাঁপছেন থরথর। মরতে কে চায়
এ জগতে! হাতজোড় করে বললেন
তিনি, “আমাকে মেরো না। আমি তো করি না
রাজনীতি কোনো। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে
আমি আছি।” তাঁর কথা শুনে ঘাতকেরা
হায়েনার হাসি হেসে বললো উল্লাসে;
“ঠিক আছে। মারবো না। চল তবে নিচে
যাই।” অতঃপর দাঁড় করিয়ে পশ্চিম
দিকে, তার পশ্চাতে ছুঁড়লো তারা গুলি।
হায়, মৃত্যু, বর্বর এমন মৃত্যু, কবে
দেখেছে কোথায় কেবা! দুই ভাবী রোজি
ও সুলতানার মৃত্যু দেখেছে রাসেল
লুকিয়ে খাটের তলে। দশ বছরের
শিশু মৃত্যুভয়ে যেন জড়োসড়ো এক
খরগোশছানা। জল্লাদেরা খুঁজে খুঁজে
তাকেও আনলো ধরে। কাঁদতে লাগলো
ভয় পাওয়া শিশু ‘মা! মা!’ করে। কাঁপে
আসমান সে-শিশুর নির্মল ক্রন্দনে।
তবু ঘাতকের দল কি-পুলকে হেসে
যায় গড়াগড়ি! বললো সে, “মার কাছে
যাবো আমি। আমাকে আমার মার কাছে
নিয়ে যাও।” বেচারার আর্তনাদে কেঁপে
উঠলো বক্ষ এক সহযোগী সৈনিকের;
বাঙালী সে, তার উপর এক পিতা; দীর্ণ
তার পিতৃহৃদয় সোনালি শিশু শেখ
রাসেলের সকরুণ মুখ দেখে ভেসে
গেল করুণ মায়ায় শেওলার মতো;
অশ্রুছলোছল চোখে মেজর পাশার
হাত ধরে করলো সে অনুনয়: “স্যার,
ছেড়ে দিন ওকে।” একথার বিনিময়ে
দিতে হলো প্রাণ তাকে তৎক্ষণাৎ, শেখ
রাসেলের আগে। যেন আজরাইল এরা,
মৃত্যু ছাড়া দেওয়ার কিছু নেই; দয়া-
অনুকম্পা, ভালবাসা, স্নেহ কোনোদিন
দ্যাখেনি হৃদয়ে ছুঁয়ে। ‘সাপের বাচ্চাও
সাপ’- এ প্রবাদে বিশ্বাসীরা ‘মার কাছে
চলো’ বলে নিয়ে গেল শেখ রাসেলকে
তুলে। যখন বাঁধলো তারা তার হাত,
“আমাকে মেরো না! আমাকে মেরো না!” বলে
করতে লাগলো আহাজারি। হায়, পিতা,
মহান মুজিব, ভাগ্যবান আপনি, এই
দৃশ্য দেখার আগেই বুজেছেন চোখ
চিরতরে। হায়, মাতা, ফজিলাতুন্নেছা,
আপনার প্রাণের ধন রাসেলের কান্না
শোনার আগেই অনন্ত ঘুমের দেশে
গেছেন আপনি চলে, ভাগ্যবতী আপনি!
দেখতে হলো না আপনাকে, বুলেটের
আঘাতে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া রাসেলের
বুক। হায় রে, ঘাতক, রাসেলের বক্ষ
নয়, দিয়েছিস বুলেটে ঝাঁজরা করে
তুই বাংলার হৃৎপি-; ধিক তোকে!

সারি সারি পড়ে আছে লাশ, যাঁরা কোনো
প্রতিরোধ ছাড়া পড়েছে মৃত্যুর কোলে
ঢলে। পুরাকালে কোষবদ্ধ তরবারি
নিয়ে ঘুরতো রাজারা; রাজপুত্রগণ
পেতো উপহার রত্ন-খচিত সুতীক্ষ্ন
তলোয়ার, রাজাদের কাছ থেকে; তাই
দিয়ে সাজিয়ে রাখতো তারা রাজবাড়ি;
কি-সাহস দুর্বৃত্তের, ফ্যালে এক পা-ও
সে-বাড়ির দেউড়িতে! সাম্রাজ্যের চেয়ে
বড় সম্রাট; থাকেনি সাম্রাজ্য কোথাও
টিকে, তাঁর কিংবা তাঁর সুযোগ্য উত্তরা-
ধিকারীর অবর্তমানে। গড়েছে দুর্গ
তাই রাজাবাদশারা যুগে যুগে। নেই
সেই লালবাগ কেল্লা; তাই অরক্ষিত
বড্ড আজ রাজার জীবন। এ কেমন
রাজ্যশাসন, অন্যের হাতে তুলে দিয়ে
নাঙ্গা তলোয়ার, চেয়ে থাকে রাজা তার
অনুকম্পার দিকে-অস্ত্রহীন, ভিখারীর
মতো। আসুক আবার ফিরে ঈশা খাঁর
খাপখোলা খড়গের সভ্যতা; বাঙালীর
বীরত্ব আবার দেখুক জগত। দাও
অস্ত্র তুলে ফের মহাবীর মুজিবের
হাতে; তারপর, হে ঘাতক, কাপুরুষ,
ভেড়ার শাবক নূর, দেখাও তোমার
বাহাদুরি জগতবাসীকে। ধিক তারে,
নিরস্ত্র জনে যে হর্ষে হানে তলোয়ার
আর বীর বলে করে বাহাদুরি! কাকে
বলে বীর? বীর অর্থ কি রাত্রির বোবা
অন্ধকারে নিরস্ত্র পুরুষ-নারী-শিশু
হত্যা করা নি্ির্বচারে? সমান শক্তিতে
মুখোমুখি হয়ে যে-দেয় গুড়িয়ে মহা-
রোষে মানসিংহের শাণিত কৃপাণ
এক ঘায়ে, বীর তাঁকে বলে ইতিহাসে।
কি-উল্লাসে তবু সব জারজ চন্ডাল
করতে লাগলো নাচানাচি জনকের
লাশ ঘিরে-“স্বৈরাচার নিপাত যাক!
মুজিব নিপাত যাক! বাকশাল নিপাত
যাক! খন্দকার মোশতাক-জিন্দাবাদ!
বাংলাদেশ- জিন্দাবাদ!” বলে বলে। হায়,
বর্বর মূর্খেরা, কী দিয়ে মুছবি বল্
বাংলার বক্ষ থেকে ‘জয় বাংলা’ আর
জনকের নাম, যখন হৃদয়ে লেখা
কোটি বাঙালীর ‘স্বাধীনতার স্থপতি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’,
জন্ম যাঁর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া,
ঊনিশ শ বিশ সালে, তারিখ সতেরো
মার্চ, পিতা শেখ লুৎফর রহমান,
মাতা সায়েরা খাতুন; পনেরো আগস্ট
ঊনিশ শ পঁচাত্তরে বরণ করেন যিনি
শাহাদত, কতিপয় উচ্চ-অভিলাষী
পথভ্রষ্ট কাপুরুষ সৈনিকের হাতে।

মুজিবনামা মহাকাব্যের ‘ম্যাসাকার পর্ব’; নাম ‘একাদশ সর্গ’।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s