-
লড়াই-ক্ষ্যাপা / সুকুমার রায়
ওই আমাদের পাগলা জগাই, নিত্যি হেথায় আসে; আপন মনে গুন্ গুনিয়ে মুচ্কি হাসি হাসে । চলতে গিয়ে হঠাৎ যেন ধমক লেগে থামে; তড়াক্ করে লাফ দিয়ে যায় ডাইনে থেকে বামে। ভীষণ রোখে হাত গুটিয়ে সামলে নিয়ে কোঁচা ; “এইয়ো” বলে ক্ষ্যাপার মতো শুন্যে মারে খোঁচা । চেঁচিয়ে বলে ,”ফাঁদ পেতেছ ? জগাই কি তায় পড়ে?…
-
খুড়োর কল / সুকুমার রায়
কল করেছেন আজব রকম চন্ডীদাসের খুড়ো- সবাই শুনে সাবাস বলে পাড়ার ছেলে বুড়ো। খুড়োর যখন অল্প বয়স-বছর খানেক হবে- উঠলো কেঁদে ‘গুংগা’ ব’লে ভীষণ অট্টরবে। আরতো সবাই ‘মামা’ ‘গাগা’ আবোল তাবোল বকে; খুড়োর মুখে ‘গুংগা’ শুনে চমকে গেল লোকে। বললে সবাই, “এই ছেলেটা বাঁচলে পরে তবে, বুদ্ধি জোরে এ সংসারে একটা কিছু হবে।” সেই খুড়ো…
-
বুড়ীর বাড়ী / সুকুমার রায়
গালভরা হাসিমুখে চালভাজা মুড়ি, ঝুরঝুরে প’ড়ো ঘরে থুরথুরে বুড়ী। কাঁথাভরা ঝুলকালি, মাথাভরা ধুলো, মিটমিটে ঘোলা চোখ, পিঠখানা কুলো। কাঁটা দিয়ে আটা ঘর- আঠা দিয়ে সেঁটে, সুতো দিয়ে বেঁধে রাখে থুথু দিয়ে চেটে। ভর দিতে ভয় হয় ঘর বুঝি পড়ে, খক খক কাশি দিরে ঠক ঠক নড়ে। ডাকে যদি ফিরিওলা, হাঁকে যদি গাড়ি, খসে পড়ে কড়িকাঠ…
-
দুই দশ আট / আলি মেসবাহ
যেদিকেই যাই যেখানে হারাই থাকে সেই ডাকে সেই চেনা পথ-ঘাট। হাতছানি দিয়ে ডাকে দুই-দশ-আট। খোলা থাক খুলে রাখ স্মৃতির কপাট। চেতনায় ভাস্বর দুই-দশ-আট। ২৮.১০.১৬
-
আসছে সময় / সাইফ আলি
তোমরা যারা খুব সহজেই বদলে ফেলো দেশটাকে মুখের কথাই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখে রাত কাটাও আসছে সময় ওসব ছাড়ো পাল্টে ফেলো বেশটাকে নয়তো এবার পোলাও কেনো জুটবে না হাড়-টুকরাটাও তন্ত্রমন্ত আওড়েছো খুব কাটছে এখন চোখের ঘোর পেটের খিদে ডিপ-ফিরিজের মর্ম ভুলে ধর্মে ফের আসছে ফিরে। এবার ঠিকই রাত পোহাতেই নতুন ভোর- এবার ঠিকই মজুর চাষা সত্যিকারের…
-
সৎপাত্র / সুকুমার রায়
শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে- তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে? জানতে চাও সে কেমন ছেলে? মন্দ নয়, সে পাত্র ভাল- রং যদিও বেজায় কালো; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক প্যাঁচার মতন। বিদ্যে বুদ্ধি? বলছি মশাই- ধন্যি ছেলের অধ্যবসায়! উনিশটি বার ম্যাট্রিকে সে ঘায়েল হ’য়ে থামল শেষে। বিষয় আশয়? গরীব বেজায়- কষ্টে-সৃষ্টে দিন চলে…
-
পাখির মতো মন / আলি মেসবাহ
মনটা আমার এমন কেনো? পাখির মতো উড়ু উড়ু , যখন তখন যায় সে উড়ে দেশ হতে কোন দেশান্তরে,বন-বনানী, তের নদী আরো যে সাত সমুদ্দুরে ! মনটা আমার এমন কেনো, বলতে পারো? কচি ধানের চারার মতো সবুজ সবুজ- হাত ছোঁয়ালেই শিশির কণা দেয় ভরিয়ে মন কি কচি ঘাসের ঢগার মতোই অবুঝ? মনটা আমার এমন কেনো, কেউ…
-
ভিন্ন পথে / সাইফ আলি
শেষ বেঞ্চেই মিলতো দেখা সব সময় লেখাপড়ায় চলতো লড়াই পাশ নিয়ে- কিন্তু যখন মিছিল হতো সবার আগে সেই দাঁড়াতো বাঁশ নিয়ে। বেতের ভয়ে মাটির সাথে চোখ দুটোকে আটতো সে, কিন্তু সোনার ধান ফলাতে ভিষণ রকম খাটতো সে,- সেই ধানে যে চোখ দিয়েছে তার বেলা একটুও সে ছাড় দিতো না, লেও ঠ্যালা… সবাই কি আর কলম…
-
কাঠবুড়ো / সুকুমার রায়
হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে যেন কে বৃদ্ধ, রোদে বসে চেটে খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ। মাথা নেড়ে গান করে গুন্ গুন্ সংগীত- ভাব দেখে মনে হয় না জানি কি পন্ডিত! বিড়্ বিড়্ কি যে বকে নাহি তার অর্থ- “আকাশেতে ঝুল ঝোলে, কাঠে তাই গর্ত।” টেকো মাথা তেতে ওঠে গায়ে ছোটে ঘর্ম, রেগে বলে, “কেবা বোঝে এ…
-
বাবুরাম সাপুড়ে / সুকুমার রায়
বাবুরাম সাপুড়ে, কোথা যাস্ বাপুরে? আয় বাবা দেখে যা, দুটো সাপ রেখে যা! যে সাপের চোখ্ নেই, শিং নেই নোখ্ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্ ফাঁস্, মারে নাকো ঢুঁশ্ ঢাঁশ, নেই কোন উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত- সেই সাপ জ্যান্ত গোটা দুই আনত? তেড়ে মেরে ডান্ডা ক’রে…
-
ফেলায় দেবো / সাইফ আলি
: ফেলায় দেবো- : ক্যান ফেলাবি! এইভাবে কেউ ফেলায়? : ফেলাবো না? দিলাম ফেলায়… : লক্ষী-সোনা, পিতলে-ঘুঘু আমার, এই যে দুটো নতুন নতুন জামার একটা দেবো তোকে; এমন করে ফেলাসনে ভাই, বলবে কি বল লোকে?! : যে যায় বলুক, শুনবো কেনো লোকে আমার কি হয়, ফেলায় দেবো; ফেলায় দিতে আজ অবধি কাওকে করিনি ভয়… :…
-
-
মেঘের দেশে মেললো চিলে ডানা / সাইফ আলি
মেঘের দেশে মেললো চিলে ডানা পাতার ঘরে কিচির-মিচির ডাকলো পাখির ছানা আকাশ শুধু ইচ্ছে হলো বাধলো না সীমানা বাতাস পাড়ায় বাজলো ভীষন স্বাধীনতার গানা; তানা নানা নানা… পাতার বাঁশি যেমন তেমন পাতার বাঁশি বাজে একটি রাখাল একলা বসে পুষলো বুকের ভাজে মেঘলা দিনের সুর একটুখানি বৃষ্টি হলো আরেকটু রোদ্দুর; হঠাৎ তখন ঢাউশ ঘুড়ি মেললো বিশাল…
-
বর্তমানের লক্ষ্য হবে / সাইফ আলি
অতিত নীয়ে চিন্তা করে কাটছে যখন দিন তার সময় কোথায় বর্তমানের সমাজ নিয়ে চিন্তার গল্পে ভরা ইতিহাসের পাতায় রেখে চোখটা ক্রমেই যেনো অতীত হয়ে যাচ্ছে ভীষণ লোকটা। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে চলতে হয় ভবিষ্যতের ভাবনা ভেবে তবেই কথা বলতে হয়, অতীত নিয়ে চর্চা ভালো কিন্তু সেটা রাস্তা না বর্তমানের লক্ষ্য হবে ভবিষ্যতের আস্তানা।
-
সময় ঠিকই সাক্ষ্যি থাকে / সাইফ আলি
তোমার আমার মূল পরিচয় সময় দেবে বলে আজকে না হয় মুখের জোরে তুমিই সাধু হলে সময় ঠিকই সব করে দেয় ফাঁস সময় ঠিকই সাক্ষ্যি থাকে বলছে ইতিহাস।
-
মাতুব্বর / সাইফ আলি
ঊনিশ বিশে লাভ না হলে একুশ নিয়ে ভাব তাতেও যদি হয় সমাধান পাঁচটা দেবো ডাব কিন্তু যদি ভূগোল পড়াস গুগোল ঘেঁটে ঘেঁটে দুইটা ডাবের জল খাওয়াবো জিহ্বা দিয়ে চেটে। সব জাগাতে মাতুব্বরি কলকে ধরে হাতে দিনের বেলা পথ ভুলে যাস- চিনতে পারিস রাতে ওসব ছেড়ে ভালোয় ভালোয় সত্য ধরে বাঁচ তা না হলে নাচতে হবে,…
-
ইস্যু আসে ইস্যু যায় / সাইফ আলি
আমাদের ছোটবাবু বিছানাতে হিসু দেন হিসু দেন কোলে বসে, এই যা….!! তবে যারা মাঝে মাঝে টলটলে ইস্যু দেন, ধামা দিয়ে চাপা দেন, নেই যা…. তারা আর ছোটো বাবু এক না; দুই চোখ কচলিয়ে দেখনা… ইস্যু আসে ইস্যু যায় দৈনিক বদলায় তারপর… একদিন সবকিছু ভুলে যাই- গুলে খাই- মহামারি ঘুম যাই, এইতো; ইস্যু আছে ইস্যু নেই……
-
এ হাসি কিসের জন্য? / সাইফ আলি
এ হাসি কিসের জন্য? লাশ মিলেছে এতেই ধন্য!! এ হাসি লজ্জা তোমার এ হাসি হাসলে দারুণ লাগে জঘণ্য। এ হাসি জুতোর তলা্য় পিষ্ঠ হওয়ার আনন্দে কি? এ হাসি সত্য নাকি দাশের মুখের করুণ মেকি? এ হাসি হাসতে জানে হয়তো এখন এ বাংগালী! দাদারা তুষ্ট থাকো, এ নাও দেখো দাঁত এক ফালি!! : যখন বি. এস.…
-
খোদার ইশারায় / আলি মেসবাহ
এইযে সবুজ ঘাসের চাদর মা’য়ের কোলে- শিশুর আদর পাখির কুহু তান, খোদার সেরা দান।। দূর আকাশে চাঁদ যে হাসে ফুল ভরিয়ে- দেয় সুবাসে যার হুকুমে তিনি, রাব্বুল আলামিনই।। নিত্য প্রাতে সূর্য ওঠে সাগর পানে- নদী ছোটে পথ হারিয়ে যায়, খোদার ইশারায়।।
-
লাশ লাগে লাশ? / আলি মেসবাহ
লাশ লাগে লাশ? বলো চাই কতো- আরো চাই? আরো আছে লাশ শত শত… সাদা লাশ কালো লাশ মন্দ ও ভালো লাশ নামী লাশ দামী লাশ স্বাধীনতাকামী লাশ সস্তায় কেনা লাশ বেওয়ারিশ, চেনা লাশ লাশ আছে ঢের… এই পথে যায় রোজ মিছিল লাশের । কনক্রিটে চাপা লাশ আর ফুলে ফাঁপা লাশ ঠিকঠাক পোড়া লাশ পলিপ্যাকে মোড়া…