-
-
তোমাকে ভাবতেই / সাইফ আলি
তোমাকে ভাবতেই কাশফুল ভাবি ভেবে ফেলি জোনাকির রাত, সবুজ স্যাওলার ঘাটে বসে বসে নদীর সাথে হয় প্রিয় সাক্ষাত। তোমাকে ভাবতেই শাদা ক্যানভাসে আঁকতে ভালো লাগে আলুথালু চুল অথচ কি দারূণ খোঁপা করে তাতে ঝোলাও প্রতিদিন শিউলি বকুল। তোমাকে ভাবতেই ভাববো না ভেবে দুচোখ বুজে ফেলি যেই, রাতের নেকাবের জানালাতে শুধু তোমার চোখ ছাড়া আর কিছু…
-
হৃৎপিন্ডের কোলাহল গেলে থেমে / সাইফ আলি
হৃৎপিন্ডের কোলাহল গেলে থেমে ঝাপসা হবে কি জমাট মেঘের দৃষ্টি, নীল আকাশের চৌকাঠ থেকে নেমে ভেজাবে জমিন অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি? ভীষণ খরায় চৌচির হওয়া ঠোঁটটা ফিরে পাবে ফের ভরা বর্ষার চুম্বন, নাকি হবে সেই ছেঁড়া কাগজের নোটটা অচলাবর্তে কেটে যেতো যার দিনক্ষন। ধুলো জমে যাওয়া এক জীবনের মূল্য কতই বা হবে; রক্তের সেই স্রোত নেই, তুমি…
-
আমি এক পিপীলিকা / সাইফ আলি
তোমার ঠোঁটের উঠোনে আমি এক পিপীলিকা হাটি আর হাটি… চোখের কিনারে দাঁড়িয়ে ভাবি এই সমুদ্রে দেবো নাকি ডুব।। তারপর তুলতুলে গালে ভোরের রোদ এসে শুয়ে পড়ে যেই, ছুটে যেয়ে সেরে ফেলি আলোর গোসল… প্রতিদিন ভোরে এভাবেই আমি এক পিপীলিকা হই।।
-
‘নতুন এক মাত্রা’র শরৎ সংখ্যা : বৈচিত্রময় ও সমৃদ্ধ / প্রজ্ঞা পারমিতা
সাহিত্যের কাগজ প্রকাশ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে নতুন চিন্তা, আঙ্গিক ও ভাবধারার কাগজ কমই বের হয়। সৃজন ও মননের দৈন্য দশা এবং নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা এক্ষেত্রে কাজ করে। নতুন ভাবনা, দৃষ্টি ও আয়োজন নিয়ে নতুন এক মাত্রা প্রকাশ হয়ে আসছে নিয়মিতভাবে। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে এর শরৎ সংখ্যা। শরতের নীল-সাদা-সবুজের মিশ্রণে প্রচ্ছদ হয়ে উঠেছে নান্দনিক। প্রচ্ছদ রচনা…
-
হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে / সাইফ আলি
নীল শাড়িতে আকাশ তুমি শাদায় মেঘের ফুল, মধ্যরাতে পাহাড়ি এক ঝরনা তুমি শীতল তোমার ঢেউ খেলানো চুল হাত ছোয়াবো, ছোয়াবো না- ভাবছি যখন এই; হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে ভিজিয়ে ছাড়লেই।
-
সবাই খুঁজেছে সার্থক উপসংহার… / সাইফ আলি
কোথায় একটা তার ছিঁড়ে গেছে, কোথায় একটা সুর; কোথায় হঠাৎ ঘন বর্ষাতে মেঘছেঁড়া রোদ্দুর।। কোথাও হয়তো আকাশ বতলে বন্দী কোথাও হয়তো পাখিরা ভুলেছে রাস্তা মানুষ থাকছে মানুষের সাথে ঠিকই হয়তো বিলেতি কুকুরে খুঁজছে আস্থা। কোথায় একটা অংকে মানেনি সুত্র কোথায় একটা কিন্তু খুঁজেছে যুক্তি প্রশ্নবোধক চিহ্ন ঝুলেছে কণ্ঠে মেলেনি কেবল বিতর্ক থেকে মুক্তি।…
-
বেকারের রাত্রি যাপন / সাইফ আলি
ঘুম ঘুম চোখ রাত কালো রাত এখন তো আর খোঁজে না ঘুমের মর্ম সবাই বুঝেছে শুধু এ শরীর বোঝে না বাপের হোটেলে সংকট বড় মামা খালুদের জোর নেই ঘুম ঘুম চোখ রাত শেষ রাত ঘড়ির কাঁটারা ঘোরছেই। বেকার বেলার দিন নেই, নেই রাত্রি ঘটক খোঁজে না পাত্রী নিজেকে আজব কি যে মনে হয় মহাশূন্যের যাত্রী……
-
সবাই বলুক আমি বলবো না… / সাইফ আলি
শুনেছি তোমার সফল হওয়ার গল্প শুনেছি তুমিও কাদায় রেখেছো পা, কিন্তু যাদের নিয়তি করেছে ব্যর্থ উপসংহারে মিলেছে ব্যর্থতা। শুনেছি তোমার বংশের পরিচয় তোমাকে দিয়েছে আলাদা মূল্যমান, অথচ তুমিতো হাঁটতেই শিখলে না; দেখলাম শুধু অযাচিত উত্থান। সবাই বলুক তুমিই সফল তবু আমি বলে যাবো সে তোমার দৈন্যতা কোটায় তোমাকে বড় তো করেনি মোটে প্রকাশ করেছে প্রচন্ড…
-
একটি টাকার স্বপ্ন / সাইফ আলি
একটি টাকার পিঠের উপর স্মৃতির ধুলো জমতে জমতে টাকাটা এখন অচল টাকা, আমি সে টাকার ধুলো-বালিগুলি আঁচড়ে তুলে বিস্ময়ে দেখি তাতে কত ঘাম-রক্ত মাখা। প্রতিটা ধুলোয় জড়ানো হাজার কথার মালা প্রতিটা ধুলোয় লেগে আছে যেন স্বপ্ন মমি, আমি সে কথার বুঝিনে কিছুই আগা কি মাথা দেখি শুধু তার ধুলি ধূসরিত ফসলী জমি। এ জমিন কতো…
-
যদি মাথা থাকে / সাইফ আলি
যদি অমূলক কোনো শঙ্কায় কাঁপে মন গাঢ় আঁধারের মাঝে জোনাকির আয়োজন দেখে নিস যদি বিস্তৃত কোনো জনহীন প্রান্তর তবে অনাগত শত সম্ভাবনার স্বর মেখে নিস শীলা শঙ্কায় যদি বৃষ্টি ভাবিস ভুল ঝড়ো সন্ধ্যায় যদি মাথায় তুলিস জ্বর তবে নিজেকে নিজেই দেখ্- ছোটো কুঠুরির মাঝে সৌখিন কবুতর। যদি মাথা থাকে তবে উঁচু করে রাখ পাহাড়ের মতো…
-
তোমার দৃষ্টি যাকে খোঁজে… / সাইফ আলি
তোমাকে দেখলাম শাহবাগের মোড়ে ফুলের দোকানে কিন্তু তোমার হাতে কোনো ফুল দেখলাম না; কোনো ধরণের ফুলের সাথেই সম্পর্ক স্থাপন করতে দেখিনি তোমাকে তবু এই দুপুরের রোদে একগুচ্ছ ফুলের দিকে তাকিয়ে ঠাই তুমি দাঁড়িয়ে আছো !! আমি বড্ড অবাক হয়েছি জানো… পচন্ড রোদে পুড়ে যারা ঠান্ডা পানি বেচে তাদের আর তোমার মধ্যে তফাৎ ছিলো না কোনো।…
-
তারার পতন হলে / সাইফ আলি
মাত্রই যে তারার পতন হলো আগামীকালের পত্রিকায় তাকে নিয়ে লেখা হতে পারে বেশকিছু তরতাজা নতুন কবিতা… অথবা গল্প এক ‘তারার পতন’। একুশের বইমেলায় তাকে নিয়ে মিলতে পারে গোটা দুই ঝাঁঝালো উপন্যাস। এছাড়াও সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মিছিল-মিটিং অথবা প্রেসক্লাব পাড়ায় বুদ্ধিজীবী মহলের নিরিহ মানববন্ধন!! তবে যাই হোক তারাটির আর কোনো উদয় হবে না। আজকাল এরকমই হয়, কবিরা…
-
সেদিন তৃষ্ণার্ত আমি / সাইফ আলি
সেদিন তৃষ্ণার্ত আমি নদীর কাছে গিয়েছিলাম তৃষ্ণা মেটাতে অতঃপর- শান্ত সে বুকে ঠোঁট রেখে আকণ্ঠ পান করেছিলাম তার সুমিষ্ট জল…. আজ তোমার কাছে এসেছি হে সমুদ্র ভেবেছিলাম- লক্ষ লক্ষ নদীর সুমিষ্ট জলের লহর আছড়ে পড়েছে যেই বুকে, সেই বুকে কতই না মধু…! অথচ- এ কেমন তিক্ত তোমার জল…! ( সমুদ্রের ভাষ্য- ) অবাক হয়ো না…
-
যদু / সাইফ আলি
সে শুধু ভাবে। আর পাঁচজন লোকের সাথে তার পার্থক্যটাই এখানে। তার একটাই কথা- কাজ যখন করবো, ভেবে চিন্তেই করবো; না জেনেশুনে কাজে নামে বোকালোক। ধরা খাওয়াটাও তাদের নিত্য নৈমেত্যিক ব্যপার। যেমন ধরুন ঐ কলিমের কথাই বলি, গেলো বছর পেয়াজে লাভ দেখে মনে করেছিলো এবারও… কিন্তু হলোটা কি? উল্টা। এবার নির্ঘাত লোকশানে পড়বে বেচারা। আরে বার…
-
দয়া করে সাঁতারটা ভুলে যান / সাইফ আলি
আপনাকে মারার কোনো ফন্দি আঁটিনি আমরা আপনাকে বাঁচানোর সর্বত্তম ব্যবস্থা নিতেই এসেছি এখানে, দেখুন জনাব- হাত পা ছুড়বেন না। জানেনই তো পুকুরের মাছগুলো ঘোলাজলে ঠিকঠাক চলতে পারে না। আপনি সাঁতার জানেন সেটা আমরা জানি, তবে ভাবুন, আপনার হাতে পায়ে জলাশয়ে ঢেউ যদি ওঠে মাছেরা মানবে কেনো?? তাদেরও তো অধিকার আছে… বিবেকের তাড়নায় দয়া করে সাঁতারটা…
-
আশার শিশুরা তবু / সাইফ আলি
আমাদের রাত যেনো শুকনো পাতার মতো বেজে ওঠে শুধু ওঠে বেজে… আমাদের স্বপ্নেরা ভূতের পোশাকে আসে সেজে, আমাদের ঘুমশিশু চোখ মেলে বসে থাকে তারাদের মতো- মেঘের শরীরে ঠেকে পা; আশার শিশুরা তবু কোত্থেকে ডেকে আনে চাঁদ জলশা…!!
-
দেয়াল / সাইফ আলি
দেয়ালে বাজেনা শব্দ দেয়ালের নেই মুখ, দেয়ালে শুধুই পিঠ ঠেকে যার খেয়ালেই তার সুখ। দেয়ালে প্রেমের চিহ্ন আর ছিলো দুটো নাম, বহুদিন পর সেই দেয়ালেই আজ পিঠ ঠেকালাম।
-
পথগুলো শুধু একেবেঁকে যায় / সাইফ আলি
পথগুলো শুধু একেবেঁকে যায় পথের প্রান্তে কখনো সকাল কখনো অবার গোধূলি আনতে আমিও হারাই পথ থেকে পথে দূর সীমান্তে আরো কত পথ বাকি থেকে গেল একথা জানতে। জীবনের পথে প্রশ্রয়হীন একাকি স্বপ্ন ফেরারী পথিক খুঁজে খুঁজে ফেরে বাস্তবতার জটিল মূর্তি – জ্বলে ধিক-ধিক অবশেষে ছাই; মৃত সে আগুন আবার নতুন বসন্ত খোঁজে আরেক ফাগুন। পথগুলো…
-
তুমিও কি ঘুমিয়েছো চাঁদ / সাইফ আলি
তুমিও কি ঘুমিয়েছো চাঁদ মেঘের চাদরে ঢেকে মুখ, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে ভিজে তোমারো কি হয়েছে অসুখ? শহরের ছাদে আমি একা নেই কোনো জোনাকি ডাহুক, নেই কোনো ফুলের সুঘ্রাণ গরম ধোঁয়ায় ভরা বুক। আজ থেকে বহু দিন আগে এইখানে ছিলো এক গ্রাম, আর ছিলো ছোটো এক নদী আজ তার নর্দমা নাম। মাঠ ঘাট বটতলা ছিলো আরো ছিলো…