ফেরি করে সুখ কিনেছি অসুক / সাইফ আলি

ফেরি করে সুখ কিনেছি অসুক কিনেছি অনেক দামে
অট্টালিকার দলিল লেখেছি প্রজাপতি তোর নামে
তবু কেনো তুই ডানায় রাখিস ভর
প্রজাপতি তোর লাগবে না বুঝি ঘর?

প্রজাপতি তোর মন খারাপের দিনে
আমি অনেক অনেক গোলাপ আনবো কিনে!
আর যদি সুখ বৃষ্টিতে আসে জ্বর
চোখের ওপরে ঘন হয়ে ওঠে সর
প্রজাপতি তুই বুঝে নিস তোর ঘর।।

এতো আয়োজন বিফলে যাবে কি সব
শুনবি না তুই আত্মার কলরব?

প্রজাপতি তোর মখমল-ডানা মেলে
উড়ছিস তুই, আহা! কি ভীষণ ওড়া!
কোনোদিন যদি ভুল করে ফিরে আসিস
পেয়ে যাস এই শুনকো ফুলের তোড়া!
সেদিন কি তোর কাপবে গলার স্বর?

১৫.০৫.২০
(উৎসঙ্গে প্রকাশিত)

আঁধারে খুঁজতে ছায়া / সাইফ আলি

আঁধারে খুঁজতে ছায়া
হায় নিজেকে হারিয়ে বসে আছি,
বিপরীত স্রোতে ভেসে ভেসে
কিভাবে যাওয়া যায় কাছাকাছি?

আলোয় আলো এলো
তবুও এলোমেলো
ভাবনা নিয়ে গেলো দূরে,
পেলো না মধু মৌমাছি।।

কে যেনো মিহি সুরে
গাইছে রোদ্দুরে-
মেঘে মেঘে বেলা গেলো
গেলো সে ফিরে এলো না
আলোর দেখা পেলো না!

ভাঙলো ভুল হায়
গোধুলি এ বেলায়
তোমার দিকে চেয়ে আছি।।

১৫.০৫.২০
(উৎসঙ্গে প্রকাশিত)

সত্যের সন্ধানে ছুটে চলে যে / সাইফ আলি

সত্যের সন্ধানে ছুটে চলে যে
বিপদের মুখোমুখি হক বলে যে
তার হাত ধরে হোক আমার সকাল
তার সাথে হাটা যায় অনন্তকাল।।

যার চোখে প্রজাপতি স্বপ্নের দল
যার মুখে জেগে ওঠে রোদ ঝলমল
তার পায়ে পা মিলিয়ে সামনে চলি
আসুক যতই বাধা, ঢেউ উত্তাল।।

আছে কি তোমার কোনো বন্ধু এমন
যার আছে জ্ঞান আর সুন্দর মন।

লালশার কাছে যে পরাজিত হয়
মিথ্যার সাথে যার নিত্য পরিণয়
তার সাথে ওঠাবসা তার সাথে মিল
খুলে দেয় ভুল শত দরজার খিল।।
তাকে যদি বন্ধু করো, পুড়বে কপাল।

১৪.০৫.২০
(উৎসঙ্গে প্রকাশিত)

কেনো আজ এই চাঁদ / সাইফ আলি

কেনো আজ এই চাঁদ
জোসনার ফুল হাতে
নগরের চোখে মুখে
ছিটালো বিষাদ?
কেনো ‘মৃত্যু’ শিরোনামে এলো সংবাদ…

নতুন চাঁদে আজ নামলো যে ঈদ
সে ঈদের চোঁখে মুখে হতাশার ছাপ,
আমলের ঝুড়ি হাতে দাঁড়াতে পারবো না
জমে আছে পাপ আর পাপ।
নগরের বুকে পিঠে পাপেরই আবাদ!!

গাফফার তুমি প্রভূ তুমিই মালিক
ক্ষমা করে দাও আমাদের,
দাও ফিরিয়ে হাসি বাঁকা চাঁদের
দাও ফিরিয়ে সেই ঈদ আমাদের।

যদিও পাপের ভার পাহাড় সমান
তবুও তোমাকে ছাড়া ডাকিনি তো রব
আমাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না
মাফ করো সব গোনা সব।
এই আযাবের থেকে দাওগো আজাদ।।

১২.০৫.২০

পরিবর্তিত…………………

(কেনো আজ এই চাঁদ
জোসনার ফুল হাতে
নগরের চোখে মুখে
ছিটালো বিষাদ?
কেনো ‘মৃত্যু’ শিরোনামে এলো সংবাদ…

পূর্ণিমা চাঁদ ছুয়ে আসলো নেমে
অমাবশ্যর তমঃ! এ কেমন রাত!!
ভুলগুলো আমাদের করো মার্জনা
দাও ভরে দাও খালি হাত।
সবরের ফুল বুকে করো গো আবাদ।।

গাফফার তুমি প্রভূ তুমিই মালিক
ক্ষমা করে দাও আমাদের,
দাও ফিরিয়ে হাসি রূপালী চাঁদের
দাও ফিরিয়ে উম্মীদ আমাদের।

যদিও পাপের ভার পাহাড় সমান
তবুও তোমাকে ছাড়া ডাকিনি তো রব
আমাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না
মাফ করো সব গোনা সব।
এই আযাবের থেকে দাওগো আজাদ।।)
(উৎসঙ্গে প্রকাশিত)

জানিনা গায়েব / সাইফ আলি

জানিনা গায়েব
রাখিনা খবর বাতাসের
তবুও তাসের এই ঘর
ভাবি আশ্রয়!
সত্য তো এই পৃথিবী আমার
মঞ্জিল নয়।।

আমি এক মুসাফির পথ চলি হাজারো ভুলে
করি ফরিয়াদ দু’হাত তুলে-
‘প্রজাপতি ফাঁদ বাঁকে বাঁকে
নিখুঁত দৃষ্টি দিও চিনতে তাকে;
পার হতে সব বাঁধা ভয়।
তোমার করুণা ছাড়া কখনো জানি
এ পথে আসে না বিজয়।’

ফুলে ও ফসলে কেনো সুশোভিত করলে এমন
স্নায়ুর আয়েশে যদি ভোগবাদী হয়ে ওঠে মন
কি করে এড়িয়ে যেতে হয়,
কি করে তোমার আরো কাছে পেতে হয়
শিখিয়ে দিও দয়াময়।

০৮.০৫.২০
(উৎসঙ্গে প্রকাশিত)

আসবে তুমুল ঝড় / সাইফ আলি

আসবে তুমুল ঝড়
তাই কাপছি থরথর,
শক্ত করে বানাও আমার
ঘর ও কারিগর।।

দরজা দিও লোহা কাঠের
জানলা দিও না,
উড়ো পাতার ময়লা আমার
মোটেও প্রিয় না।।
পয়সা পাতি দেবো যেনো
জমবে দুধে সর!

ফালতু লোকে বলবে কথা
কান দিয়ে কি ফল,
সত্যিকথা বলতে ওরা
হিংসুকেরই দল!

কিন্তু এ কি বা’পাশ বুকের
করলো কাবু কে,
ধরো ধরো ও কারিগর
আর যে পারিনে।।
দরজা না আর ছাদ দিও চোখ
বন্ধ হওয়ার পর।

০৭.০৫.২০
(উৎসঙ্গে প্রকাশিত)

শামুকে সংসার / সাইফ আলি

কোনো মৃত্যুই এখন আর আমাদের বিচলিত করে না
খেলার মাঠে জমে ওঠা বর্ষার জলে যেমন জমে ওঠে
শামুকে সংসার তারপর জল নেমে যেতেই
মৃত শামুকের খোলগুলো পড়ে থাকে এখানে সেখানে
ঠিক তেমনই আমাদের খোসাগুলো পড়ে থাকে ধানখেতে
খালে বিলে শহরের ড্রেনে!
আমরা এখন এক ধ্যানের মধ্যে আছি
এখন যদি পৃথিবী ধ্বংশ হয়ে যায় আমাদের কি হবে!?
সর্বচ্চ মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কঠিন বিপদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।
আমাদের বাজারগুলো খুলে যাক, দিতে হবে!
কারণ আমরা জানি, আমাদের মোড়লেরা খুব জোর
এক সপ্তাহ তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে পারবে;
আসলে তারা কখনোই অন্তর্বাসে অভ্যস্ত ছিলো না!

০৬.০৫.২০

খস্ খস্ জুতো ক্ষয়ে যাচ্ছে / সাইফ আলি

খস্ খস্ জুতো ক্ষয়ে যাচ্ছে
রাজপথ নদী হয়ে যাচ্ছে
পূবে চাঁদ পশ্চিমে তারা
ধ্যানে বসে আছে সন্ধ্যারা।।

জীবনের ফুলগুলো বাসি হয়ে গেছে হায়
ভুলগুলো জোনাকির দল,
দিনের সকল ডানা গুটিয়ে নিয়েছি তাই
ঘাটছি রাতের সম্বল।।
আমার লুকোনো কবিতারা…

নগর নিঝুম হায়
তবু নির্ঘুম যারা
পাঠ করে ঘাতকের রোল
শুনছি তাদের কোলাহল।

কি পেয়ে জীবন তারা বিকিয়ে দিয়েছে এই
বিলাসী মদের ফোয়ারায়,
চোখ বুজতেই যদি মরণেই মোলাকাত
পুঁজির পাহাড়ে কার ঠাঁই??
কি সুখে ভুলে আছে তারা!?

০৫.০৫.২০

তোর খোলা চুলে ঝুলে যাওয়া বিকাল / সাইফ আলি

তোর খোলা চুলে ঝুলে যাওয়া বিকাল
আর চারু নখে শোভা মেহেদীর লাল
তুই ভালো থাকিস আর ভালো রাখিস তোর দিন
তোর কুড়েঘর হোক রঙিন।।

তোর ভেজা চোখে ঝুলে থাকে আকাশ নীল
আর আঙুলের ফাঁকে ঝোলে অন্তমিল!
যদি হৃদয়টা বুঝে নিয়ে দেনমোহর
তুই অনুমতি দিস হাটি সঙ্গে তোর।।
অন্তহীন…

তোর ধীর পায়ে হেটে চলা ছন্দময়
যদি আমার এই পথ ধরে বন্ধ হয়!
তবে সময়টা হবে খুব যন্ত্রনার
তুই শিখেছিস কি এমন মন্ত্র কার।।
এই রঙিন…

০৪.০৫.২০

তুমি অবাক চোখে প্রশ্ন করো / সাইফ আলি

তুমি অবাক চোখে প্রশ্ন করো
আমি খুঁজি কারে,
বলোতো কাজল ভরা চোখ দিলো কে
তোমার অধিকারে!!
আমি হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াই
তোমারই স্রষ্টারে।

তোমার ঐ কোমল কপোল, কমলা ঠোঁট
মাতাল করা ঘ্রাণে,
আমি বুঁদ হয়ে যাই, ক্যামনে লুকাই!!
প্রাণ থাকে না প্রাণে।।
তাই তোমার চেয়ে ভালোবাসি তোমারই স্রষ্টারে।

তুমি বললে কথা প্রাণে বাজে
গাইলে পোড়ে মন,
তাই তোমার কথা শুনতে আমার
এতো আয়োজন!
যা কিছু তোমার সবই জেনো প্রিয়া
দান করেছেন তিনি
এই দুনিয়া আকাশ বাতাস
সব দিয়েছেন যিনি।।
তাই হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াই
আমি সে স্রষ্টারে।

০৪.০৫.২০