-
পারো যদি পাঁজরের হাড় ভাঙো / সাইফ আলি
পারো যদি পাঁজরের হাড় ভাঙো কলিজার পৃষ্ঠাটা কুচি করো অসংখ্যবার এরপর তাতে মুড়ে বারুদের পটকা বানাও উল্লাস করো…উৎসব করো… মেনে নেবো তাও যদি পারি; তবু মানবোনা কোরানের গায়ে বেয়াদব জালিমের হাত। রক্তে কি জং ধরে গেছে কলিজায় মাদকের ঘোর? তামাশার সীমানা পেরিয়ে হাত দিলে বুকের ভিতর!! ( গত শুক্রবার হিন্দুদের দশেরা (রাবন বধ) অনুষ্ঠানে কিছু…
-

মনের কথা তুই
মনের কথা তুই মনেই চাপা থাক যা কিছু বলা হলো ধোঁয়া সে উড়ে যাক চায়ের কাপে কিছু বোশেখী উড়ো কথা তোমাকে বললাম উড়োনা যথাতথা তুমি তা শুনলে না কাউকে গুণলে না এভাবে চলবে কি! লোকে বা বলবে কি!! মনের গানগুলো শুনলে কানগুলো ধৈর্য্য হারা হয়ে লতিরা লাল হতো কারো সে রাত হতো কারো সকাল হতো…
-
এখন আর কোনো সুপ্রভাত নয়
এখন আর কোনো অধিকারের গল্প নয় নয় কোনো নতুন স্বাধীনতার মোড়ক উন্মোচন এখন শুধু একতরফা গুলির আওয়াজ প্রসাশনিক কুচ্কাওয়াজ- “চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্বে ওঠার চোরা এ পথ মামা-খালুদের দস্তখত স্বার্থ হাসিলে ঐক্যমত আমরা চোরের দল চল্ চল্ চল্………” এখন আর কোনো সুপ্রভাত নয় চেতনার নিস্তেজ মন্ত্রপাঠেই শুরু হোক আরেকটি দিন…
-
স্বপ্নকে সত্য করে তুলতেই / সাইফ আলি
তোমরা বললে, স্বপ্নকে সত্য করে তুলতেই অবিরাম সংগ্রাম তোমাদের ; আর, সুবিধাবাদী স্বপ্নেরা কি সহজেই বেড়ে উঠলো হায়েনার মতো… ফলজ বৃক্ষের গায়ে কি দারুণ ছেয়ে গেলো পরজীবী স্বপ্নের ঝোপ; পথের স্বপ্নগুলো কঠিন জুতার তলায় কি নির্মম পৃষ্ট হতে হতে বিবর্ণ হয়ে গেলো হায়…! টেলিভিশনের রঙিন পর্দায় লোভনীয় কম্পোজিশন আর সৃষ্টিশীল পরিবেশনায় কি চমৎকার বেড়ে উঠলো…
-
আজান / সাইফ আলি
পরিতাপের বিষয় এই যে, তুমি জেনেও না জানার অভিনয়ে মত্ত হলে শুনেও শুনলে না রাতের অন্ধকার চেরা সত্য আহ্বান- অথচ, তারকাদের ঘুমিয়ে পড়া এবং চাঁদকে অতিক্রম করতে দেখে কেবলি চোখের পর্দা টেনেছো… হায়, তুমি যদি নিশ্চিত জানতে! আগামীকালের সূর্য তোমাকে আলিঙ্গন করবে, ফুসফুসের এই বাতাসটুকুই তোমার জন্য নির্ধরিত শেষ বাতাস নয়… অথচ, তারা কেউই তোমার…
-
আজ সারাদিন ঘুম ঘুম ঝুম বৃষ্টি… / সাইফ আলি
চোখ ঘুম ঘুম আর ছিলো ঝুম বৃষ্টি আর ছিলো কিছু ভেজা বাতাসের ঝাপটা ভালোলাগা ছিলো বিছানা বালিশ লেপ্টে চোখ ঘুম ঘুম মৃয়মান সব দৃষ্টি… প্রণয়ে মেতেছে মেঘের সঙ্গে মেঘেরা হঠাৎ হঠাৎ জ্বেলেছে আলোক বিজলী মর্ত-কাদায় বৃষ্টি করেছে নৃত্ত উদাসী আকাশ যেনো বিমোহিত চিত্ত। আজ সারাদিন ঘুম ঘুম ঝুম বৃষ্টি আজ সারাদিন ভেজা ভেজা সব দৃষ্টি।…
-
বন্দুকের স্বাধীনতা / সাইফ আলি
যদি, উড়ন্ত পাখির বুকে বন্দুকের নল তাক করে লক্ষ্যভেদী নিশানারা মুচকি হেসে বলে- এ আমার স্বাধীনতা এ আমার অধিকার… তবে, স্বাধীনতা এই সব পাখিদের রঙিন মিছিলে অধিকার এইসব রক্তমাখা বুলেটের গায়ে, লেগে থাক; সমুন্নত থেকে যায় যাক। আমি তার করিনে পরোয়া, আমি তাকে ঘৃণা করি; করে যাবো যতোদিন বাঁচি…
-
আর ক’টাদিন সময় চেয়ে
আর ক’টাদিন সময় চেয়ে সেদিন তুমি ঘর ছেড়েছো বললে এবার শহর থেকে আনবে কিনে শখের চুড়ি ভালোবাসার লাল ফিতাতে বাধবে বলে সমস্ত রাত আর ক’টাদিন সময় চেয়ে হাত সরালে শুন্য এ হাত… এখন তুমি কোথায় আছো, কেমন আছো? ভাতের থালায় ভাত পঁচেনি সকাল বেলার ভাবতে পারি; তবুও কেনো ভাবতে আমার কষ্ট লাগে? এই অভাগা সময়টাকে…
-
তোমার জন্য অপেক্ষা / সাইফ আলি
আমাদের এই পাহাড় চূড়ায় বাধলো না তো তোমার মেঘ উড়লো না তো তোমার ঘুড়ি আকাশময় আর কতোদিন চাতক হয়ে অপেক্ষাতে থাকতে হবে- ছোট্ট ছনের গ্রাম কুটিরে দাওয়াত দিলাম বললে না তো আসবে কবে। করিম চাষার মেয়ের বিয়ে এ বর্ষাতেই মেঘের ভেলা উড়িয়ে নিয়ে আসবে কি? নষ্ট ধানের কষ্ট ভুলে সরল চাষা একটুখানি সুখের হাসি হাসবে…
-
কি তোমার পরিচয়, তুমি কে হে?
অনুভূতির সাদা চামড়া সময়ের খোঁচা খেয়ে এবড়ো-থেবড়ো বুড়ো বট গোলাপ পাপড়ি ঠোঁট ছুয়ে দিলে কুমিরের নখ ছিন্ন বস্ত্রে কিছু ঝুলে থাকে সুখের সকাল! চিত্রল হরিণ আর ডোরাকাটা বাঘের খেলায় যেই সবুজ আনন্দে হেসে ওঠে বন মাছের শরীর থেকে আঁইশের আস্তরণ খুলে একই আনন্দে দুলে ওঠে কোমল বধুরা! কিছু কিছু অনুভূতি রাস্তায় পাক খায় ভবঘুরে পলিথিন…
-
আকাশে তারার মতো জ্বাললে অসুখ! / সাইফ আলি
সিঁড়ি বেয়ে তরতর নেমে যাবে ব্যথা থেমে যাবে ঘুনে ধরা সমাজ প্রশাসন; আর আমি, ঝলমলে রোদে আঁকা উঠোনে দাড়িয়ে দুই হাত মেলে দেবো যেই সুখ আসবেই! খুনীদের ঘাড় বেয়ে রক্তের মতো বয়ে যাবে জীবনের নেশা, ধর্ষক পেতে চাবে মায়ের আদর; আর আমি, তোমার কাঁধের ’পরে মাথা রাখতেই সুখ আসবেই! এইসব ভেবে ভেবে চোখ বুজতেই ধর্ষীতা…
-
তুমি আসলেই / সাইফ আলি
জানালায় কিছু লুকোচুরি রোদ আকাশে মেঘের নৌকা চলেছে ভেসে; তুমি কি আসবে আমার উঠোন ঘাস-লতা ভালোবেসে? তুমি কি আসবে ক্লান্ত শরীর ছুয়ে ছোট গ্রামটার পথে প্রান্তরে; অঝোরে নামবে খুব? তুমি কি আসবে বটের পাতায় বলো, অথবা চালার শরীর জড়ানো লাউডগা চুয়ে চুয়ে? তুমি এলে দেখো সবুজ কিশোরী ভেজাবে কোমল হাত, কিশোর ছেলেটা উদোম শরীরে মাতাবে…
-
ভাঙা চিরুনির দাবি
চিরুনির ফাঁকে স্মৃতি জমে ছিলো কিছু, স্মৃতি জমে ছিলো পুরোনো কাথার গায়ে; ভাঙা চোকিটায় অবসর কোনো রাতে তুমি উঠে এলে লজ্জিত পায়ে পায়ে। কাঁপা ঠোঁটে তুমি বললে – এখনো বুড়ো, কাটেনি হেয়ালী প্রেম? আমি নির্বাক শুধু চেয়ে চেয়ে ভাবি, ছাড়লে না আজো ভাঙা চিরুনির দাবি! দিয়ে দেবো এই সাদা কালো চুলে ভালোবাসা ভুলে স্মৃতির চিরুনি,…
-
জীবনের পথে এইসব টুকিটাকি / সাইফ আলি
এখনো অনেক শব্দ না বলা কথার রাজ্যে এখনো অনেক পালক দেখেনি আকাশ কিভাবে নীল হয়ে যায় লাল হয়ে যায় মেঘে মেঘে হয় ধুসর কখনো কালো এখনো অনেক দৃষ্টি মাখেনি আলো; এখনো অনেক স্বপ্ন দেখার রাত্রি বাকি রয়ে গেছে; যাত্রী, যাত্রা পথের ধুলোয় এখনো পড়েনি অনেক পা যাত্রা থামিও না। এখনো অনেক ঘুড়ি ওড়াবার দিন গল্প…
-
নাটাই সুতো ঘুড়ি / সাইফ আলি
১ এই যারা চলে গেছে জিবিকার কোলাহল রেখে ভালোবাসা দুঃখ সুখ শাসনের বেড়াজাল ছিড়ে এই যারা চলে গেছে সুতো কাটা ঘুড়িটার মতো হঠাৎ বিচ্ছিন্ন নাটাইয়েরা খুঁজেছে তাদের মায়া রেখে যাওয়া সুতোর শরীরে। ব্যথার মাজনে মোড়া সুতোর পালক শরীরে জড়িয়ে থাকে নাটাই বালক সেই সব মানুষের মতো তুমিও ঘুমিয়ে গেলে যারা আর ঘুম ভেঙে দেখলোনা সকাল…
-
জোনাকি / সাইফ আলি
তুমি কি আজব বাতি জ্বলে ওঠো নিভে যাও অন্ধকার ঝাওবন, বাঁশঝাড়, পুকুরের ঘাটে নিরিবিলি নিজেকে সাজাও তুমি কি আজব বাতি মধ্যরাতে মশারির জালে আলনায় খাটে দেয়ালের গায় বুনে দাও কবিতার বীজ; গাঁয়ের চাষার মতো আমি সেই বীজ পুতে রাখি ডাইরির ভাঁজে হৃদয়ের খাঁজে… প্রিয়তমা কবিতা আমার মাথা রাখে বুকের পাঁজরে নির্দিধায় নিরবে সলাজে। তুমি কি আজব…
-
সমুদ্র তীরের প্রার্থনা / সাইফ আলি
সমুদ্রের তীরে বসে আছি ঢেউগুলো ক্রমাগত সেজদায় নত সন্ধ্যার সূর্যটা টকটকে লাল আর কিছুক্ষণ এরপর হারিয়ে যাওয়া জাহাজের মতো দৃষ্টির ওপারে রাঙাবে পৃথিবী… এক ঝাক সমুদ্রচর পাখি উড়ে এলো বেলা শেষে খুঁজে নেবে রাত্রী অবসর… বাতাসে দুলছে চুল দুলছে জীবন সমুদ্রের এবং সন্ধ্যার তীরে বসে আর কতক্ষণ? ডুবে যাওয়া সূর্যের মতো ফিরে আসা পাখিদের মতো…
-

এইসব প্রতিদিন হয়
চেতনার দ্বারপ্রান্তে এসে উঁকি দেয় অভিমানী বুড়ো অপেক্ষারা মধ্যমাঠে ঘুমায় আশার লাশ… বলেছিলে একদিন- যারা আজ ক্ষুধায় কাতর হাট ঘাটে যায় চায়ের দোকান থেকে চুপি চুপি রুটি নিয়ে সটকে পালায় অবহেলায় ফিরিয়ে দেবে মোরগ পোলাও। বলেছিলে ভিখারীরা তিনবেলা খেতে পাবে ভাত শোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চিপায় চাপায় বেওয়ারিশ ফড়িং ডাস্টবিন আবাসনে বেড়ে ওঠা কিট স্টেশন বস্তির বেয়াড়া…
-
তবেই না তুই ভদ্র হবি
ঐ সমুদ্রে বাতাস তুলেছে ঝড় নদী শোন তুই যাসনে এখন আকাশে ভীষণ কালো মেঘ জমে আছে রংধনু তুই ঐখানে কেনো জেগে? নারকেল বনে ক্লান্তি এনেছে ব্যধি তবু সরাবের পূর্ণ সবুজ পাত্র চকচকে চোখে পথিক দেখেছে তৃষ্ণা ঘুমিয়ে পড়েছে মাত্র। পথিক রে তুই নারকেল বনে যাসনে- বৃষ্টি ফোটার তুমুল নৃত্য বাইরে জানালা লাগিয়ে দে তবেই না…
-
সেই ঘর / সাইফ আলি
শিউলি কুড়ানো পথটার বাঁকে সেই ঘর একা একা আজো চেয়ে থাকে। মেঘ কবে যে বৃষ্টি এনে তুলেছিলো নুপুরের সুর রোদেলা দুপুর ধুয়েছিলো আলোর শরীর সন্ধ্যাবেলা আধো-আলো আধো-অন্ধকার খেলেছিলো প্রণয় আদীম অতঃপর একফালি চাঁদ জানালায় রেখেছিলো মাথা সেই ঘর – শুধু সেই ঘর আজো একা চেয়ে চেয়ে থাকে হয়তো আমার মতো খুব নিরবেই স্মৃতির পায়রাদের ডাকে…