-
তিস্তার জল / সাইফ আলি
তিস্তার জল পাবো সেই জলে করবো গোসল কাটবো সাঁতার, চুক্তি কি হয়ে গেছে; জল খসলো না তবু ভারত মাতার!!?
-
হীরকের খনি / সায়ীদ আবুবকর
হাতে লেগে আছে স্তনের ঊষ্ণতা, ভিজে গেছে সুখে প্রেমার্ত এ হাত; কানে লেগে আছে কোকিলের কথা, বুকের গভীরে ছড়ায় মৌতাত। ঠোঁটে লেগে আছে চাঁদের চুম্বন, বুকে গিয়ে পড়ে সুখের ফোয়ারা; মনে লেগে আছে জুলেখার মন, সারা অঙ্গ তাই সুখে দিশেহারা। চোখে লেগে আছে সমুদ্রের ঢেউ, চোখজুড়ে তাই চাঁদের চাহনি; এরকম করে বলেনি তো কেউ ‘তুমিই…
-
নিরন্তরের কবিতা / ফজলুল হক তুহিন
আজকের এই সকালবেলাটা গতিহীন হোক ছবি হয়ে থাক রৌদ্র-ছায়ার হাওয়ার বেলা আমি বিছানায় শুয়ে বসে থেকে উপভোগ করব সকাল। আমার ডানের জানালা- আমার পৃথিবী দেখার চোখ। কেউ জানবে না, কি যে ভালোলাগা; কী গাঢ় বাতাস উদোম উঠোন, কি নীল আকাশ- আশ্বাসে মন ভরে যায়। বিছানায় শুয়ে দেখতে পাচ্ছি ডালিমের প্রাচুর্য সবুজের ফাঁকে সুন্দরীদের লজ্জায় ফেটে…
-
যারা নিচু হয় / সাইফ আলি
তোমার কি ভয় তুমি নিশ্চয় প্রতিবাদী নও, কথা কম কও, চিন্তা করোনা কিছুটি নিয়েই; তুমি নাকি এই অজপাড়াগাঁর লক্ষি ছেলেটি! কিচ্ছু বোঝো না, নিরিবিলি থাকো, কাউকে খোঁজো না। তা তো বেশ করো তবে যদি ধরো কেউ এসে গাঁও লুট করে যায় তোমাকে কি তারা গদিতে বসিয়ে আঙুর খাওয়াবে, অথবা নিরিহ প্রাণী বলে কিছু ছাড় দিয়ে…
-
হৃদয়ের সুখে / সায়ীদ আবুবকর
শরীর ঈর্ষায় মরে হৃদয়ের সুখে,- হৃদয় যাপন করে যেন বা পরীর ফুলেল জীবন; তাই চোখে-ঠোঁটে-মুখে দোজখের দীর্ঘশ্বাস ছড়ায় শরীর। দু-হৃদয় এক হয়ে যেন প্রজাপতি অসীম আনন্দে ওড়ে রঙিন ডানায়; প্রণয় তাদের দেছে আলোকের গতি, বিশ্বাসে জীবন ভরে কানায় কানায়। কোথায় মেক্সিকো আর কোথায় এ বঙ্গ, দোঁহার হৃদয় তবু আটটি প্রহর একসাথে একখানে করে প্রেমরঙ্গ; জলে-স্থলে-শূন্যে…
-
পারিনি বুঝতে আমি / ফজলুল হক তুহিন
পারিনি বুঝতে আমি। পারে কী সবাই? পারে হয়তো সে, মনকে যে করেছে জবাই! আমি যে মনের ভৃত্য। মনের বৃত্তেই চলি। একদিন যে লিখেছে তোমার প্রণয় পদাবলী। একদিন যে নাগর ছিল তোমারই শরীর সভায়। পারিনি বুঝতে আমি অথচ সেদিন তোমার মুখকে আমি ভেবেছি অন্য নারীর তোমার বুককে আমি দেখেছি অন্য নারীর তোমার সুখকে আমি মেখেছি অন্য…
-
মেয়েটা / সায়ীদ আবুবকর
মেয়েটা মাছের মতো হাঁটে পথেঘাটে। যখন সে পথের মাথায় এসে থামে, মনে হয় তাকে পুরে রাখি হৃদয়ের একুইরিয়ামে। মেয়েটা পাখির মতো কথা কয় সমস্ত সময়। তার কথা শুনতে শুনতে হতভম্ব হয়ে যায় কান; মনে হয় কত পানসে, কত অর্থহীন পৃথিবীর আর সব গান। মেয়েটা ফুলের মতো হাসে। তার পাশে আর কোনো হাসি মনে হয় কত…
-
হৃদয়পুরে হৃদয়বতী / ফজলুল হক তুহিন
আমার পদ্মাজীবন ভরেছিলো তোমার বর্ষা জগতে প্রাণের দু কূল ছাপিয়ে এলো খরায় মরা স্রোতের পথে। জীবনের সব অর্থ খুঁজে পেলো আমার চোখ হৃদয়পুরে দিনে দিনে সৃষ্টি হলো ভালোবাসা আরণ্যক। আমি তোমার নামটি দিলাম: হৃদয়বতী খা খা করা আধাঁর ভরা মন পৃথিবী জ্বালিয়ে দিলো তোমার মুখের জ্যোৎস্নাজ্যোতি। আমি বিপুল অভিভূত- আমার ঠোঁটে লাগলো তোমার চুমুর চিহ্ন…
-
তুমি তার কবিতার মতো / সাইফ আলি
তুমি তার কবিতার মতো কি নিখুঁত সুন্দরে গড়া! কি নিখুঁত কালো দুটো চোখে প্রকৃতিই টেনেছে কাজল!! চিলের ডানার মতো উড়ন্ত চুলে বাতাসেরা বিলি কাটে বসে, পলিজমা শরীরের ভাঁজে ঝরে পড়ে রোদ্রের ফোটা! তুমি তার কবিতার মতো ইন্দ্রিয়ে করেছো প্রবেশ অনুমতি ছাড়া, তবু হায়! রোখার সাধ্য আছে কার!?
-
ছায়ার মানুষ / সায়ীদ আবুবকর
সে হাঁটছে জ্যোৎস্নার ভেতর, কিন্তু তার ছায়া নেই; এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে হাঁটছে সে এক মনে- শুধু তার ছায়া নেই। কে এই লোকটা? আমি ভাবি। চোখের চশমা খুলে সে তাকালো এক নজর আমার চাহনির দিকে। তারপর আগের মতোই হাঁটতে হাঁটতে মিলে গেল নিশীথের ছায়ার ভেতর। কে এই লোকটা? আবারও অবাক হয়ে আমি ভাবি। সে কি…
-
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি / ফজলুল হক তুহিন
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি আমি, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি ! ভেতরে এক রক্তক্ষরণ- যেন নীল প্রস্রবণ! সারাটা রাত সারাটা দিন টের তো আমি পাচ্ছি। কেন তবু নিরন্তর এক পশুর সাথে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি? যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি? ২. শত্রু বুঝেও ধ্বংস বুঝেও কেউ কখনো আমার মতো শত্রুকে কী নিজের মধ্যে দেয় বসতি গড়তে? দেয় নিরবে প্রশ্রয়? চোখের মধ্যে…
-
আমার তখন চারকোল ভালোবাসা / সাইফ আলি
তুমি চেয়েছিলে পেছনের কবিতারা সামনে আসুক আবার নতুন কোরে, শ্রাবণের যতো ঝরে পড়া সন্ধ্যারা আবার আসুক আমাদের হাত ধরে! কিন্তু এখনো রাতের বাজারে চাঁদ কেমন মলিন জোছনা ছড়ায় দেখো, পান্ডুর এই কবিতার খাতাটাতে শূন্য পাতারা ধুলোয় রয়েছে ভরে! তুমি চেয়েছিলে একটা রঙিন ছবি আমার তখন চারকোল ভালোবাসা, শাদা ক্যানভাসে গোটা গোটা কালো দাগ রঙিন যা…
-
যদি বৃষ্টি নামতো / সাইফ আলি
আমি শোকাহত হবো এটা কোনো বড় বিষয় নয় তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে একটু আগেই শোকার্ত মেঘমালা থেকে অবিরাম ঝরে চলেছে সুখাশ্রু বৃষ্টির ফোটা। তোমরা তো জানোই কবির হৃদয় আর্দ্র না হলে তার থেকে বৃষ্টি ঝরে না সৃষ্টি হয়না কবিতার তাল-লয়-ছন্দ কিংবা অন্তমিলের মাধুর্য! একটু পরেই হয়তো বৃষ্টি থেমে যাবে সংকীর্ণ এ শহরের দেয়াল আঁকড়ে…
-
থুতু / সায়ীদ আবুবকর
রসুলবিদ্বেষী ব্লগারদের বিরুদ্ধে যারা ফুলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটায়, জ্যোৎস্নার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে ন্যাংটা তরবারি নিয়ে নাচে, ঝর্ণার কুলকুল ধ্বনির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের গান গায় আর ভালবাসার বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে ছুটে চলে হায়েনার মতো; আমি কবি, যার কাজই হলো কোকিলের কণ্ঠে সত্য আর সুন্দরের গান গাওয়া, আজ ঘৃণায় তাদের মুখের উপর ছুঁড়ে মেরে গেলাম আমার যত থুতু।…
-
খুনের শহরে আমি / ফজলুল হক তুহিন
খুনের শহরে আমি হেঁটে চলি ত্রস্ত মানুষের মতো কেননা কবিরাও আর নিরাপদ নয়। শিশু, বৃদ্ধ কেউ না, কেউ না। হন্তারোক, আততায়ী- চতুর্দিক অবরুদ্ধ! এ দেশ ঘেরাও- জীবনের সম্ভাবনা উধাও সুখের মতো। এ শহর যে আমার, আমি কোথায় যাব, কোথায়? কতো কিছু আজো হলো না দেখা, চেনাই হলো না কতো মানুষ, কতো রাস্তা। মমতার, বন্ধুত্বের দৃশ্যাবলী,…
-
দেখতে দেখতে / সাইফ আলি
দেখতে দেখতে দেখতে দেখতে দু’চোখ গিয়েছে জ্বলে তবু দেখার হলোনা শেষ! আমি দেখবো না কিছু আর- অদৃশ্যে গিয়ে বাধবো এবার কল্পিত সংসার।
-
কারবালা / সায়ীদ আবুবকর
যত দূর চোখ যায়, লাশ আর লাশ, আর শুধু দেখা যায় শকুনের গলা- এখানে এখন রাস্তায় যায় না চলা মানুষের পায়ে; তবু বারবার বিধ্বস্ত অন্তরে ঘরের বাইরে যাই আর ভয়বিদ্ধ পায়ে ফিরে ফিরে আসি ঘরে। হঠাৎ শকুন এত, রাস্তায় রাস্তায়- কি-উল্লাসে ছিঁড়েখুঁড়ে খায় সীমারের শরে ধরাশায়ী সব স্বজনের নীল লাশ; কান্নায় ও পচা গন্ধে ভারী…
-
সর্বনাশ সিরিজ / ফজলুল হক তুহিন
ক. সে এক গভীর সর্বনাশ আমাকে নদীর মতো টানে পাথরের মতো নিমেষে তলিয়ে নেয় তার ঘ্রাণে পায় না দেখতে আমি আর সেই আমার আকাশ। খ. সে এক প্রবল সর্বনাশ আমাকে জড়িয়ে নেয় নেশার আঠায় পারি না ছড়িয়ে যেতে নেশার লাটাই ফিরে ফিরে আসে সেই ফাঁস। গ. সর্বনাশ আমাকে খুবলে নেয় খেয়ে ট্রেনের মতো সত্তার দিকে…
-
আবেগটা ঠিক ওড়ছে না / সাইফ আলি
রাতটা কেমন থমকে আছে গাছের পাতা নড়ছে না, হাওয়ার গাড়ি তুলছে ধোঁয়া আবেগটা ঠিক ওড়ছে না। আকাশটাকে আগলে রাখে এমনতর জোছনা কই, কালো কালো মেঘের বুকে জমবো ভীষণ! বৃষ্টি নই।
-
কোথা থেকে এলো এ বিহঙ্গ / সায়ীদ আবুবকর
উৎসর্গ: মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এ বিহঙ্গ কোথা থেকে এলো, কণ্ঠে যার শুধু অগ্নি ঝরে? সে-অগ্নিতে মুহূর্তে স্বদেশ জ্বলে উঠে হয়ে গেল সোনা; সে-বিহঙ্গ বেঁধেছে যে বাসা ষোলো কোটি সবুজ অন্তরে,- ব্যাধের কী সাধ্য তাকে ধরে, বৃথা তার সব জাল-বোনা! সব…