-
শহরের পাতা ধুলোবালি বুকে / সাইফ আলি
শহরের পাতা ধুলোবালি বুকে বাতাসে পেতেছে কান ইট-বালি-কাঁচে অনাহুত কোনো বৃষ্টির সন্ধান। দেয়ালে দেয়ালে মেঘ ঠেকে গেছে ধোঁয়াশা করুণা পানি তবু ডালে ডালে কিছু কুঁড়ি জেগে আজন্ম সন্ধানী। তবুও থায়ের জানালা বাড়ছে বাড়ছে কাঁচের দেয়াল দিনে ও রাত্রে প্রায়ভেট কারে ঘুরছে শহুরে শেয়াল। শহরের পাতা ধুলো বালি বুকে চেয়েছে শীতল পানি হঠাৎ দুপুরে মিলেছে বৃষ্টি…
-
দেখলাম তুমি কতো কঠিন সুন্দর… / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) যেখানে পাহাড় সবুজ মেঘ তুলো তুলো আকাশের নীলে মিলেমিশে একাকার হয় সেখানে আমিও অবুঝ… পায়ে হাটা পথটার দুই ধার ঘিরে অজানা বনের ফুলগুলো আমাকে জানায় স্বাগতম। আসলাম হে পাহাড় তোমাকে দেখবো বলে দেখলাম তুমি কতো কঠিন সুন্দর…
-
শুধু মনে হবে তোমাকেও ছুঁয়েছি… / সাইফ আলি
(কিউক্রাডং পাহাড় চুঁড়ায়) মেঘে মেঘে কিছু কবিতা লেখার দিন পাহাড়ে পাহাড়ে অজানা হাজার পথে মনে মনে কিছু মুগ্ধ হওয়ার দিন। বৃক্ষ পাতার বাতাস কাঁপানো কথা ঝর্ণা শীতল অস্থির নিরবতা, মহা নির্জনে ওগো দিগন্ত শোনো- তুমি কি আমার পায়ের আওয়াজ পাও? তুমি কি আমাকে দেখো? জানিনা কখোনো জানবো না তুমি কি শুধু মনে হবে তোমাকেও ছুঁয়েছি…
-
তোমার হাতে কি চাবি… / সাইফ আলি
দোচালা টিনের ঘর এক কোণে দুই চড়ুয়ের সংসার তোমার গেরুয়া চোখের উঠোনে চেয়ে এ ছিলো আমার প্রথম আবিষ্কার। বহুদিন হলো চড়ুই গিয়েছে চলে বৃষ্টি বোঝেনা টিনের চালের স্বাদ ঘরে তুমি খুব নিতান্ত জড়োসড়ো দরজাতে আমি পূর্ণ দ্বিধায় ভাবি- তোমার হাতে কি চাবি?
-
প্রজাপতি ছিলো ধুসর পান্ডুলিপি / সাইফ আলি
প্রজাপতি ছিলো ধুসর পান্ডুলিপি ফুলে ছিলো কিছু পাপড়ি ঝরার ব্যথা যে ডালে দু’জন এক হয়েছিলো সেই ডাল ছিলে তুমি- আর আমি, আমিতো ছানার নতুন ডানার প্রথম হারানো পালক কৈশর ছোঁয়া বালক। পা ছিলো মাটিতে হাত ছোয় ছোয় তোমার শরীর পারি না বাইতে গাছ ; না দিলে ফুলটা প্রজাপতি গেলো উড়ে সারাটা দুপুর ভরা রোদ্দুরে পুড়ে…
-
স্রষ্টা সমীপে / সাইফ আলি
জীবন যখন উঠবে মেতে ঘূর্ণী হাওয়ায় হঠাৎ আলো অন্ধকারে আসা যাওয়ায় তখন তারে খুঁজো মনের গভীর কোণে। কোন অভাগা কোথায় বসে ডাকছে তাকে সব কথা সেই শোনে। কেউ যদি না হাতটা বাড়ায় কঠিন দিনে সঙ্গে দাঁড়ায় মনে মনে তাকেই তুমি খুঁজো সে ঠিক দেবে সাড়া সবাই সবার স্বার্থ বোঝে তোমার কথা বুঝবে না সে ছাড়া।
-
আলোতে কি মিলেছিলো সব / সাইফ আলি
আলোতে কি মিলেছিলো সব যদি তাই হবে চোখ বুজে ভাবো কেনো খোঁজো কারে স্বপ্নের উৎসবে। আলোতে মেলে না সব সুর সব গান পায়না জীবন অন্ধকার ভীড় করে এলে কিছু কথা মিলবে তখন। অভিমানী চাঁদটাকে দেখো তারাদের রাতের বাজার অন্ধকারে জোনাক পরীরা মেতে ওঠে হাজারে হাজার। সব কথা প্রকাশিত নয় কিছু কথা রাতটার মতো চুপিসারে বুঝে…
-
ধূপছায়া মনে পড়ে / সাইফ আলি
ধূপছায়া মনে পড়ে অফসেট কাগজের ভীড়ে এক জোড়া চোখ ছিলো হরিণের চোখ কোনো এক গাছের আড়ালে তারপর অরন্যে ডুব। ছোপ ছোপ সবুজের মাঝে ডাগর দু’চোখ এঁকেছিলো শিল্পির তুলি ধূপছায়া দেখেছি তোমাকে কিভাবে তা ভুলি অবসরে মনে পড়ে খুব। হয়তো বেকুব আমি অথবা তা পাগলামী তবু সেই কাগজের ভীড়ে এক জোড়া চোখ শিল্পীর আঁকা হৃদয়ে হারিয়ে…
-
ডায়রিতে কথাগুলো / সাইফ আলি
ডায়রিতে কথাগুলো লেখি লেখি করে শেষমেশ কলম সরে না শব্দেরা জট বেধে থাকে। কথাগুলো জমে জমে হীম হয়ে যায় ডায়রির কথাগুলো আগুনের আঁচে কেনো জানি নিজেকে পুড়ায়। বুকে মুখে কথা থাকে কপালের ভাঁজে ভাঁজে মুড়ে থাকে কিছু কিছু কথা নিভৃতে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে আঁধারের পিছু। তোমারো কি এরকম হয়? মাঝে মাঝে মনে হয় শুনি কিন্তু…
-
আরো বেশি কাছ থেকে দেখো / সাইফ আলি
আরো বেশি কাছ থেকে দেখো, যদি দেখা পাও দুই হাতে তুলে নিয়ে নিজেকে সাজাও। খনিতে কি আলো থাকে, চুরি-মালা-নোলক প্রভৃতি? অন্ধকারে হাত রাখো জেনে বুঝে খুঁজে দেখো গভীর এ খনির প্রকৃতি। গন্ধ পাও? আবহাওয়া বোঝো? তাপ- চাপ উর্দ্ধ্ব কিংবা নিম্ন ঝড়ো কিংবা শান্ত? আরো বেশি কাছে আসো হাত রেখে দেখো… এইখানে এই খনি গর্ভে জানি…
-
কি করি উপায় / সাইফ আলি
বিছানার পেটে বালিশ আর বালিশের পেটে মুখ, মুখের পাড়ায় ভাঙা দর্পণ দর্পণে ভাঙা বুক। বাবা বলেছিলো জরিমানা দেবে শাড়ী আম্মা বলেছে ঢং, আমি বলি শাড়ী নকশি বাহারী লাল টুকটুকে রং। তবুও খুকুর কান্না থামে না কি করি উপায়, খুকুর কান্না জড়িয়ে গেলো সকল বিছানায়।
-
ভালোবেসে কারো / সাইফ আলি
আঁচলে তোমার বাঁধা ছিলো সব বাঁধন কেনো খুললে ওগো প্রিয়া খাঁচারা মধ্যে বন্দী কোনো টিয়া মুক্ত হলে ফের কি ফিরে আসে! চেতনা জুড়ে তোমার অবয়ব যখন ছিলো তখন অবহেলা করলে; যেনো শুধুই ছেলেখেলা খেললে আমার সাথে। বিশ্বাসে আহত পাখির ব্যথা অনুভব এরপর থেকে প্রতিনিয়তই আমার আমিতে যেনো আমি নই বিরোধীতা করে প্রতি নিঃশ্বাসে- ভালোবেসে কারো…
-
চাষার বিচার / সাইফ আলি
অনেক আশায় মাটির বুকে যে বীজ বুনেছিলাম আজ সে বীজের অঙ্কুরনেই যদি ছাড়তে হবে আমার ভিটে বাড়ি তবে, কাস্তে হাতেই উপড়াবো আজ গোদির বাড়াবাড়ি। আমার ধানেই ভরবে যদি তোমার গোলা আমার শিশু ক্ষুধার জালায় কাঁদবে কেনো? নির্বাচনের মিষ্টি বুলি মিথ্যে হলে লাঙল দিয়ে চষবো তোমার বুকের জমিন। যখন তোমার দিয়েছিলাম ভোট তখন ছিলো চায়ের কাপে…