-

বিক্ষুব্ধ রাতের প্রতি
কেনো তুমি শান্ত হলে না অন্য সব রাতের মতোই কেনো তুমি শীতল অন্ধকারের অন্তরালে ঢাকলেনা তোমার বিবেক… তবে কি স্বার্থপর দিনের প্রতি অনাস্থা তোমার ? নাকি এ তোমার করুণা- তবে তাই হোক অকেজো চোখের উপর ভরশাহারা মানুষ হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলুক। দিগন্তছুঁয়ে ডুবে যাওয়া সূর্যের অপেক্ষায় আর কোনো যাত্রাবিরতী নয়- আরেকটি স্বার্থপর দিনের চেয়ে বিক্ষুব্ধ…
-

পথ চাওয়া পথে ধাওয়া
এক পাখি উড়ে যায় দূরে এক পাখি বসে থাকে ডালে; দুই পাখি এক হয় সন্ধ্যার কালে। ঘর ছাড়া পাখি ফের ঘরে যেতে চাই, ঘরে বসে একা পাখি সুখ তারো নাই। এক পাখি পথে ধায় এক পাখি পথ চায়- পথে ধাওয়া পথ চাওয়া এইতো জীবন; দূরে তবু কাছাকাছি থাকে দুটি মন।
-
অন্ধকার শতাব্দীর শেষে / সাইফ আলি
যাবে? সেই দূরে, যেখানে আমার এবং তোমার স্মৃতি আরেকটা নতুন সকাল হাতড়িয়ে ফিরছে এখনো। এক ঝাঁক কবুতর বেশে বাদুড়েরা এসে চিৎকার করতে করতে শাসিয়ে গিয়েছে- ওরা যেন আর নতুন সকাল কিংবা সূর্যের মুখ দেখতে না চায় কখনোও। যাবে? আমাদের পথহারা সেই স্মৃতি-সন্তানদেরকে উদ্ধার করতে এক জোড়া পায়রার বেশে তবে ধরো এই কড়াপরা হাত মুছে যাক…
-

নির্জন স্বাক্ষর
তুমি তা জানো না কিছু, না জানিলে- আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে! যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে, পথের পাতার মতো তুমিও তখন আমার বুকের পরে শুয়ে রবে? অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন সেদিন তোমার! তোমার এ জীবনের ধার ক্ষয়ে যাবে সেদিন সকল? আমার বুকের পরে সেই রাতে জমেছে যে শিশিরের জল, তুমিও…
-
সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয় / জীবনানন্দ দাশ
চোখ দুটো ঘুমে ভরে ঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে! ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন-স্বপন কদিন রয়! এসেছে গোধূলি গোলাপীবরন-এ তবু গোধূলী নয়! সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়, আমাদের মুখ সারাটি রাত্রি মাটির বুকের পরে! কেটেছে যে নিশি ঢের- এত দিন তবু অন্ধকারের পাই নি তো কোনো টের! দিনের বেলায়…
-

-

-
প্রণয়ের প্রথম পাপ / সায়ীদ আবুবকর
যে যা-ই বলুক, তুমি কেন বললে না ভালোবাসা পাপ নয়? তুমি কেন প্রণয়ের এজলাসে দু’দন্ড দাঁড়িয়ে বললে না একটিবারও: যে ভালোবাসে সে খুনী হয়, অগ্নি হয়, ঝড় হয়, জলোচ্ছ্বাস হয় পারো তাকে হত্যা করে ফ্যালো, নির্বাসনে দাও, কিন্তু কেউ পাপিষ্ঠ বোলো না তাকে। হাবিল কি আমার চেয়েও বেশি পারতো তোমাকে ভলোবাসা দিতে, আকলিমা? হাবিল কি…
-

যে কথা কখনো কেউ বললো না
মিলেছে শখের চুরি, হাতে দিয়ে বসে থাকো বধূ পেয়েছো যা চেয়েছিলে- লালপেড়ে শাড়ি শুধু সেই শাড়ি পরা ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকার কোনো লোক থাকলো না… সূর্য তো প্রতিদিনই ওঠে ভোরের শিশিরে জ্বলে নাকফুল; দুলে ওঠা গাছের ছায়াতে প্রতিদিনই পাক খায় ঝরে যাওয়া পাতাদের শব- দৃষ্টির মায়াজালে আকাশ দেয়নি ধরা আজো তবু তুমি ছুতে চাও আকাশের…
-
এমন রঙিন খুব বেশি দিন থাকবে না
এমন রঙিন খুব বেশি দিন থাকবে না সাধের কোকিল সকাল বিকাল ডাকবে না এসব সবাই জানে… তবুও কিসের টানে আহা! কিসের আহ্বানে, ঘর ছেড়েছি আমরা কজন কেউ কি জবাব জানে? পাবার শুধু নয়তো জীবন, সব হারানোর দিন হবে, সবকিছু বিলীন; তবু, মনের ঘরে ঝাপটে মরে আশার কবুতর, সবাই সেদিন থকবে ভালো আমার হবে জ্বর…
-
সবাই মানুষ হয় মরিবার কালে…
যে পাখি উড়াল দেবে সে কি আর বসবে না ডালে সবাই মানুষ হয় মরিবার কালে… ঝাড়িতে-ঝুড়িতে-হাড়িতে মরবে মাছি বদলাবে নাকি কেউ! চিপাই পড়লে চুনো-পুটিরাও অনায়াসে তোলে ঢেউ। তাই বলে যদি চুনো-পুটি পাতে বোয়াল মারার ফাঁদ, আমরাও তাকে বলতেই পারি অস্থির উম্মাদ…। উড়লেই যদি ঘুড়িরা ভাবতো স্বাধীন কাটাই কাটাই, সেটা কি মানতো নাটাই?
-
সবটা যাবো ভুলে
বলিস না খুব ভালোই ছিলাম আগে বলিস না খুব ছিলাম মন্দ না, সবাই তো খুব বন্ধু থাকে আগে দ্বন্দ হলেই বেরই গন্ধ, না? অবশ্য আর বলবো কিবা তোকে সবাই এমন পালার বদল চায়, তুই চেয়েছিস নিলাম হজম করে বন্ধু ভাবি এটাই তো অন্যায়। অভিযোগের বস্তা নিয়ে আসিস কাধেই নেবো তুলে, শুধু- এইটুকু তুই বলতে বলিস…
-
চাঁদিনীতে / জীবনানন্দ দাশ
বেবিলোন্ কোথা হারায়ে গিয়েছে,- মিশর- অসুর কুয়াশাকালো; চাঁদ জেগে আছে আজও অপলক, মেঘের পালকে ঢালিছে আলো! সে যে জানে কত পাথারের কথা, কত ভাঙা হাট মাঠের স্মৃতি! কত যুগ কত যুগান্তরের সে ছিল জ্যোৎস্না , শুক্লা তিথি! হয়তো সেদিনও আমাদেরই মতো পিলুবারোঁয়ার বাঁশিটি নিয়া ঘাসের ফরাশে বসিত এমনি দূর পরদেশী প্রিয় ও প্রিয়া! হয়তো তাহারা…
-

আমার সমস্ত রাত
আমার সমস্ত রাত কেটে যাক ঘুমহীন লাইটপোস্টের মতো আমার সমস্ত রাত জায়নামাজের সুখ স্যাঁতসেঁতে বুকে নদীর ঢেউয়ের মতো আমার দু’ঠোঁটে খেলে যাক তোমার জিকির ছলাৎ ছলাৎ করে আমার দু’চোখে বয়ে যাক উথাল পাথাল আরব সাগর আমার সমস্ত রাত কেটে যাক ঘুমহীন লাইটপোস্টের মতো আমার সমস্ত রাত জায়নামাজের সুখ স্যাঁতসেঁতে বুকে আমার অস্তিত্ব হতে শুকনো পাতার…
-

ভেজা আয়নায় এ কার ছায়া
ভেজা আয়নায় এ কার মায়াবী ছায়া এ কার মায়াবী মুখ; চিনতে চিনতে চিনে ফেলি তবু কেমন অচেনা লাগে পরিচিত তবু পরিচয়হীন মায়া- ভেজা আয়নায় এ কার মায়াবী ছায়া!! যেন বহু দিন যেন বহু রাত যেন বহু যুগ ধরে হাতে হাত রেখে চোখে রেখে চোখ দুই দেহ এক মন; কতটা কাছের কতটা আপন বোঝানোর ভাষা নাই-…
-

আর কতদূর
ভেবেছিলাম- আমি আর কথা বলবো না দু’ঠোটে গড়ে তুলবো নিরবতা বেষ্টনি- অথচ পারলাম না, যখন দেখলাম নির্যাতিত হাড়গুলো নড়েচড়ে উঠলো খুলিতে অনবরত রোদ্রের ঝলকানি সহস্র হাড় যেন সহস্র মশাল মিছিল করবে তারা দূর থেকে ভেসে আসছে অসমাপ্ত মিছিলের গান… আজ তাদের সংকিত চোখ নেই নেই দুরুদুরু হৃদস্পন্দন; কোটর ভরা অন্ধকার আর পাজর ভরা শূন্যতা নিয়ে…
-
তোমাকে বলছি / সাইফ আলি
একি তুমি এখানে এতো রাতে দাড়িয়ে নির্বাক আকাশে অপলক তাকিয়ে তারা বুঝি গুনছো? এই শোনো, শুনছো? রাত জাগা পাখিদের চিৎকার ভাসছে সবকিছু ছাড়িয়ে। জোসনার চাঁদটা কেনো এতো শান্ত কেনো এতো সুন্দর কেনো এতো মায়াবী? দেখলেই ভালোবাসা জেগে ওঠে হৃদয়ে। আমি বড় ক্লান্ত; ঘুম ঘুম চোখটা যেনো বুজে আসছে ভয় হয় এখানে একা এই রাত্রে কি…
-
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল / জীবনানন্দ দাশ
ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল,- ডালিম ফুলের মতো ঠোঁট যার, রাঙা আপেলের মতো লাল যার গাল, চুল যার শাঙনের মেঘ, আর আঁখি গোধূলির মতো গোলাপী রঙিন, আমি দেখিয়াছি তারে ঘুমপথে, স্বপ্নে- কত দিন! মোর জানালার পাশে তারে দেখিয়াছি রাতের দুপুরে- তখন শকুনবধূ যেতেছিল শ্মশানের পানে উড়ে উড়ে! মেঘের বুরুজ ভেঙে অস্তচাঁদ দিয়েছিল উঁকি, সে কোন্…
-

-

না-প্রেমীকের গান
কি করে আমাকে হতে বলো, মেয়ে, প্রেমান্ধ কায়েস? আমি তো দেখেছি সকালের রোদ বিকেলে এসেই রং উঠে যাওয়া শার্ট হয়ে যায় ভোর না হতেই গনগনে চাঁদ পোড়া ব্যাটারির টর্চ হয়ে যায় দেখেছি তো নীল নেশার চুরুট পুড়তে পুড়তে হয়ে যায় কত দ্রুত নিঃশেষ কি করে, হে মেয়ে, যৌবনের ভাতে মেখে নেবো বলো অতিষ্ঠ তোমার যৌবনের…