-
একান্ত বাক্যেরা-২০ / সাইফ আলি
আমিযে প্রেমিক হবো, কথা কবো ভিন্ন কোনো সুরে পোড়া চাঁদ, কখনও সে সুযোগই দিলে না যা ছিলো মনের খাতে সবটুকু আজলায় পুরে তোমাকে দিলাম; তুমি কিছুই নিলে না।
-
তোমাতে ঝরলো আলো / সাইফ আলি
যে আলো চোখের তারায় মাখাও প্রিয় অশ্রু দিয়ে সে আলোর ঝলকানিতে অন্ধ হলাম ঝলমলিয়ে কবিতার শব্দগুলো তোমার মতোই উদাস ছিলো আমি তার বুকের উপর মাথা রেখে যায় ঘুমিয়ে। তুমি কি বিরান পথের শরীর হলে চাঁদনী রাতে তোমাতে ঝরলো আলো নীল কবিতার ছন্দ হাতে আমি সেই ছন্দ নিয়ে বুক পকেটে বুকের কাছে খুঁজেছি শূন্য ছাড়া তোমার…
-
-
কবুতর / সাইফ আলি
কবুতর, ডানা ঝাপটে এসে বসলে আমার কাব্য দেয়ালে কবুতর, তুমি ঠোঁটে করে আনলে কি বীষ মনের খেয়ালে আমি নীল নীল কাব্যে আমার বিকেল পুড়ালাম আর মনের শাদা আকাশ জুড়ে তোমায় উড়ালাম তুলো তুলো মেঘগুলো সব ভেজা ভেজা মন তোমার চোখের অন্দরে তার জলজ আভরণ তুমি হাসলে কিছু ফুল হয়ে তা ঝরলো উঠোনময় আমি সে ফুল…
-
অনবরত তোমার ঢেউ / সাইফ আলি
অনবরত তোমার ঢেউ- আমি হলদে মেঘের মতো ভিজি অনবরত তোমার কথা- আমি মজে থাকি কুয়াশার ধ্যানে তুমি ফিরে যাও ফিরে যাও আমাকে ডেকোনা আমি সাঁতার জানিনা সত্যিই সাঁতার পারিনি কোনোদিনই মাছের লেজের মতো চতুর হৃদয় নিয়ে যারা তোমাতে মেতেছে তারা প্রেমিক; আমি তো কেবল এক সামান্য কবি- তোমার শব্দ খুঁজে কবিতায় গাঁথি।
-
আমরা আমাদের মায়ের আচল ধরে বেড়ে উঠেছি / সাইফ আলি
দেখুন জনাব কোনো আন্তর্জাতিক মানের বেহায়া আমদের দরকার নেই আমরা আমাদের মায়ের আচল ধরে বেড়ে উঠেছি অন্তর্বাসের আধুনিকতায় আমরা অভ্যস্ত হতে পারবো না, আমরা আমাদের বোনের লম্বা ওড়নায় ঘাম মুছে বেড়ে উঠেছি আমরা ভালোবাসতে শিখেছি আমাদের মতো কোরে যেভাবে পাখির বাচ্চাগুলো ঠোঁট ফাঁক করতেই পেয়ে যায় প্রেম যেভাবে মাটির কোলে বেড়ে ওঠে সবুজ শিশুরা। আমরা…
-
হালুম / সাইফ আলি
হালুম রাজা হওয়ার পর থেকে বনের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কেউ শান্তিতে ঘুরতে পারছে না। ভয়ে গোটা বন কেমন যেনো চুপসে আছে। হালুমের বাবা রাজা থাকতে অন্যরকম ছিলো। দিনে একটা শিকার করে শান্ত থাকতো। বাঘের পেট তো আর ঘাস দিয়ে ভরবে না, তার জন্য খাবার তো হতেই হবে কাউকে। কিন্তু হালুম রাজা হওয়ার পর থেকে…
-
-
-
-
-
-
-
-
উৎসর্গ : এই কবিতা পাখির জন্য / সাইফ আলি
খসে পড়া পালকের পিঠে ধুলো নয়, লেগে থাকে স্বাধীনতার সুঘ্রাণ বাতাসে দোলাও তাকে জীবনের কোলাহল পাবে।
-
-
পথ হারানোর প্রশ্নই আসেনা / সাইফ আলি
হাতের বাধনগুলোতে শর্ত আরোপ করতে পারো মনের বাধনগুলোতে নয় যদি ভয় পাও সংশয় থাকে সরে দাঁড়াও- পাখিদের চোখের একটা ভাষা থাকে তোমরা তাকে পড়তে শেখোনি পাখিদের ডানার একটা ভাষা থাকে যা তোমাদের আয়ত্বের বাইরে নিজেদের শেয়ালের মতো চতুর ভেবে খুশি থাকা তোমাদের মানায় আমাদের চোখে কেবল রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দেওয়া ঐ ভিতু প্রাণিটি ছাড়া…
-
-
-
বিচ্ছিন্ন পায়ের জন্য স্বান্তনা / সাইফ আলি
কবি আঙ্গুল উঁচিয়ে চিৎকার করলেন- ‘শুয়োরের বাচ্চা…’ একপাল শুয়োর চমকে উঠে তাকিয়ে থাকলো ফ্যাল ফ্যাল করে- তাদের চোখে একটাই প্রশ্ন, আমাদের অপরাধ? কবি নিজেকে শুধরে নিয়ে আবারো বলে উঠলেন- ‘কুত্তার…’ নিরিহ কুত্তাটা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো- আমার অপরাধ? কবি ফের নিজেকে সংশোধন করলেন। কোনো জানোয়ারের সমকক্ষে রাখা সম্ভব হলোনা তাদের; থাক, তারা মানুষের বাচ্চাই…