-
তুমি কেনো এতো বেশি / সাইফ আলি
তুমি কেনো এতো বেশি কোমল হতে গেলে লজ্জাবতি পাতার মতো এতো বেশি লাজুক হাত ছোঁয়ালেই পাখির পালক পড়বে খসে খসে বাইরে যতই উল্টোফিতে বাজুক। পায়রা শরীর শুভ্র মেঘের দেশে একটু আগেই ভাসিয়ে যেনো এলে আমার বড্ড হাত দিতে হয় ভয় হঠাৎ যদি বরফ গলে গেলে- চোখটা তোমার স্বচ্ছ বড়ো বেশি এক নিমিষেই ইচ্ছে দিতে ডুব…
-
চুপি চুপি কিছু কথা হয়ে যাক বলা / সাইফ আলি
চুপি চুপি কিছু কথা হয়ে যাক বলা নিরবে কিছুটা পথ হয়ে যাক চলা হাত খাক হাতে বাড়ি দুটি মন আড়াআড়ি শুনুক কিছুটা হৃদয় কাঁপন শিহরণ দুরুদুরু কিছু কথা হোক খুব নির্জনে শুরু। পথ ও পাতায় ঝরা কবিতায় জাগুক কিছুটা ছন্দ আজ; নির্বাক কিছু ভালোবাসা শুধু বাতিল মুখের কুচকাওয়াজ।
-
কিছু জানালার পর্দা কাঁপে না / সাইফ আলি
কিছু জানালার পর্দা কাঁপে না সূর্য রাখে না চোখ কিছু জানালারা দেয়ালেই যায় মিশে কিছু জানালার অকাল মৃত্যু লেখা থাকে কার্নিশে। পর্দা ওড়াও বাতাস এসো হে জানালায় জানালায় কিছু রোদ কিছু ভালোবাসা দাও ছোঁয়া অবসর কিছু চৌকাঠ থেকে পাল্লা গিয়েছে খোয়া। যাক খোয়া যাক সব পাল্লারা পর্দা নাচুক খুব, আলো-ছায়াময় সব জানালায় ভালোবাসা দিক ডুব।
-

ককটেল শংকিত চোখে অশ্রু বাঁধেনা বাসা
ককটেল শংকিত চোখে অশ্রু বাঁধেনা বাসা কালো রাস্তাটা শোকাতুর পিচে বুদ হয়ে থাকে নেশায় ককটেল হাতে পেট্রোল বোমা হাতে রক্ত ঝরবে কালো ক্ষমতার খাতে। আহা রাজনীতি বীর্যে তোমার বীরেরা বলে না কথা নির্বাক শুধু লাশ সারি সারি পড়ে চোখ জুড়ে আছে অস্থির নিরবতা। হাত বাঁধা চোখ বাঁধা লাগাম পরানো মুখ তবু যন্ত্রের কণ্ঠে হাজার স্বার্থকতার…
-
শহরের পাতা ধুলোবালি বুকে / সাইফ আলি
শহরের পাতা ধুলোবালি বুকে বাতাসে পেতেছে কান ইট-বালি-কাঁচে অনাহুত কোনো বৃষ্টির সন্ধান। দেয়ালে দেয়ালে মেঘ ঠেকে গেছে ধোঁয়াশা করুণা পানি তবু ডালে ডালে কিছু কুঁড়ি জেগে আজন্ম সন্ধানী। তবুও থায়ের জানালা বাড়ছে বাড়ছে কাঁচের দেয়াল দিনে ও রাত্রে প্রায়ভেট কারে ঘুরছে শহুরে শেয়াল। শহরের পাতা ধুলো বালি বুকে চেয়েছে শীতল পানি হঠাৎ দুপুরে মিলেছে বৃষ্টি…
-
যেই দেখেছি ফুলের তোড়া
রক্তে কিছু গানের কলি মিশে বির্জে কিছু বীরের প্রতিচ্ছবি শরীর না হয় শরীর থাকুক মাটির কাছাকাছি মেঘের কাছে প্রশ্ন করো আকাশ নীলেও আছি। মনটা আমার খুব যাযাবর পাখির পালক ছুঁয়ে গাছের ডালে ঘরের চালে কিংবা সবুজ ভূঁইয়ে বেড়ায় শুধু ঘুরে তবুও যেনো হারাও তুমি দূরে বহু দূরে…….. স্বাধীনতার সুখ পাওয়া কি নাটাই ঘুড়ি সুতা যেই…
-
ভালো থেকো তুমি / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) এই নির্জনে ফুটে আছো তুমি সুন্দরী বুনো ফুল যদি পারতাম তোমাকে নিতাম দু’হাত ভরে কিন্তু তুমি যে সংসারী বড়ো পাহাড়ের মেয়ে না পেলাম আজ এই হাঁটা পথে আপন করে মনে বেধো প্রিয়া ঘর, লেনাদেনা নেই তবু রাখো এই খন্ডিত অন্তর। ভালো থেকো তুমি কঠিন কোমল রাজে ভালো থেকো এই পাহাড়-মেঘের ভাঁজে…
-
দেখলাম তুমি কতো কঠিন সুন্দর… / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) যেখানে পাহাড় সবুজ মেঘ তুলো তুলো আকাশের নীলে মিলেমিশে একাকার হয় সেখানে আমিও অবুঝ… পায়ে হাটা পথটার দুই ধার ঘিরে অজানা বনের ফুলগুলো আমাকে জানায় স্বাগতম। আসলাম হে পাহাড় তোমাকে দেখবো বলে দেখলাম তুমি কতো কঠিন সুন্দর…
-
শুধু মনে হবে তোমাকেও ছুঁয়েছি… / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) মেঘে মেঘে কিছু কবিতা লেখার দিন পাহাড়ে পাহাড়ে অজানা হাজার পথে মনে মনে কিছু মুগ্ধ হওয়ার দিন। বৃক্ষ পাতার বাতাস কাঁপানো কথা ঝর্ণা শীতল অস্থির নিরবতা, মহা নির্জনে ওগো দিগন্ত শোনো- তুমি কি আমার পায়ের আওয়াজ পাও? তুমি কি আমাকে দেখো? জানিনা কখোনো জানবো না তুমি কি শুধু মনে হবে তোমাকেও ছুঁয়েছি…
-
তোমার হাতে কি চাবি… / সাইফ আলি
দোচালা টিনের ঘর এক কোণে দুই চড়ুয়ের সংসার তোমার গেরুয়া চোখের উঠোনে চেয়ে এ ছিলো আমার প্রথম আবিষ্কার। বহুদিন হলো চড়ুই গিয়েছে চলে বৃষ্টি বোঝেনা টিনের চালের স্বাদ ঘরে তুমি খুব নিতান্ত জড়োসড়ো দরজাতে আমি পূর্ণ দ্বিধায় ভাবি- তোমার হাতে কি চাবি?
-
প্রজাপতি ছিলো ধুসর পান্ডুলিপি / সাইফ আলি
প্রজাপতি ছিলো ধুসর পান্ডুলিপি ফুলে ছিলো কিছু পাপড়ি ঝরার ব্যথা যে ডালে দু’জন এক হয়েছিলো সেই ডাল ছিলে তুমি- আর আমি, আমিতো ছানার নতুন ডানার প্রথম হারানো পালক কৈশর ছোঁয়া বালক। পা ছিলো মাটিতে হাত ছোয় ছোয় তোমার শরীর পারি না বাইতে গাছ ; না দিলে ফুলটা প্রজাপতি গেলো উড়ে সারাটা দুপুর ভরা রোদ্দুরে পুড়ে…
-
ঘুড়ি স্বাধীনতা
মেঘের মুলুকে ঘুড়ি মেলেছিলো ডানা বালকের হাতে ছিলো সীমানার খোঁজ বাতাসে বুকের পাড়া কেঁপেছিলো খুব খুঁজেছিলো আরো দূর রঙিন ঠিকানা। উড়ন্ত চিল দেখে জেগেছিলো সাধ অজানা মেঘের দেশে বাধবে বাসর ছিড়ে গেলো বন্ধন নাটাই সুতার মাটিতে জমলো শেষ মৃত্যু আসর।
-
এক জোড়া চোখ উৎসুক / সাইফ আলি
বৃষ্টি গড়িয়ে নামে কাগজের নৌকার গায় মাঝি মাল্লার নেই দেখা তবু একা একা নৌকা চলেছে ঠিক ভর করে মেঘের শরীরে। এক জোড়া চোখ দূর থেকে দেখে সেই খেলা কাগজের নৌকাটা শেষমেশ হয়ে যায় ভেলা ভেলা ভাসে খালে-বিলে নালায় নদীতে কাঁচা হাত ধরে রাখে দাঁড় বেলা শেষে ভেলা হয় সাম্পান কোনো কাঁচা হাত পাকা হয়ে বাইছে…
-
স্রষ্টা সমীপে / সাইফ আলি
জীবন যখন উঠবে মেতে ঘূর্ণী হাওয়ায় হঠাৎ আলো অন্ধকারে আসা যাওয়ায় তখন তারে খুঁজো মনের গভীর কোণে। কোন অভাগা কোথায় বসে ডাকছে তাকে সব কথা সেই শোনে। কেউ যদি না হাতটা বাড়ায় কঠিন দিনে সঙ্গে দাঁড়ায় মনে মনে তাকেই তুমি খুঁজো সে ঠিক দেবে সাড়া সবাই সবার স্বার্থ বোঝে তোমার কথা বুঝবে না সে ছাড়া।
-
উদ্যানে বহুদিন পর / সাইফ আলি
ইটপাড়া রাস্তাটা ধোয়ার অন্ধকারে ঢাকা পাশে কিছু পাতাঝরা গাছ সারি সারি পথচারি হেটে যায় বরাবর হয়তো কখনো কেউ রেখেছিলো এইসব এলোমেলো দৃশ্যের খবরাখবর। উদ্যানে বহুদিন পর আমি আজ শীতের সকালে হলুদ পাতার ফাঁটা খসখসে গালে খুঁজে ফিরি তাকে। যদি পাই বুকের মোড়কে মুড়ে আবার নতুন কিছু কবিতা বানাই।
-
আলোতে কি মিলেছিলো সব / সাইফ আলি
আলোতে কি মিলেছিলো সব যদি তাই হবে চোখ বুজে ভাবো কেনো খোঁজো কারে স্বপ্নের উৎসবে। আলোতে মেলে না সব সুর সব গান পায়না জীবন অন্ধকার ভীড় করে এলে কিছু কথা মিলবে তখন। অভিমানী চাঁদটাকে দেখো তারাদের রাতের বাজার অন্ধকারে জোনাক পরীরা মেতে ওঠে হাজারে হাজার। সব কথা প্রকাশিত নয় কিছু কথা রাতটার মতো চুপিসারে বুঝে…
-
ধূপছায়া মনে পড়ে / সাইফ আলি
ধূপছায়া মনে পড়ে অফসেট কাগজের ভীড়ে এক জোড়া চোখ ছিলো হরিণের চোখ কোনো এক গাছের আড়ালে তারপর অরন্যে ডুব। ছোপ ছোপ সবুজের মাঝে ডাগর দু’চোখ এঁকেছিলো শিল্পির তুলি ধূপছায়া দেখেছি তোমাকে কিভাবে তা ভুলি অবসরে মনে পড়ে খুব। হয়তো বেকুব আমি অথবা তা পাগলামী তবু সেই কাগজের ভীড়ে এক জোড়া চোখ শিল্পীর আঁকা হৃদয়ে হারিয়ে…
-
ডায়রিতে কথাগুলো / সাইফ আলি
ডায়রিতে কথাগুলো লেখি লেখি করে শেষমেশ কলম সরে না শব্দেরা জট বেধে থাকে। কথাগুলো জমে জমে হীম হয়ে যায় ডায়রির কথাগুলো আগুনের আঁচে কেনো জানি নিজেকে পুড়ায়। বুকে মুখে কথা থাকে কপালের ভাঁজে ভাঁজে মুড়ে থাকে কিছু কিছু কথা নিভৃতে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে আঁধারের পিছু। তোমারো কি এরকম হয়? মাঝে মাঝে মনে হয় শুনি কিন্তু…
-
আরো বেশি কাছ থেকে দেখো / সাইফ আলি
আরো বেশি কাছ থেকে দেখো, যদি দেখা পাও দুই হাতে তুলে নিয়ে নিজেকে সাজাও। খনিতে কি আলো থাকে, চুরি-মালা-নোলক প্রভৃতি? অন্ধকারে হাত রাখো জেনে বুঝে খুঁজে দেখো গভীর এ খনির প্রকৃতি। গন্ধ পাও? আবহাওয়া বোঝো? তাপ- চাপ উর্দ্ধ্ব কিংবা নিম্ন ঝড়ো কিংবা শান্ত? আরো বেশি কাছে আসো হাত রেখে দেখো… এইখানে এই খনি গর্ভে জানি…