খোলা জানালায় তুমি কি মায়ায় / সাইফ আলি

খোলা জানালায় তুমি কি মায়ায় বসে থাকো
চোখের ইশারায় উড়ো মেঘেদের কেনো ডাকো
আমি কালো মেঘ বর্ষা আবেগ ভরে বুকে
যদি দাঁড়িয়ে দু’হাত বাড়িয়ে যাই সম্মুখে।।

তোমার ভেজা চোখ, এলোমেলো চুল বলে কথা;
তোমার অভিমান, শত অভিযোগ, নিরবতা
ভাবায় আমায়।

তোমার চোখের ঐ অসীম শূন্যতার বলো কারণ
কোন দরজার ভাঙলে আগল হয় নিবারণ;
যদি ঝড় হই, আগল ভেঙে তোমাকে চাই?

২৮/০৮/২২

পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল / সাইফ আলি

পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল
তোর তো দুটো ডানা নেই,
গহীন বনে তার বিচরণ
সে খবর কি জানা নেই?

রূপের জালে আটকে যাওয়ার
গল্পটা ঠিক পাখির না,
গল্প পাখির প্রেম বিষয়ক
কিংবা মাখামাখির না।

এক ডালে তার মন বসে না
শুনছি নদীর কূলেও যায়,
অনেক সময় উড়াল দিয়ে
ঘরের কথা ভুলেও যায়।

সাবধান তাই পাখির প্রেমে
মোটেও যেনো পড়িসনে,
ফুটেই মহা ভুল করেছিস
আরেকটা ভুল করিসনে।

২৮/০৮/২২

তোমায় ভালোবাসি / সাইফ আলি

রাখতো এলোমেলো শব্দ পাশাপাশি
সহজে বলো, আমি তোমায় ভালোবাসি
না হয় ঘৃণা করি তবুও পায়ে ধরি
মাথাটা খেয়ো না তো করো না কাশাকাশি।

ওসব তোতলামি থাকে না বেশিদিন
বুকের বামপাশে হঠাৎ চিনচিন
ব্যথাটা বেশিদিন থাকে না চুপ করে
ক্রমেই যায় বেড়ে। তুখোড় প্রেমচাষী

হারায় আগ্রহ; হয়না বিশ্বাস?
মানিয়ে চলতেই ওঠে নাভিশ্বাস,
তায়চে ভালো হয় নীরবে কেটে পড়ো
খামাখা বাড়িও না লোকের হাসাহাসি।

তবুও দমবে না? এ প্রেম কমবে না?
তাহলে কাছে আসো, না হলে জমবে না;
তিন কবুল বলে জানাও স্বীকৃতি
বুক ফুলিয়ে বলো, তোমায় ভালোবাসি,

তোমায় ভালোবাসি, তোমায় ভালোবাসি;
খোদার রহমত ঝরুক রাশিরাশি।

প্রিয়তমা / সাইফ আলি

কতো মূল্যে তুমি খুললে তোমার মনের দরজাটা
আমি গরীব কৃষক চাষবাস করে জোটাই খরচাটা
আমার সামর্থ্য নেই তদবির করি, লেখাপড়াটাও অল্প
তাই মুখে পুরে আজও জাবর কাটছি তোমার শেখানো গল্প
প্রিয়তমা, বহুদিন হোলো খবর তো নিলে না
আসলে তুমি তো কোনোদিনই এই গরীবের ছিলে না।

শিল্পপতির কদর বুঝলে আমলার বুকে শান্তি খুঁজলে
তন্ত্রে মন্ত্রে কে তোমার চেয়ে ভালো?
প্রিয়তমা, তুমি আঁচলে তোমার বুদ্ধিজীবীও পালো!
আগে এমন তো ছিলে না,
নাকি আমিই দেখেছি ভুল,
তুমি ফেস্টুন হাতে স্লোগান তুলতে ভুখার মিছিলে না?

তুমি চায়ের চুমুকে সতেজতা পাও, তৃষ্ণা মিটাও রক্তে
যেভাবেই হোক অধিকার চাও পরিচালকের তখতে;
হাজার পুরুষ তোমার জন্য লড়াই করেই ধন্য
আমি কাপুরুষ অজপাড়াগাঁর কৃষক, খুব নগন্য!
প্রিয়তমা,
আসলে তুমি তো কোনোদিনই এই গরীবের ছিলে না।

প্রিয়তমা, তুমি পুঁজিপতিদের বিবি হতে চাও, এতে কোনো আফসোস নেই
কেনো বার বার বলো, গরীব তাতে কি! স্বপ্ন দেখতে দোষ নেই!!?
তুমি স্বপ্ন দেখিয়ে ঘুমাতে পাঠাও শস্যের গোলা লুটতে;
ইশ, কোনোদিন যদি সত্যিকারের ফুল হয়ে তুমি ফুটতে!
প্রিয়তমা…

২৭/০৮/২২

তাইরে নাইরে নাইরে / সাইফ আলি

তাইরে নাইরে নাইরে তাইরে নাইরে নাই
তাইরে নাইরে নাইরে নাইরে নাইরে নাই।

ডালপুরিতে ডাল নাই
মাথার উপর চাল নাই
আদা পেঁয়াজ আলু নাই
নাইরে মামা খালু নাই
এ চাকা ঘুরবে কেমনে
ও ভাইরে,
এ চাকা ঘুরাই কেমনে?

ঝাল মরিচে ঝাল নাই
কুমির আছে খাল নাই
রাইতে চোখে ঘুম নাই
প্রিয়তমার চুম নাই
যা আছে হাট্টিমাটিম টিম
ও ভাইরে,
দু’চোখে আজগুবি সব ড্রিম।

পকেট আছে টাকা নাই
এমন গড়ির চাকা নাই
বেকার লোকের বেল নাই
চোর ডাকাতের জেল নাই।
ট্রেন চলে ঝক ঝকাঝক ঝক
ও ভাইরে
কপালডা ফক ফকা ফক ফক।

ঘুড্ডি আছে নাটাই নাই
মগজটা খুব টাটায় ভাই
মগজ যারা দেয় ধোলাই
তারাই বসে হাটখোলাই।
সুদিনের স্লোগান কারা দেয়
ও ভাইরে,
মাদকের যোগান কারা দেয়?

হাঁড়ির পাছায় কালি নাই
বাগান আছে মালি নাই
নেতার কথায় তালি নাই
ব্যলোট তবু খালি নাই!
জীবনে ক্যামনে আনি জোশ
ও ভাইরে,
যা বলি সবাই ধরে দোষ।

২৪/০৮/২২

খুব সকালে / সাইফ আলি

খুব সকালে…
ঘর হতে বেরিয়ে আমি বাগানে গিয়ে
যেই দাঁড়ালাম শুনতে পেলাম
বন্ধুরে তোর শিস,
সেই শিসে কি বিষ!
বুকের বা’পাশ ধড়ফড় করে
চাবায় অহর্নিশ।।

দুপুর বেলা রোদের খেলা
মন জারুলের বন,
বিকেল বেলা মিষ্টি সোনা
রোদ মাখা উঠোন।।
সে মন বিষে নীল হয়েছে
তোর শিসে কি বিষ!
বুকের বা’পাশ ধড়ফড় করে
চাবায় অহর্নিশ।

গোধূলিতে রঙ তুলিতে
রঙ ভরেছে কে,
বন্ধুরে তুই সন্ধ্যা হয়ে
সবটা মুছে দে।।
তা না করে ঝাউবনে ক্যান
জোনাক জ্বালাচ্ছিস!
বুকের বা’পাশ ধড়ফড় করে
চাবায় অহর্নিশ।

ঘুম আসে না, রাত যে গভীর,
পাশ ফিরি বার বার,
জানলা গলে জোছনা জানায়
চাঁদের সমাচার।।
বিরক্তিতে খেঁকিয়ে উঠি-
খবর এনেছিস?
বন্ধুর খবর দিতে যেনো
না হয় উনিশ বিশ।

২৪/০৮/২২

চোখ খুলে তো পাইনি দেখা / সাইফ আলি

চোখ খুলে তো পাইনি দেখা চোখ বুজেছি তাই,
যা খুশি তা দেখতে এখন আর তো বাঁধা নাই।।

দেখতে পারি শশুর বাড়ি রসের হাঁড়ি আর
জানলা ধরে বসে আছে মিষ্টি বউ আমার!
দেখতে পারি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার উপর শুয়ে
কিনছি আমি গাড়ি বাড়ি বিদেশে বিভুইয়ে।।
দেখতে পারি কতো কি তার হিসেব নিকেশ নাই…

কালো টাকার পাহাড় গড়ে সেই পাহাড়ে আছি চড়ে
হুরপরীরা লাইন ধরে চাইছে নিতে জামাই করে,
রাস্তাঘাটে মুহুর্মুহু সালাম পড়ে পায়
আকাশ পাতাল এক হয়ে যায় চোখের ইশারায়।।

চোখ খুলে তো পাইনি দেখা চোখ বুজেছি তাই
ঠ্যাঙের উপর ঠ্যাঙ তুলে দি’ আরাম কেদারায়,
হালাল হারাম মেনে কি কাম ওসব কি কেউ মানে
ওসব শুধু চলছে এখন বক্তৃতা বয়ানে।।
স্বর্গ এসে দিচ্ছে টোকা সদর দরজায়…

এমন করে চোখ বুজে দিন পার করে সন্ধ্যায়
আকাশ ভেঙে পড়লো যেনো কোনখানে পালাই?
চোখ খুলেছি কান খুলেছি বাঁচার কি উপায়
সাদা কাপড় মুড়ে কেনো তুলছো খাটিয়ায়?

২৪/০৮/২২

কুয়াশায় ঢেকে গেলে দৃষ্টি / সাইফ আলি

কুয়াশায় ঢেকে গেলে দৃষ্টি
আঁধার তো নয় তবু মনে হয়
পথ ভুলে ভুল পথে হাঁটছি
ওগো রহমান বর্ষণ করো তুমি
তোমার করুণা বৃষ্টি।।

জীবনের শত চাওয়া পাওয়া
না পাওয়ার ব্যথা
ভুলতে পারি না;
তোমাকে ভুলে যাই সহজেই!
ভাবতেই কুয়াশায় ঢেকে দেয় দৃষ্টি…

সহজ পথে কতো বন্ধু জুটে যায়
কঠিন পথে প্রিয় হাতটাও ছুটে যায়
তুমি থাকো পাশে
এই বিশ্বাসে
বন্ধুর পথও পাড়ি দেওয়া যায়।
তাই সেজদায় পড়ে বার বার করে
বলি প্রভু, তোমারই তো সৃষ্টি…
আমাদের উপর বর্ষণ করো
তোমার করুণা বৃষ্টি।।

২৩/০৮/২২

কতদূর সমুদ্র নীল জলরাশি / সাইফ আলি

কতদূর সমুদ্র নীল জলরাশি
চলো যাই উদাসী ঘুরে আসি ভালোবাসি তার ঢেউ
কতদূর পাহাড় চুড়ায় কি তার মেঘ জমে আছে
আনাচে কানাচে ভিজবো পাথুরে ঝিরিতেও।।

তুমি বসে আছো জানালায়
রাজপথ মাড়াচ্ছি আমি,
সবই তো আছে এখানে
নিজেকে বুঝাচ্ছি আমি।।
তবু কেনো বুঝছে না মন,
ঠেলছে কি মন তোমাকেও?

চলো যাই বনে খুব নির্জনে
দুটো পাখি হয়ে বসে থাকি পাতার আড়ালে,
এলোমেলো হাওয়া ফুলের সুবাসে
বুক ভরে দিয়ে যাক
গভীরে নিয়ে যাক
কি হবে দুজনেই হারালে?

২৩/০৮/২২

অযথা তোমাকে আমি কথা দেবো না / সাইফ আলি

অযথা তোমাকে আমি কথা দেবো না
কথা দেবো না ফিরে আসবোই
কথা দিতে পারি ভালোবাসবোই।।

চাঁদকে ভালোবেসে চকোর পারিনি হতে
ফুলকে ভালোবেসে হৃদয়ের মূল্যতে
বাগান কিনতে আমি পারিনি
তাই বলে ভ্রমরের কাছে কভু হারিনি
মধু না পিয়েই ভালোবেসেছি
বহুবার জোছনায় ভেসেছি, সুযোগ পেলে ভাসবোই।।

আমি এক মুসাফির, সফরসঙ্গী তুমি হবে কি?
না হলেও ক্ষতি নেই একাকী চলার দায় দেবোনা,
যতদূরে যাই আমি তোমাকে ভুলে যাবো ভেবোনা,
দূর থেকে ভালো ঠিকই বাসবোই।।

২২/০৮/২২