-
-
কেউ কেউ ভান করে / সাইফ আলি
সবাই থাকে না ভালো কেউ কেউ ভান করে ভালো থাকবার কেউ কেউ ভান কোরে হাসে সবাই বাসে না ভালো কেউ কেউ ভান করে ভালোবাসবার কেউ কেউ বাসে-
-
আমার এখন ইচ্ছে করে / সায়ীদ আবুবকর
আমার এখন ইচ্ছে করে আগুন হতে- দেই পুড়িয়ে জং ধরা এই বিশ্বটাকে, শুকনো কলার পাতার মতো দেই পুড়িয়ে মেকি মানুষ, মেকি সমাজ, মেকি শহর মানুষগুলোর গায়ে বোঁটকা গন্ধ শুধু, বাতাস যেন পঁচে গেছে, গুলায় শরীর; আমার এখন ইচ্ছে করে কুসুম হতে- সুবাস দিয়ে ডুবিয়ে দিতে এই পৃথিবী আমার এখন ইচ্ছে করে ঝটিকা হই, এক ঝাপটে…
-
চিঠি / সাইফ আলি
একটা চিঠির চারটি ভাজে কষ্টগুলো বন্দি আছে চিঠির খামে ছোট্ট করে লেখা আছে সুখপাখি- বেহাত চিঠি এ-হাত ও-হাত ঘুরছে শুধু ঘুরছে সে সুখপাখিটার খবর জানে কেউ কি আছে, কেউ চেনে? কেউ জানে না, কেউ চেনে না- এই চিঠিটার প্রেরক কে? কে পাঠালো এমন চিঠি খাম খুলে তার তালাশ নে। সুখপাখিকে লেখছে চিঠি…
-
লোকটা / সায়ীদ আবুবকর
লোকে বলে, ‘লোকটা মাতাল কারণ সে আকাশপাতাল ভাবে সারাদিন; পৃথিবীর সব দেশই তার দেশ-লিবিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল কি চীন।’ লোকে বলে, ‘লোকটা কপট- লম্বা আলখাল্লা গায়ে, মাথায় সাধুর জট, মানুষের দুঃখ দেখে, সে-মানুষ স্কটিশ, মঙ্গোলিয়ান, ইরাকী, জাপানী, কপট দুচোখে তার খেলে যায় পানি। আসলে এসব আসল ক্রন্দন নয়, ক্রন্দনের অভিনয়।’ লোকে বলে, ‘ফিলিস্তিন, মিয়ানমার, লিবিয়া,…
-
জাদুর শহর / সাইফ আলি
শহরটা ঠিক জাদুর শহর দালানকোঠা কিচ্ছু নেই কলের চাপায় ভাপসা গরম সাপ-পোকা বা বিচ্ছু নেই। গাড়ির চাকা থমকায় না থমকাবে কি গাড়িই নেই চোর ডাকাতের খোঁজ মেলে না তাইতো পুলিশ ফাড়িই নেই। কর্পোরেশন কেউ চেনে না তাবেদারির বালাই নেই, কোর্ট-কাচারি বেকার বসে যার যেটা নিজ চালায় সেই। পকেট কাটার মন্ত্র পড়ে কেউ এখানে বাস করে…
-
অভিমান / সাইফ আলি
আম্মু বলে দুষ্টু তুমি তোমাকে আর নেবো না, আমি বলি আমাকে আর ছোট্ট খোকা ভেবো না। আম্মু বলে, তাই নাকি রে! থাক তাহলে একলা ঘর; যাচ্ছি আমি বাবার বাড়ি সব কিছু তুই নিজেই কর। আমি বলি- যাও না খুকি তোমাকে আর রাখবো না, নানুর বাড়ি গিয়ে আমি আম্মু বলে ডাকবো না।
-
একান্ত বাক্যেরা-০৯ / সাইফ আলি
তোমরা যেখানে মুছেছো ক্লান্ত তুলি সেখানে আমার চোরা ক্যানভাস পাতা তোমাদের সব ক্লান্তির রঙ মেখে রঙিন আমার জীবনের খেরো খাতা।
-
ভোলা আর মন / সাইফ আলি
ভোলা বলে খোলা হয়ে গেলে আজ আকাশের বুক অর্ধেক সুখ তুই নিস আর অর্ধেক টুক রেখে দিস থাল ভরে, দেখা যদি হয় কোনো দিন ফের বকুলের চত্তরে মেখে নেবো সারা গায়। মন বলে ততক্ষণ যদি কেউ লুটে নিয়ে যায় সুখের বকুল খুব ভোরে এসে খুটে নিয়ে যায়? ভোলা আর মন চিন্তিত মুখে খুলছে আকাশ যেখানে…
-
কবি / সাইফ আলি
ঠিকানা জানি না বন্ধু তাই দ্বিধাহীন পথ চলি, কষ্টের ছেড়া চটি পায় তবু সুখ সুখ কথা বলি। জীবন জানে না কাব্য কোনো ছন্দ-মাত্রা-মিল, হৃদয়ের চৌরাস্তায় তবু খুঁজি সেই মঞ্জিল। ঠিকানা জানি না বন্ধু নেই হারানোর দায়ভার, হৃদয়ের সাথে লেনদেন করি কবিতার কারবার।
-
বিচারপতির বিচার / সাইফ আলি
বিচারপতি হাকিম তুমি মর্জিমতো বিচার করো ন্যায় বিচারের তকমা দিয়ে রিমান্ডে দ্যাও পক্ষকালিন তোমার বিচার তোমার হাতে থাকবে তো ঠিক ঘামাও মাথা। কাঠগড়াতে যেদিন তোমার সকল রায়ের বিচার হবে সাক্ষ্যি হবে তোমার দু’হাত, তোমার দু’ঠোঁট, দু’চোখ তোমার। বিচারপতি উপর তলার ফোন পেয়ে যে পল্টি দিলে চোর যে ব্যটা আজাদ হলো, সত্য হলো মিথ্যে নথি খুনের…
-
একান্ত বাক্যেরা-০৮ / সাইফ আলি
পলাশের কাছ থেকে রঙ করে ধার সাদা ক্যানভাস আমি সেরেছি আহার পাতাবাহারের সাথে মিললো না তাই ক্যাকটাস বনে বাধি প্রিয় সংসার।
-
-
বারান্দা নির্বাক / সাইফ আলি
বারান্দা নির্বাক গোলাবের টবে এক ফুটেছিলো জুঁই গামছাটা ভেজা ছিলো আর ছিলো মেঘেদের শাদাশিদে ভুঁই। ঠান্ডা বাতাস ছিলো দুটো কাক বসে ছিলো সামনের ছাদে হঠাৎ কোকিল এলো কিছুক্ষন বাদে। কাকের যে বাসা ছিলো এটাওটা ঠাসা ছিলো আর ছিলো বেওয়ারিশ কোকিলের ছাও; পারো যদি এর সোজা সমাধান দাও। ফল ছিলো জল ছিলো, চেতনার তল ছিলো? না…
-
একটা ধুসর খাতা / সাইফ আলি
যদি মেঘ হয়ে যায় খাতা রঙধনু এক ছবি, বৃষ্টিরা হয় পাতায় পাতায় কাব্য না হয় কবি। তালপাতা হয় বাবুই পাখির ভিটে, একটা বাবুই আমিই হলাম আরেকটা তুই খুব সহজেই যাচ্ছে তো বেশ মিটে। যদি, ঝড়ের বাতাস তুই হয়ে যাস হলাম ঝরা পাতা, উড়াবি তুই, উড়বো আমি একটা ধুসর খাতা।
-
স্বপ্নকে তুই সাজাস কেমন কোরে / সাইফ আলি
স্বপ্নকে তুই সাজাস কেমন কোরে? ওসব আমার গোলমেলে যায় কঠিন ঘুমের ঘোরে। চাঁদটাকে তুই বন্ধু বলিস তারার সাথে আড্ডা জমাস অন্ধকারেও রাস্তা চলিস কেমন কোরে? চেষ্টা করেও গত ছ’মাস চাঁদ হলো না বন্ধু আমার তারাগুলো আকাশ-জামার বোতাম হয়ে আটকে দিলো কল্পলোকের দ্বার সকল প্রয়াস বন্ধ এখন স্বপ্ন সাজাবার। স্বপ্নকে তুই কেমন কোরে সাজাস কেমন কোরে…
-
অন্ধকার হ’য়ে গেল পৃথিবীটা / আল মুজাহিদী
(হিরোশিমা : আগস্ট ১৯৪৫) অন্ধকার হ’য়ে গেলো অন্ধকার হ’য়ে গেলো পৃথিবীটা এই গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে গেলো মানুষের মুখ তবুও উন্মুখ আলোকণা জন্ম নেয়- এই মৃত ভস্মাধারে। আগুনের ঝাঁজরা পোড়া মানুষের করোটি-রা পড়ে থাকে প্রদোষের নিচে এখনো দিগন্ত লাল বেলাভূমে ছায়া নামে ‘নিসিকি’ সী-বীচে। হিরোশিমা কাঁপে। কেঁপে ওঠে বারবার। সভ্যতাও ফ্যালে অশ্রুজল; নায়াগ্রার প্রপাতের চেয়ে, আহা!…
-
কবিতার ভাঁড় আর / আবুল হাসান
এইবার খুব কষে ডুগডুগি বাজাবো বাঁদর নাচো তো দেখি, ভাল্লুক তুমিও রামছাগলটা সঙ্গে থাকলে খুব মজা হতো চামড়া খুলে তবে তাকে বাজারে ছাড়তাম। একলাফে মগডালে যেতে কষ্ট হয় না একেবারে কেবল পায়রাগুলো যদি পাকা হতো, তাই বা কি কোরে হয়, নগ্ন দেহ ঢাকবো কী দিয়ে? নতশিরে স্বপ্নের ভিতর দিয়ে হেঁটে চলে যাবো? আটখানা ঘরশুদ্ধ বিরাট…
-
যারা পাথরের মতো বাঁচে / সায়ীদ আবুবকর
যারা পাথরের মতো বাঁচে নিঃসাড় নিশ্চুপ; ন্যায়-অন্যায় যাদের কাছে একই রকম; যারা সত্য ও মিথ্যায় দ্যাখে না বিভেদ; যারা কেবলি বাঁচতে চায় নিরাপদে, দুর্গন্ধে, ছুঁচার মতো নির্ঝঞ্জাট; যারা সবখানে থাকে ভালো কারণ তাদের করায়ত্ত সব জাদু, আর তারা জানে সমস্ত নোংরামি জগতের; তাদের সান্নিধ্য থেকে আমি পানাহ চাই শুধু আজ- আমার অস্তিত্ব থেকে তাদের সংস্পর্শ…
-
হৃদয় মানেনি তাকে / সাইফ আলি
হৃদয় মানেনি তাকে তাই আজ বিদ্রোহী চোখ মুখ নোখ বিদ্রোহী হাত, হৃদয় মানেনি তাকে তাই আজ উড়ু উড়ু পক্ষির জাত। কেউ কেউ মেনেছিলো- ক্ষুধার্ত পেট কাঙাল দু’চোখ নির্বোধ হাত আর পা মস্তিষ্কের কিছু লোভী চেতনা। কিন্তু হৃদয় শুধু বেয়াড়া বালক হঠাৎ হঠাৎ বসে বেঁকে, ক্রমেই সে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে যেই বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সমগ্র কোষ।