গাছের পাতা ফুল পাখিরা গাইছে তোমার গান / সাইফ আলি

গাছের পাতা ফুল পাখিরা গাইছে তোমার গান
তোমার নামের জিকির তুলে ঝর্ণা বহমান…

অসীম আকাশ তোমায় ডাকে
তোমায় ডাকে লক্ষ্য তারা
তোমার ডেকে ডেকে জানি
পাথর পাহাড় পাগলপারা।।
তবুও আমার ডাকে সাড়া
দিচ্ছ রহমান!

অপরাধের বসলে (করলে) বিচার
জানি সেদিন পাবো না পার,
সুপথ দেখাও ক্ষমা করো
চাইনা কিছু আর।
গাছের পাতা ফুল পাখিরা গাইছে গান তোমার…

মরুর ধুলো তোমায় ডাকে
তোমায় ডাকে শ্রাবণধারা,
যে মন কেবল সমর্পিত
সেই বোঝে সকল ইশারা।।
সমর্পণের সুযোগ কোরে দাওগো রহমান।

২০/০১/২৩

জানালার কাচ ঘেঁষে শহরটা ছুটছে / সাইফ আলি

জানালার কাচ ঘেঁষে শহরটা ছুটছে
পেপারের বুকে পিঠে নানা ফুল ফুটছে
কোনো ফুলে ঘ্রাণ নেই প্রাণ নেই কোনোটার
ডাস্টবিন ঘেঁটে চলে কাকেদের সংসার।

কোনো এক কালো কাক চুপচাপ নির্বাক
দেখে বন্ধুরা সব পোরে ময়ূর পোশাক
করে হৈ হুল্লোড়, কার কতোটুকু দৌড়
নখদর্পনে তার তবু কি চমৎকার
সেও মিথ্যে মায়ার জালে আটকে থাকে
নেই তাড়াহুড়া তার কোনো সত্যে ফেরার।

এই শহর ঢাকায় যারা পিষ্ট চাকায়
তারা ধুলোর পিঠেই নাকি স্বপ্ন আঁকায়
তারা স্বপ্ন আঁকায় কালো ধুসর শাদায়
আর জীবনটা পার করে গোলোক ধাঁধায়!
যেনো শামুকের শুঁড় ছুঁয়ে দেখতে আকাশ
চাঁদের আলোয় ভিজে চালায় প্রয়াস;
যেনো আকাশটা হতে হতে হচ্ছেনা তার!

শত সহস্র মোড় ঘুরে কাটছে না ঘোর
ঢাকা মায়ার শহর আলো ছায়ার শহর,
এই শহর ঢাকা মানে
জনতার জটলায় একলা থাকা;
মানে একলা খাঁচা
একলা খাঁচায় ঢুকে একলা বাঁচা;
একাকিত্বেই টানা উপসংহার।

এই শহর ঢাকায় ওড়ে রঙিন ধুলো,
পোড়ে স্বপ্নগুলো কালো উন্নয়নে
খুব সঙ্গোপনে কেউ সব গিলে খায়
কালো পিচের উপর লাল গোলাপ ফোটায়,
কেউ গোলাপ ফোটায়, কারো বজ্র স্বরে
ক্ষমতার মসনদে কাঁপন ধরে।
চলে এই শহরে ভালো থাকার লড়াই
কালো টাকার লড়াই, তবু সুখ অধরাই
থেকে যায় বার বার।

৩১/১২/২২

কাছাকাছি কেউ তুলেছিলো ঢেউ / সাইফ আলি

কাছাকাছি কেউ তুলেছিলো ঢেউ আমরা দিইনি সাড়া
তার পাশে গিয়ে কণ্ঠ মিলিয়ে সারিতে হইনি খাড়া;
এ ঘন আঁধার এনেছি আমরা কিনে
সে পথের দায় কিভাবে এড়াবো যে পথ ধরেছি চিনে?

নিচু হয়ে গেছে মাথা আজ খুব নিচু হয়ে গেছে স্বর
মরণ ব্যধিতে গিলেছে গোটাই আমরা মেপেছি জ্বর
হাসি হাসি মুখে প্রতিদিন ডুব দিয়েছি অথৈ ঋণে।

সত্য গোপন করতে করতে মিথ্যার ছায়াতলে
বিবেকের দাহে পুড়েছি গোটাই কি ভীষণ রোষানলে
আজ বিকিয়ে সকল সুখ সম্ভার ভাঙবোই নিরবতা
কেউ না শুনুক চিৎকার করে নিজেকে শোনাবো কথা-
কি হবে জীবন লুকিয়ে বন্ধু জীবনের দুর্দিনে?

২৫/১২/২২

মেঘেদের মতো তুমি গাও সেই গান / সাইফ আলি

আর মেঘেদের মতো তুমি গাও সেই গান
অঝোর ধারায় হোক বর্ষণ ফের
জীবনের ছোঁয়া পেয়ে জাগুক মিছিল
এখনো অনেক পথ বাকি আমাদের।।

তুমি কি কাতর পাখি ডানার ব্যথায়
জমিনে তোমার কোনো অবসর নেই,
তুমি কি পুড়ছো একা ভাবছো এমন
হাজারো সঙ্গী পাবে হাত বাড়ালেই।।
তুমি কি চাওনা ছায়া বলো আরশের?

সীমাহীন সুখ নিয়ে পৃথিবীতে কেউ
আসেনি, কখনো জানি আসবেও না,
কাটার আঘাত পেয়ে পুড়ালে বাগান
সেখানে গোলাপ কুড়ি হাসবেও না।।
তুমি কি ভুলেছো প্রিয় ছন্দ পথের?

১৩/১২/২২

প্রজাপতি তুমি উড়ে যাও / সাইফ আলি

প্রজাপতি তুমি উড়ে যাও এই শহরে তোমার কাজ নেই,
ফুলের বাগান, পাখিদের গান, দুর্বার কারু ভাঁজ নেই।।

এই ধুসর শাড়ির আঁচল পুড়েছে কালো কালো ফুল সুখে
এরা স্বার্থনীতির ঢেঁকিতে পিষেছে হৃদয় তৃপ্ত মুখে,
সুদের টাকায় দুধের বাটিতে ঝুঁকেছে দুচোখ বুঁজে!
প্রজাপতি তুমি প্রশান্তি চাও? এখানে পাবে না খুঁজে।
এই জমাট আঁধার কাটবে কখন তারও কোনো আন্দাজ নেই।

এখানে ভীষণ যান্ত্রিক মন অতিথি সেবার চল নেই
টাকার কুমির অথচ এদের কারো কোনো সম্বল নেই;
বাতাসে এদের বয়স বাড়ছে হুতোসে বাড়ছে দুঃখ
পৃথিবীর বুকে কোনোভাবে যেনো বেঁচে থাকাটাই মুখ্য।
এই ব্যস্ত শহর একাকী ভীষণ, এখানে তোমার কাজ নেই।

০৫/১২/২২

কেউ বেচে দেয় বুকের জমিন / সাইফ আলি

কেউ বেচে দেয় বুকের জমিন কেউ বেচে দেয় ঘর
কেউ বেচে দেয় দেশ জনগণ কেউ ব্যাচে অন্তর
বেচে কিনে কেউ ধনী হয় কেউ হয়ে যায় দাস
কেউ লেখে নেয় দলিল করে নিজের সর্বনাশ।।
আমি বেচবো কিছু, করবো সদায় নিত্য প্রয়োজন
প্রভু, তোমার হাতেই রেখো এ মনঘুড়ির নিয়ন্ত্রণ।

দুখের হাটে সুখ ব্যাচে কেউ, সুখের হাটে দুখ!
অন্ধকারে মগজ বেচে আলোয় ব্যাচে মুখ!!
সই ব্যাচে কেউ, মই ব্যাচে কেউ, কেউ বেচে দেয় নাও;
শহর ব্যাচে নগর ব্যাচে, ব্যাচে সবুজ গাও!
আমি বেচবো কিছু, করবো সদায় নিত্য প্রয়োজন
প্রভু, তোমার হাতেই রেখো এ মনঘুড়ির নিয়ন্ত্রণ।

মন ব্যাচে যে শরীর ব্যাচে, ব্যাচে সখের ফুল
কেউ চেনে না তারে; সবাই বাঁধায় হুলুস্থুল
একটু দামে বেচলে পুটি কিংবা পাঙাশ, কই!
বুদ্ধিজীবী বিবেক বেচে কিনতে পারে বই!
আমি বেচবো কিছু, করবো সদায় নিত্য প্রয়োজন
প্রভু, তোমার হাতেই রেখো এ মনঘুড়ির নিয়ন্ত্রণ।

০৪/১২/২২

লাল ঘুড়ি কয় উড়ি উড়ি / সাইফ আলি

লাল ঘুড়ি কয় উড়ি উড়ি
নীল ঘুড়ি কয়- না না,
উড়তে গিয়ে সুতো কাটার
দুঃখ আমার জানা।
সবুজ ঘুড়ির সবুজ বুকে
স্বপ্ন বাঁধে দানা…
পাহাড় চুড়োয়, মেঘের দেশে
গাড়তে চায় আস্তানা।।

ঘুড়ি ঘুড়ি মানুষ ঘুড়ি
ফানুস ঘুড়ি পোড়ায় পুড়ি,
যেই ঘুড়িটার বয়স কুড়ি
সে মানে না মানা;
পাহাড় চুড়োয়, মেঘের দেশে
গাড়তে চায় আস্তানা।।

পাখির ডানা নাই রে ঘুড়ির
পাখির ডানা নাই,
তার আকাশেই উড়বে ঘুড়ি
যার হাতে নাটাই।

চিলে ঘুড়ি বাক্স ঘুড়ি, ঘুড়ির কতো রূপ
কাটলে সুতো বুকের জমিন নিথর নিশ্চুপ;
যতই উঠুক উঁচুতে তার নেইতো পাখির ডানা
নাটাই সুতোয় বাঁধা ঘুড়ির সীমিত সীমানা।।

০৩/১২/২২

আমি রাখবো না ধরে আমার শহরে / সাইফ আলি

আমি রাখবো না ধরে আমার শহরে
উড়ে যাও পাখি উড়ে যাও,
তুমি ভীরু পায়ে কেনো জানালায় এসে
প্রেমিকের মতো পুড়ে যাও!?
বিশ্ববাজারে মন্দা ভীষণ সস্তায় প্রেম বিকোনা
মার্কেট ভ্যালু আমলে না নিয়ে গান টান জেনো শিখোনা
শিখলে সে গান সেধো না এখানে, দূরে যাও পাখি দূরে যাও-
ভীরু পায়ে কেনো জানালায় এসে
প্রেমিকের মতো পুড়ে যাও!

বাতাসে এখন বারুদ ভীষণ
যেদিকে তাকাও পুড়ে যাওয়া বন
তবু অকারণ কেনো পাখি তুমি আসলে?
তুমি হারাবে তোমার পালকের রঙ এ শহর ভালোবাসলে;
পাখি, বুক পেতে আছি, নখরে তোমার পারলে পাথর খুঁড়ে নাও।

৩০/১১/২২

এসোনা বন্ধু কিছু পথ আজ / সাইফ আলি

এসোনা বন্ধু কিছু পথ আজ পাড়ি দিই একসাথে
কিছুটা আলাপ সেরে নেয়া যাক তুমি আমি মুখোমুখি
সময়ের ধুলো জমেছে পাতায় এসোনা বৃষ্টি আনি
মেঘ জমতেই কেনো হও তুমি দুঃখী?

ধুয়ে মুছে যাক কবিতার কালি, বুকের ডায়েরি খোলো
এসোনা বন্ধু নিরবতা ভাঙি, বেলাতো অনেক হোলো;
পরষ্পরের পেয়ালায় আজ না হয় কিছুটা ঝুঁকি-

কেবল ফুলেই বাগান রচনা হয়নি তোমার জানি
হয়না কারোরই একলাই কেনো বইবে কাঁটার গ্লানি;
এসো আজ কিছু বুনো ফুল তুলি, বুনো সুখে হই সুখী।

৩০/১১/২২

যে জীবন নদীর মতো বইতে জানে / সাইফ আলি

যে জীবন নদীর মতো বইতে জানে
সে জানে পলির ব্যথা, পাড়ের কথা;
যে জীবন শহর জানে পল্লী জানে
সে জানে গলির খবর, সবুজ আশার চঞ্চলতা।

যে রাখে হাঁড়ির খবর তার সহচর দুঃখ নাকি?
খোঁজে সব সুখ নামের এক হলুদ পাখি
যে পাখি আড়াল থেকেই ডাক দিয়ে যায় ঘর বাঁধে না;
জীবনের সহজ গানে ক্যান সে পাখি সুর সাধে না?

যে জীবন জল টলমল দীঘির পানি
না থাকুক তার জীবনে স্রোত হারানোর নিঠুর গ্লানি
না দাসী না সে রাণী, রাজ্যে সে এক গরীব চাষি
সে নীরব, শান্তিপ্রিয়, স্বল্পভাষী;
স্বভাবে ঠিক যেনো সে কলমিলতা।

২৯/১১/২২