-
সমস্ত সেজদার কসম / সাইফ আলি
আমাদের যতোকথা ধুলোপিঠে পরিত্যক্ত জমে আছে; জমে আছে রাতের ঘোলাটে অন্ধকারে রাজপথ ছুঁয়ে, মুখ গুঁজে রক্তের পুরোনো দাগে; আমাদের যতোকথা আজো ফেলে গরম নিশ্বাস কামারের হাপড়ের মতো; একদিন জ্বলে উঠে বলবেই- এ আমার মৃত্যু নয়; পরাজয় নয়; ক্ষয় নয়; জয়। তোমরা উল্লাস করো, সুখী হও; পান করো রক্তিম শরাব! নাচো-গাও-ঢেকুর ওঠাও যত খুশি আজ; তোমাদের…
-
বৃষ্টি সারারাত / সাইফ আলি
তুমিও ভুলে যাবে আমিও যাবো ভুলে সেদিন নেচেছিলো বৃষ্টি সারারাত; রাতের ঘনকালো আঁধার ভেজা চুলে কি ফুল গুজেছিলো আমার খালি হাত! কি মায়া উদ্যানে ছড়ানো ফোটা ফোটা বৃষ্টি ফুলগুলো ঝরলো ঝুপঝাপ, পাতার ফাক গলে পাখি সে অংকটা মিলাতে বসেছিলো একাকি চুপচাপ। হয়তো বোকা পাখি মেলাতে পারেনি সে জটিল অংকটা অথৈ ছলছল, তবুও বলেছিলে- সত্যি, হারেনি…
-
একটা কিছুতো হারিয়ে যাচ্ছে / সাইফ আলি
একটা কিছুতো হারিয়ে যাচ্ছে আকাশের নীল মৌনতা থেকে একটা কিছুতো হারিয়ে যাচ্ছে ঠিকই- নাহলে আকাশ টানছে না কেনো আগের মতোন? একটা কিছুতো পালিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই যাপিত জীবন থেকে একটা কিছুতো পালিয়ে যাচ্ছে ঠিকই নাহলে জীবন পান্ডুর কেনো এতো? বাড়ি গাড়ি টাকা এবং ব্যস্ত সময়ের খেল জমছে তো বেশ কিন্তু তবুও কি যেনো কমতি, একটা…
-
দুঃখ / সাইফ আলি
দুঃখ তুমিতো মাধবীলতা জড়িয়ে রেখেছো আষ্টেপিষ্টে তোমার নরম থোকায় থোকায় পাওয়া না পাওয়ার হিসেব নিকেষ; গল্পগুচ্ছ এক জীবনের। একটি মনের জয় পরাজয় আশা হতাশার সরল প্রকাশ। দুঃখ তোমার নিখুঁত শিল্প সালতানাতের প্রতিটি আঁচড়, বিদ্রোহী তার মৃত্যুক্ষুধায় তোমাকে পেয়েছে অলংকরণ। দুঃখ তোমার যেটুকু আমার দু’হাত ভরে তা নিতে তো হবেই, মধ্যরাতের অবসরটুকু তোমাকে দিলাম… কবিতা পাঠ…
-
কবি / সাইফ আলি
আলগোছে হাত থেকে পড়ে গেলো শব্দের তোড়া এক জোড়া দাড়কাক বসে বসে দেখছিলো খেল, চেঁড়া চটি মানহানী মামলার প্রস্তুতি নিয়ে বললো- শুনুন কবি জীবন এমন ছেঁড়াখোরা খসরা কাগজ ভেবে করছেন নিয়তই ভুল; শুধুই কি সাজাবেন ক্ষুধার্ত স্বপ্নের ফুল? কবি তার উপমায় নিজেকে সাজাতে যান ভুলে, বিষন্ন একা চাঁদ মেঘের দেয়ালে থাকে ঝুলে। কবিতা পাঠ শুনতে…
-
তুমি / সাইফ আলি
কে জানে কতটা ভাসালে তা হয় নদী কে জানে কতটা মৌনতা আনে নীলে কত ঢেউ বুকে ধারণ করলে সাগর তোমাতে মানায়; যেমনটা তুমি ছিলে। কতটা গভীর রাতের আকাশ হলে তোমার চোখের তারার উপমা হয়, কত জোনাকির হেয়ালি আলোর ভিড়ে খোয়াবো তোমাকে হারানোর সংশয়? কত বর্ষার ছন্দে চলেছো তুমি আমার বুকের মেঠো পথ ধরে ধরে, কত…
-
পথের দাবী / সাইফ আলি
তুমিও কি তার গন্ধ পাও, ছন্দ বোঝো মধ্যরাতের বাতাস যখন শীতল থাকে আলতো করে নড়তে থাকে গাছের পাতা বিষণ্ন এক ডাহুক ডাকে দূরের কোথাও তুমিও কি তার একটু আধটু গন্ধ পাও? ছন্দ বোঝো? দন্দ্ব বোঝো? একটি পাখির দুইটি পাখার দন্দ্ব বোঝো? হয়তো খোঁজো স্বার্থকতা শুধুই ওড়ার কিন্তু তাতে লাভ কি হবে যখন শুধু শূন্য মুখে…
-
বৃষ্টিকাব্য / সাইফ আলি
ছুঁয়ে দাও ধুয়ে দাও নগরির চোখ, পঁচা সুখ এ অসুখ মুছে দাও; ফের লেখা হোক- ফোটা ফোটা অনবরত তোমার ছন্দে, এ শহর আমার শীতল হোক আসুক জ্বর, থরথর কাঁপুক রাজপথ, ঘর জানালার কাচ; চায়ের কাপ, উত্তাপ বুকের। স্বার্থপর চুমুকের পর অনবরত তোমার শব্দে কিছুক্ষণ অন্তত বুকের ভেতর জাগুক হৃদয়। ছুঁয়ে দাও ধুয়ে দাও আমাদের চোখ…
-
যেখানেই দৃষ্টি রাখি / সাইফ আলি
যেখানেই দৃষ্টি রাখি পুড়ে যায় ভেঙেচুড়ে খান খান হয়ে যায়, রোদেলা দুপুর হঠাৎ বিমর্ষ মেঘে ঢেকে যায়; অন্ধকারে ডুবে যায় সকালের মিঠে আলো। যেখানেই চোখ রাখি, যেখানেই রাখি এই স্বপ্নালু দৃষ্টি আমার- কবুতর ঘর ছেড়ে পাড়ি দেয় বহুদূর বনে, তছনছ হয়ে যায় ভিটেমাটি চিরায়ত শান্ত এ নদীর হঠাৎ ভাঙনে! ধানখেত পুড়ে যায়, ভেসে যায় হাওড়ের…
-
নাবিকের চোখ / সাইফ আলি
কিছু কোলাহল মুছে যেতে যেতে দাগ রেখে যায়, মোছে না সে দাগ; কিছু কিছু সুর ঘিরে থাকে কিছু মায়াবী সময়- মুছে ফেলা দায়। কিছু মানুষের দৃষ্টির কোনো হিসেব মেলে না কথার থাকে না অর্থ কখনো তবু সে দৃষ্টি অন্দরে কিছু হিসেব মিলায় বাহির তখনো অবুঝের মতো চেয়ে চেয়ে থাকে; এলোমেলো কথা পাশাপাশি বসে কি ছবি…
-
নব্যনেড়ে / সাইফ আলি
:এমন কিছু বলুন জনাব খোরাক জোগায় ভাবার আবার অর্থ না হয় কোনো কক্খোনো। এমন কিছু বলুন যেটা বোঝার সাধ্য নেই কারো আরো উল্টোসিধা যেই কথাটা লাইনমাফিক নয়। এমনতর কথা দিয়েই জয় কবিতার জয়! কবিতাতো তাকেই বলে, পড়তে লাগে ভয়!! এমন কিছু লেখুন জনাব পিলিজ… ছন্দটন্দ ভুলুন ওসব পুরোন মেলা, ওসব রেখে আধুনিকের ছাঁচে আসুন এই…
-
কেমনতর প্রেমিক তুমি / সাইফ আলি
কেমনতর প্রেমিক তুমি পাতার বাঁশি বাজাও না স্বপ্নগুলো সুতোয় গেঁথে প্রিয়ার জন্য সাজাও না বাস্তবতার গুল্লি মেরে সাহস নিয়ে আগাও না; অনুভূতির শিকড়টাকে একটুখানি জাগাও না! খাম্বা তুমি, পাথর তুমি, স্বর্থটাকে খুব বোঝো; শকুন চোখে কেবল শুধু আমার চোখে প্রেম খোঁজো! নইলে সেদিন শপিংমলে হীরার ছোটো আংটিটা কিনতে গেলাম, বললে চেকের হয়নি আজো ভাংতি টা!…
-
যদি চাও / সাইফ আলি
যদি চাও, বৃষ্টিতে ধুয়ে নিতে পারো চোখ- কথা হোক ভারাক্রান্ত মেঘেদের সাথে কিছুক্ষণ; তারপর ফের আমাদের ছোটো ছোটো কথাগুলো নরম মাটিতে রুয়ে খেলা শেষ। যদি চাও, ঠান্ডা বাতাস মেখে কৃত্রিম শীতে নিজেকে কুকড়ে নিয়ে আশ্রিত হতে পারো পাঁজরের উষ্ণতায়। হবে?
-
বুনো কৈতর / সাইফ আলি
কই তোর কৈতর কই বুনো কৈতর বুঝি উড়ে গেছে বনে, তাই বুঝি নির্জনে একাকি গোপণে কাঁদছিস? বোকা! নিজেকে নিজেই তুই দিয়েছিস ধোকা। ডানাদুটো প্রিয় ছিলো কাটিসনি তাই? তাহলে তো উড়বেই, মিছে অভিমানে কাঁদছিস বোকা, শোন- প্রিয় কৈতর, সারাক্ষণ বাস করে বুকের ভেতর।
-
পোড়ামাটির টব / সাইফ আলি
আজকাল ছোট এই পোড়ামাটির টবেই কোনোমতে টিকে আছে কবিতার চাষাবাদ, প্রত্যাক্ষাণের জৈব আর অনাকাঙ্ক্ষিত বিষাদের নোনতা জলবায়ু চারাগুলোকে এমন পরিপুষ্ট করে তুলবে ভাবতে পারিনি। তুমি তো ভেবেছিলে, অধিকারের আবাদি জমিটুকু কেড়ে নিলেই নিস্ব হয়ে যাবো; তোমার পায়ে পড়ে বলবো- আর একটা মৌসুম, মাত্র আর একটা; তারপর সব তোমার! শেষ যেবার মেঘ ফেটে বৃষ্টি নামলো, উঠোন…
-
-
আর কি নেবে শব্দ ছাড়া / সাইফ আলি
একটা কবির সব কবিতা অন্য কারো হাতের মুঠোয় শূন্য খাতা, বিষন্নতা বুকের মধ্যে কি জল উঠোয়!? কি ফুল ফুটোয় শুকনো ডালের মুমূর্ষুতার বাকল পেটে এক জীবনের প্রেম কাহিনী ঝুলতে থাকে আকাশ ফেটে! আর কি নেবে শব্দ ছাড়া- আর কি আছে কবির কাছে? গোলাপ ছাড়া আর কি ফোটে একটা পুরোন গোলাপ গাছে? হয়তো কিছু বৃষ্টি আছে-…
-
আজকে কেমন বৃষ্টি / সাইফ আলি
আজকে কেমন বৃষ্টি এলো এলোমেলো ঝরলো ভীষণ সারা বিকেল-সন্ধ্যা-সারা রাত্রি জুড়ে আকাশ ফুড়ে ! রাস্তা জুড়ে বৃষ্টি ফোটা বেলুন ফোলায় ওড়ায় ছাতা মাতাল হাওয়া, একটু আলো একটু আঁধার সুখের এবং বিষন্নতার হঠাৎ হঠাৎ আসা-যাওয়া; গুনগুনিয়ে একটু গাওয়া একটু ঝরা পাতার পিঠে টাপুর টুপুর শব্দ-তালে। কদম ডালে ভিজতে থাকা একটা পাখি- জানলা খুলে বাড়িয়ে রাখা হাতের…
-
এপাড়ার চামচিকা ওপাড়ার মাতবর / সাইফ আলি
এপাড়ার চামচিকা ওপাড়ার মাতবর ঢাকা এসে আত্মিয়! বলে- মামা হাত ধর, এই ঢাকা শহরের অলিগলি-রাস্তায় তুবড়ি বাজিয়ে রাজ করে যাবো আস্থায় ভাগেযোগে নেতা আছি আমরা যে সাত ঘর। মাতবর বলে- বাহ, বুদ্ধি চমৎকার; মহৎ এ প্রস্তাবে বলুন অমত কার? সাতঘাড় এককাতে রাজি মতামত দেয় শাহাবাগে জড়ো হয়ে এক স্বরে ঘোঁত দেয়। ভেবাচেকা পাবলিক বলে, বাজিমাত…
-
যারা নিচু হয় / সাইফ আলি
তোমার কি ভয় তুমি নিশ্চয় প্রতিবাদী নও, কথা কম কও, চিন্তা করোনা কিছুটি নিয়েই; তুমি নাকি এই অজপাড়াগাঁর লক্ষি ছেলেটি! কিচ্ছু বোঝো না, নিরিবিলি থাকো, কাউকে খোঁজো না। তা তো বেশ করো তবে যদি ধরো কেউ এসে গাঁও লুট করে যায় তোমাকে কি তারা গদিতে বসিয়ে আঙুর খাওয়াবে, অথবা নিরিহ প্রাণী বলে কিছু ছাড় দিয়ে…