Covers Available 03 / Saif Ali

 

 

Covers Available 02 / Saif Ali

ফড়িঙ / সাইফ আলি


খুলে খুলে পড়া রাতের কাব্য শোনো,
চোখে চোখ রেখে চাঁদ উঠে এলে ছাদে
প্রিয়া তুমি বসে নরম সুতোয় বোনো
তারা-ফুল যারা খসে পড়ে আহ্লাদে।


তারা ডোবা ডোবা চোখের দৃষ্টি ছুঁয়ে
উড়ে গেলো পাখি! আঁধারে মেললো পাখা!!
আজ ভেজা ঠোঁটে প্রেমের কাব্য রুয়ে
জোনাক জ্বললে মুশকিল ধরে রাখা
এই ধরফড় ফড়িঙ বুকের বামে;
যন্ত্রণা শুধু মিষ্টি সুখের নামে।

২৮.০২.২২

সূর্যে আমার চোখ পোড়ে না / সাইফ আলি

সূর্যে আমার চোখ পোড়ে না
চোখ পুড়ে যায় রাতে,
জারজগুলো মিছিল নিয়ে
বেরোয় মশাল হাতে!

ভোগের থালায় দৃষ্টি এদের,
নীতিকথার ঝোলে
মুখ ডুবিয়ে হুস থাকে না
লুঙ্গি মাথায় তোলে।

গর্ত ওদের ভিন্ন হলেও
সব শেয়ালের ডাকই
হুক্কা হুয়া; তাই সারারাত
সজাগ হয়েই থাকি।

বুদ্ধিজীবী(!)র ছয়টা ছানা
এক টেবিলে বসে
ওদের ছকেই আলাপ পাড়ে
লাল হয়ে যায় রোষে!

এসব দেখে চোখ পুড়ে যায়
চোখ পুড়ে যায় রাতে,
জারজগুলো মিছিল নিয়ে
বেরোয় মশাল হাতে!

২৭.০২.২২

ফাগুন রাতের গল্প / সাইফ আলি

শোনো এক ঝলসে যাওয়া ফাগুন রাতের গল্প বলি-
সে রাতের মুঠোয় ভরা জোনাক ছিলো, জোছনা ছিলো
হঠাৎ এক শান্তিবাদী বিষ্ফোরণের সূত্র ধরে
প্রেমিকার ছিন্ন দেহের সাক্ষ্যি হলো প্রেমিক পুরুষ।

ইতিহাস লেখলো যারা তাদের ঘরেও কণ্যা ছিলো,
বোমারু বিমানগুলোর মডেল ছিলো শিশুর হাতে;
ফাগুনের এ রূপ দেখে সাম্যবাদী কতক কবি
কলমের বল ঘুরিয়ে, নাম কুড়ালো; জমলো আসর।

লেখলো- প্রিয়ার চোখের কাজল ধোয়া জলই নাকি
গড়ালো সমস্ত রাত, বাদবাকি সব চোখের ফাঁকি!

২৬.০২.২২

কেউ তাকে বাঁচাতে পারেনি / সাইফ আলি

১.
শুকনো ঠোঁটের চেয়ে দাহ্য কিছু নেই-
প্রিয়তমা তুমি বুঝি বৃষ্টির সন্ধানে আছো?
মেঘেরা আমার বুকে লুকিয়েছে বহুকাল আগে
আকাশের মতো এক শূন্যতা করেছি আবাদ
সেখানেই মেঘগুলো থাকে।

২.
সাগরের নীলছোঁয়া কি গভীর দৃষ্টি তোমার!
প্রিয়তমা আমি এক ডুবে যাওয়া জাহাজের পেটে
ঝড়ের কবলে পড়া নাবিকের প্রার্থনা জানি;
কেউ তাকে বাঁচাতে পারেনি।

২৬.০২.২২

শিশির / সাইফ আলি

কপালে ঘামের মতো জমে আছে রূপসী তোমার
ভোরের শিশির, তাতে রোদ হয়ে নেমে এলে প্রেম
চোখ বুজে কিছুক্ষণ মেলে দিও গোলাপি উঠোন।

দু’চোখে মেঘের যতো আনাগোনা তার চেয়ে ঢের
রিমঝিম বুকে আর মুখে থাক জোছনার ছাপ,
ঝিঁঝিঁদের মুখে মুখে তুমি আর তোমার আলাপ।

রূপসী তোমার প্রেমে বুদ হয়ে জমে যেই সর
সেটুকুই মুখে পুরে শান্তিতে বুজে আছি চোখ।

২৩.০২.২২

ঝরলে রাণী চোখের পানি / সাইফ আলি

ঝরলে রাণী চোখের পানি
ভাঙবে তোর এই হৃদয়দানী,
ধরবো কি করে
বল তোর আকাশ তখন
ছোট্ট আমার বুকের ভিতরে?

তোর পায়ের ঐ আওয়াজ শুনে
যাচ্ছি যখন স্বপ্ন বুণে
বাঁধলো কে তোর পা,
বাঁধন ছিড়ে ছিড়ে কি তুই
চলতে জানিস না?

নাজুক পায়ে লাজুক পায়ে
বাজুক ব্যথা, প্রেমের দায়ে
দণ্ডিত হোস্ নে;
হোলে, বল তোর আকাশ বুকের ভিতর
ধরবো কি করে?

২৪.০২.২২

ঘুম / সাইফ আলি

১.
ভোর হলো তবু ক্যানো ফুটলে না ফুল
বলো বলো তুমি কার প্রেমে মশগুল?
তুমি কি অন্ধকারে মেলবে দু’চোখ
রাত জাগা পাখিরা কি তোমাতে ব্যকুল?

২.
কংক্রিটে গড়া এই শহরে আমার
দারুণ অস্বস্তিতে ভেঙে যায় ঘুম,
চাঁদের পিরিচে নামে তরল আঁধার
সে আঁধার পান করে রাতের কুশুম।

২৪.০২.২২

উঠে আয় আঙুল ছুঁয়ে / সাইফ আলি

যদি তোর মাটির চোখে ব্যথার মতো বৃষ্টি ঝরে
আর তুই কাঁপতে থাকিস একলা বসে তোর শহরে
গুটিয়ে পালক-পাখা, স্বপ্ন আঁকা ইচ্ছাগুলো;
ভেঙে ফেল জমাট ঘোলা অন্ধকারের কিচ্ছাগুলো।

কেনো তুই প্রদীপ জ্বেলে একলা আঁধার বইতে গেলি
ঢেলে সব প্রেম পেয়ালায়, কষ্ট একা সইতে গেলি?
আমি তোর একলা রাতের তারার মতো সঙ্গী হলে;
দুজনেই প্রতাপশালী যুদ্ধজয়ী জঙ্গি হলে?

উঠে আয় আঙুল ছুঁয়ে, একসাথে আজ শপথ করি-
তুই আমার দিন, আমি তোর রাত-প্রহরী।

২৩.০২.২২

জলে কার কমেছে দহন / সাইফ আলি

যে আগুনে ছাই হয়
সে আগুন পোড়ায় না মন,
তবু ক্যানো জল টানো
জলে কার কমেছে দহন?

চোখের আগুনে পুড়ে
ঠোঁটের আগুনে পুড়ে
পুড়ে পুড়ে প্রেমিকার তাপে,
পুরুষ ধারালো হয়
ক্রমাগত আলো হয়
শুদ্ধ, অজেয় ধাপে ধাপে।

আগুনে অরুচি যার
সে কেমন পুরুষ তা বুঝি না,
কেবলই কাতর চোখে
শুদ্ধ প্রেমের জল খুঁজি না।

২৩.০২.২২

থরথর কাঁপছিলো পা / সাইফ আলি

থরথর কাঁপছিলো পা
আর না,
কোনোদিন না;
এইবার ফিরে গেলে ঘরে
শুনবে না কারো কোনো কথা।

পরদিন বিকেলের শেষ,
পাখিদের মতো
সারাদিন পর
অভিমানী ছলছল চোখে
ঘরে ফেরা তার।
একই তার পণ-
আর না, কক্ষনো না।

পরদিন একই সেই পথ
অভিমানী চোখ,
সাবলীল পায়ে
ঘরে ফিরে আশা।

এভাবেই বহুদিন পর
দেখি তার উজ্জ্বল মুখ;
দৃঢ় পায়ে হাঁটছিলো আর
বলছিলো- এটাই জীবন।

আমি তাকে এভাবেই
মানুষের মাঝ থেকে
ক্রমাগত সরে যেতে দেখি।

২২.০২.২২