-
প্রকৃতি / সায়ীদ আবুবকর
কিভাবে কুঁড়িগুলো উঠিল ফুল হয়ে, হইলো দিশেহারা বনের মৌমাছি! যা কিছু দেখি চোখে, যায় তা ভুল হয়ে সত্য হয় তা, যা চোখে না দেখিয়াছি। কুঁড়িরা ফুল হয়, ঝরিয়া যায় ফুল ভরিয়া যায় বন নতুন ফুলে ফের; যে ছিলো কিশোরী, সে প্রণয়ে মশগুল- ঘটিয়া যায় কত ঘটনা জগতের। আমরা এইখানে-সত্য যত না এ, সত্য তার চেয়ে…
-
বলিয়া যেন যাই / সায়ীদ আবুবকর
চলিয়া যদি যাই, বলিয়া যেন যাই তাবৎ পৃথিবীকে: দুঃখ নাই মনে। দুঃখ নাই, যেন একথা যাই লিখে এবং এই কথা গাঁথিয়া অন্তরে একেলা চুপচাপ চলিয়া যেন যাই, শরীরে লেগে থাকে সুখের উত্তাপ। গোলাপ দেখিয়াছি, কাঁটার কথা তার পায়নি ঠাঁই মনে; সাঁতার কাটিয়াছি চিতল মাছ হয়ে অথৈ যৌবনে, জরা ও জীর্ণতা পারেনি ছুঁতে মন। গিয়াছে ফিরে…
-
রাতের ঘটনা / সায়ীদ আবুবকর
ভ্রমর গান গায় রাতের ফুলবনে অথৈ নির্জনে আকাশে জাগে চাঁদ একটি বোবা পাখি দুঠোঁটে এক মনে জোছনা খুটে খায় কেমন উন্মাদ কেমন উন্মাদ একটি বোবা পাখি জোছনা খুটে খায়, দ্যাখে তা ফুলগাছ ফুলে-বাতাসে করে সুবাস মাখামাখি তাধিন ধিন তা তা জগত জোড়ে নাচ ২৩.১.২০১৫ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ
-
একটা বুনো হাঁস / সায়ীদ আবুবকর
গাছেরা গান গায় গাছেরা কাঁদে হাসে গাছেরা কথা বলে সেসব শোনে শুধু একটা বুনো হাঁস নদীর বুনো জলে জলেরা কথা বলে ছলাৎ ছল ছল হাঁসটি শোনে একা এবং চুপ করে অবাক চেয়ে থাকে দূরের বনে একা নদীর বুনো জলে বেড়ায় ভেসে একা একটি বুনো হাঁস উদাস দুটি চোখে কখনো চেয়ে দ্যাখে রূপসী নীলাকাশ আকাশ কথা…
-
কবিতার সক্রেটিস / সায়ীদ আবুবকর
নগরবাউল হয়ে অনেক হয়েছে হাঁটা। জমকালো বিদ্যুতের রোদে ভাটশালিকের পায়ে সারারাত বেড়িয়েছি খুঁজে ঢের শিল্পের আহার। ক্রোধে, ক্ষোভে ও ঘৃণায় পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের মুখে অনেক মেরেছি থুতু। মানবতা- মানবতা করে কাটিয়েছি কালো দিন রক্তলাল রাজপথে। কাগজের কুসুমের কথা আর পাথরের প্যারাডাইসের কথা বলতে বলতে ক্লান্ত অবশেষে কণ্ঠ কোকিলের। আজ মৃত্তিকা আমাকে ডাকে। সুনিবিড় সবুজের শীতলতা…
-
উৎসর্গ কবিতা (আমার কোথাও যাওয়ার নেই) / সায়ীদ আবুবকর
কেশবপুরবাসী শরীর শীতল করে, ভিতর শীতল করে এই ঘোলাপানি, এ পানিতে স্নান করে ভোরের দোয়েল আর আমার হৃদয়; পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ এখনও আগের মতো করে কানাকানি তখন এ নদ দেখে কত মধু মধুদেশে মহাকবি হয়! অন্য কোনোখানে গিয়ে বাঁচবো কি একদিনও এ জমিন থুয়ে? বিদেশবিভুঁই গিয়ে কী করে মানুষ বাঁচে, আমি ভেবে মরি; আমার কেশবপুর…
-
দাঁড়াও, পথিকবর, জন্ম যদি বঙ্গে / সায়ীদ আবুবকর
দাঁড়াও, পথিকবর, জন্ম যদি বঙ্গে; দু’দণ্ড দাঁড়াও স্থির এ সমাধিস্থলে- যেভাবে দাঁড়ায় বৃক্ষ মৃত্তিকার সঙ্গে; মানুষ কি বাঁচে, হায়, শূন্যে কিংবা জলে! যে-আকাশে থাক পাখি, ফিরে আসে নীড়ে; কিন্তু সেই পাখি শ্রেষ্ঠ, যে-পাখি ছড়ায় স্বদেশের গান মহা মানুষের ভিড়ে- সারা দেশ নুয়ে পড়ে তার পদ্মপায়! পিতা নূর মহম্মদ আর মা আমেনা, সায়ীদ আবুবকর বঙ্গজের নাম…
-
এপিটাফ / সায়ীদ আবুবকর
দাঁড়াও, পথিকবর, জন্ম যদি বঙ্গে; দুদণ্ড দাঁড়াও স্থির এ সমাধিস্থলে- যেভাবে দাঁড়ায় বৃক্ষ মৃত্তিকার সঙ্গে; মানুষ কি বাঁচে, হায়, শূন্যে কিংবা জলে! যে-আকাশে থাক পাখি, ফিরে আসে নীড়ে; কিন্তু সেই পাখি শ্রেষ্ঠ, যে-পাখি ছড়ায় স্বদেশের গান মহা মানুষের ভিড়ে- সারা দেশ নুয়ে পড়ে তার পদ্মপায়! পিতা নূর মহম্মদ আর মা আমেনা, সায়ীদ আবুবকর বঙ্গজের নাম…
-
বলো তারপর কোথায় আমরা যাবো / সায়ীদ আবুবকর
এত মৃত্যু, এত লাশ এত ধ্বংসযজ্ঞ, এত সর্বনাশ আর ছোপ ছোপ এত রক্তের উপর দিয়ে হেঁটে হয়তো বা স্বপ্নের সে গেটে পৌঁছে যাবো ঠিকঠিকই, যে রহস্যময় গেট খুললেই সাফল্যের সাজঘর- তারপর? বলো তারপর কোথায় আমরা যাবো? ধু-ধু নীল আকাশে কেবলি ওড়ে আজ বাজপাখি, শকুন ও চিল। জীবনের রাজপথে ক্ষুধার্ত শেয়াল ডাকে। সেই ডাক টেনে আনে…
-
হেমন্তের ঘর / সায়ীদ আবুবকর
সেজেছে বাংলাদেশ চাটগাঁয় মাটির পাহাড়ে, ধানসিঁড়ি-পুনর্ভবা-কপোতাক্ষ পাড়ে; নতুন শিশিরে ভিজে-নেয়ে সারা সিলেটের ঘাস আর নওগাঁর গাছের পাতারা; বসিয়েছে শুভ্রমেলা সিরাজগঞ্জের কাশ যমুনার দুই পাড়ে; পায়রার চোখ যেন সাতক্ষীরার আকাশ; মানিকগঞ্জের মাঠগুলো, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ি পরেছে সরিষাশাড়ি; সেজেছে বাংলাদেশ জামালপুর-ঠাকুরগাঁয়ে, যে হাঁটে কবির বুকে ঊর্বশীর পায়ে। প্রিয়তমা, ফিরে যাই চলো ফের পুনড্র নগরে,- মসলিন শাড়ি পরে…
-
তখন হে দেশবাসী / সায়ীদ আবুবকর
হৃদয়ে ভারত যার, বাংলাদেশ মুখে আর যারা পাকিস্তান পুষে রাখে বুকে এদেশ তাদের নয়, তারা পরগাছা; এদেশের রক্ত চুষে তাদের এ বাঁচা নরকে বাঁচার মতো, তবু অহঙ্কারে চামচিকার পায়ে তারা জোড়া লাথি মারে এদেশবাসীর বুকে, আর কুটজালে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধে দেশ। যখন জঞ্জালে ভরে গেছে পথঘাট, থেমে গেছে গতি, তখন হে দেশবাসী, শোনো এ মিনতি আমার,…
-
আমাদের একমাত্র কথা / সায়ীদ আবুবকর
এইসব ফুল, নদী, নারী- হয়তো বা ভুলে যেতে পারি; ভুলে যেতে পারি বেচাকেনা, গঞ্জের চায়ের স্টল, চেনা রাস্তাঘাট, ব্রিজ, খালবিল; পারি আকাশের গাঢ় নীল যেতে ভুলে, আর ভরা চাঁদ, সর্ষে বাটা ইলিশের স্বাদ; আরো যদি চাও, দাদা, পারি ভুলে যেতে তরিতরকারি- সবজির খেত, ঘর, গোলা, খেজুরের রস, গুড়, ছোলা; এত পথ পার হয়ে এসে ভুলে…
-
ভাষার অমর্ত্যলোক / সায়ীদ আবুবকর
ভাষা তো হৃদয়ে জন্ম নেওয়া উচ্ছ্বাস- নিশব্দ, নিশ্চুপ; আর ভাষার চিত্রিত রূপ দুচোখের সব ছবি। মানুষ তো চলমান ভাষা, পাহাড় নিশ্চল- আর মহাসমুদ্রের ফেনায়িত জল অফুরন্ত শব্দময় যেন এক বঙ্কিম হৃদয়। অরণ্যের সব ফুল, ভাষা এক- রূপসী, সুগন্ধী; সুরের খাঁচায় বন্দী ডানা ঝাপটানো ভাষা অরণ্যের যত পাখি; আর নিশীথের নক্ষত্ররা যেন নিশব্দ লিরিক, সুরের আলোয়…
-
বৃষ্টি / সায়ীদ আবুবকর
বন, নদী, গ্রাম, মাঠ ভিজছে বৃষ্টিতে, ভিজছে মাঠের গরু, শালিকের ঘর; রোমাঞ্চিত কায়া আজ সুখসুখ শীতে, দুধজলে ভিজে যায় বাউলঅন্তর। বাউলঅন্তর যায় ভিজে পুরোপুরি যেভাবে কাকেরা ভেজে দলবেঁধে ছাদে; কোন্ কালে কে অন্তর করেছিল চুরি, সেই শোকে গৃহকোণে কেউ যেন কাঁদে! গৃহকোণে চোখে কারো বয়ে যায় নদী, আকাশ যে কার শোকে কেঁদে জার জার! যত…
-
পহেলা বৈশাখ ও বাংলা বৈশাখী কবিতা / সায়ীদ আবুবকর
বাংলা সনের মূল নাম ছিল তারিখ-এ-এলাহী। মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৫ সালে তার রাজত্বকালের ২৯তম বর্ষের ১০ কিংবা ১১ মার্চ তারিখে এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে তারিখ-এ-এলাহী প্রবর্তন করেন। সিংহাসনে আরোহণের পরপরই তিনি একটি বৈজ্ঞানিক, কর্মপোযোগী ও গ্রহণযোগ্য বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন, যেখানে দিন ও মাসের হিসাবটা যথাযথ থাকবে। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি তৎকালীন প্রখ্যাত…
-
বেহুলাবধূ / সায়ীদ আবুবকর
এখানে যখন সন্ধ্যা ঘনায় তোমার ওখানে দিনের শুরু; রাত্রি এগোয় সাপের ফণায়, কাঁপে আতঙ্কে হৃদয়, ভুরু! ওখানে যখন রাত নেমে আসে, দোয়েলেরা দেয় এখানে শিস; তরাসে তোমার গা ঘেমে আসে, যেনবা বাতাসে সাপের বিষ লোরেনা আমার বেহুলাবধূ, আর নয় দুই কিনারে বাস; এক ফুলে হবে আমাদের মধু, এক মাঠে হবে প্রেমের চাষ চার চোখে যেন…
-
তাকে দেখলে চিনি / সায়ীদ আবুবকর
তাকে দেখলে চিনি, মনে নেই বাড়িঘর। মুখ মনে আছে, চোখ মনে আছে, ভুলে গেছি শুধু তার গোলাপি অন্তর। ২৮.৪.২০১২ ইংরেজি বিভাগ, সিরাজগঞ্জ কলেজ
-
হীরকের খনি / সায়ীদ আবুবকর
হাতে লেগে আছে স্তনের ঊষ্ণতা, ভিজে গেছে সুখে প্রেমার্ত এ হাত; কানে লেগে আছে কোকিলের কথা, বুকের গভীরে ছড়ায় মৌতাত। ঠোঁটে লেগে আছে চাঁদের চুম্বন, বুকে গিয়ে পড়ে সুখের ফোয়ারা; মনে লেগে আছে জুলেখার মন, সারা অঙ্গ তাই সুখে দিশেহারা। চোখে লেগে আছে সমুদ্রের ঢেউ, চোখজুড়ে তাই চাঁদের চাহনি; এরকম করে বলেনি তো কেউ ‘তুমিই…
-
হৃদয়ের সুখে / সায়ীদ আবুবকর
শরীর ঈর্ষায় মরে হৃদয়ের সুখে,- হৃদয় যাপন করে যেন বা পরীর ফুলেল জীবন; তাই চোখে-ঠোঁটে-মুখে দোজখের দীর্ঘশ্বাস ছড়ায় শরীর। দু-হৃদয় এক হয়ে যেন প্রজাপতি অসীম আনন্দে ওড়ে রঙিন ডানায়; প্রণয় তাদের দেছে আলোকের গতি, বিশ্বাসে জীবন ভরে কানায় কানায়। কোথায় মেক্সিকো আর কোথায় এ বঙ্গ, দোঁহার হৃদয় তবু আটটি প্রহর একসাথে একখানে করে প্রেমরঙ্গ; জলে-স্থলে-শূন্যে…
-
মেয়েটা / সায়ীদ আবুবকর
মেয়েটা মাছের মতো হাঁটে পথেঘাটে। যখন সে পথের মাথায় এসে থামে, মনে হয় তাকে পুরে রাখি হৃদয়ের একুইরিয়ামে। মেয়েটা পাখির মতো কথা কয় সমস্ত সময়। তার কথা শুনতে শুনতে হতভম্ব হয়ে যায় কান; মনে হয় কত পানসে, কত অর্থহীন পৃথিবীর আর সব গান। মেয়েটা ফুলের মতো হাসে। তার পাশে আর কোনো হাসি মনে হয় কত…