-
সময়ের ঘোলা জলে / সাইফ আলি
সময়ের ঘোলা জলে কতকাল সাঁতরায় মন কতবার ডুব দেয় কতবার ওঠে ফের ভেসে মন কি মাছের মতো কাঁদায় ডুবিয়ে রেখে দেহ আমিষ গন্ধ থেকে নিজেকে রেহাই দিতে পারে? ঘোলা জলে সাঁতরালে কাদামাটি লাগবেই জেনে জন্ম নিয়েছি আমি কলুষিত পৃথিবীকে মেনে।
-
-
-
-
-
আমি এক কবি হয়ে / সাইফ আলি
এক ঝাঁক শকুনেরা মানবতা গেয়ে যায় ভাগাড়ে ভাগাড়ে, যেখানে মরা গরুর মতো করে পড়ে আছে অসংখ্য লাশ; আমি এক কবি হয়ে খুঁজে ফিরি চাঁদ-তারা-সুনীল আকাশ, এক ঝাঁক সুখ পাখি আর বুনো ফুল খুঁজি পাহাড়ে পাহাড়ে। এক ঝাঁক দানবেরা বোমা মেরে উড়ে যায় পৃথিবীর বুকে, আর্তের চিৎকারে মৃত্যুর দূত যেন হিম-শিম খায়; লাশের পাহাড় দেখে ধীরে…
-
এখানে আবার স্বপ্নের রেখা টানি / সাইফ আলি
এখানে আবার স্বপ্নের রেখা টানি এইখান থেকে পথ চলা হোক শুরু পেছনে ফেরার ইচ্ছের কোরবানি হয়ে যাক আজ এই নির্জন মাঠে। এখানে আজকে ভীরুর কাব্য নয় নয় ঘুমানোর নিজ্ঝুম কালো রাত চির নিদ্রায় নিদ্রিত হোক ভয় জাগুক সাহস জীবন কাব্য পাঠে। এখানে আজকে তামাটে মাটির বুকে রেখে দিয়ে যাই সাহসী পায়ের ছাপ আমাদের চলা শুরু…
-
মন / সাইফ আলি
ফুলকে চেনো? সেই যে ফোটে হরিৎ বনে, বনের মাঝে। চাঁদকে চেনো? সেই যে ওঠে আকাশ কোণে ধূসর সাঁঝে। মনকে চেনো? বুকের খাঁচার গুপ্ত কোণে লুকিয়ে থাকে, ঘুমিয়ে থাকে, হঠাৎ জাগে নতুন কোন মনের ডাকে। হঠাৎ কোনো ঝাপটা বাতাস, সুনীল আকাশ, বন-বনানী, পাখ-পাখালি, শাপলা-শালুক, সাগর, নদী, নোনতা পানি হাতছানি দেয়, মন কেঁড়ে নেয়, সঙ্গোপনে লুকিয়ে রাখে,…
-
-
-
-
তবুও বাঁচি আশায় / সাইফ আলি
এখনো অনেক স্বপ্ন সোনালী রোদে এখনো অনেক ভালোবাসা জোছনায় এখনো আগুন প্রতিরোধে প্রতিশোধে এখনো জলেরা উত্তাল মোহনায়। হাজার বছর পরেও জোছনা রাতে পুরোনো চাঁদকে দেখেছি নতুন চোখে সকল সীমানা সময়ের সীমানাতে হোঁচট খেয়েছে তবুও বাঁচি আশায়। আমরা এভাবে রক্ত করেছি পানি আমরা এভাবে হারিয়েছি বহুবার তবুও আশায় ভুলেছি সকল গ্লানি তবুও মানুষ হেসেছে ভালোবাসায়। এখনো…
-
-
-
নগরীর পথ থেকে পথে / সাইফ আলি
নগরীর পথে পথে এখনো সে চাঁদ ঝলসানো রুটি হয়ে আছে জীবন্ত ফসিলেরা ইতিহাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়- অথচ পথের পাশে রাতের হোটেল গোশতের ঘ্রাণ ভেসে আসে; নেড়াদের ভুরিভোজে বিদেশী খাবার শোভা পায়। হাওয়ার বদল হলো বদলালো ঘড়ির ব্যাটারি চাঁদ তবু ঝলসানো রুটি শোষকের বুট-জুতো খুঁজে পেলো শোষিতের টুটি… গাছের পাতায়- ধুলো জমে জমে কতবার বর্ষার বৃষ্টিতে…
-
বটের কাব্য / সাইফ আলি
আমি এক বটগাছ যার ডালপালা শিকড়েরা ছড়িয়েছে পৃথিবীর বুকে ইচ্ছের অবয়ব তার; ছড়িয়েছে বীজ পথে প্রান্তরে পাখিদের মুখে। জলস্রোতে ভেসে ভেসে বীজ নতুন দ্বীপের বুকে নির্ভয়ে গেড়েছে আসন, প্রকৃতির বুকে দহলিজ রচেছে; তৃষ্ণার্ত পথিকের করেছে আপন। পাখিরা বসেছে ডালে ডালে পালকে চঞ্চু গুজে কেউ তারা নিয়েছে বিরাম, মৃদূ মৃদূ বাতাসের তালে দুলেছে আমার পাতা প্রকৃতির…
-
রোদেলা আকাশ আমার / সাইফ আলি
পিস্তল ঠেকালেই ভেবেছিলে হাত দুটো উঁচু হয়ে যাবে, বিবেকের বেড়াজাল ভেঙে নিভু নিভু জোনাক পালাবে। মায়া তুমি কোন দেশে বাস করো বলো সেখানে কি থাকে না মানুষ; তারাহীন অন্ধকারে সেখানে কি সারি সারি রঙিন ফানুস! হাত দুটো কেটে দিয়ে যদি ভেবে থাকো মুন্ডুহীন লাশ শুনে নাও ঝলমলে রোদে সাজবেই আমার আকাশ… পিস্তল ঠেকালেই যদি থেমে…
-
তুমি নেই / সাইফ আলি
কখনো সন্ধ্যা বেলা ঘরে ফেরা পাখিদের ভাবতে হৃদয় সমতুল, আমি শুধু ভাবতাম তোমার হৃদয়খানি কোন বাগানের ফোঁটা ফুল! আজ পাশে তুমি নেই তাইতো হারিয়ে খেই ভেবে আর পাইনা কিছুই, আমার কল্পনায় মিশে আছ তুমি তাই ছুটে চলি তোমার পিছুই। কখনো সন্ধ্যাতারা দেখে তুমি বলতে- আমিও অমন জ্বলবো, আমি শুধু ভাবতাম কিছু কথা বাকি আছে আজ…
-
বাতাসকে বলছি / সাইফ আলি
এমন করে কাঁদছো কেনো পথের ধারে তোমারও কি ঘর ভেঙেছে বৈশাখী ঝড় তুমি বুঝি চাষা ছিলে; খুড়তে জমি ঘর ছিলো কি ছনের ছাওয়া বাশের খুটি? বাতাসরে তুই এমন করে মারলি কেনো মারবি যদি সবাইকে মার; ছাড়লি কেনো পরের টাকায় পরের শ্রমে প্রাসাদ তুলে যারা থাকে? ওদের ছেড়ে চাষার টুটি- ধরলি কেনো; জানিস না তুই গরিব…
-





