• যাবনা তোমার সাথে, হে দেশজননী / আল মাহমুদ

    আমি আর যাবনা তোমার সাথে, হে আমার দেশজননী, আর না। কারণ তোমার যাত্রা উদ্দেশ্যবিহীন কিন্তু আমার কলম আমার নিশান হয়ে দুলে উঠে লিখছে, না না না। ও রক্তাম্বর পরিহিতা স্বৈরিণী স্বদেশ, তোমার দিগ্বলয়ে কেবল হা হুতাশ আর স্বজন হারানোর বিলাপ। তোমার স্তনাগ্রচূড়ায় মানবশিশুর জন্যে তিক্ত নিম মাখানো প্রত্যাখ্যানের কৃষ্ণবলয়। আমি আর না। ছেড়ে দাও আমার…


  • অদম্য চলার ইতিহাস / আল মাহমুদ

    যারা আমাকে এ অদম্য চলার পথে নিয়ে এসেছে তারা তো সবাই জানে আমার পা পাথর, দৃষ্টি শক্তি স্বপ্নের কুয়াশায় আচ্ছন্ন। তবু মানুষের মন বলে একটা কথা আছে। আছে না কি? হ্যাঁ, মন বলছে এখনও আমার দিগন্তে পৌছার খানিকটা পথ বাকি। মানুষের কান্না, শিশুর কলরব, নারীর হা-হুতাশ- আমি তো পার হয়ে এসেছি। কিন্তু কিছু মুখ আকাশের…


  • নব্যনেড়ে / সাইফ আলি

    :এমন কিছু বলুন জনাব খোরাক জোগায় ভাবার আবার অর্থ না হয় কোনো কক্খোনো। এমন কিছু বলুন যেটা বোঝার সাধ্য নেই কারো আরো উল্টোসিধা যেই কথাটা লাইনমাফিক নয়। এমনতর কথা দিয়েই জয় কবিতার জয়! কবিতাতো তাকেই বলে, পড়তে লাগে ভয়!! এমন কিছু লেখুন জনাব পিলিজ… ছন্দটন্দ ভুলুন ওসব পুরোন মেলা, ওসব রেখে আধুনিকের ছাঁচে আসুন এই…


  • তরুণ তাপস / কাজী নজরুল ইসলাম

    রাঙা পথের ভাঙন-ব্রতী অগ্রপথিক দল! নাম রে ধুলায়−বর্তমানের মর্তপানে চল।। ভবিষ্যতের স্বর্গ লাগি শূন্যে চেয়ে আছিস জাগি অতীতকালের রত্ন মাগি নামলি রসাতল। অন্ধ মাতাল! শূন্য পাতাল, হাতালি নিষ্ফল।। ভোল রে চির-পুরাতনের সনাতনের বোল। তরুণ তাপস! নতুন জগৎ সৃষ্টি করে তোল। আদিম যুগের পুথির বাণী আজও কি তুই চলবি মানি? কালের বুড়ো টানছে ঘানি তুই সে…


  • না–আসা দিনের কবির প্রতি / কাজী নজরুল ইসলাম

    জবা-কুসুম-সংকাশ রাঙা অরুণ রবি তোমরা উঠিছ; না-আসা দিনের তোমরা কবি। যে-রাঙা প্রভাত দেখিবার আশে আমরা জাগি তোমরা জাগিছ দলে দলে পাখি তারই-র লাগি। স্তব-গান গাই আমি তোমাদেরই আসার আশে, তোমরা উদিবে আমার রচিত নীল আকাশে। আমি রেখে যাই আমার নমস্কারের স্মৃতি – আমার বীণায় গাহিয়ো নতুন দিনের গীতি!


  • উৎসর্গ কবিতা (সকল প্রশংসা তাঁর) / আবদুল মান্নান সৈয়দ

    বহুদিন পরে দেখি: রাস্তা, গাছ, শহর ও ঘাস রৌদ্র-প্লাবিত দিনে জেগে ওঠে দীপ্ত কলস্বরে; তারকা-মুদ্রিত রাত্রি ঝুঁকে পড়ে মাথার উপরে, একটানা চলে গেছে দিগন্ত পর্যন্ত নীলাকাশ। এসব দৃশ্যেরও পারে দেখে চলে লুব্ধ দুটি চোখ: রাত্রির ভিতরে রাত্রি, দিনের ভিতরে অন্য বিভা, মাছের পোশাকে তারা, ফেরেশতার আলোর প্রতিভা: মুগ্ধ চক্ষে এসে পড়ে স্বপ্নে-দেখা স্বর্গের আলোক। কোথায়…


  • কেমনতর প্রেমিক তুমি / সাইফ আলি

    কেমনতর প্রেমিক তুমি পাতার বাঁশি বাজাও না স্বপ্নগুলো সুতোয় গেঁথে প্রিয়ার জন্য সাজাও না বাস্তবতার গুল্লি মেরে সাহস নিয়ে আগাও না; অনুভূতির শিকড়টাকে একটুখানি জাগাও না! খাম্বা তুমি, পাথর তুমি, স্বর্থটাকে খুব বোঝো; শকুন চোখে কেবল শুধু আমার চোখে প্রেম খোঁজো! নইলে সেদিন শপিংমলে হীরার ছোটো আংটিটা কিনতে গেলাম, বললে চেকের হয়নি আজো ভাংতি টা!…


  • এ কেমন দুলুনি? / আল মাহমুদ

    যখন কেউ বলে লেখো, আমার হাত কাঁপতে থাকে। বুঝতে পারি না এ কোনো অভিজ্ঞতার দুলুনি কি-না। তবে হলফ করে বলতে পারি এটা বয়সের ভারে কম্পমান অবস্থা নয়। অভিজ্ঞতা বলতে আমিতো বুঝি একটা যুদ্ধক্ষেত্র সামনে খোলারাখা চোখ, ট্রিগারে আঙুল তারপর শুধু ধাতব শব্দের একটানা ঝঙ্কার তবে কি সত্যিই আমার অভিজ্ঞতায় কেবল গুলির শব্দ? আমি ফিরে আসতে…


  • সেই নেই / আহসান হাবীব

    এখনো ভোরের রোদে সোনা ঝরে- কুড়িয়ে নেবার কিশোর ছেলেটি নেই। শীতের সকালে নিঃশেষ শিউলির ডাল, বোশেখে বকুল নাম ধ’রে ডাক দেয়; সাড়া নেই। যার নিজের খুশিতে রাত ভোর হতো কাক ভোরে তার এখন ভাঙে না ঘুম। সকালের সোনা অকারণে ছুঁয়ে ছেনে সাগরজোয়ার জাগাবার কেউ নেই, কেউ নেই তাকিয়ে দেখার চোখ মেলে। এখন ভোরের রোদে দুটি…


  • দাড়ি-বিলাপ / কাজী নজরুল ইসলাম

    হে আমার দাড়ি! একাদশ বর্ষ পরে গেলে আজি ছাড়ি আমারে কাঙাল করি, শূন্য করি বুক! শূন্য এ চোয়াল আজি শূন্য এ চিবুক! তোমার বিরহে বন্ধু, তোমার প্রেয়সী ঝুরিছে শ্যামলী গুম্ফ ওষ্ঠকূলে বসি! কপোল কপাল ঠুকি করে হাহাকার – ‘রে কপটি, রে সেফটি (safety) গিলেট রেজার!’…. একে একে মনে পড়ে অতীতের কথা – তখনও ফোটেনি মুখে…


  • রোদনের উৎস / আল মাহমুদ

    আমার জন্যে যাদের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না, ভাবত অকাজের কাজী লোকটা আল্লা মালুম কোথায় হুমড়ি খেয়ে মরবে। কথা শোনে না, সাহায্যের হাত বাড়ালেও ধরে না; একাকী শূন্যে হাতড়ে বেরিয়ে যায়। মনে হয় যেনো বাতাসের পালক শক্ত করে ধরে আছে। অথচ দেখ, এই শহরে কত খানাখন্দ! ম্যানহোলের ঢাকনাহীন পথের প্রতিটি বাঁকেমৃত্যু হা করে আছে! কে তাকে…


  • ‘হক নাম ভরসা’ / আহসান হাবীব

    আদাব সালাম অন্তে সমাচার এই যে, হুজুর কাল ফজরের অনেক আগেই তামাম মুরুব্বীদের দোয়ার বরকতে সহি-সালামতে এসে নিজের বাটিতে পৌছেচি। এখন সে কারণ পত্রযোগে শতকোটি সালাম নিবেন আর সবিশেষ সংবাদাদি পত্রে জানিবেন। যখন জাহাজঘাটে নেমেছি, তখন নিশিরাত্রি। মন কিছুটা ঘাবড়ালো, তবু মালেকের নাম নিয়ে যখন মাঠের মাঝে এসে নামলাম দেখলাম আজব ব্যাপার, বেশুমার বাতি আসমানের…


  • যদি চাও / সাইফ আলি

    যদি চাও, বৃষ্টিতে ধুয়ে নিতে পারো চোখ- কথা হোক ভারাক্রান্ত মেঘেদের সাথে কিছুক্ষণ; তারপর ফের আমাদের ছোটো ছোটো কথাগুলো নরম মাটিতে রুয়ে খেলা শেষ। যদি চাও, ঠান্ডা বাতাস মেখে কৃত্রিম শীতে নিজেকে কুকড়ে নিয়ে আশ্রিত হতে পারো পাঁজরের উষ্ণতায়। হবে?


  • পৃথিবী মানুষ এবং তারা / ফজলুল হক তুহিন

    পৃথিবী যখন ঘুমে প্রশান্তি প্রশান্তি ঘুমে ঘুমে নীল মানুষ যখন স্বপ্নে সবুজ সবুজ স্বপ্নে স্বপ্নে অমলিন তখন তাদের চোখ রক্তেআঁকা চোখ জ্বলে ওঠে দাউদাউ শিশুদের হৃদয়ে হৃদয়ে তারা ভয়ের আওয়াজ তোলে: হাউমাউ! হাউমাউ! মানুষেরা যখন গভীর আস্থায় বিশ্বাসে পরস্পর গড়ে তোলে ব্রীজ তখন তাদের মন যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে রক্তের সিরিজ চালু করে মানুষের সভ্যতায়।…


  • অন্ধ স্বদেশ-দেবতা / কাজী নজরুল ইসলাম

    অন্ধ স্বদেশ-দেবতা ফাঁসির রশ্মি ধরি আসিছে অন্ধ স্বদেশ-দেবতা, পলে পলে অনুসরি মৃত্যু-গহন-যাত্রীদলের লাল পদাঙ্ক-রেখা। যুগযুগান্ত-নির্জিত-ভালে নীল কলঙ্ক-লেখা! নীরন্ধ্র মেঘে অন্ধ আকাশ, অন্ধ তিমির রাতি, কুহেলি-অন্ধ দিগন্তিকার হস্তে নিভেছে বাতি, − চলে পথহারা অন্ধ দেবতা ধীরে ধীরে এরই মাঝে, সেই পথে ফেলে চরণ – যে পথে কঙ্কাল পায়ে বাজে! নির্যাতনের যে যষ্টি দিয়া শত্রু আঘাত হানে…


  • এই পতাকার সূর্য সাক্ষী / আল মাহমুদ

    দ্যাখো আজ পতাকা দেখারই দিন। কলরব করে ওঠো, উচ্চারণ কর মুক্তির ভাষা। আমিও তোমাদের সাথে দেখতে থাকি। তোমাদের সাথে আমার অপরিচ্ছন্ন দৃষ্টির অশ্রুসজল চোখ দু’টি মেলে দাঁড়িয়ে থাকি। কী লাল, সবুজ পতাকার মধ্যে গোল হয়ে বসে আছে, মনে হয় যেন পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের রক্তের লোহিত কণায় অঙ্কিত হয়েছে এ সূর্য। আমার ভেতরে কলরব করে ওঠে…


  • চরিতাখ্যান : নববর্ষ / আহসান হাবীব

    মৃত্যুর মতন তার সারা দেহ শীতল এবং কুৎসিত কর্কশ তার নগ্ন হাত মুখে তার মরিচিকা-রঙ কোনো এক মায়াবিনী নারীর মুখের, বুকে তার মরুতৃষ্ণা। আর সেই তৃষ্ণার আগুন বারবার হেমন্তের হেমলতা বসন্তের নিবিড় বিথার গ্রাস করে। টলোমলো শিশিরের স্নান পাখিদের কলকণ্ঠ জীবনের যৌবনের গান সে আগুনে আর সেই মরীচিকা রঙের সে-মুখে নির্বোধ কৌতুকে খেলা করে। কবে…


  • দাঁড়াও, পথিকবর, জন্ম যদি বঙ্গে / সায়ীদ আবুবকর

    দাঁড়াও, পথিকবর, জন্ম যদি বঙ্গে; দু’দণ্ড দাঁড়াও স্থির এ সমাধিস্থলে- যেভাবে দাঁড়ায় বৃক্ষ মৃত্তিকার সঙ্গে; মানুষ কি বাঁচে, হায়, শূন্যে কিংবা জলে! যে-আকাশে থাক পাখি, ফিরে আসে নীড়ে; কিন্তু সেই পাখি শ্রেষ্ঠ, যে-পাখি ছড়ায় স্বদেশের গান মহা মানুষের ভিড়ে- সারা দেশ নুয়ে পড়ে তার পদ্মপায়! পিতা নূর মহম্মদ আর মা আমেনা, সায়ীদ আবুবকর বঙ্গজের নাম…


  • দুঃস্বপ্নের কাকফেরি / ফজলুল হক তুহিন

    ভাবতেই পারিনি আমরা সকালের সুবাতাস এভাবে শোকের বিষে নষ্ট হবে আজ। পাখিদের আর্তনাদে, বিলাপে বিদীর্ণ হবে নিজের নিশ্বাস! কেউ কী জানতো কখনও পাখির কান্নার ভারে ভেঙে পড়বে মায়ের বুক। প্রথম যেদিন নীড় বুননের খড়কুটো নিয়ে ছায়ার উঠোনে, পাতাবাহারের সবুজ আড়ালে দুটো বুলবুলি এসে আশ্রয়ের নিচ্ছিল প্রস্তুতি; সেদিন মা বললেন, দেখ্ দেখ্ পাখি দুটো বাসা বানাচ্ছে,…


  • অগ্রহায়ণ / আল মাহমুদ

    আমি এই মধ্য অগ্রহায়ণের আকাশে মেঘের গম্বুজ ভেঙ্গে পড়তে দেখেছি কেউ তো আমার মতো অকাজের কারিগর নয় যে মাটির উপর বিছানো মানবিক শত সমস্যা মেলে রেখে আকাশের দিকে তাকাবে? ও অগ্রহায়ণের আকাশ ঝরাও বৃষ্টি, এখন ঘরে ঘরে নবান্ন চলছে মাঠগুলোতে উদগমের কাজ অবসন্ন কিন্তু আমার এখন বৃষ্টি দরকার উদ্ভেদ ও উদগম দরকার। যে নারী আমাকে…