নাহয় তুমিই একটু শান্ত হয়ে দাঁড়াও / সাইফ আলি

হে বৃক্ষ, নাহয় তুমিই একটু শান্ত হয়ে দাঁড়াও
একটু কথা শোনো, মাথা নাড়াও
নাহয় তুমিই একটু শান্ত হয়ে দাঁড়াও।

এইযে যারা ভাবছে বসে একশ বছর পরে
তাদের ঘরে জন্মাবে এক মাছি
দেখতে হবে উটের কাছাকাছি!
কিংবা যারা কাগজ কেটেকুটে
ভাবছে এ ‍ডিম ফুটে
বের হবে এক মস্ত বড় জ্ঞানী
জ্ঞানের ভারে পড়বে মাথা নুয়ে
ঠিক যেভাবে কুমড়ো থাকে মাচার উপর শুয়ে
ভাববে তারা, এই যে বিরাট জীবন
খরচ করার উপায় আছে কোনো!

শুনছো তুমি? একটু খানি শান্ত হয়ে শোনো-
এই যে আমি উড়নচন্ডি কবি
তোমার কাছে কেনই বা আর আসি
অনেক শ্রোতা? অনেক ঠাসাঠাসি?
আরে না না, বরং যাতে না হয় হাসাহাসি।

30.01.19

কর্পোরেটের এই জামানায় / সাইফ আলি

সেই তো ভালো হাতের উপর হাত না রেখে
কেবল শুধু পায়ের তালে পা মেলানো
হৃদয় দিয়ে পুজিবাদের হিসেব মেলে?
কোথায় পেলে?
নষ্ট কি সব কাব্য করে সময় কাটাও
জীবনটাকে ফেলনা ভাবার এ দুঃসাহস কোথায় পেলে?
মোটেও তোমরা আগাচ্ছো না চিন্তাধারায়
হৃদয় নিয়ে কাব্য প্রথা খুব সেকেলে।

কর্পোরেটের এই জামানায় প্রেমের থালা
পয়শা পেলে ঝনঝনিয়ে বাজতে থাকে,
পৃথিবীটা এগিয়ে গেছে হাজার বছর
তোমরা আছো সেই পুরাতন ঘুর্ণিপাকে।

29.07.19

এখানে তোমার বুনো কবিতার ছন্দ তুলেছে ঢেউ / সাইফ আলি

এখানে তোমার বুনো কবিতার ছন্দ তুলেছে ঢেউ
জলের গভীরে মৃত শামুকের খোলসের আড়ালেও
জেগেছে নতুন সুর
থেমে থাকবে না সাথীরা তোমার মঞ্জিল বহুদূর।।

ফুলের টোকায় নত হয়ে যায় ভীরু কাপুরুষ যারা
ছলনা শিখুক তারা
সাথীরা তোমার কোনো জালিমের তাবেদারি করবে না
যত প্রলোভন আসুক সামনে পথ থেকে সরবে না।।
যদিও হাজার নফসের ধোকা পথ করে বন্ধুর।

তোমার কবিতা কবি
শব্দের কোনো গাথুনি ছিলো না
ছিলো জীবনের ছবি
সংগ্রামী সেই জীবনালেখ্য প্রেরণায় ভরপুর।।

এক হাতে যদি চাঁদ এনে দাও সূর্য অন্য হাতে
তবুও এ ঘোর রাতে
সাথীরা তোমার চির গোলামীর জিঞ্জির পরবে না
যত প্রলোভন আসুক সামনে পথ থেকে সরবে না।।
যদিও হৃদয় আশা-হতাশায় বড় বেশি ভঙ্গুর।

17.07.19

নদীর তীরের খবর তুই রাখলি না মন / সাইফ আলি

নদীর তীরের খবর তুই রাখলি না মন
ঢেউয়ের সাথে বাঁধলি জীবন
এ কূল ও কূল ছুঁয়ে ছুটলি কেবল
করলি না খোঁজ তোর কে মহাজন।।

ফোটায় ফোটায় এলে বৃষ্টি নেমে
লুকিয়ে রাখবি নিজের হেরেমে
তার ছন্দে দুলে দুলে ভুলবি যখন
নিজেকে, মন তাঁরে করিস স্মরণ;
গহীনে গভীরে তাঁর বিচরণ।।

জলের শরীর জুড়ে নামলে আঁধার
শেষ হয়ে যায় কি রে করুণা তাঁর?
সে তো নূরের আধার, সে তো স্রষ্ট্রা সবার
সীমানা নেই কোনো তাঁর ক্ষমতার।
মানবি তাঁরে তুই সবচে আপন।।

15.07.19

ভয় / সাইফ আলি

তারপর একদিন জানালার পর্দা দুলে উঠতেই চমকে উঠলে-
কে ওখানে?
কোনো উত্তর নেই।
ওখানে কে?
উহু, কোনো উত্তর নেই।
একটা অবান্তর ভয় তোমাকে পেয়ে বসলো; অথচ, তুমি ওসব ভুতপ্রেতে মোটেই বিশ্বাস রাখো না!
আচ্ছা, মানুষ এমন কেনো বলতে পারো?
কই কখনো তো শুনিনি একটা ছাগল যার কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই সেও কারো ছায়া দেখে আৎকে উঠেছে; আথচ মানুষ?
কি? একজন মানুষ হিসেবে নিজেরে খুব দুর্বল মনে হচ্ছে না?
আসলে এটাই মানুষের শক্তির উৎস-
পর্দা দুলে ওঠা কোনো ভয়ের ব্যাপার নয় তবে কোনো কারণ ছাড়া দুলে ওঠাটা অবশ্যই ভয়ের কারণ হতে পারে; আর এইযে কারণ অনুষন্ধান করার ক্ষমতা, এটাই শক্তি। এই শক্তির বলেই মানুষ বলিয়ান।
ভয় না পাওয়াটা কোনো সাহসিকতার ব্যাপার নয়, হতে পারে এটা সীমাবদ্ধতা। পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলেও অন্ধের কোনো ভয় নেই। ভয় মানুষের সত্য উদঘাটনের প্রেরণাই শুধু নয় অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর অন্যতম শর্ত।
স্রষ্টার ভয় মানুষকে সকল ভয়কে অতিক্রম করার সাহস যোগায়।

09.07.19

অনুকবিতা ২৩ / সাইফ আলি

এমন করে পার হওয়া যায় নদী
এমন করে লাশের পিঠে চড়ে;
সাবধানে খুব নাড়ীর খবর রাখিস
মাঝ নদীতে উঠলে হঠাৎ নড়ে?

08.07.19

দিনের আলোয় রাত করি পান / সাইফ আলি

দিনের আলোয় রাত করি পান রাতের কালোয় দিন
আপোষ করে সঙ্গে আমার বাড়তে থাকে ঋণ
কালের পিঠে চাপিয়ে বোঝা হালকা করি মন
তবুও যেনো পোড়ায় আমার বিবেক সারাক্ষণ।।

সত্য জানি সত্য মানি তবুও খুঁজি ফাঁক
একটু না হয় ভুল পথে পা গেলোই চলে যাক;
কেউ যদি বা প্রশ্ন করে যুক্তিবাদী হই
বিবেক আমার গুমরে মরে আড়ালে নিশ্চয়।।
নিজকে আবার বদলে নেবো যখন প্রয়োজন!

নামাজ রোজা চলছে সবই ধরছে চুলে পাক
মক্কা থেকে আসবো ঘুরে আর কটাদিন যাক!
বয়স কতো হিসেব করে ঠিক করেছি দিন
সুদ আসলে মিটিয়ে দেবো যার কাছে যা ঋণ।।
নিজকে আবার গুছিয়ে নেওয়ার খুঁজছি শুভক্ষণ…

07.07.19