• অনুকবিতা ২৯ / সাইফ আলি

    যেই ছেলেটা বোতাম খুলে বাতাস লাগায় বুকেতার বুকে হোক ফুল ফসলের চাষ,আর যে ছেলে বোতাম এঁটে ঘুমায় বারোমাসবোতাম খোলার মন্ত্র শেখাও তাকে। ২২.০২.২০


  • টুপ টাপ ঝোল / সাইফ আলি

    তুলতুলে গালঠোঁট লাল লালছোটো ছোটো হাতদুই জোড়া দাঁতভাঙা ভাঙা বোলটুপ টাপ ঝোল! ঝোল খেতে গোল হয়েবসে পিঁপড়া,ছোটো সোনামণিটারছোটো ছোটো পা। ২২.০২.২০


  • অনুকবিতা ২৮ / সাইফ আলি

    তুমি আমি হাঁটি বরাবর দুইদিকেভূ-গোল তত্ত্বে মুখোমুখি এসে দাঁড়াবোইরেষারেষি ভুলে ভালোবেসে হাত বাড়াবোই।অথচ ভূ-গোল বিচ্ছেদে বড় পটু,তোমার জন্য সমুদ্র ডেকে এনেআমাকে করলো পাহাড়ের মুখোমুখি! ২২.০২.২০


  • ভাল্লাগে তাই / সাইফ আলি

    হাসতে আমার ভাল্লাগে তাই হাসি,হাসলে সকাল শিশির দানায়ছড়িয়ে পড়ে মুক্তো রাশি রাশি। ছুটতে আমার ভাল্লাগে তাই ছুটি,ছুটলে ভ্রমর গুনগুনিয়েমিষ্টি সুরে গান শুনিয়ে;ফুলকলিরা হেসে হেসে খায় যে লুটোপুটি। বাসতে ভালো ভাল্লাগে তাই বাসিপণ করি এই, ভালোবেসেই থাকবো পাশাপাশি। ০৩.০২.২০কিশোর পাতা মে ২০২০ এ প্রকাশিত


  • অনুকবিতা ২৭ / সাইফ আলি

    কি যে কামাই ক্যান যে কামাইআমালনামায় হচ্ছে জড়ো কি যে;সবার হিসেব ঠোঁটের ডগায়!নিজের খবর রাখছি না কেউ নিজে।জিভের তেজে থাকছে না হুশনিজের ছ্যাপে যাচ্ছি নিজেই ভিজে। ২৮.০১.২০


  • যেখানে থাকো তুমি / সাইফ আলি

    আমার কথাগুলো তোমার কানে কানে পৌছে দেবে পাখি,যেখানে থাকো তুমি আড়ালে যতোদূরেথাকুক ফুলে ফুলে তোমার মাখামাখি। যেদিন নদীতীরে কেবল সারি সারি যন্ত্র দানবেরা রবেহাওয়ার বুক ভরে উঠবে বিষ-শ্বাসে; সেদিনও এই কথা হবে-কুশুমে থাকো তুমি,দু’ঠোটে হাসি থাক লেগে;তোমার গানে গানে উঠুক পৃথিবীটা জেগে। ২৭.০১.২০


  • অনুকবিতা ২৬ / সাইফ আলি

    হয়তো বা এই শহরেই তার বসবাসসে ছিলো যে কার জানতো না তার আশপাশছিটেফোটা প্রেম না লেখা গল্পে মজে তারকাটতো সময়, খুব ছোটোখাটো আবদারশুনতো না কেউ দেয়ালে দেয়ালে বাজতো;পূর্ণিমা রাতে একা একা তবু সাজতো। ২৬.০১.২০


  • স্বদেশ আমার তোমাকে বলছি / সাইফ আলি

    নির্ঘুম রাত কেটেছে আমারকরবো না এই দাবি,হাজার ভাবনা ঠেলে মাঝে মাঝেতোমাকে নিয়েও ভাবি। তোমার জন্য প্রাণ দিয়ে দিতেচাচ্ছে না আজো মন,তোমার আমার সম্পর্কটাআরো বোঝা প্রয়োজন। স্বদেশ আমার তুমি যদি হওমায়ের মতোই তবে,তোমার মমতা সন্ত্বান ভেদেএতটা তফাৎ হবে!? ডাকাতের দল ভাগ করে খেয়েবলছে ঢেকুর তুলে,তোমারই শ্রেষ্ঠ সন্ত্বান তারাআমরা যাচ্ছি ভুলে। তোমার জন্য রাত দিন খাটেকৃষক শ্রমিক…


  • আমরা দেখিনি আমাদের মুখ / সাইফ আলি

    ভুলে ভরা এই শরাবের সাথেমিলিয়ে গুলিয়ে পান করি যাইতাই ঘুরে ফিরে খিচুরি বানাইতাই বেঁচে খাইখেয়ে মরে যাই।খেয়ে মরে যায় বুদ্ধিজীবীরাশহরের কাক গাঁয়ের শকুনপরজীবী ছারপোকা ও উকুন।তবু তারা খায়আমরাও খাইএকসাথে খাইখাই ও খাওয়াইমজা করে খাইবমি করে খাইজোরে জোরে খাইচেটেপুটে খাইখুটে খুটে খাইচুষে চুষে খাইপেলে-পুষে খাইখেয়ে খেয়ে শেষে গল্প বানাইআমরা যা গাই, ভিন্ন সে গানভিন্ন আজান!আসলে কি…


  • কোলাহল থেমে গেলে / সাইফ আলি

    কোলাহল থেমে গেলে নেমে এলে স্নায়ুর দহনফিরে এসো, যতবার খুশি; তোমারই তো ঘর।একসাথে হাত ধুয়ে খেতে বসে যদি দেখো নেইভেবো আড়ালেইলুকিয়েছে মজা করে প্রিয় গুপ্তচর!আর যদি নাই পাও, ভুলে যাও, ভাবো সেও পরহয়তো আপন ছিলো, থাকে অনেকেইযারা আজ সত্যি কেউ খুঁজে দেখো ধারেকাছে নেই। ২৬.১১.১৯


  • চলো মৃত্যুবরণ করি / সাইফ আলি

    : অপলক চেয়ে থাকা মানে মুগ্ধতা নয়; মৃত্যু।প্রিয়তমা, যখন আমি তোমার দিকে তাকাইআমারও মৃত্যু ঘটে; তুমি তা বোঝো না।মুগ্ধতা খোঁজো তুমি, মৃত্যু খোঁজো না। : হেয়ালি ছাড়ো তো, মৃত্যু এতো সহজ বিষয় না,এভাবে যখন তখন মুখে আনবে না। : কেনো তুমিও তো প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বলো-‘হে আল্লাহ! আপনারই নামে মৃত্যু বরণ করিআবার আপনারই নামে জীবন…


  • অনুকবিতা ২৫ / সাইফ আলি

    একজীবনের পান্ডুলিপি থেকেএকটা এমন কাব্য খুঁজে দেখো,হাত ধরে যে আলোর পথে ডাকেনা পাও যদি সময় করে লেখো। ১৮.০৯.১৯


  • আমাদের একটা মঞ্জিল ছিলো / সাইফ আলি

    মনে পড়ে? যখন হাত ধরাধরি করে হেঁটেছিলামতখন আমাদের একটা মঞ্জিল ছিলোতারপর একদিন আমাদের পথ বেঁকে গেলোআমি বললাম, এই পথ সঠিক-তুমি বললে, ঐটা; মঞ্জিল কিন্ত তখনও একটাই।তারপর আমরা ভিন্ন ভিন্ন পথে এগিয়ে যেতে থাকলাম,হতে পারে আমাদের মধ্যে একজন ভুলতবু আমরা পরস্পরকে ভালোবাসি।হতে পারে দুটো পথই আমাদেরকে মঞ্জিলে পৌছে দেবেতখনও আমরা পরস্পরকে ভালোবাসবো।আর যদি আমরা উভয়ই পথ…


  • আমরা যারা চুপ থাকার জন্য ঘুমিয়ে পড়লাম / সাইফ আলি

    আমরা যারা চুপ থাকার জন্য ঘুমিয়ে পড়লামতারা জেগে উঠে আর কাউকেই পেলাম নাডান কিংবা বামপক্ষের কেউই সেখানে ছিলো নাআমরা ভাবলাম, তারা হইতো লড়াই করতে করতে নিঃশেষ হয়ে গেছেতাদের জন্য আফসোস করতে করতে গর্ত থেকে বের হলামতারপর যখন নিজেদেরকে বুদ্ধিমান বলে ভাবতে শুরু করলাম তখনই খেয়াল হলো, আমাদের পায়ের কাছে কোনো সবুজ নেই, আমাদের মাথার উপরে…


  • এই তুমি সেই তুমি নও / সাইফ আলি

    হয়তো আমারই ভুলমাপতে পারিনি গভীরতাকিন্তু তোমার হাতে লেগে থাকা রক্তের দাগআমাকে ভাবিয়ে তোলে, ভাবতে গিয়েতোমাকে চিনছি আমি নতুন করে। তোমার বাক্যগুলো জালিমের তৃষ্ণা মিটায়তোমার চেহারা থেকে মুছে গেছে নূরের আভাস।তুমি কি এখনো রাতে সেজদায় অবনত হও?এ মন কেনো যে বলে, এই তুমি সেই তুমি নও। ১৪.০৯.১৯ডাকটিকিট, অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২১


  • বা’ পুরুষ / সাইফ আলি

    বা’ পুরুষ বা’ পুরুষ বা’ পুরুষমোটাদাগে তুমি এক কাপুরুষ।হাত পেতে টাকা চাওপাও না কি মাইনে?স্বরটাকে তুলে বলোকালোটা কামাইনে!!ভালোবেসে দিয়ে যায়যদিও তা চাইনে!?জানো না কি কষ্টআমগো এ লাইনে!?পুষবো কেমন করেবউ পোলাপাইনে?কোনোমতে সংসার চলে বায়ে ডাইনে!?বা’ পুরুষ বা’ পুরুষ বা’ পুরুষমোটাদাগে তুমি এক কাপুরুষ। বউরে চালাও তুমিশশুর তোমারে দেয়চাওনা তো একবারোতবু বারে বারে দেয়!?এতো কিছু দেয় তবুদড়ি…


  • বিপত্তি / সাইফ আলি

    বিপত্তি ঘটে যায় ঘাড়টাকে বাঁকালেইচোখ তুলে তাকালেইতর্জনি ঝাকালেইতাইসোজাপথে হেঁটে যানকাদাকুদো ঘেটে যানচেটে যানআর কোনো প্রবলেম নাই। বিপত্তি ঘটে যায়বাজে কথা রটে যায়লোকে শুধু চটে যায়জোটে ঘাঁই চান্দির উপরেসূর্যের পানে যেনো সুজাসুজি তাকিয়েছিকাঠফাঁটা রৌদ্রের দুপরে।তাইসোজাপথে হেঁটে যানকাদাকুদো ঘেটে যানচেটে যানতাহলেই প্রবলেম নাই। ১৩.০৯.১৯


  • যাক কুমিরের পেটে / সাইফ আলি

    এই ছবিটা কেমন যেনো নড়েনিজের কথা পড়ায় এবং পড়েএই ছবিটা উল্টিয়ে হও বোবা। এই মাথাটা কেমন যেনো ভাবেহয়তো এবার পদক-টদক পাবেএই মাথাটা সাজিয়ে রাখো কেটে। এই যে দু’হাত ভীষণ রকম জেদিএবং দু’চোখ নিখুঁত পাঁজরভেদীসরিয়ে রাখো, যাক কুমিরের পেটে। ১২.০৯.১৯ডাকটিকিট, অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২১


  • ফিরে যায় পাখি একা / সাইফ আলি

    ফিরে যায় পাখি একাপর্দা বাতাসে দোলেমিশে যায় তার ডানার শব্দ দূরে;হৃদয়ের কল্লোলেতবু তার গান সে কি এক মিহি সুরেবেজে বেজে ওঠে, বার বার বেজে ওঠে;দেখেছিলে সেকি গভীর নীলের ফোয়ারা ছিলো সে ঠোঁটে! ০৫.০৯.১৯


  • তোমার কিসে বাঁধা / সাইফ আলি

    একটা ভীষণ সম্ভাবনার হাওয়ামেঘ উড়িয়ে নিচ্ছে ডানে বামে,তবুও তুমি একলা কাটাও বেলাঘুমিয়ে পড়ো স্বপ্ন দেখার নামে। হলুদ পাতার নৌকা সারি সারিযাচ্ছে ভেসে সাগর অভিমুখেবলতে পারো তোমার কিসে বাঁধাকোন সে মরণ তোমায় দিলো রুখে? ২০.০৮.১৯