-
এবার পাহাড়ে গেলে / সাইফ আলি
এবার পাহাড়ে গেলে মেঘগুলো ছুয়ে দেবো শাদা শাদা মেঘেরা কি আনমনে হয়ে যাবে নীল; আকাশের গায়ে যাবে মিশে হঠাৎ নিমিষে…? এবার পাহাড়ে গেলে ঝরনায় ধুয়ে নেবো ব্যথার চাদর ঝরনা কি থেমে যাবে তাতে; নাকি ফের ছুটে যাবে সমতলে রোদ্দুরে নিজেকে পোঁড়াতে…? এবার পাহাড়ে গেলে পাহাড়ের মতো করে নিজেকে সাজাবো…
-
কালকে ভোরবেলা পৃথিবী বদলালে / সাইফ আলি
কালকে ভোরবেলা পৃথিবী বদলালে তোমাকে দেখব কি? মনের প্রশ্নটা মনেই চেপে রেখে দুচোখ বুজলাম তোমাকে খুঁজলাম… তুমিতো আসলেনা আলতো উঁকি দিয়ে জোছনা চাঁদ হয়ে; তবে কি সারারাত এভাবে কেটে যাবে এ অবসাদ বয়ে! বর্ষা কেটে গেছে বৃষ্টি নামবে না তবু এ মেঘেদের ঝগড়া থামবে না দমকা বাতাসেরা ওড়ায় কার চুল মনের জনোলার কাঁপছে পর্দাটা না…
-
শেষ পাতা থেকে শুরু / সাইফ আলি
আগুনে পুড়েছে উপসংহার সূচনাতে কিছু সংশোধনের বড়ো প্রয়োজন উপন্যাসটা লেখা হয়ে গেছে শেষ পাতা শুধু বাকী। শেষ পাতা শেষ আগুনে পুড়েছে মাঝ থেকে কিছু পাতা না না সব ঠিক সাজানো গোছানো সূচনাতে কিছু ভুল। অক্ষরে নয় শব্দেও নয় সূচনাতে তবু ভুল দাড়ি কমা সব ঠিকঠাক আছে ভুল নেই এক চুল; তবু ডায়রির শেষ পাতাটাতে লেখা-…
-
সেই ঘর / সাইফ আলি
শিউলি কুড়ানো পথটার বাঁকে সেই ঘর একা একা আজো চেয়ে থাকে। মেঘ কবে যে বৃষ্টি এনে তুলেছিলো নুপুরের সুর রোদেলা দুপুর ধুয়েছিলো আলোর শরীর সন্ধ্যাবেলা আধো-আলো আধো-অন্ধকার খেলেছিলো প্রণয় আদীম অতঃপর একফালি চাঁদ জানালায় রেখেছিলো মাথা সেই ঘর – শুধু সেই ঘর আজো একা চেয়ে চেয়ে থাকে হয়তো আমার মতো খুব নিরবেই স্মৃতির পায়রাদের ডাকে…
-
সবকিছু হারিয়ে যায় / সাইফ আলি
সবকিছু হারিয়ে যায় হারায় না স্মৃতির পাখিরা রাত্রি নেমে এলে পথ চিনে ঠিক ফিরে আসে ফিরে আসে গুপ্ত কোনো চোখে ফিরে আসে ঘুমের বালিশে। মশারির ছেঁড়া ফাঁটা বাকা হাসি হাসে পুরোনো ফ্যানের নাট সঙ্গীনি খাট দরজার ঘুনে খাওয়া চৌকাঠ অন্ধকারে জেগে ওঠে সবাই এমন কি ফ্রেমে বাধা তোমার ছবিটা সেও যেনো আড়ে আড়ে চায় ধরতে…
-
ময়না তদন্ত / সাইফ আলি
ময়না তদন্ত শেষে ডাক্তার জানালো – আঘাতের আলামত মেলেনি। ডাক্তার সাহেব বুকের কতটা গভীরে গেলে দেখতে পাও হৃদয়ের ক্ষত; ততটা গভীরে রাখো হাত খুঁজে পাবে কঠিন আঘাত। জানি, বুক চিরে উদোম কলিজাটা তোমাকে দিলেও আলামত মিলবে না কোনো।
-
কবি পালায় / সাইফ আলি
কবিতা আগে না কলম ছুঁয়েছে ডায়রির পাতা মুখে মুখে চলে তর্ক ভিষন কবি পালায়- পাখি ছিলো নীড়ে নীড়ভোলা পাখি উড়বে আকাশে মেঘ বলে আয় নীল সীমানায় গাছ বলে ডালে থাক কবি বলে পাখি পাখনা মেলেছে বাতাসের বুকে; যাক- ডাল-মেঘ ঘুরে নীড় ভোলা পাখি ফিরবে নীড়েই পাখি যদি হয় কবিতার রূপ মন নীড় পোঁড়ে জ্বালায় কবিতা-কলম-ডায়রিটা…
-
যতোদিন হৃদস্পন্দন থাকে / সাইফ আলি
এই সবুজ পাহাড়ের বুকে শীতল নির্জনতায় তুমি যেই সুর তুলে বয়ে যাও তা যদি আমার সঞ্চিত শব্দভান্ডারের কোনো একটি শব্দে প্রকাশ করতে পারতাম…. পৃথিবীর সমস্ত অভিধান ঘেটে এমন একটি শব্দও পেলাম না খুঁজে- অদ্ভুত কাঁপন সে শব্দে কান পেতে শুনলে যেমন হৃৎপিন্ড খেলা করে বুকের ভিতর ঠিক তেমনই তুমি যেনো পাহাড়ের হৃৎপিন্ড হয়ে বয়ে যাও…
-
আমার কেবল এইটুকু সাধ জাগে / সাইফ আলি
কেউ হতে চায় পাহাড়-নদী-ফুল-পাখি-গাছ-ঝরনা কেউ দিতে চায় মেঘের দেশে পাড়ি কেউ বা সাহেব পয়সাওয়ালা কারোর বাড়ি গাড়ি- কেউ আকাশের নীল হতে চায় ধুসর ডানা চিল হতে চায় কেউ বা রাতের চাঁদ কেউ বা তারা; উল্কা হয়ে ছোটার বড়ো সাধ। কেউ বা গভীর নীল সাগরের খুব অজানায় চায় হারাতে কেউ শিশিরের শুভ্র বুকের আলোর কাঁপন খুব…
-
সেদিন ভোরের বেলা / সাইফ আলি
ধোঁয়া কুয়াশায় ঘিরে আছে চারপাশ দেখা না দেখায় রাস্তা গিয়েছে মিশে ঘাসে শিশিরের বিন্দু জমেছে মেলা সেদিন ভোরের বেলা। হঠাৎ সূর্য শিশিরে জ্বাললো আলো পাতা ধুয়ে কিছু শিশির পড়লো ঝরে পথ ফিসফিসে আমাকে বললো ডেকে কিছুক্ষণ আগে তুমি গিয়েছিলে এই সরু পথ ধরে। তোমাকে খুঁজতে এগিয়ে গেলাম শুভ্র শিউলিতলা এলোমেলো ফুল ঝরেছে অনেক তবু আচল…
-
তুমি কেনো এতো বেশি / সাইফ আলি
তুমি কেনো এতো বেশি কোমল হতে গেলে লজ্জাবতি পাতার মতো এতো বেশি লাজুক হাত ছোঁয়ালেই পাখির পালক পড়বে খসে খসে বাইরে যতই উল্টোফিতে বাজুক। পায়রা শরীর শুভ্র মেঘের দেশে একটু আগেই ভাসিয়ে যেনো এলে আমার বড্ড হাত দিতে হয় ভয় হঠাৎ যদি বরফ গলে গেলে- চোখটা তোমার স্বচ্ছ বড়ো বেশি এক নিমিষেই ইচ্ছে দিতে ডুব…
-
চুপি চুপি কিছু কথা হয়ে যাক বলা / সাইফ আলি
চুপি চুপি কিছু কথা হয়ে যাক বলা নিরবে কিছুটা পথ হয়ে যাক চলা হাত খাক হাতে বাড়ি দুটি মন আড়াআড়ি শুনুক কিছুটা হৃদয় কাঁপন শিহরণ দুরুদুরু কিছু কথা হোক খুব নির্জনে শুরু। পথ ও পাতায় ঝরা কবিতায় জাগুক কিছুটা ছন্দ আজ; নির্বাক কিছু ভালোবাসা শুধু বাতিল মুখের কুচকাওয়াজ।
-
কিছু জানালার পর্দা কাঁপে না / সাইফ আলি
কিছু জানালার পর্দা কাঁপে না সূর্য রাখে না চোখ কিছু জানালারা দেয়ালেই যায় মিশে কিছু জানালার অকাল মৃত্যু লেখা থাকে কার্নিশে। পর্দা ওড়াও বাতাস এসো হে জানালায় জানালায় কিছু রোদ কিছু ভালোবাসা দাও ছোঁয়া অবসর কিছু চৌকাঠ থেকে পাল্লা গিয়েছে খোয়া। যাক খোয়া যাক সব পাল্লারা পর্দা নাচুক খুব, আলো-ছায়াময় সব জানালায় ভালোবাসা দিক ডুব।
-
ভালো থেকো তুমি / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) এই নির্জনে ফুটে আছো তুমি সুন্দরী বুনো ফুল যদি পারতাম তোমাকে নিতাম দু’হাত ভরে কিন্তু তুমি যে সংসারী বড়ো পাহাড়ের মেয়ে না পেলাম আজ এই হাঁটা পথে আপন করে মনে বেধো প্রিয়া ঘর, লেনাদেনা নেই তবু রাখো এই খন্ডিত অন্তর। ভালো থেকো তুমি কঠিন কোমল রাজে ভালো থেকো এই পাহাড়-মেঘের ভাঁজে…
-
দেখলাম তুমি কতো কঠিন সুন্দর… / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) যেখানে পাহাড় সবুজ মেঘ তুলো তুলো আকাশের নীলে মিলেমিশে একাকার হয় সেখানে আমিও অবুঝ… পায়ে হাটা পথটার দুই ধার ঘিরে অজানা বনের ফুলগুলো আমাকে জানায় স্বাগতম। আসলাম হে পাহাড় তোমাকে দেখবো বলে দেখলাম তুমি কতো কঠিন সুন্দর…
-
শুধু মনে হবে তোমাকেও ছুঁয়েছি… / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) মেঘে মেঘে কিছু কবিতা লেখার দিন পাহাড়ে পাহাড়ে অজানা হাজার পথে মনে মনে কিছু মুগ্ধ হওয়ার দিন। বৃক্ষ পাতার বাতাস কাঁপানো কথা ঝর্ণা শীতল অস্থির নিরবতা, মহা নির্জনে ওগো দিগন্ত শোনো- তুমি কি আমার পায়ের আওয়াজ পাও? তুমি কি আমাকে দেখো? জানিনা কখোনো জানবো না তুমি কি শুধু মনে হবে তোমাকেও ছুঁয়েছি…
-
তোমার হাতে কি চাবি… / সাইফ আলি
দোচালা টিনের ঘর এক কোণে দুই চড়ুয়ের সংসার তোমার গেরুয়া চোখের উঠোনে চেয়ে এ ছিলো আমার প্রথম আবিষ্কার। বহুদিন হলো চড়ুই গিয়েছে চলে বৃষ্টি বোঝেনা টিনের চালের স্বাদ ঘরে তুমি খুব নিতান্ত জড়োসড়ো দরজাতে আমি পূর্ণ দ্বিধায় ভাবি- তোমার হাতে কি চাবি?
-
প্রজাপতি ছিলো ধুসর পান্ডুলিপি / সাইফ আলি
প্রজাপতি ছিলো ধুসর পান্ডুলিপি ফুলে ছিলো কিছু পাপড়ি ঝরার ব্যথা যে ডালে দু’জন এক হয়েছিলো সেই ডাল ছিলে তুমি- আর আমি, আমিতো ছানার নতুন ডানার প্রথম হারানো পালক কৈশর ছোঁয়া বালক। পা ছিলো মাটিতে হাত ছোয় ছোয় তোমার শরীর পারি না বাইতে গাছ ; না দিলে ফুলটা প্রজাপতি গেলো উড়ে সারাটা দুপুর ভরা রোদ্দুরে পুড়ে…
-
উদ্যানে বহুদিন পর / সাইফ আলি
ইটপাড়া রাস্তাটা ধোয়ার অন্ধকারে ঢাকা পাশে কিছু পাতাঝরা গাছ সারি সারি পথচারি হেটে যায় বরাবর হয়তো কখনো কেউ রেখেছিলো এইসব এলোমেলো দৃশ্যের খবরাখবর। উদ্যানে বহুদিন পর আমি আজ শীতের সকালে হলুদ পাতার ফাঁটা খসখসে গালে খুঁজে ফিরি তাকে। যদি পাই বুকের মোড়কে মুড়ে আবার নতুন কিছু কবিতা বানাই।
-
আলোতে কি মিলেছিলো সব / সাইফ আলি
আলোতে কি মিলেছিলো সব যদি তাই হবে চোখ বুজে ভাবো কেনো খোঁজো কারে স্বপ্নের উৎসবে। আলোতে মেলে না সব সুর সব গান পায়না জীবন অন্ধকার ভীড় করে এলে কিছু কথা মিলবে তখন। অভিমানী চাঁদটাকে দেখো তারাদের রাতের বাজার অন্ধকারে জোনাক পরীরা মেতে ওঠে হাজারে হাজার। সব কথা প্রকাশিত নয় কিছু কথা রাতটার মতো চুপিসারে বুঝে…