-
সেই চোখে ওরা তবু মানুষ দেখে না / সাইফ আলি
ওরা যারা মানুষের রক্ত নিয়ে করে ছুড়াছুড়ি মানুষের তাজা খুন হাতে মুখে মাখে ওদেরও দু’হাত আছে মানুষের মতো সেই হাতে ওরা খেলে কসাইয়ের খেলা; ওদেরও দু’চোখ আছে মানুষের চোখ সেই চোখে ওরা তবু মানুষ দেখে না।
-
আমার এখন প্রেম হয়েছে লাশের সঙ্গে / সাইফ আলি
আমার এখন প্রেম হয়েছে লাশের সঙ্গে প্রেম হয়েছে ভাগ্য এবং তাশের সঙ্গে তোমরা যারা লাশ দেখনা ভিন্নমতের কাল তাদেরও ঘটবে মিলন বাঁশের সঙ্গে মতবাদের জাল ধরেছে রুই কাতলা আমরা পুটি কিংবা ঝায়া চিন্তা কিসের সবাই মরে, মরছে তাতে কি আসে যায় বিষ খেয়েছি, আমার কি দোষ; দোষ তো বিষের আমার এখন প্রেম হয়েছে লাশের সঙ্গে…
-
হঠাৎ করে আটকে গেলো পা দুটো / সাইফ আলি
হঠাৎ করে আটকে গেলো পা দুটো- রক্তে ধোয়া ঘুমিয়ে ছিলো স্বাধীনতার ছা দুটো!! ক্যামনে আমি ডিঙায় তাদের, ক্যামনে বলি থাক পড়ে; ক্যামনে বলি ও কিছু না, এবার ঈদের চাঁদ উঠো…
-
তবু এই মানুষেরা / সাইফ আলি
মৃত্যু কি আমাদের কাউকেই ফেলে রেখে যাবে? কণ্ঠ কি চিরদিন বাজবে তুমুল বল মন… তবু এই মানুষেরা মিছেমিছি মৃত্যুর করে আয়োজন। তবু এই মানুষেরা উগ্রতা বুকে ধরে কাটায় জীবন…
-
ও পাহাড়ি ঝর্ণা
ও পাহাড়ি ঝর্ণা তুমি কার নামে গাও গান কার নামে হয় উদাসী ঐ মেঘমালা আসমান জানি, আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ সুমহান… চাঁদটা যখন লুকিয়ে থাকে মেঘের আড়ালে যায় পাওয়া যায় কার রহমত হাতটা বাড়ালে কে সাড়া দেয় সকল সময় হোক না সকাল সাঁঝ কার ইশারায় কূল খুঁজে পাই হৃদয় জাহাজ কে সে রহিম-রহমান… লক্ষ তারা মিটিমিটি…
-
কোনো এক বীরকে… / সাইফ আলি
: তোমার মুখের ভাষা সংযত করো নিজেকে গুটিয়ে রাখো শামুকের মতো তুমি বড় বেয়াদব হয়েছো পুরুষ ফাঁসির মঞ্চ দেখে হয়নি কি হুঁশ? তুমি কেনো নিচু হয়ে বাঁচতে শেখনি অভদ্র চোখ কেনো রাঙিয়েছো লালে দেখছো না পা’র তলে মটি নেই কোনো দেখছো না পানি নেই হালে? তোমার মুখের ভাষা সংযত করো নিজেকে গুটিয়ে রাখো শামুকের মতো।…
-
তবু তারা জেগে থাকে / সাইফ আলি
: তুমি কেনো রোজ রোজ ঘুমাতে দাওনা, সবাই ঘুমিয়ে পড়ে রাত নামতেই তুমি কেনো সারারাত জেগে থাকো বলো তুমি কেনো ঘুমানোর তালিম নাওনা? এই ঘন কালো রাতে শেয়ালেরা ছাড়া আর কেউ জেগে থাকে শুনেছো কখনো? এই ঘন কালো রাত হুতুমের সাথে জেগে জেগে কাটানোর খায়েশ তোমার? ( তবু তারা জেগে থাকে সমস্ত রাত রাতের প্রহরি…
-
তোমাকে দেখলে মাটি কেনো জানি মনে হয়
তোমাকে দেখলে মাটি কেনো জানি মনে হয় আবারো খুড়তে হবে নতুন কবর, আবারো বলতে হবে কাছে কোনো এক মার সুতো কাটা ঘুড়ি তার ছেলের খবর ॥ জীবনের পথে পথে হেটে হেটে কত জন ঘুমিয়ে পড়েছে আজ জেহাদের ময়দানে লড়ে লড়ে কত বীর ছিনিয়ে শহিদী তাজ॥ ইতি টেনে গেল তার এ পথের সফর। দরজাতে জানালাতে কতো…
-
এ হাসি কিসের জন্য? / সাইফ আলি
এ হাসি কিসের জন্য? লাশ মিলেছে এতেই ধন্য!! এ হাসি লজ্জা তোমার এ হাসি হাসলে দারুণ লাগে জঘণ্য। এ হাসি জুতোর তলা্য় পিষ্ঠ হওয়ার আনন্দে কি? এ হাসি সত্য নাকি দাশের মুখের করুণ মেকি? এ হাসি হাসতে জানে হয়তো এখন এ বাংগালী! দাদারা তুষ্ট থাকো, এ নাও দেখো দাঁত এক ফালি!! : যখন বি. এস.…
-
যে কপাল মাঝ রাতে জায়নামাজে
যে কপাল মাঝ রাতে জায়নামাজে বারে বার সেজদায় ওঠে নামে সে কপাল ফেটে আজ রক্ত ঝরে পিচঢালা পথে এই সংগ্রামে ॥ ছোট্ট যে বুকে ছিল জমানো আশা মানুষের মত এক মানুষ হবে সে বুকের তাজা খুন পথের মাঝে হায়েনার নৃত্য সে নীরব শবে ॥ নিভে যায় কত মার আশার প্রদীপ কতটা বাবার চোখে আঁধার নামে।…
-
অন্ধ-ঘুম / সাইফ আলি
১ বলুন দেখি সত্যিকারের অন্ধ কারে কয়, সব দেখেও দেখলো না যে অন্ধ কি সে নয়?? ২ ঘুমিয়ে থেকে ছাদ হারালো এখন সে দায় নিবে কে? হঠাৎ দেখে লুঙ্গিও নাই!! ঘুমিয়ে ছিলো বিবেকে । বি দ্রঃ যারা সত্যটা জেনেও মিথ্যার সঙ্গ দিয়ে চলেছে শুধুমাত্র তাদের জন্য ….
-
নংদনু বালো না / সাইফ আলি
ভাত কে বলে বাত আর খাবো কে বলে তাবো, ছোটো ছোটো কোমল দু’পায়ে হাটার প্রশিক্ষণ নেয়; আমি তাকে বললাম… ‘ রংধনু একে দাও একটা…’ নংদনু তি?? আমি তাকে রংধনু দেখাতে অপেক্ষায় থাকলাম… বৃষ্টি হলেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তাম… আতিপাতি খোঁজ করতাম… রংধনু মেলেনি তবুও। হঠাৎ একদিন রংধনু দেখে দৌড়ে গেলাম বাড়িতে, বললাম- তোমাকে আজ রংধনু…
-
-
-
এখানে আবার স্বপ্নের রেখা টানি / সাইফ আলি
এখানে আবার স্বপ্নের রেখা টানি এইখান থেকে পথ চলা হোক শুরু পেছনে ফেরার ইচ্ছের কোরবানী হয়ে যাক আজ এই নির্জন মাঠে। এখানে আজকে ভীরুর কাব্য নয় নয় ঘুমানোর নিজ্ঝুম কালো রাত চির নিদ্রায় নিদ্রিত হোক ভয় জাগুক সাহস জীবনকাব্য পাঠে। এখানে আজকে তামাটে মাটির বুকে রেখে দিয়ে যাই সাহসী পায়ের ছাপ আমাদের চলা শুরু হোক…
-
এক থোকা ফুল এনে / সাইফ আলি
এক থোকা ফুল এনে বলব না সুখী হও আজকের দিনে বলব না বেঁচে থাকো অনন্তকাল, বাগানের সব ফুল যত ভালবাসা পায় সবটুকু এনে বলব এমন হোক প্রতিটি সকাল। যদি নীল সাগরের তীরে ঝিনুকের খোলসের ভিড়ে পাওয়া যায় একখানি মুক্তার দানা, ছোট হোক তাই এনে দেব হীন বল তাই মেনে নেব মেকি মুক্তার মালা তোমায় দেব…
-
এ দেহে মাটির গন্ধ / সাইফ আলি
ধানের তরুণ চারা বেড়ে ওঠে নরম কাদায় সে কাদায় আজো এই পা’র লেগে আছে ছাপ। নারীর নরম দেহ পরখ করেছে এই নির্লজ্জ দু’হাত চেয়ে দেখো- এই তার পাপ। বাপ-দাদা চাষা ছিলো তাই সত্যিকারের চাষার বাচ্চা আমি মাটির গভীরে গাঁথি লাঙলের ফলা অতঃপর বীজ বুনে দিই। এইতো সেদিন শহরের বড়বাবু ডেকে বললেন- এ দেহে মাটির গন্ধ,…
-
আমি কোনো গণক নই তবুও / সাইফ আলি
আমি কোনো গণক নই তবুও কৃষকের হাত দেখে ঠিকঠিক বলে দিতে পারি ফসল ফলবে কিনা মাঠে কৃষকের মুখ দেখে ঠিক ঠিক বলে দিতে পারি কয়বেলা জোটেনি আহার। আহারে পরাণ টিয়ে সেও কি জানে না এক শ্রমিকের ঘরের খবর সোফাহীন , খাটহীন মাঝে মাঝে চালহীন জীর্ণ কুটিরখানি তার আর, কয়বেলা জোটেনি আহার। সত্যি বলছি আমি কোনো…
-
আজকাল কিরকম নিরামিষ / সাইফ আলি
এইসব রাত্রিগুলো কেন যে এমন শব্দহীন- আলোহীন হয়? আমি বুঝতে পারি না কিছুতেই – আজকাল ঝিঁঝিঁগুলো কেনো যে নির্বাক এতো বেশি জোনাকিরা হারালো কোথায় কে বা জানে; আলোহীন একাকি আমার শুধু নিরামিষ রাত কেটে যায়… কতোনা মধুর ছিলো সেই সব রাতগুলি গ্রামে সারাটা উঠোন জুড়ে জোছনার মায়া আলো নামে আর দক্ষিণ জানালার বাতাসেরা পর্দা দোলায়।…
-
দৃষ্টিভ্রম / সাইফ আলি
অমানবিক কোমল তসবির তোমার ভেসে থাকে মেঘের মুলুকে কালোকেশি ঝড় আসে, বৃষ্টি হয় ঝরে পড়ে শফেদ বরফ… আর, সেই শীলাবৃষ্টিতে ভিজে একাকার কাকের মতো আমি অবাক বিষ্ময়ে বারবার করি আবিষ্কার- এলোকেশী মেঘদলে তোমার প্রতিকৃতি ঝাপশা-ঘোলা-অস্পষ্ট অথচ কি বাস্তব কি নিপূণ সুক্ষতায় ধরা দেয় আমার দু’চোখে – নিজেকে বোঝাই- এ তোমার দৃষ্টিভ্রম এ তোমার ভ্রান্ত কল্পনা…

