-
গ্রামীণফোনের আলোর যাত্রা এবং আমাদের মুমূর্ষু বিবেক / সাইফ আলি
যখন আমি দেখলাম আমার চারপাশটা অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে ধর্ষিতা সমাজ মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতর ঠিত তখনই তুমি আমাকে গল্প শুনাতে চলে এলে কি নির্মম আমার শোকের চারপাশে দাউ দাউ জ্বলতে থাকলো নির্লজ্জ আগুন… যে আগুন জ্বলার কথা বুকের পাঁজরে যে আগুন জ্বলার কথা রক্তে, রন্ধ্রে সে আগুন জ্বাললে তুমি ক্ষণস্থায়ী মোমবাতিতে!! খুব সহজেই মোমবাতিতে সেলফি তুলে…
-
লজ্জা / সাইফ আলি
খুবই কষ্ট লাগে যখন এ ধরনের কোন বিষয় নিয়ে কবিতা লেখতে যাই। সামর্থ নেই বলে হাত দিয়ে বাধা দিতে পারছি না। মন থেকে ঘৃণা জানানোর মতো দুর্বল রাস্তাতেই পা বাড়ালাম। বোন তনুকে আল্লাহ জান্নাত দান করুন। তোমার জন্য চোখের কোণায় উপচে ওঠেনি পানি তার চেয়ে ঢের উত্তেজনায় কেটেছে ক্রিকেট রাত তোমার জন্য লজ্জাবাক্য সাজাতে হয়েছি…
-
মুসলিম / সাইফ আলি
এক দলা মাংসপিন্ড তোমাকে আকর্ষণ করে এক চুমুক মদ তোমাকে আকর্ষণ করে এক নারীর শরীর তোমাকে আকর্ষণ করে কারণ তুমি মানুষ; তুমি সে মাংসের কাছে বিক্রি হও না তুমি সে মদের নেশায় মাতাল হও না তুমি সে নারীর দিকে তাকাতে ভয় পাও কারণ তুমি মুসলিম। তুমি বিশ্বাস করো- সীমা নির্ধারণকারী স্রষ্টা তোমাকে দেখছেন; তুমি তাঁর…
-
ভেজা বেড়াল / সাইফ আলি
সাজলে বিড়াল ডাকলে হালুম, ক্যামনে কি ভাই হাম না মালুম। মুখের পাড়ায় সবজি বেচো সুযোগ পেলেই মাংস ছেঁচো দাঁতে; ক্যামনে কি ভাই খুব নিরামিষ দিনের বেলায় মাংসাসী হও রাতে। আতেল সাজো আলাভোলা কিছুই তুমি বোঝো না সুযোগ পেলেই লুঙ্গি তোলো কাউকে তখন খোঁজো না সমান সমান ভাগ নিতে; কোথায় পেলে এমন সাহস বিড়াল সেজে হালুম…
-
পিপাশা এখন / সাইফ আলি
মানুষের বসতি কোথায়? কোনদিকে গেলে মিলবে বলুন এক গ্লাস ঠান্ডা পানি, পিপাশা মিটাতে চাই; খরায় শুকিয়ে গেছে বুকের চাতাল। আতিথেয়তার প্রয়োজন নেই বেশিক্ষণ থাকবোনা; তবে আমি ক্লান্ত বড় বেশি… একটু ছায়া…যদি… না না ঘরে নয়, বারন্দা… না, থাক; কোনো এক গাছের ছায়ায় একটু জিরিয়ে নেবো। এখনো তো গাছগুলো ছায়া দেয় বাতাসেরা স্বার্থপর হয়ে যায়নি এখনো……
-
দায় / সাইফ আলি
কলমের কালি শুকিয়ে গিয়েছে? লেখবেনা আর গণমানুষের কাব্য? নাকি তুমি আছো রক্তে মাংশে বিবেকে মরেছো ভাববো?? তোমার কবিতা বলেনা এখন ব্যথা বেদনার কথা বলেনা স্বপ্ন কিংবা বাস্তবতা। তুমি ভিনদেশী এলিয়েন নিয়ে ইদানিং নাকি লেখছো? লেখতেই পারো নিষেধ করিনে হয়তো রঙিন চশমায় শুধু এলিয়েনদেরই দেখছো! শুধু এইটুকু বলে রাখি যদি মানুষ না থাকে কেউ আর, তোমার…
-
দালাল বলছি / সাইফ আলি
আজকে আমি বাক্যালাপে সংযত খুব বেশি কারন হলো একূল-ওকূল দু’কূলেতেই ঘেষি, তোমরা বলো দালাল তাতে যায়না আমার কিছু চিপায় পড়ে তোমরা ছোটো আমার পিছু পিছু। পরস্পরের মুখ দেখাটা তোমরা বলো পাপ ঝড়ের বেগে বেরিয়ে আসে পাপের মহা বাপ, তোমরা শালা এমন মানুষ- কান থাকতেও কালা চোখ থাকতেও অন্ধ ভীষণ কারন ঝোলে তালা। পরকে বলো গোঁড়ার…
-
বৃক্ষরোপন / সাইফ আলি
চরিত্র: খুকু, গাছ, পাখি খুকু: উহ! কি যে রোদ, পুড়ছে গা গাছপালা কই পাখির ছা- (এদিক-ওদিক তাকিয়ে) ঐতো দূরে গাছ দেখা যায় একটু যদি প্রাণটা জুড়ায়। (গাছের কাছে যেয়ে) খুকু: ও গাছ বাবু, কোথায় তোমার পাতা, ফুল পাখি কই; ফল ধরে নাই কোনো? কি হলো ভাই, কও না কেনো কথা? আমার কিন্তু ভাল্লাগে না এমন…
-
কে পারে তোমার মতো / সাইফ আলি
সম্পুরক খুঁজেছি, পাইনি কে পারে তোমার মতো ভালোবাসা দিতে, মা; কে পারে তোমার মতো দুঃখ লুকাতে আচলের ভাঁজে! হয়তো বা পৃথিবীর সব দেনা সব হিসাব নিকাস করা যায় সব প্রতিদান দিয়ে দেয়া যায় শুধু, তোমার দেনাটা মাগো পরিষোধ হবে না কখনো… ফেরতযোগ্য নয় তোমার মুখের একটা অক্ষরও! তোমার হাতের এক নলা ভাতের সে ঋণ; এক…
-
স্বপ্নবাজ / সাইফ আলি
আমি আমার স্বপ্নের পথে হাটছিলাম তুমি বললে- কি আশ্চর্য, তুমি দেখছি জেগেই আছো! আমি মনে মনে বললাম- আহা! তুমি যদি জানতে, এ স্বপ্নই আমাকে ঘুমোতে দেয়না; জাগিয়ে রাখে রাতের পর রাত, দিনের পর দিন… আমি বললাম- আগুন পাখা রাজহাস দেখেছো কখনো? পলাশের মতো…. ঘাঁড়টা বাঁকিয়ে যখন তুমি আঁড় চোখে তাকাও তোমাকেও ঠিক তেমনটাই দেখা যায়।…
-
ব্যবধান
আমি মাটির সঙ্গে কথা কই আমি বৃষ্টিতে পাতি হাত আর তোমার জন্য অপেক্ষা করি সারাদিন সারারাত… তুমি পাখির সঙ্গে দিয়েছো উড়াল পাখিতো ফিরেছে নীড়ে বলে যাও কোন অপরাধে এই বন্ধন দিলে ছিড়ে। জীবনের শত ফজর পেরিয়ে বাদ মাগরিগ-এশাতে চেষ্টা করেছি সম্পর্কের তেল-জল টুকু মেশাতে কিন্তু তোমার আকাশের সাথে সখ্য আমি মাটিতেই শুধু দক্ষ…
-
আগুনের মেয়ে তুমি / সাইফ আলি
আগুনের মেয়ে তুমি ছুয়ে দাও চাঁদ তরল জোছনা আসে নেমে এ কেমন বিমূর্ত হৃদয় তোমার সমস্ত রাত যায় থেমে… চোখের দৃষ্টি খোঁজে মাংশের ভাজে মেলেনা কখনো তাই হৃদয়ের খোঁজ আঙ্গুল ছুয়ে দেখে ত্বকের কাগজ হৃদয় বসত বাধে গহীনে সলাজে আগুনের মেয়ে তুমি আমিও যে বাতাসের ছেলে এক হয়ে মিশে যাই এসো এই রাতে বিগলিত চাঁদ…
-
নিষেধ
হঠাৎ তোমায় দেখতে পেলাম চৌরাস্তার মোড়ে কি এক ভীষণ বিষন্নতায় কালো কিন্তু তোমার বুক পকেটে ঝুলিয়ে রাখা গ্লাসে চমক দিয়ে উঠছিলো খুব গাছ চুয়ানো আলো… চোখের পাড়ায় উথাল পাথাল দুলছিল খুব নদী হয়তো ছিলো আকাশ জুড়ে কালো মেঘের ধাওয়া কিন্তু আমার বৃষ্টি শুধু জানলা দিয়েই দেখা নিষেধ ছিলো ঝড়-বাদলে যাওয়া। দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেক সময় তাকিয়ে…
-
নালায়েকের সুখ সন্ধান
তোমার শরীর থেকে বের হলো নদী বয়ে গেলো সমুদ্রে এবং অযাচিত জড়তার গ্রাসে হারানোর ত্রাসে শুধুই পাঠক আমি অনর্গল পাঠ করি; ছুইনি কখনো… তোমার শরীর থেকে বৃষ্টি এলো নেমে সবাই ভিজিয়ে নিলো ফসলি জমিন আমি শুধু হতভাগা মরুশুষ্ক চোখে তাকিয়েই থাকি- আর কতো বৃষ্টি হবে; প্লাবনের কতক্ষণ বাকি… তোমার দীঘল চুলে সন্ধ্যার ফেরারি পাখিরা খুঁজে…
-
একদিন পলাশের
১ লাশ ছিল না কি নিহত পলাশ ছিলো জানতে চাওনি; হয়তো কতক ভয় আর ছিলো সব শুকনো পাতার মচমচে ক্ষয় ২ রঙিন পলাশ ডালে না ঘুমিয়ে মাটিতে গড়ায় শুকনো পাতার বিছানা বালিশে ঘুম অবসর হয়তো বড়াই এতো বললাম ভাঙিওনা ঐ পলাশের ঘুম দিলে তো ভাঙিয়ে হয়নি বলেই রাত নিজঝুম ৩ ক্যানভাস জুড়ে রং ঢেলে দিই…
-
মন খারাপের রাত্রি যখন আসে / সাইফ আলি
মন খারাপের রাত্রি যখন আসে বিছনা-বালিশ দাঁত কেলিয়ে হাসে… মন খারাপের রাত্রি যখন আসে সবই থাকে কেবল শুধু সুখ থাকে না পাশে… মন খারাপের রাত্রি যখন আসে মায়ের মুখই ভাসে।
-
কেমনতর ঘর গো তোমার
পেছন টানে ফিরলে পাখি ঘরে গুটিয়ে নিলে ডানা এখন আমার চোখের পাড়ায় মেঘ জমেছে শুধু বৃষ্টি তবু মানা। ব্যালকোনিতে দাঁড়িয়ে আছি বাড়িয়ে আছি হাত দারুণ ব্যথায় লক্ষ তারা কাঁপছে সারা রাত… চাঁদটা কেমন পানসে যেনো জোছনা ধরায় জ্বালা বলবো কাকে- ‘বিছনা ছাড়ো ঘুম পেয়েছে খুব, মেঘলা চোখে দাঁড়াও তুমি এবার তোমার পালা।’ বলবো কাকে- ‘অফিস,…
-
ছন্নছাড়া / সাইফ আলি
দমকা হাওয়ায় পাক খাওয়া এক পালক বলতে পারিস থামবে কোথায় গিয়ে ভর দুপুরের রোদ-পোড়া কাক-বালক শুনতে পেলাম তার নাকি আজ বিয়ে বাবুই বলে- ঘর বাধা সে জানে না, ছন্নছাড়া; নিয়ম-কানুন মানে না। কিন্তু আছে চিলের সাথে মিতালি ওড়ার সময় কেউ পিছুটান টানে না।
-
তুমি ছিলে সারা রাত
শরীর সেদিন শরীর খোঁজেনি মন খুঁজেছিলো মন, চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখেছি সন্ধ্যার আয়োজন। জানালায় ছিলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি- আঁধার জমেছে শুধু পদ্মার বুকে চর জেগেছিলো ধু-ধু। তোমার চুলের গন্ধ পেয়েছি ছুতে পারিনি সে চুল, রাত্রির কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে অদ্ভুত কিছু ফুল! আমি সে ফুলের পাপড়ি ছোবো কি সেই ছুয়ে দিল হাত; কিছুই ছিলোনা সঙ্গে আমার তুমি ছিলে…
-
তুমি শুধু ছুটে চলো / সাইফ আলি
তুমি কি চাঁদের সাথে একা একা হেটেছো কখনো কোলাহল ছেড়ে ধানক্ষেত ডানে বায়ে রেখে গ্রামে যেখানে সন্ধ্যা হলে ঝোপে ঝাড়ে ঝিঁঝিঁপোকা ডাকে জোনাকিরা দলবেধে নামে। তুমি কি রাতের সাথে একা একা কথা কও অন্ধকারে হাসো এটা ওটা ভেবে, তারা গোণো, গান বাধো কোনো, গুনগুন করো জোছনায় ভিজে? অথবা যখন ভোর; ধানের পাতোয় জমা শিশির বিন্দু…