-
আপনারা আছেন বলেই / সাইফ আলি
আসুন (এক টুকরো প্রশংসার রুটি ঝুলিয়ে দিয়ে) আপনারা আছেন বলেই… এই যে দেখুন, ভালো করে দেখুন এখানে; আপনাদের বদান্যতায় বেঁচে আছে কোনোমতে! (স্বপ্নেরা; মুমূর্ষু) দেশের মঙ্গল! ওটা নিয়ে আপনারা ভাবেন, আমাদের ছোটো মাথা- সেকি উঠলেন? চা না খেয়েই! (চারপায়ে) একটু দাঁড়ান; এর চেয়ে বেশি আর পারবো না। স্লামালেকুম স্যার (শুয়োরের বাচ্চা) আবার আসবেন।
-
শিশিরে আঁধার / সাইফ আলি
শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে আলোরা মেতেছে ওপাড়ায়, মিছিল শিখেছে আপোষের সুর শ্লোগানে কাঁপেনা ধমনীর জমা খুন! নদীরা সরল, ঝরনা সরল এবং পাহাড় এখন কেমন অবকাশ প্রিয়, এখন কেমন আপোষের কারু বেয়াড়া ষাড়ের বাঁকানো সিঙেও! শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে কলমে ওঠাও সকালের তরজমা, মিছিলে জাগুক দ্রোহের কবিতা শ্লোগানে কাঁপুক ধমনীর জমা খুন।
-
পথ ভুল হলে / সাইফ আলি
পথ ভুল হলে আশ্রিত হবো আকাশ পাড়ায় আমার আবার হারাবার ভয়! শুধু ভয় হয় তুমি না আবার মেঘ হয়ে যাও বৃষ্টির মতো উপঢৌকনে ভিজলে উঠোন ফেরানোর কোনো অযুহাত থাকবে না! ফুল খুটে খুটে অবসরটুকু পার হয়ে গেলে ব্যস্ততা হয়ে সামনে দাড়াও, তড়িঘড়ি আমি ফুল ফেলে দিয়ে ব্যস্ততা ছুঁই তখন তুমিই প্রিয় অবসর, ফুল হয়ে যাও;…
-
একান্ত বাক্যেরা-১৭ / সাইফ আলি
অনেক আলোর রঙ মেখে আমি আঁধারে ধুয়েছি মুখ; অনেক দিনের গন্ধে আমার ভিজেছে জোনাক রাত- তুমি আঁধার হয়ো গো রানী- আমি রাজ্য বিছাবো পায়।
-
বসন্ত / সায়ীদ আবুবকর
বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, পলাশ আনন্দে ভাসছে বন; কৃষ্ণচূড়াগাছে আগুন লাগা দেখে রাধার মতো নাচে পাখির মন। পাখিরা গান গায়, নদীর ঢেউ নাচে, ফুলেরা উল্লাসে ছড়ায় বাস; নতুন পল্লবে ভরেছে ডালপালা- পড়েছে তার প্রেমে বুনো বাতাস। বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, জোছনা তার ’পরে ছড়ায় রঙ; পড়েছে খসে সব জরা ও জীর্ণতা, শুকনো পাতা আর পুরনো…
-
সবুজের সম্মোহন থেকে / ফজলুল হক তুহিন
‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’- আমি আর তুমি হেঁটে হেঁটে যাচ্ছি ঘাসে ঘাসে, পায়ে পায়ে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে আনন্দে ভাসছে ঘাসফড়িং, আমার মন; বৃষ্টিভেজা মাটির সুবাস চেতনায় সারাক্ষণ! আমাদের সামনে-পেছনে-পূর্বে ও পশ্চিমে সবুজ প্রান্তর, তোমার চুলের আকর্ষণে মেঘপুঞ্জ নেমে এসেছে ঐ দেখ, কখন যে ভিজিয়ে দেয় সে, ভয়ে উদ্বিগ্ন অন্তর! তোমার শাড়িতে লুটোপুটি দিয়ে…
-
বৃষ্টির কোনো রঙ নেই / সাইফ আলি
আমি যদি আকাশ হতাম- বুকের মধ্যে স্তরে স্তরে জমা হতো নানা রঙের মেঘ কিন্তু বৃষ্টির কোনো রঙ থাকতো না; সুখ সে যে রঙেরই হোক অনুভূতির কোনো রঙ থাকতে নেই, দুঃখ সে যে রঙেরই হোক কান্নার কোনো রঙ থাকতে নেই।
-
মৎস্যকন্যাদের কথা / সায়ীদ আবুবকর
জোছনা ডুবে গেছে সমুদ্রের নিচে, কৃষ্ণ জলরাশি কাঁপছে থরথর- মৎস্যকন্যারা ঘুমায় সী-বীচে; আস্তে ফেলো পা, যাবে যে ভেঙে ঘুম। জোছনা ডুবে গেলে সী-বীচে আসে তারা, এলিয়ে দেয় দেহ মুক্ত হাওয়ায়; যখনি উঁকি মারে আকাশে শুকতারা, পালায় দল বেঁধে জলের হিমঘরে। আস্তে ফেলো পা, একটু আওয়াজেই আঁতকে ওঠে তারা, যেন বা ভীত মৃগ; একটু জোরে বয়…
-
জীবনের মানে / ফজলুল হক তুহিন
আমি পদ্মা আর তুমি স্বচ্ছ যমুনার ধারা দুটি স্রোত মিলিত হয়েছে প্রেমের বিন্দুতে, বর্ষায় ছাপিয়ে ওঠা দুই কূল আত্মহারা চলো ছুটে চলি পূর্ণতার বঙ্গোপসাগরে। মাঝপথে পার্থিব পলির চর কেনো তোলো? কেনো বাঁধতে চাইছো ঘর, ফসলের চাষ; গড়ে তুলতে কী আগামীর প্রজন্ম আবাস? নারী, তুমি বুঝি জীবনের পূর্ণতা চাও না? কী হবে এখন আর ঘর বেঁধে…
-
সুখী মানুষ / সাইফ আলি
সুখী কাগজের ভূমিকায় তুমি নানা রঙে ওঠো সেজে, মৃদু বাতাসেই কণ্ঠ তোমার নানা সুরে ওঠে বেজে। সুখী মানুষের তকমাটা তবু কপালে জুটলো না; আহা! বসন্ত ফুটবে ফুটবে কিছুই ফুটলো না।। সুখী মানুষের দশ তলা বাড়ি, এসি গাড়ি নাকি থাকে কোলের ভেতরে জাপটিয়ে নাকি টাকার বালিশটাকে তারা ঘুমোয়; তাদের ঘুম হয়!? সেকি জেগেই উঠলো; না!? আহা!…
-
সর্ষেফুলনামা / সায়ীদ আবুবকর
সর্ষে খেতগুলো হলদে শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে থরথর সর্ষেফুল হয়ে পোহায় রোদ্দুর আমার অন্তর আমার অন্তর পোহায় রোদ্দুর সর্ষেফুলে ফুলে যে-ফুল ঝিরঝিরে বাতাস লেগে ওঠে পুলকে দুলে দুলে মধুপ দল বেঁধে বেড়ায় উড়ে উড়ে, কুড়ায় অমৃত তার পরশ পেয়ে তনু ও অন্তর মিষ্টি, সুবাসিত অমরাবতী বুঝি এসেছে নেমে, ঘ্রাণে ভরেছে দশ দিক- কে গায় গান বনে?…
-
বনসাই / ফজলুল হক তুহিন
তুমি যে সবুজ বনসাই আমাকে দিয়েছো, সেটা বনসাই হয়ে থাক, তা আমি চাই না। আমার বাগানে আমি সেটা লাগাব, ঢালব পানি রোজ যত্ন নেবো, ছোঁবো; কিছুতেই রাহাজানি হতে দেবো না; হোক না সৌন্দর্যের জানাজানি পরওয়া করি না কারো, ঝড়ের ভয় পাই না। সময়ের সঙ্গে বড় হবে বটের গাছটি সুখস্বপ্নসাধের পাখিরা নেচে যাবে ডালে ডালে, জীবন্ত…
-
কিসের আলো লেগে / সায়ীদ আবুবকর
কিসের আলো লেগে উঠলো জেগে কায়া, উঠলো জেগে মন। জগত মনে হলো স্বপ্নশতদল, কুহককাঞ্চন।। দুচোখে লেগে আছে শুধুই সুন্দর, শুধুই অনাবিল। গদ্যকবিতারা ধরেছে বুকে ফের ছন্দ আর মিল।। রাত্রি হলো শেষ, প্রভাত চারদিকে এবং শুভ্রতা। ফুলেরা জেগে উঠে ছড়ায় সৌরভ, পাখিরা সুরকথা।। যে-আলো চোখে মেখে ত্রিকাল দেখেছিল হোমার-সফোক্লিস। সজিনাগাছে আজ সে-আলো পান করে দোয়েল দেয়…
-
স্বপ্নমাখা আলোয় / ফজলুল হক তুহিন
জীবন কাটতো সাদামাটা বর্ণবিহীন, চালচুলোহীন, বাউন্ডুলে যেমন করে ঘুরে বেড়ায়, আমার তেমন পথে-ঘাটে-স্টেশনে অলস ধূসর সময় যেত অকারণে। নাই কোন কাজ, নাই কোন সাজ, ধুলো শুধু দুই চরণে। হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেলো জীবন আমার অঙ্গার হওয়া অন্তর এখন উর্বর সবুজ শ্যামল শুকনো বিলে জল থৈ থৈ মাছের আনাগোনা দীন ভিখেরির হঠাৎ রাজা হওয়া শূন্য…
-
আকাশ তোকে বললো কিছু / সাইফ আলি
সেলাই করা বুকের কাপড় ফেড়ে বনের পাখি মেললি ভিষণ ডানা ওড়ার সুখে আনন্দে আটখানা! আকাশ তোকে বললো কিছু নীলচে আচল নেড়ে? নাকি কেবল শুধু- মিথ্যে মেঘের চতুর আনাগোনায় ভুললি কোমল বুকের এ আর্দ্রতা?
-
আভা / সাইফ আলি
বিকেলের ঝুলে পড়া আভা লেগে ছিলো পাতাটার গায় গভীর অন্ধকার রাতে যখন সে মেলেছিলো নিজেকে হলুদ জোছনায়।
-
প্রেরণা / সাইফ আলি
এমন কি কবিতার ছবক আচলের গিট খুলে দিয়েছিলে পায়রার ঝাকে একসাথে ডানা মেলে উড়ে গেলো কিছুতেই ফেরানো গেলোনা-
-
আবুজর গিফারী রা. : দ্রোহী, একা, স্পষ্টভাষী / আবদুল মান্নান সৈয়দ
আল্লাহতায়ালার কথা বলে পৃথিবীতে তিরষ্কৃত হওয়া, শাস্তির সম্মুখীন হওয়াকে একমাত্র আবুজর রা. ছাড়া সবাই ভয় করে। এমনকি আমি নিজেও তা থেকে মুক্ত নই। -হযরত আলী রা. ‘আবুজর একা আছে, একা থাকবে, যাবেও একাকী।’* কেউ কেউ হয় এরকম: দ্রোহী, একা, স্পষ্টভাষী; ভিড়ের ভিতরে থেকে নির্জন দ্বীপের অধিবাসী; বিশাল আকাশে চাঁদ; বিজন কান্তারে এক পাখি। শত্রুগণ প্রাণপণে…
-
পিরিতির জ্বালা / ফজলুল হক তুহিন
একেই কি গো পিরিতি বলে লোকে? অস্থির দোয়েল ফড়ফড় ওড়ে হৃদয়ের আরণ্যকে সময় কি অসময় বোঝে না সে বোঝে না ঝড়ের রাত, ডানা ঝাপটায় আকাশে আকাশে। তাই বুঝি লোকে বলে, পিরিতির জ্বালা বড় জ্বালা- আমি বলি, সুখের সে জ্বালা। এই সুখ সমুদ্র-অরণ্য-নদী দেখে মেটে না ভরে না মন দেখে পাহাড়-পবর্ত-গাছপালা। পিরিতিতে দুটি নদীর সঙ্গম দোতারায়…
-
জাগিয়া রাত যায় / সায়ীদ আবুবকর
জাগিয়া রাত যায় দেখিয়া চোখ ভরে রূপালি রাত্রিকে। পরীর পাখনায় উড়িয়া যায় মন উদাস দিকে দিকে।। বসুন্ধরা আজ ইডেন গার্ডেন, ভিজেছে জোছনায়। সে-জোছনার ’পরে হরিণ খেলা করে চপল চার পায়।। হাসনাহেনা আর গন্ধরাজে গেছে ভরিয়া সমীরণ। সুবাস লাগে নাকে, পুলকে গাহে পিক, কাঁপিয়া ওঠে বন।। নদীর জল নাচে, জলের ’পরে নাচে জোছনা আর চাঁদ। দেখিয়া…