কর্মফল / সাইফ আলি

ছিঁড়িয়াছে পাল,
ভাঙিয়াছে হাল
ডুবুডুবু করে তরি।

নয়নেতে জল
করে টলমল
পারে না রাখিতে ধরি।

কেঁদে কেঁদে হায়
হবে কি উপায়
থামিবে কি এ তুফান?

নাকি আঁখিজল
হবে নিষ্ফল
বাঁচিবে না কারো প্রাণ।

নাকি দাঁড় ধরে
বাঁচিবার তরে
করা ভালো সংগ্রাম।

নিশ্চিত মরা
হতে ভালো করা
বাঁচিবার তরে শ্রম।

বিনা শ্রমে কাজ
হবে নাকো আজ
বসে বসে শুধু রলে,

শ্রম নাহি দিলে
নিচতার কুলে
রবে পড়ে নরকুলে।

(কবিতাটি ০৭,১২,২০০৭ তারিখে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার পাতাবাহার এ প্রকাশিত হয়। এটি আমার প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা)

Advertisements

সোনামনির দাগ / সাইফ আলি

শাদা পাতায় সোনামনি যেই দিয়েছে দাগ
ফুল ফুটেছে নানান রঙের; করছো কেনো রাগ?
ডাকছে পাখি শুনছো না তা
দেখছো কেবল নতুন খাতা?
হয়নি কিছু! বলছো যা তা;
সব হয়েছে সব,
বাগান হলো, ডাকলো পাখি, ছড়ালো সৌরভ!

সোনামনি সূর্য আঁকে
বন্ধু বানায় চাঁদ-তারাকে
মেঘ ধরে ঠিক দুপুর রোদে
বসিয়ে রাখে নদীর বাঁকে
পারবে তুমি তা?
করো তো খুব ফটর ফটর, কিচ্ছু পারো না।

সোনামনি শিল্পী হবে
এই কথা সে বললো কবে?
তোমরা তাকে শিল্পী বানাও দেখাও সীমানা
অসীমে সে স্বপ্ন আঁকে তোমরা বোঝো না,
শাদা পাতায় কি সব খোঁজো স্বপ্ন খোঁজো না।

কাকাবাবু / সাইফ আলি

কাকা কালো সানগ্লাস
কাকি পরে হাইহিল
কাজিনেরা আধুনিক
ড্রেস পরে পায় ফিল।

কাকা কালো বাজারের
রাজা, কাকি রাণী মা,
কালো টাকা শাদা কোরে
ভরে ফুলদানী, বাহ!

কাজিনেরা ইংলিশে
করে হাই-হ্যালো-বাই,
বাড়ি-গাড়ি ঝকঝকে
ভীনদেশী বিড়ি খায়।

তবু নাকি কাকাবাবু
রাত হলে কাবু বেশ,
কাকি মরে টেনশনে
শাদা হলো কালো কেশ।

কাকা বলে- ডাক্তার,
মরি মরি লাগে খুব;
ডাক্তার হেসে বলে-
মরণেই দিলে ডুব?

খোকা দেখে বিস্ময়ে / সাইফ আলি

টুন টুন টুনাটুনি
ডাকে বসে ডালটায়,
রোদ্দুর ঝিকিমিকি
দারূণ সকালটায়

কচি পাতা, ফুলখুকি
রোদ মেখে দুলছে,
জাল বুনে তার সাথে
মাকড়টা ঝুলছে।

খোকা দেখে বিস্ময়ে
বড়ো বড়ো করে চোখ,
লেগে থাক তার চোখে
সর্বদা এ আলোক।

হাতের ফেরে / সাইফ আলি

হাতের ফেরে দশ মজেছে পাঁচে
মনটা ফড়িঙ তিড়িং বিড়িং নাচে
ম্যাজিক মামু ম্যাজিক দেখায় দেখো
ঘা মেরে সব ছাগল চড়ায় গাছে।

হাতের ফেরে ফুল হয়ে যায় কাঁটা
বিপ্লবী হয় স্বার্থবাদী চাটা
ম্যাজিক মামু ম্যাজিক দেখায় দেখো
ঘা মেরে সব কলসি জোড়ায় ফাটা।

হাতের ফেরে কত্ত কিযে হয়
পোলায় ভোলে বাপের পরিচয়!
সামলে রাখো বুদ্ধি বিবেক জনাব,
এই আবেদন করছি সবিনয়।

এমন ফুল মেঘ / সাইফ আলি

যে ফুল বাতাসের ইশারা বুঝলোনা
নিজের সৌরভ মাখলো একা একা
সে ফুলে মধুকর কখনো আসবে না
সে কোনো ফুল নয় বলবে প্রজাপতি।

যে মেঘ বৃষ্টির বার্তা আনলো না
বাতাসপিঠে তার অযথা ঘুরাঘুরি
কখনো জাগাবে না নতুন প্রান কোনো;
কেবলি মেঘ সে কি ভাঙায় নিরবতা?

এমন ফুল মেঘ কবে কে চেয়েছিলো
কবে কে গেয়েছিলো এদের গুণগান?

আবার হ্যামিলন / সাইফ আলি

আবার হ্যামিলন; বাজাও বাঁশিওআলা,
বাজাও; সুরে সুরে মাতুক সমাচার-
মৃত্যু সুখি হোক, এখানে জীবনের
ঘটুক অবসান।

যে হাসি জোকারের যে হাসি হায়েনার
সে হাসি মুছে যাক সে হাসি ধুয়ে যাক,
নতুন জীবনের কারণ যে ভাঙন
সে তার বুঝে নিক সফল যৌবন।

আবার হ্যামিলন; বাজাও বাঁশিওআলা,
বাজাও; সুরে সুরে মাতুক সমাচার-
যে হাওয়া নেশাতুর জাগায় ঘুমঘোর
সে হাওয়া থেমে যাক, সে হাওয়া থেমে যাক।

নতুন করে ফের যুবতি বৃক্ষেরা
মাটির কাছ থেকে পাওনা বুঝে নিক,
শিশুর মুষ্ঠিতে পাপের আঙ্গুল;
মুঠো সে খুলে দিক, মুঠো সে খুলে দিক।