• একান্ত বাক্যেরা-১৯ / সাইফ আলি

    আমি ভুলে গেলে তুমি ভুল হয়ে যাবে সত্যি আমি ভুলে গেলে তুমি নিজেকেই চিনবে না- তবু মিছে কেনো এই বায়না তোমার, বৃষ্টি পারো যদি এই মেঘ ছাড়া ভালোবাসো।


  • একান্ত বাক্যেরা-১৮ / সাইফ আলি

    ধরে রেখে তারা আকাশ কি পেলো বোঝো? তবু কেনো মিছে ভালোবাসা তুমি খোঁজো? ভালোবেসে শুধু আলোকিত হওয়া যায় আঁধার সেটাতো হৃদয়ের শূন্যতা-


  • দাগ / সাইফ আলি

    কালের কলমে কাটলো যে দাগ তার সাথে কার রাগ অনুরাগ তার সাথে কার দন্দ্ব-


  • হয়তো আমিই / সাইফ আলি

    পথভোলা কেউ, হয়তো আমিই মনভোলা কেউ, হয়তো বাতাস কিংবা বাতাস পথ ভুলেছে নয়তো আমিই মনভোলা হই মনের মতো পথের ধুলো হয়তো বুকে ঘুরছে বাতাস- কিংবা আমি বাতাস ছিলাম পথ ভুলেছি ধুলোর মায়ায়। মিলছে না ঠিক কোনটা সঠিক বাতাস নাকি ধুলোর মায়া ভুল করে কি লেপ্টে আছে পথের বুকে আমার ছায়া?


  • রাতের আঁধার হয়ে / সাইফ আলি

    রাতের আঁধার হয়ে তুুুমি এলে আমার ক্লান্ত চোখে, আমি বোবা পাখি দৃষ্টির নিক্তিতে মেপে ফেলি অজস্র তারা- তারপর ঘুম ঘুম চোখে নেমে আসে বিশুদ্ধ ইরেজার মুছে যায় অবসাদ জীবনের কাতর বিলাপ- কি নিমগ্ন দুঃখ এখানে ওৎ পেতে বসে আছে দ্যাখো মাকড়শা ছড়িয়েছে জাল! রাতের আঁধার হয়ে তুমি রোজ এসো বসে থেকো মায়ের মতন অসুখের ভান…


  • আমি চাই / সাইফ আলি

    আমি চাই ভোরের প্রথম ডাকে জেগে ওঠো তুমি তারপর দোয়েল হও তোমার শিশের শব্দ আমার কানে পৌছতেই আমি গাছেদের মতো আড়মোড়া ভাঙি বাতাসে ভেসে বেড়াক শিশির এবং সুগন্ধ তোমার তুমি ফুল হও আমি বুক ভরে শ্বাস নিই চোখ মেলতেই তুমি আলো আমার প্রথম সকাল এরপর দুপুর বিকেলের অবসরে এক কাপ ধোয়া ওঠা চা সন্ধ্যার পাখিদের…


  • তারুণ্য / সাইফ আলি

    তোমার অন্তরালে বেড়ে ওঠে সবুজ পৃথিবী তোমার শরীর ছুঁয়ে নীড় পায় অবুঝ পাখিরা তোমার জোয়ার এলে বদলায় কালের লিখন অথচ তোমার কোনো সাড়া নেই; তুমি জাগো, তুমি জাগো পাঁজরের গহীন ভিতর- রক্তে রন্ধ্রে তুমি জাগো, মগজে মননে তুমি জাগো।


  • নদী ও নারী / সাইফ আলি

      মুছবে না দাগ যদি না তোমার স্রোতের আঘাত লাগে। ওগো নদী, তোমার চলার মন্ত্রে আমার স্বপ্ন শিশুরা জাগে- তুমি বয়ে যাও রয়ে যাও তবু ক্ষয়ে যায় ব্যথাগুলো, নিরবে ভাসাই তোমার শরীরে হতাশার মেঘধুলো। ওগো নদী, তুমি কি কখনো ভুগেছো এমন অবেলার অনুরাগে? নদী ও নারীর অর্থ বুঝিনি খুঁজিনি অন্তমিল, তবু জোছনায় একসাথে দেখি তরঙ্গ…


  • নিয়ম ভাঙার রাত / সাইফ আলি

    বিকেল গড়ায় সন্ধ্যা নামে এটাই নিয়ম কিন্তু তুমি নিয়ম ভাঙার খেলায় মেতে আনলে ডেকে কেমন এ রাত- এই দেখোতো, যাচ্ছে চেনা প্রাচীন এ হাত? এ হাত যখন ফুল ছুঁয়েছে তখন তুমি সঙ্গে ছিলে যখন কেবল স্বচ্ছলতায় পূর্ণ ছিলো; কিন্তু এখন হাত বাড়ালে শূন্যতারা আসর জমায় এবং কি সব দ্রোহের বায়ু কাব্য পাঠে মত্ত থাকে। তোমার…


  • শিকড় / সাইফ আলি

    চোখ বুজে যে কাটছো শিকড়; শিকড়টা কার? পড়বে যখন নিজেই ধ্বসে তখন তোমার ফিরবে চেতন- বিজয় কেতন থাকবে তখন ধুলায় লুটায়।


  • ঘুরে ঘুরে খেলা করে / সায়ীদ আবুবকর

    কেবলি কোকিল আর কেবলি কুসুম যে-বনে; যে-মাঠে কেবলি শস্যের মেলা; যে-আকাশে কেবলি ষোড়শী চাঁদ আর তার নিজঝুম রূপের ঔজ্জ্বল্য; যে-জলে সাঁতার কাটে কেবলি চিতল মাছ; সেখানে আমার হৃদয়ের হোলি খেলা। আমার হৃদয় জোছনার মতো ঘুরে ঘুরে খেলা করে পৃথিবীর সব সুন্দরে সুন্দরে। ১১.৯.২০১৪ মিলন মোড়, সিরাজগঞ্জ


  • নদী ও নারী / ফজলুল হক তুহিন

    আমার সামনে দিয়ে বয়ে বয়ে যাচ্ছে কীর্তিনাশা; যেমন অনন্তকাল ধরে মানুষের রক্তে স্বপ্ন-আশা, তুমি কাশবনে আছ দাঁড়িয়ে, আমার পাশাপাশি; একদিকে নদী আর অন্য পাশে তুমি, মধ্যবর্তী আগন্তুক আমি শুনি দুজনের ভাষা। নদী আর নারী চিরকাল সভ্যতার সৃজনে চেতনে; আমরা মুগ্ধতা নিয়ে বের হই পৃথিবী ভ্রমণে, রোমাঞ্চিত, আনন্দিত, তৃপ্ত হয়ে ফিরি ঘরে, স্বাভাবিক জীবনযাপনে আবারো অভ্যস্ত…


  • তোমার সুঘ্রাণ / সায়ীদ আবুবকর

    হৃদয় ভরে আছে তোমার সুঘ্রাণে, কী হবে বলো আর ফুল দিয়ে; মিষ্টি মধুমতী বয়েছে দুই প্রাণে, কী হবে হেঁটে আর কূল দিয়ে! কী হবে চৈতালি চকোর পাখি দিয়ে যখন বুকে তুমি জুড়েছো গান; রেখেছো বুঁদ করে সজল আঁখি দিয়ে- কী হবে করে আর অমিয় পান! কিসের বসন্ত, কিসের মধুমাস যখন আছো তুমি বুক জুড়ে; মিথ্যে…


  • তবে চোখ বুজেছি / সাইফ আলি

    আমি ঘুমিয়ে গেলেই নাকি নামাও জোসনা উঠোন জুড়ে, তবে চোখ বুজেছি প্রিয় তুমি সাজাও আমার কুড়ে। আমি বলবো কথা ভেবে তুমি আড়াল খোঁজো যদি, জানি আকাশ-বাতাস বোঝো এবার একটু বোঝো নদী। আমি খাঁচার পাখি করে তোমায় রাখবো এমন ভয়? তবে চোখ বুজেছি নামো ভোলো মিথ্যে ও সংশয়।


  • শব্দ ছিলো জলের / সাইফ আলি

    শব্দ ছিলো জলের এবং গভীর তলের শব্দ ছিলো মিহি বাতাস চলাচলের। শব্দ ছিলো মেঘের বৃষ্টি ভেজা পাতার এবং কিছু কথা, কলম, খেরো-খাতার। হঠাৎ কিযে বিকট শব্দ; একি বোমার? সভ্যতা নও রানী; লজ্জা ঢাকো তোমার।


  • আপনারা আছেন বলেই / সাইফ আলি

    আসুন (এক টুকরো প্রশংসার রুটি ঝুলিয়ে দিয়ে) আপনারা আছেন বলেই… এই যে দেখুন, ভালো করে দেখুন এখানে; আপনাদের বদান্যতায় বেঁচে আছে কোনোমতে! (স্বপ্নেরা; মুমূর্ষু) দেশের মঙ্গল! ওটা নিয়ে আপনারা ভাবেন, আমাদের ছোটো মাথা- সেকি উঠলেন? চা না খেয়েই! (চারপায়ে) একটু দাঁড়ান; এর চেয়ে বেশি আর পারবো না। স্লামালেকুম স্যার (শুয়োরের বাচ্চা) আবার আসবেন।


  • শিশিরে আঁধার / সাইফ আলি

    শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে আলোরা মেতেছে ওপাড়ায়, মিছিল শিখেছে আপোষের সুর শ্লোগানে কাঁপেনা ধমনীর জমা খুন! নদীরা সরল, ঝরনা সরল এবং পাহাড় এখন কেমন অবকাশ প্রিয়, এখন কেমন আপোষের কারু বেয়াড়া ষাড়ের বাঁকানো সিঙেও! শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে কলমে ওঠাও সকালের তরজমা, মিছিলে জাগুক দ্রোহের কবিতা শ্লোগানে কাঁপুক ধমনীর জমা খুন।


  • পথ ভুল হলে / সাইফ আলি

    পথ ভুল হলে আশ্রিত হবো আকাশ পাড়ায় আমার আবার হারাবার ভয়! শুধু ভয় হয় তুমি না আবার মেঘ হয়ে যাও বৃষ্টির মতো উপঢৌকনে ভিজলে উঠোন ফেরানোর কোনো অযুহাত থাকবে না! ফুল খুটে খুটে অবসরটুকু পার হয়ে গেলে ব্যস্ততা হয়ে সামনে দাড়াও, তড়িঘড়ি আমি ফুল ফেলে দিয়ে ব্যস্ততা ছুঁই তখন তুমিই প্রিয় অবসর, ফুল হয়ে যাও;…


  • একান্ত বাক্যেরা-১৭ / সাইফ আলি

    অনেক আলোর রঙ মেখে আমি আঁধারে ধুয়েছি মুখ; অনেক দিনের গন্ধে আমার ভিজেছে জোনাক রাত- তুমি আঁধার হয়ো গো রানী- আমি রাজ্য বিছাবো পায়।


  • বসন্ত / সায়ীদ আবুবকর

    বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, পলাশ আনন্দে ভাসছে বন; কৃষ্ণচূড়াগাছে আগুন লাগা দেখে রাধার মতো নাচে পাখির মন। পাখিরা গান গায়, নদীর ঢেউ নাচে, ফুলেরা উল্লাসে ছড়ায় বাস; নতুন পল্লবে ভরেছে ডালপালা- পড়েছে তার প্রেমে বুনো বাতাস। বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, জোছনা তার ’পরে ছড়ায় রঙ; পড়েছে খসে সব জরা ও জীর্ণতা, শুকনো পাতা আর পুরনো…