• আমি কোনো হতাশার কথা বলছি না / সাইফ আলি

    আমি কোনো হতাশার কথা বলছি না আমি বলছি না- ওখানে যেওনা তুমি ধ্বশে পড়া নগরিতে নেই কোনো আবাসন স্বাস্থকর একটুকু ভূমি… আমি তো বরং উল্টোটা বলে বলে বার বার বুঝিয়েছি ধ্বশে গেছে যাক রক্ত-মাংশ আর লাশের গলিত মিছিল ভাঙাচুরো দরজার খিল এর আগে বহুবার দেখা হয়ে গেছে। অন্য কোনো গ্রহ থেকে নয় অন্য কোনো বন্য…


  • আমি আকাশ দেখতে যাবো… / সাইফ আলি

    (হাসপাতালের কেবিনে ব্রেইন স্ট্রোকে অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা জননীর নীরব আকুতি) আমি আকাশ দেখতে যাবো… দরজাটা খুলে দাও জানালাটা খুলে দাও চোখের উপর থেকে পর্দাটা তুলে নাও। বাতাসের ভাজে ফুলেদের মধু গন্ধ যেখানে পাবো তোমরা আমাকে সেইখানে নিয়ে যাও- আমি আকাশ দেখতে যাবো। চোখের উপরে চোখেরই পর্দা এসে ঘুমোউ ঘুমোউ বলছে সর্বনেশে জিহ্বাটা…


  • যোগ বিয়োগ

    যোগ বিয়োগের নিগূঢ় তত্ত্ব শিখেছি যেদিন সেইদিন থেকে ফলাফল খুঁজি অষ্টপ্রহর এক পাখি ছিল ডালে বসে আর এক পাখি দূর যোগ করে দেখি দুই পাখি মিলে তুলেছিল সুর হঠাৎ একটা বুলেট ছুটলে বিয়োগ চিহ্ন কটা পাখি থাকে ফলাফল হয় কতটা ভিন্ন ? একটা মিছিল শ্লোগান অধির হাজার কণ্ঠ কোন সে সূত্রে এক হয়ে যায় ছিল…


  • আহা মানুষ

    বাতাসে ব্যথার ঝাঁঝালো গন্ধ ভরা বাতাসে হাসির তোড়, বুকের গভীরে নীলাভ আলোর ফুল দু’দিকে দু’পথ দু’চোখে শান্ত মোড়। নিরিহ মগজ না চেনে রাস্তা না চেনে সস্তা ঘুম উষ্ণ রক্ত খুঁজে ফেরে শুধু শীতল রাত নিঝুম। অথচ সুদূর পথ বেয়ে নামে বিবেকের করাঘাত- মানুষ মানুষ দাবিতে কাঁপছো আহা মানুষের জাত…!!


  • আমি কি আসবো এই পথে

    বহুরাত জানালার পাশে নড়বড়ে চেয়ারটা নিয়ে বসে থাকো একা… কার কথা ভেবে? এভাবে রাতের তারা জ্বলে আর নেভে কার কথা ভেবে? পথগুলো সারারাত শুধু একা ছিল একা থেকে যায় পথিকেরা ভুল করে আজো আসেনি তোমার দরজায়। তবুওতো পথ চেয়ে আছো একাকি রাতের নিরালায়, আমি কি আসবো এই পথে বুক ভরা অসীম আশায়?


  • আমি কবি- সেই কবি- / জীবনানন্দ দাশ

    আমি কবি- সেই কবি- আকাশে কাতর আঁখি তুলি হেরি ঝরা পালকের ছবি! আনুমান আমি চেয়ে থাকি দূর হিঙুল মেঘের-পানে! মৌন নীলের ইশারায় কোন্ কামনা জাগিছে প্রাণে! বুকের বাদল উথলি উঠিছে কোন্ কাজরির গানে! দাদুরী- কাঁদানো শাঙন- দরিয়া হৃদয়ে উঠিছে দ্রবি! স্বপন-সুরার ঘোরে আখের ভুলিয়া আপনারে আমি রেখেছি দিওয়ানা করে! জনম ভরিয়া সে কোন্ হেঁয়ালি হল…


  • শিখা এবং মৃত্যুনাচ

    নৃত্যরত আগুনের শিখা হয়ে জ্বলছিলো প্রদীপের প্রাণ… সেই প্রাণ ছোঁবে বলে ছুঁয়ে এলো মৃত্যু অবশেষ- হায় সে কি মোহনীয় ঘাতক আগুন হায় সেকি নেশাধরা রূপ- আলো আলো অতঃপর অশেষ আঁধার টেনে নিলো তবে কি শিখার সাথে মৃত্যু সেইখানে সমান রিদমে নেচেছিলো!!


  • ওরা যদি ভেবে থাকে

    ওরা যদি ভেবে থাকে লোহার চৌদ্দশিকে থেমে যাবে তোমার রিদম নিভে যাকে তোমার প্রদ্বীপ তবে তা ওদের মুখে এনে দিক সুখের ঢেকুর… তোমার কলম হয়ে এবার যুদ্ধে যাবো আমরা সবাই। ওরা যদি ভেবে থাকে শৃঙ্খল বেধে দিয়ে তোমার ডানায় তুমি আর ভাঙাবেনা ঘুম তবে তা ওদের চোখে এনে দিক নেশাতুর রাত… আমরা তোমার সুরে ডেকে…


  • ঠিক ঠিক দেবো উত্তর…

    অনেক ঘুরেছি পাতায় পাতায় এবার একটু ডালে দুইপা ঝুলিয়ে বসতে চাই অনেক গুনেছি দিনক্ষণ আর ক্যলেন্ডারের পাতা এবার একটু সরল অংক কষতে চাই… কান্ডে ধরেছে ছত্রাক আর শিকড় খেয়েছে উঁই তবুও তোমরা চাচ্ছ বাহারি ফুল এ ব্যথা কোথায় থুই বৃক্ষ বাঁচে না ফল দেবে নির্ভুল..!! মাছের এদুটো চোখনা তাই পর্দা ফেলতে হয়, ভিষন সাহসী লোকনা…


  • কতটা ব্যথার কান্নায় নামে জল

    কতটা ব্যথার কান্নায় নামে জল কতটায় ফাঁটে বুক, বুকের গভীরে রক্তক্ষরণ কতটা ব্যথায় হয় কতটা ব্যথায় মূক? রক্ত বারুদে কতখানি পথ ভেজালে কাঁদবে মেঘ কতটা মাংশে কাঁদা মাখামাখি হলে অঝোরে নামবে শীতল বর্ষা ধারা? ততটা রক্তে এখনো ভেজেনি পথ ততটা বারুদে ঝাঁঝাঁলো হয়নি হাওয়া…!!


  • অনিবার্য নির্বাচনের পথে

    অনিবার্য নির্বাচনের পথে দৌড়ে চলেছে দেখো স্বদেশের ট্রেন বগিহীন একাকি ইঞ্জিন… তুমি কি শুনতে পাও তুমি কি শুনতে পাও রাতের বাজারে রক্তমাখা লাশ আর পোঁড়াবারুদের ঝাঁঝালো বেচাকেনার হাক তুমি কি শুনতে পাও বাতাসে গ্রেনেড অথবা টিয়ারশেল অশ্রুতে শিক্ত রাজপথের কান্নাকে; শত শত বিক্ষুব্দ জনতার রক্তহীন লাশের মহড়ায় দৌড়ে চলেছে দেখো স্বদেশের ট্রেন বগিহীন একাকি এক…


  • মায়ের প্রতি

    রুক্ষ তোমার ওষ্ঠো জুড়ে জলের মায়া চোখের তারায় নিরব কান্না মেঘের প্রতি কিন্তু যখন মেঘদলেরা বৃষ্টিহারা তখন তোমার ওষ্ঠো ভেজায় কোথায় সে জল ? আমার তুমি দোষ দিও মা- ছন্নছাড়া আমার তুমি বলতে পারো নিস্ব চাষা তবুও তোমার সাড়ে তে হাত ছায়ায় ঢেকে বলতে পারি এ বুক আমার আপন বাসা। কিন্তু যারা তোমার বুকে বান…


  • আজ এ মৃত্যুলগ্নে দাড়িয়ে / সাইফ আলি

    আজ এ মৃত্যুলগ্নে দাড়িয়ে আর কোনো আকাশ দেখিনা আমি মাথার উপর আর কোনো সাগর দেখিনা যার পানিতে মেটে অনন্ত পিপাশা আমার শূন্যতায় কি আকাশের একমাত্র সংঙ্গা; লবনাক্ততাই কি সমুদ্রের একমাত্র পরিচয়? কিন্তুু- আমার আকাশ তো ছিলো তারকাখচিত আমার সাগর ছিলো অজস্র প্রাণের আধার। আর আমি? আমি ছিলাম তারকাখচিত শূন্যতা আর প্রাণময় সাগরের মতোই দুর্বোধ্য। আজ…


  • জাগুক মিছিল ফের

    তুমি কি এখন শুধু অশরীরি ছায়ার মতোন অন্ধকারে হারাও নিজেকে; তুমি কি এখন শুধু দৃষ্টিহীন পুতুলের চোখ? অথচ সেদিন দেখো দুরন্ত মিছিলের শ্লোগানে শ্লোগানে বেজেছিলো তোমার নিনাদ; রোদপোড়া রাজপথ কেঁপে কেঁপে উঠেছিলো তোমার জোয়ারে। তুমি কি এখন তবে প্রাণহীন পদ্মার ঢেউ; তুমি কি এখন তবে অশরীরি অলস অতীত? অথচ সেদিন ছিলে উচ্ছল প্রাণের জোয়ার। জেগে…


  • প্রবেশাধিকার চাই / সাইফ আলি

    তোমার জন্মের কারণ আমি জানতে চাইবো না জানতে চাইবো না একজন সুখী তোমাকে তোমার হাসি আমাকে যতই আন্দোলিত করুক জানতে চাইবো না এর পটভূমি- তবে তোমার মৃত্যূ রহস্য নিয়ে আমার আগ্রহ অসীম তোমার দুঃখ আমাকে নিমজ্জিত করে ক্লান্তিহীন গবেষণায়- ঘুমহীন রাতকে আপন করতে প্রেরণা যোগায় তোমার কান্না। তোমার আলো ! সে তো তোমারই – কিন্তু…


  • মাটির গর্ভে প্রবেশ করার পূর্বেই / সাইফ আলি

    অসংখ্য প্রতিযোগীর সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা শুক্র আমার পরিচয় মাতৃগর্ভের অন্তরালে একটি ডিম্বানুর সাথে মিলিত হবার আকাঙ্খায় এরকম লক্ষ লক্ষ শুক্রাণু যুদ্ধ করেছে; যার মধ্যে ছিলাম আমিও – লক্ষ মৃত্যূর ডাককে উপেক্ষা করে যখন পেরেছি জীবনের দরজায় কড়া নাড়তে তখন আর একটি মৃত্যূর সাথে লড়তে কিসের ভয়? যে সুরক্ষিত গর্ভে একদিন বেড়ে উঠেছিলাম হয়তো…


  • এখন তুমি ফুসকা খাবে কি করে…!!

    বোবা হলে হয়তো না বলেই বোঝাতে পারতাম চোখের ইশারায় অন্ধ হলে তারও প্রয়োজন ছিলো না… ধরা ছোয়ার বাইরে থাকতে যদি চাঁদের মতো আমার বলা না বলায়, দেখা না দেখায় কিছুই যায় আসতো না তোমার… কিন্তু এসব কিছুই যখন অন্তরায় হয়ে দাড়ালো না তখন অযুহাত হিসেবে দাড় করিয়ে ফেললে অনেক কিছুই… যেমন ধরো, আমার জন্য তোমার…


  • শপথ / সাইফ আলি

    ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দালানের ফাটলে বেড়ে ওঠা সবুজ প্রাণের শপথ- অসংখ্য হাঙরের চোখ ফাকি দেয়া মুক্তার আধার ঝিনুকের শপথ- চাপা পড়া হলুদ দুর্বার প্রথম সূর্য দেখা সময়ের শপথ- তীব্র বারুদর ঝাঁঝ বুকে নিয়ে ছুটে চলা বুলেটের শপথ- নীল আকাশ তামাটে মাটি আর      দক্ষিনের বাতাস- শীতল জল পাখির পালক আর      সবুজ ঘাস- যা আমার মা…


  • অমৃত সেই ডাল-ভাত… / সাইফ আলি

    / তখন ছিলোনা বার্গার ক্যাফে রেস্তোরা কোনোটাই বিল দেয়া হলে মশলা চিবিয়ে বলতো না কেউ বাই বাই তখন ছিলোনা রঙিন চশমা ব্রেসলেট হয়তো বা ছিলো খালিপেট তবু পরিবেশনায় ছিলেন আমার জান্নাত বহুদিন হলো কপালে জোটেনা অমৃত সেই ডাল-ভাত…


  • সারাবেলা আমি অপেক্ষা হয়ে থাকবো…

    তোমার জন্যে পথের প্রান্তে বিছিয়ে রাখবো ঘাসফুল তুমি      পায়ে পায়ে এসো ঘুরতে এসো      লাল পেড়ে সেই শাড়িতে জড়িয়ে নিজেকে আমি      অপেক্ষা হয়ে থাকবো… কলমির ডালে বাতাস এখনো দোল দেয় মেঘ থেকে নামে বৃষ্টি মিস করি শুধু সেখানে তোমার পটল চোখের দৃষ্টি… তুমি আসো নাই মেঘ উড়িয়েছে ওড়না আকাশ দিয়েছে…