• পাগলটা / সাইফ আলি

    দারুণ মজার খবর না! ঐ পাশের ঐ কবর না আমার তোমার মামার না চাচার কিংবা খালুর না!! আধেক রাতে পাগলটা যে ঘুম ভাঙাতো, ছাগলটা যে মরেছে বেশ ভালোই হলো ঘুম হবে খুব জবর না!!? পাগলটা না হঠাৎ রাতে বলতো- ‘নিলো সব ডাকাতে, মরবি এবার ডাল কি ভাতে মিথ্যে কোনো খবর না, ঘুমের ঠেলায় নাভির নিচে…


  • জাদুর শহর / সাইফ আলি

    শহরটা ঠিক জাদুর শহর দালানকোঠা কিচ্ছু নেই কলের চাপায় ভাপসা গরম সাপ-পোকা বা বিচ্ছু নেই। গাড়ির চাকা থমকায় না থমকাবে কি গাড়িই নেই চোর ডাকাতের খোঁজ মেলে না তাইতো পুলিশ ফাড়িই নেই। কর্পোরেশন কেউ চেনে না তাবেদারির বালাই নেই, কোর্ট-কাচারি বেকার বসে যার যেটা নিজ চালায় সেই। পকেট কাটার মন্ত্র পড়ে কেউ এখানে বাস করে…


  • অভিমান / সাইফ আলি

    আম্মু বলে দুষ্টু তুমি তোমাকে আর নেবো না, আমি বলি আমাকে আর ছোট্ট খোকা ভেবো না। আম্মু বলে, তাই নাকি রে! থাক তাহলে একলা ঘর; যাচ্ছি আমি বাবার বাড়ি সব কিছু তুই নিজেই কর। আমি বলি- যাও না খুকি তোমাকে আর রাখবো না, নানুর বাড়ি গিয়ে আমি আম্মু বলে ডাকবো না।


  • একান্ত বাক্যেরা-০৯ / সাইফ আলি

    তোমরা যেখানে মুছেছো ক্লান্ত তুলি সেখানে আমার চোরা ক্যানভাস পাতা তোমাদের সব ক্লান্তির রঙ মেখে রঙিন আমার জীবনের খেরো খাতা।


  • ভোলা আর মন / সাইফ আলি

    ভোলা বলে খোলা হয়ে গেলে আজ আকাশের বুক অর্ধেক সুখ তুই নিস আর অর্ধেক টুক রেখে দিস থাল ভরে, দেখা যদি হয় কোনো দিন ফের বকুলের চত্তরে মেখে নেবো সারা গায়। মন বলে ততক্ষণ যদি কেউ লুটে নিয়ে যায় সুখের বকুল খুব ভোরে এসে খুটে নিয়ে যায়? ভোলা আর মন চিন্তিত মুখে খুলছে আকাশ যেখানে…


  • কবি / সাইফ আলি

    ঠিকানা জানি না বন্ধু তাই দ্বিধাহীন পথ চলি, কষ্টের ছেড়া চটি পায় তবু সুখ সুখ কথা বলি। জীবন জানে না কাব্য কোনো ছন্দ-মাত্রা-মিল, হৃদয়ের চৌরাস্তায় তবু খুঁজি সেই মঞ্জিল। ঠিকানা জানি না বন্ধু নেই হারানোর দায়ভার, হৃদয়ের সাথে লেনদেন করি কবিতার কারবার।


  • বিচারপতির বিচার / সাইফ আলি

    বিচারপতি হাকিম তুমি মর্জিমতো বিচার করো ন্যায় বিচারের তকমা দিয়ে রিমান্ডে দ্যাও পক্ষকালিন তোমার বিচার তোমার হাতে থাকবে তো ঠিক ঘামাও মাথা। কাঠগড়াতে যেদিন তোমার সকল রায়ের বিচার হবে সাক্ষ্যি হবে তোমার দু’হাত, তোমার দু’ঠোঁট, দু’চোখ তোমার। বিচারপতি উপর তলার ফোন পেয়ে যে পল্টি দিলে চোর যে ব্যটা আজাদ হলো, সত্য হলো মিথ্যে নথি খুনের…


  • একান্ত বাক্যেরা-০৮ / সাইফ আলি

    পলাশের কাছ থেকে রঙ করে ধার সাদা ক্যানভাস আমি সেরেছি আহার পাতাবাহারের সাথে মিললো না তাই ক্যাকটাস বনে বাধি প্রিয় সংসার।


  • যোদ্ধার প্রতি / সাইফ আলি

    তোর রক্তে কিসের গন্ধ তুই খেয়েছিলি কোন বীষ, তার কিছুটা আমাকে দিস।


  • বারান্দা নির্বাক / সাইফ আলি

    বারান্দা নির্বাক গোলাবের টবে এক ফুটেছিলো জুঁই গামছাটা ভেজা ছিলো আর ছিলো মেঘেদের শাদাশিদে ভুঁই। ঠান্ডা বাতাস ছিলো দুটো কাক বসে ছিলো সামনের ছাদে হঠাৎ কোকিল এলো কিছুক্ষন বাদে। কাকের যে বাসা ছিলো এটাওটা ঠাসা ছিলো আর ছিলো বেওয়ারিশ কোকিলের ছাও; পারো যদি এর সোজা সমাধান দাও। ফল ছিলো জল ছিলো, চেতনার তল ছিলো? না…


  • একটা ধুসর খাতা / সাইফ আলি

    যদি মেঘ হয়ে যায় খাতা রঙধনু এক ছবি, বৃষ্টিরা হয় পাতায় পাতায় কাব্য না হয় কবি। তালপাতা হয় বাবুই পাখির ভিটে, একটা বাবুই আমিই হলাম আরেকটা তুই খুব সহজেই যাচ্ছে তো বেশ মিটে। যদি, ঝড়ের বাতাস তুই হয়ে যাস হলাম ঝরা পাতা, উড়াবি তুই, উড়বো আমি একটা ধুসর খাতা।


  • স্বপ্নকে তুই সাজাস কেমন কোরে / সাইফ আলি

    স্বপ্নকে তুই সাজাস কেমন কোরে? ওসব আমার গোলমেলে যায় কঠিন ঘুমের ঘোরে। চাঁদটাকে তুই বন্ধু বলিস তারার সাথে আড্ডা জমাস অন্ধকারেও রাস্তা চলিস কেমন কোরে? চেষ্টা করেও গত ছ’মাস চাঁদ হলো না বন্ধু আমার তারাগুলো আকাশ-জামার বোতাম হয়ে আটকে দিলো কল্পলোকের দ্বার সকল প্রয়াস বন্ধ এখন স্বপ্ন সাজাবার। স্বপ্নকে তুই কেমন কোরে সাজাস কেমন কোরে…


  • হৃদয় মানেনি তাকে / সাইফ আলি

    হৃদয় মানেনি তাকে তাই আজ বিদ্রোহী চোখ মুখ নোখ বিদ্রোহী হাত, হৃদয় মানেনি তাকে তাই আজ উড়ু উড়ু পক্ষির জাত। কেউ কেউ মেনেছিলো- ক্ষুধার্ত পেট কাঙাল দু’চোখ নির্বোধ হাত আর পা মস্তিষ্কের কিছু লোভী চেতনা। কিন্তু হৃদয় শুধু বেয়াড়া বালক হঠাৎ হঠাৎ বসে বেঁকে, ক্রমেই সে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে যেই বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সমগ্র কোষ।


  • বিপ্লবী মেঘ চাই / সাইফ আলি

    আমাদের জীবনের কোলাহলে হঠাৎ মৃত্যু এসে আসর জমায় তরতরে বেড়ে ওঠা কচি লাউডাটে ফ্যাকাসে করুণ কিছু মৃত্যুর ছায়া আমরা কাঁদি না তাতে কান্নায় ভিজবে না মাটি বিপ্লবী মেঘ চাই, চাই কিছু বর্ষার ঢল। সরিসার খেতজুড়ে দাউ দাউ আগুনের শিখা খড়ের চালায় বসে তড়পায় নীলাক্ষি কাক বুড়ো বটে বসে কিছু ক্ষুধার্ত কালের শকুন ভাগাড়ে ভাগাড়ে করে…


  • জানলে না শুধু / সাইফ আলি

    তুমি দেখেছিলে কিভাবে একটা তারা জ্বলতে জ্বলতে নিষ্প্রভ হয়ে যায়, কিভাবে আহত পাখিটা হঠাৎমাটিতে পড়লো শুয়ে কিন্তু দেখনি কিভাবে কৃষক ঘাম ছুড়ে ফেলে নরম মাটিতে জীবনের বীজ রুয়ে। তুমি দেখেছিলে ছত্রভঙ্গ মিছিলের ছুটোছুটি কিন্তু দেখনি আহত গোলাব বুলেটে-বারুদে মাখামাখি করে কিভাবে মাতায় কালো পিচঢালা পথ আর খুন সেই গোলাবের বুক চুয়ে কিভাবে রাঙায় আগামীর ফেস্টুন।…


  • অদ্ভুত কথাগুলো তোর / সাইফ আলি

    অদ্ভুত কথাগুলো তোর শান্তির কপোতেরা পতপত উড়ে যাবে শাদাশিদে বুকের ভিতর আর কিছু স্বপ্নের অনুদানে বড় হবে আমাদের তকতকে আশার চারাটা! তোর চোখে বোকা বোকা চাহনির ভীড়ে স্বাধীন যে পাখিগুলো ডানা ঝাপটাতো তাদের প্রতিটা নীড়ে নতুন ছায়ের কিচিরমিচির ডাক আমাদের মুগ্ধতা গিলে খায়; অদুভুত চোখ তোর, নীলাকাশ, ঝাওবন, কখনো নদীর মতো চঞ্চল জলাধার! এতোসব শীতল…


  • ওসব নিয়ে ভাবতে নেই / সাইফ আলি

    ‘ওসব নিয়ে ভাবতে নেই নোংড়া জলে নাবতে নেই বস্তিপাড়ায় যাসনে খোকা ওসব নিয়ে ভাবতে নেই। বস্তিতে সব চোর থাকে পাগল মাতাল খোর থাকে ছোটোলোকের ঝুপড়ি ঘরে নানান পদের ঘোর থাকে।’ বড়লোকের ননির পুতুল চোরের ঘরে যায় না আর, দুঃখ শুধু বড়চোরের বিলাসঘরেই জন্ম তার।


  • সাহস থাকে মুখ খোলেক / সাইফ আলি

    সাহস থাকে মুখ খোলেক ভয় করে তো হাত তোলেক স্যারেন্ডারের ভঙ্গিতে সামান্যতেই রূপ নেওয়া খুব সহজ এখন জঙ্গিতে। কালির দোয়াত বোম হয়ে যায় মুখের দাড়িই জম হয়ে যায় কম হয়ে যায় জেলের মেয়াদ নগদ কিছু উপরিতে ভাগ্য যদি খারাপ থাকে বুলেট চুমায় খুপড়িতে। আর যদি তুই আল্লা ডাকিস পাল্লা দিয়ে বাড়বে নাম, ছাওয়ালডা তো ভালোই…


  • একান্ত বাক্যেরা-০৭ / সাইফ আলি

    তুমি আসলেই কবি হয়ে যাই সত্যি তুমি আসলেই হয়ে যাই কেউ অন্য কবিতা তোমার জন্য…


  • একান্ত বাক্যেরা-০৬ / সাইফ আলি

    কিছু অর্থশূন্য কথায় কিছু চোরাদৃষ্টির ফাঁকে, এক জীবনের ঘনিষ্ঠতর চাওয়া পাওয়া বেঁচে থাকে।