Covers Available 03 / Saif Ali

 

 

Covers Available 02 / Saif Ali

কি সুখে হেসেছো গো চাঁদ / সাইফ আলি

কি সুখে হেসেছো গো চাঁদ
মেঘেদের জানালা খুলে
তোমাকে এমন অসহায়
দেখিনি কখনো আগে।।

পাখিরা ফিরেছে ঘরে
হাহাকার সারা শহরে
জোছনায় পুড়েছে সবই
ভাবতেই এ প্রশ্ন জাগে-
কি সুখে হেসেছো গো চাঁদ
মেঘেদের জানালা খুলে!!

ওখানে তারার আসরে
তুমি কি গিয়েছো মরে?
তোমার সে স্নিগ্ধতা কই?
ভাবতেই কি অবাক লাগে-
কিভাবে হেরেছি আমি
হেরেছি নিজেরই ভুলে!

না হলে কিভাবে বলো
কি সুখে হেসেছো রাতে?
আহত হয়েছি আমি
বলো কোন শত্রুর আঘাতে?

মাঝে মাঝে কিছু ভুল দুজনকেই পোড়ায়

০৫.০৩.২২

যন্ত্রমানব / সাইফ আলি

যন্ত্রমানব যন্ত্রদানব হৃদয় কি তা বোঝো?
বুকের বামে হাত রাখোতো, একটুখানি খোঁজো।
মিললে ভালো, না মিললেও চলে;
এই শহরে এখন সবাই হৃদয়হীনের দলে।

০৪.০৩.২২

করিম চাচা / সাইফ আলি

এক হালি দাঁত চোয়ালে
করিম চাচার গোয়ালে
দুইটা গাভী দুইটা বাছুর
দুই কেজি দুধ দোয়ালে
কিনবে সাধের তোয়ালে।

একটা দাঁতে পোক লেগেছে
দাঁতটা এবার খোয়ালে?
ভাবতে গিয়ে দৃষ্টি কাড়ে
নদীর পাকা বোয়ালে;
হাত উঠে যায় চোয়ালে।

দুধের সাথে জল মিশিয়ে
বেচলে চাচার হিসাবে
বোয়াল নাহোক খোলসে-পুটি
জল কি তবে মিশাবে?

করিম চাচা তওবা কাটে
হারাম রুজি! মোটেও না।
বছর ঘোরে করিম চাচার
বোয়াল পাতে জোটেও না।

এক হালি দাঁত চোয়ালে
করিম চাচার গোয়ালে
চারটা গরু চারটা বাছুর
সঙ্গে নতুন তোয়ালে।

০২.০৩.২২

ও নদীরে বইলি কতদূর / সাইফ আলি

ও নদীরে…
বইলি কতদূর?
একটু ছুঁয়ে দেনা আমার লবন সমুদ্দুর,
হেয়ালি বাতাস, আমার খেয়ালি রোদ্দুর।।

ঢেউয়ের নিচে ঢেউয়ের বাড়ি
ঢেউয়ের উপর ঢেউ
দুকূল ছুঁয়ে চলার নীতি
শেখাস আমাকেও।।
আমি আদতে ভঙ্গুর…

বুকের ভাঁটায় আগুন জ্বলে
জ্বলে জলের বুক,
দেখ তো ছুঁয়ে এখনো সে
শীতল কতোটুক।।
আমার লবন সমুদ্দুর…

নদীরে…
ছুঁয়ে দিতিস যদি রে
ওরে ও দরদী রে
সঙ্গে নিতিস যদি রে!
আমি আদতে ফতুর,
আমার হৃদয় প্রেমে চুর।
নদী বইলি কতদূর…

০২.০৩.২২

বনের পাখি / সাইফ আলি

বনের পাখি বনেই থাকি
চাইনে মনে ঠাঁই,
শিকল দিয়ে রাখো তোমার
মনের দরজায়।

ঝড়-বাদলে ভিজি পুড়ি
ভাঙে সাধের ঘর,
তবু আমার আকাশ দুধে
চাঁদ তারাদের সর।

পরিপাটি দালান-বাটি
নাই বা হোলো কিছু,
মনের সুখে চলছি ছুটে
মেঘের পিছু পিছু।

০১.০৩.২২

পাখি এবং খাঁচা / সাইফ আলি

এখান থেকে ছয়টা বাড়ি পরে
একটা শিশু পাথর জমা করে,
পাথরগুলোর নাম দিয়েছে গুটি
তার সাথে রোজ ইচ্ছে পাথর খুটি।

তিন বাড়ি পর ছোটোন বলে কথা
তার সে ভাষা সর্বজনীন বটে!
কেউ বোঝেনা, না বুঝলে তাও শোনে
তার কবিতা সারা পাড়ায় রটে।

আর যে খোকা বাদাম বেচে মোড়ে
বাদাম বেচে, পাথর খোটে, জমায়;
তার দু’চোখে পাখি এবং খাঁচা
তার প্রতিদিন অন্যরকম বাঁচা।

০১.০৩.২২

নতুন এক মাত্র, মে-জুন ২০২২ সংখ্যায় প্রকাশিত

অনুকবিতা ৩৭ / সাইফ আলি

শূন্যে উঠে হঠাৎ পাখি
গুটায় যদি ডানা
তার পতনের কারণ খোঁজা মানা।

০১.০৩.২২

অঝোর ধারায় বৃষ্টি এলো / সাইফ আলি

অঝোর ধারায় বৃষ্টি এলো, বৃষ্টি এলো ভোরে
আমি তখন শিশির মাখা পাতা
তোমার গালে আলতো আলো দেখছি ঘুমের ঘোরে
তুমি তো নও, আমার খেরোখাতা!

কচলে দু’চোখ আবার তাকাই, দেখি
আমার যতো কাব্য লেখালেখি
সব পুরোনো; নতুন কিছু এলো!
শব্দগুলো তোমার চুলের মতো
অন্ধকারে ভীষণ এলোমেলো
তবুও তার মিষ্টি মধুর ঘ্রাণে
ক্রমাগত টানতে থাকে, টানে।

২৮.০২.২২

আমরা আগুন হাতে এখানেই আছি / সাইফ আলি

সুতোহীন মাকড়ের পেটে
মধু খোঁজো আহা প্রিয়তম;
মৌচাকে ঢিল ছুড়ে একবার মরেছিলে তাই!
আমরা আগুন হাতে এখানেই আছি,
যদি চাও বান্ধব হবো।

আমাদের সোজা পথ, সরল জীবন
স্বার্থের বাড়াবাড়ি নেই;
একটাই আকাশের নিচে
সাদামাটা ঘর, বৃষ্টিতে ভিজি,
জোছনায় পিপাসা মিটাই।

হাতের মশাল আর মিছিলের ভয়ে
তুমি যদি আঁধারেই থাকো,
জেনে রাখো মধু নয়, সুতোহীন মাকড়ের পেটে
বিষ থাকে বিষ।

২৮.০২.২২

ফড়িঙ / সাইফ আলি


খুলে খুলে পড়া রাতের কাব্য শোনো,
চোখে চোখ রেখে চাঁদ উঠে এলে ছাদে
প্রিয়া তুমি বসে নরম সুতোয় বোনো
তারা-ফুল যারা খসে পড়ে আহ্লাদে।


তারা ডোবা ডোবা চোখের দৃষ্টি ছুঁয়ে
উড়ে গেলো পাখি! আঁধারে মেললো পাখা!!
আজ ভেজা ঠোঁটে প্রেমের কাব্য রুয়ে
জোনাক জ্বললে মুশকিল ধরে রাখা
এই ধরফড় ফড়িঙ বুকের বামে;
যন্ত্রণা শুধু মিষ্টি সুখের নামে।

২৮.০২.২২